Friday, November 28, 2025

 

'যেতে পারি কিন্তু কেন যাব'

শৌভিক রায়


'যেতে পারি কিন্তু কেন যাব'

সরিয়ে রেখেছি একপাশে,


এখন শুধু, যেতে পারি এবং 

যাব‌ও...


বলা ভাল, যেতে হয়

না গেলে জোটে না 

প্রসাদ ঠিকঠাক


উচ্ছনে যাক রাস্তায় বসে থাকা ওরা,

ভুলে যাই দখল রাতের কথা,

বাকি সব তো পাখি সব

শুধুই করে রব, ভুলভাল!


উচ্চকিত তাই, চেঁচাই, নিজেরাই,

পিঠে হাত, চাপড়াই পিঠ,

ভুলে যাই প্রতিজ্ঞা যত বিবেকের কাছে


বন্ধু

কখনও কি যায় না বলা

'যেতে পারি কিন্তু 

কেন যাব'

একবার অন্তত....


Wednesday, November 26, 2025


 

অলৌকিক হেমন্ত ভোরে আজও মন উচাটন 
শৌভিক রায় 

সে সব ছিল অলৌকিক দিন। ভোরের আলো ফুটবার আগেই ডেকে দিতেন মা। বড়কাকুর ঘরে, ফিলিপসের পাঁচ ব্যাটারির ট্রানজিস্টার থেকে, তখন ভেসে আসছে  বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত গলা। শরত শেষের হাওয়ায় হালকা শিরশিরানি বলছে, হেমন্ত এসে গেল প্রায়! 

আগের রাতেই চড়ুইভাতি হয়েছে। রেকর্ড প্লেয়ারে বেজেছে অখিলবন্ধু ঘোষের গান।  শিউলির গন্ধে ম ম করেছে বার-উঠোন। অশীতিপর ঠাকুমা স্মরণ করিয়েছেন, উঠতে হবে ভোরে, ঘুমোতে হবে তাড়াতাড়ি! না হলে শোনা যাবে দেবীর স্তব। বৃথা যাবে আরাধনা। 

ভোর থেকেই তাই জেগে উঠেছি সবাই। একান্নবর্তী পরিবারের ঠাসাঠাসি ভিড়ে, এ ওর গায়ে হেলান দিয়ে, শুনছি `তব হে অচিন্ত্য`। মিছরিদানার মতো সুর খেলে বেড়াচ্ছে টিনের চালের ঘরে। হঠাৎ হঠাৎ শোনা যাচ্ছে শিশির পড়ার টুপটাপ আওয়াজ। জলতরঙ্গ যেন!

আকাশবাণীর অনুষ্ঠান শেষ না হতেই, হৈ হৈ করে বেরিয়ে পড়ত সবাই। পথ অনির্দিষ্ট হলেও সাক্ষাৎ ছিল নিশ্চিন্ত। আর তাতেই জড়িয়ে ধরা একে অন্যকে। মা আসছেন যে! মা এলে কার না আনন্দ হয়? কার না ` হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে`? তবে ওই জড়িয়ে ধরাতেই নির্দিষ্ট হত বিদায়ের দিন। উঁকি দিত বিজয়া দশমীর কোলাকুলি। 

তাই মন খারাপ মহালয়া প্রভাতেই! শুরু হতেই তো শেষ হয়ে যায় প্রতিবার! চলে আসে দিন মায়ের চলে যাওয়ার দিন। আচ্ছা, মা কি সত্যিই চলে যান? পারেন যেতে প্রিয় সন্তানকে ছেড়ে? না। কখনই না। জোর গলায় বলে ওঠে মধু মাখা শরত সকাল। তাই উধাও বিষাদ। চৈ চৈ এগিয়ে যাওয়া পায়ে পায়ে। সামনে আরও সামনে। 

উত্তর আকাশে তখন উঁকি দিচ্ছে নীল ভুটান পাহাড়। তার পায়ের কাছে দিগন্তবিস্তৃত সবুজের ঢেউ। ওই দূরে জমির আধিয়ার রাজেনকাকু। মুখে চওড়া হাসি। ধান হয়েছে ভাল। কোজাগরীর ধবধবে রাতে মা লক্ষ্মী বসবেন এসে এখানে। মিষ্টি হেসে করবেন আশীর্বাদ। দুষ্ট দলনের পর, এ আসলে মায়েরই বরাভয়। 

