Sunday, April 30, 2023


 

প্রেমের পরিণতি কি নারকীয় হত্যা?
শৌভিক রায় 

প্রেমিকার বিয়েতে, পিঁড়ি ধরে সাত পাক ঘুরিয়ে দেওয়া প্রেমিকদের দেখে এক সময় খুব উপহাস করতাম। এখন তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে ইচ্ছে করে। প্রেম বা ভালবাসা আজ যে পথ নিয়েছে, তাতে ওই প্রেমিকদের সত্যিই ভিন্ন গ্রহের জীব বলে মনে হয়।      

প্রসঙ্গ উত্তরের এক জনপদের সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনা। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রেমিকা সহ গোটা পরিবারকে খুন করে ফেলার ঘটনা ওয়েব সিরিজ বা ছায়াছবিতে হয়ত খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু শান্ত উত্তরেও এরকম ঘটনা ঘটবে, কখনও ভাবিনি। এই রাজ্যে এরকম ঘটনা খুব বেশি ঘটেছে সেটাও বলা যাবে না। তবে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পুরো পরিবার না হোক, প্রেমিকার ক্ষতি করার দৃষ্টান্ত কিন্তু প্রচুর! 

ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট বলছে, আমাদের দেশে মাসে অন্তন্ত ১৪টি অ্যাসিড আক্রমণের ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যাসিডের শিকার প্রেমিকারা। অন্যদিকে, শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিকাকে হত্যার ঘটনা মোট হত্যার ২.৯৫ শতাংশ। প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার পরিসংখ্যানও চমকানোর মতো।   

এই সব তথ্যগুলিই প্রমাণ করে, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভালবাসার সংজ্ঞা আলাদা। আজকাল অনেককেই দেখি প্রেমের ক্ষেত্রে `নাউ ওর নেভার` তত্বে বিশ্বাসী। আর ব্যর্থ হলে তারা চরম কিছু করে ফেলতে প্রস্তুত! অতীতে এরকম ঘটনা একেবারে ঘটত না, সেটা নয়। কিন্তু তার সংখ্যা ছিল নগণ্য। অধিকাংশ ব্যর্থ প্রেমিক মনেপ্রাণে প্রেমিকাকে সুখী দেখতে চাইতেন। আর তার জন্য নিজের ভালবাসাকে জলাঞ্জলিও দিতে পারতেন। তাদের সেই মানসিকতা ছিল।   

কিন্তু আজকের প্রজন্ম এরকম হচ্ছে কেন? কেন তারা বেছে নিচ্ছে এরকম চরম পথ? `আমাদের মনের নানা স্তর। সেই স্তরগুলির মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে বিপদ`, ব্যাখ্যা করলেন মনস