বরাভয় থাকতো আরও বেশ কিছুদিন। আলোর রোশনাই নিয়ে ফিরে আসতেন মা আবার। ভয়াল কালো তাঁর রূপ। অথচ কী মধুর! পান্নালাল ভট্টাচার্যের গানে ভেসে যেত চরাচর। আর অন্ধকারের উৎস থেকে জেগে উঠতো নতুন প্রাণের সন্ধান। কালীপুজোর দীপমালা স্পর্শ করে মন উড়ান দিত কোচবিহারের রাসচক্রে। টমটমের আওয়াজ মিশে যেত মদনমোহন মন্দির চত্বরের পুতনা রাক্ষসীর গায়ে। পুতনাও তো মা। অথচ কত দুর্নাম তাঁর!   

.... ঘোরে না আর রেডিওর নব। মা আসেন তবু। মায়ের সঙ্গেই ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসেন বাড়ির বধূটি। আবার যাবেন বলে। স্বামী তার শ্রমিক। কাজে ব্যস্ত বড়। সকালের সেই অনির্দিষ্ট পথ আজকাল শেষ হয় শপিং মলে। আমাদের দুর্গা সেখানে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে। পাশের বাড়ির লক্ষ্মীকে দেখি ছুটছে ল্যাবে, পরীক্ষার জন্য রুগীদের রক্ত নেবে বলে। আর সরস্বতী তো সেই  কবে থেকেই বসে আছে ধর্ণায়, যদি যোগ্য ভাবে এই সমাজ! কখনও মনে হয়, পিতৃপক্ষ শেষে এ কোন মাতৃপক্ষ! 

তবু অনির্দিষ্ট পথে হেঁটে যাই আজও। সবুজ ঝরে গিয়ে ধূসর সেই পথে। ধানের শীষের ফাঁকে উঁকি দেয় বহুতল। শিউলির গন্ধে ভেসে আসে নানা আড়াল আবডাল। অনিয়মের। দুর্নীতির।  

মা আসবেন আবারও। লেপ্টে থাকব তাঁর কাছেই, পেতে তাঁর স্নেহাশিস। হেমন্ত ভোরে তাই, এখনও মন উচাটন। অনুপস্থিতির মধ্যে, যদিও মায়ের উপস্থিতি, বছর ভর, তবু এইসব দিন, এই এক জীবনে বারবার বলে দেয়, মা অলৌকিকে লৌকিক। সঙ্গী সর্বক্ষণ!    

(সিরিজ: মা - ৩১)

প্রকাশিত: প্রবাহ তিস্তা তোর্ষা 


 

Monday, November 24, 2025


 

সেই সময়ে `পরিবর্তন` নামে একটি পত্রিকা ছিল। একবার তাতে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের দিকপালদের ঠিকানা প্রকাশিত হয়েছিল। 

সাহস করে রিপ্লাই পোস্টকার্ডে চিঠি লিখেছিলাম বাঘাদাকে। ভাবিনি উত্তর পাব। 
কিন্তু আমাকে অবাক করে উত্তর এলো। দুটো লাইন। দেখতে ছোট্ট। কিন্তু ব্যাপ্তি? অকল্পনীয়। 
আজ বাঘাদার জন্মদিন। 
হ্যাঁ.... আমার দেখা সর্বকালের অন্যতম সেরা অভিনেতা রবি ঘোষের জন্মদিন। 
আমাদের কোচবিহার-জলপাইগুড়িরও কিন্তু রবি ঘোষের স্মৃতির শহর।  
চিঠিটি এখানে থেকে যাক আগামীর জন্য।

Wednesday, November 19, 2025


 

সিরিজ: মা/ শৌভিক রায়  
পর্ব- তিরিশ 

শিরশিরে হাওয়া। কাঁপুনি লাগে গায়ে। ভোররাতে শিশির ঝরে। টুপটুপ। লেগে থাকে ঘাসের ডগায়। 
ভোরে উঠি। সাইকেল রেডি। যেতে হবে। হাওয়া সঙ্গী করে। মাঝে আসবে পিকু। বসাবো ওকে। সামনে। সাইকেলের। 
বাস স্ট্যান্ডের কাছে চায়ের দোকান। পিকু চা খাবে। আমিও। তবে চা খেয়েছি। মা বানিয়ে দিয়েছে। ভোরে উঠে। 
আমি না করি। মা শোনে না। মায়ের শরীর এখন ভাল। অপারেশন গেল। বিরাট। পাথর হয়েছিল পেটে। যমে মানুষে টানাটানি। 
মা এখন সুস্থ। ভোরে ওঠে। ফুল তোলে। বাগানে অনেক ফুল। মা কে দেখে ফুল মনে হয়। পাণ্ডুর মুখে এখন ঝলক। রোদের। 
রোদ উঠলে আরাম লাগে। হাফ সোয়েটার গায়ে দিই। মা বানিয়ে দিয়েছে। ভি ভি ডিজাইন। ঘরে চাদর জড়াই। মায়ের। ফুল ফুল গন্ধ। চাদরের। 
অনেক দূরে স্যারের বাড়ি। মনোজিৎ স্যার। অংক করি। পিকু আর আমি। সামনে ওভারব্রিজ। চলে যাই। পড়া শেষে। ট্রেন যায় নিচে। উত্তরে। দক্ষিণে। দেখি। চলে যেতে হবে। আর কিছুদিন। মা`কে ছেড়ে। কষ্ট হয়। কান্না আসে। চুপ করে থাকি। পিকু হাত রাখে। ঘাড়ে। 
শীত বাড়ে। ক্রমে। রোদ মরে আসে। হলুদ হয় ঘাস। পাতা ঝরে। গাছের। ধুলোর চাদর মাখে। সবাই। গায়ে। খয়েরবাড়িতে পাতা পড়ে থাকে। মাটিতে। হাঁটি। প্রণব,পুটন, বাপি আর আমি। পা ডেবে যায়। আরাম বড্ড। সরষে ফুল দেখি। মাইলের পর মাইল। লেগে থাকে দিগন্তে। নীল আকাশের নিচে। বড় বেশি রং চারধারে....
নদীতে ঝাঁপাই। কমলও লাফ দেয়। শৈবালও। সাঁতার জানি না কেউ। খলবল করি অল্প জলে। নদীর পার অনেকটা উঁচুতে। পারের গায়ে বাসা বেঁধেছে। পাখিরা। মাটি ফুটো করে। অবাক হয়ে দেখে। ওরা। উড়ে আসে। বসে। নুয়ে পড়া ডালে। গৌতমদের বাড়ি কাছে। বাগানবাড়ি। ওরা থাকে চা বাগানে। কোয়ার্টার্সে। জমি কিনেছে। এখানে। গৌতমদের কোয়ার্টার্সে যাই। কাকিমা দুধ মুড়ি দেন। খেতে। গরু আছে ওদের। টাটকা দুধে সাদা নরম মুড়ি। হাপুস হুপুস খাই। বড় খিদে আমাদের। 
শনিচরা হাড়িয়ার কথা বলে। ঘরে তৈরি। নেশা হবে সামান্য। টালমাটাল করবে পা। ভাল লাগবে দুনিয়া। খেয়ে নিই একদিন। রঙিন হয়ে ওঠে সব। ঝলমল করে ওদের বাড়ি। বাড়ি নয়।  কুঁড়েঘর। মনে হয় চারদিক বেসামাল। নেই কিছু খারাপ।   
কমল, শৈবাল হাসে। প্রণব চুপ থাকে। বাপি সাইকেলে বসায়। পুটন শুধু বকে। 
ফিরি বাড়ি। চা বাগানের ভেতর দিয়ে। শৌলমারি ডাঙা হয়ে। মা দাঁড়িয়ে থাকে চা বাগানে। মায়ের কোলে ছেলে। পিঠে মস্ত ব্যাগ। মায়ের কালো মুখে অদৃশ্য আলো। 
মায়ের দেখানো আলোতে ফিরি ঘরে। নেশা কেটে যায়। 
মা শুধু ভেসে থাকে চোখে। 

(ছবি- বাঁ দিক থেকে চশমা চোখে দ্বিতীয় জন মা)
 

Sunday, November 16, 2025

 

।।নিজের ভাবনায়।।
     শৌভিক রায় 

অপ্রত্যাশিত ছিল না এই ফল। এটাই হত। বলা ভাল, প্রথম থেকেই সুনিশ্চিত করা ছিল। একক কাউকেই দোষ দিয়ে লাভ নেই। সবার পাকা মাথাই কাজ করেছে। ফল? আরও অন্ধকার নেমে এলো আমাদের তরুণদের সামনে। কিছুটা আশার আলো দেখিয়ে আবার তাদেরকে হতাশায় ঠেলে দেওয়ার এই অশুভ প্রয়াসকে আর কতবার ধিক্কার জানাবো! সত্যি বলতে এখন নিজের ওপর ঘৃণা হয়। কী হল আমার যে, এভাবে চুপ করে গেলাম! আর কতটা হলে কিছু বলব? চোখের সামনে প্রজন্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে, প্রিয় ছাত্ররা দিশেহারা হয়ে পড়ছে... তবু আমি চুপ। আমার এই হিরন্ময় নীরবতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। নিজে হাতে তুলে দিয়েছি সেটি, ফলে যা করবার করে নিচ্ছে ওরা..... 

Friday, November 14, 2025




নীরবে হারানোর তালিকায় গণসংগীত

Tuesday, November 11, 2025

 ।। ঘেউ ঘেউ।।


যারা যেমন, তারা সেটাই ডিজার্ভ করে। 

কান ধরে ওঠবোস করাও জাস্টিফায়েড হয়ে যায় তাই, মেনে নিতে হয় স্বাগত সম্ভাষণ জানানো প্ল্যাকার্ড।

এদের (পড়ুন আমাদের) এটাই প্রাপ্য। এরকমটিই পাওয়া উচিত। 

কিছু কুকুর অবশ্য আছে, মাঝে মাঝে ঘেউ ঘেউ করে বা করবে। কিন্তু ওটুকুই। তার বেশি নয়। 


 

Saturday, November 8, 2025


 

বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট যা বলুক না কেন, উত্তরের চা বাগানের অবস্থা সেই তিমিরেই 
শৌভিক রায় 

উত্তুঙ্গ নীল পাহাড়, ঘন অরণ্য, হিংস্র শ্বাপদ, বেগবতী নদী আর জনজাতি - এটুকু থাকলেই উত্তরবঙ্গের ছবিটি যথেষ্ট সুন্দর হত। 

কিন্তু সেই সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে একের পর এক তরঙ্গায়িত সবুজ চা বাগান। উত্তরের অর্থনীতি যে তিন `টি`-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রথমটিই হল টি অর্থাৎ চা। কিন্তু চা শিল্পের বর্তমান অবস্থাটি ঠিক কী রকম?  

এই মুহূর্তে উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল ও ডুয়ার্স এলাকা মিলিয়ে প্রায়  ১৫ টি চা বাগান বন্ধ। ডুয়ার্স ও তরাই মিলিয়ে রুগ্ণ চা বাগানের সংখ্যা শতাধিক। পাহাড়ের ক্ষেত্রে তা একশো শতাংশ অর্থাৎ ৮৭-তে ৮৭। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট উত্তরের চা বাগানগুলির ক্ষেত্রে কতটা প্রযোজ্য? এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ২০২২-২৩ সালের অর্থবর্ষে ভারতের দরিদ্র মানুষের হার ২৭.১ শতাংশ থেকে কমে ৫.৩ হয়েছে।  এই রাজ্যে ৬৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করতেন। সেই হার এখন ৫৪ শতাংশ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ২৮৩টি চা বাগানের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কর্মীর অবস্থার বিশেষ কিছু পরিবর্তন হয়নি। 

সম্প্রতি কালচিনির আটিয়াবাড়ি চা বাগানের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর সঙ্গে কথা হল। দুই বছর আগে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু  কোয়ার্টার্সে সস্ত্রীক রয়ে গেছেন। তাঁর বক্তব্য, `যদি কোয়ার্টার্স ছেড়ে চলে যাই, তবে প্রাপ্য গ্রাচুইটি ও পি এফের টাকার কিছুই ঠেকাবে না। ওই টাকা না পেলে যাব বা কোথায়!` শুধু উনি একা নন। ওই চা বাগানের অবসরপ্রাপ্ত পাঞ্জাবি ফিটার সাহেবেরও এক দশা। অন্যান্য চা বাগানগুলিতে খোঁজ নিলে কম বেশি এই একই চিত্র দেখা যাবে। উচ্চ পদে থাকা চা বাগানের বাবুদের যদি এই অবস্থা হয়, তবে সাধারণ শ্রমিকদের অবস্থা সহজেই বোঝা যায়। 

অথচ বিপরীত চিত্র  চায়ের আন্তর্জাতিক বাজারে।  টি বোর্ডের হিসেবে অনুযায়ী ভারতীয় চায়ের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে রপ্তানি। কিন্তু তার কোনও সুফল পাচ্ছে না উত্তরের চা বাগানগুলি। বরং দিনের পর দিন বিভিন্ন সমস্যা তাদেরকে এমনভাবে গ্রাস করছে যে, উত্তরণের কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছে না তারা। শুধুমাত্র লক আউট নয়। উত্তরের জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন যেমন চা বাগানের চরিত্র বদলে দিচ্ছে, তেমনি পাওয়া যাচ্ছে না নতুন বিনিয়োগ। অতি সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে যে ক্ষতির মুখে পড়ছে চা বাগানগুলি, তা পূরণ হতেও বহু সময় লাগবে। এর মধ্যে একটিই আশার আলো হল  জলপাইগুড়িতে চা নিলাম কেন্দ্রের পুনরায় চালু হওয়া।

চা বাগানের সেই সোনালী দিন আর নেই। আন্তর্জাতিক সমীক্ষা যতই নির্ধন মানুষের ধনবান হওয়ার কথা বলুক, চা বাগানগুলিতে সেটি আদৌ দেখা যাচ্ছে না। আর তার ফল ভুগতে হচ্ছে এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে। কেননা এখনও অবধি উত্তরের একমাত্র শিল্প হল চা। আর সেই শিল্প যদি ধুঁকতে থাকে, তবে একটি বিস্তীর্ণ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে কীভাবে? কিন্তু সেটা আমরা বুঝব কবে?

(প্রকাশিত: প্রবাহ তিস্তা তোর্ষা
 সম্পাদক: শ্রী কৃষ্ণ দেব)


Thursday, November 6, 2025

। নিজের ভাবনায়।।

শৌভিক রায়

'আমার সোনার বাংলা' গানটি আগে রবীন্দ্রসঙ্গীত। পরে কোনও রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতবিতানে 'স্বদেশ' পর্যায়ে এই গানটি রয়েছে এবং গানটি গাওয়ার অধিকার প্রত্যেক দেশবাসীর রয়েছে।
এই গানটি গাওয়ার যদি রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়, তবে তার চাইতে দুর্ভাগ্যের বিষয় কিছু হতে পারে না। 'অন্য রাজ্যের বিষয়, মন্তব্য করব না' বলে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যাওয়া আশা করা যায় না একজন সংবেদনশীল 'শিক্ষিত' বাঙালির কাছে। এই জাতীয় অপদার্থতাও অকল্পনীয় যে কোনও রাজ্যের প্রশাসনের কাছে।
কিন্তু আজকাল এটাই হচ্ছে। বজ্জাতি চলছে সর্বক্ষেত্রেই.....


 

ফালাকাটা টাউন ক্লাব মাঠের একটি পুরোনো ছবি...... 

বাঁ দিক থেকে- হরচন্দ্র চক্রবর্তী (প্রাক্তন সহপ্রধান শিক্ষক, ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়), সুনীল ভৌমিক (সেক্রেটারি, ফালাকাটা রেড ক্রস ও প্রধান করণিক, কাদম্বিনী চা বাগান), নীরদ বরণ রায় ( প্রাক্তন  প্রধান শিক্ষক, ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়), এস পি রায় (শিল্পপতি ও সাংসদ), পূর্ণিমা মুখার্জী (প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা, সুভাষ গার্লস হাই স্কুল), প্রফুল্ল কুমার দত্ত (আধিকারিক, জেলা শারীর শিক্ষা দপ্তর).... এঁদের অনেকেই আজ আর নেই। 
উপলক্ষ্য: ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। সেই সময়, কয়েক বছর, সুভাষ গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায়, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।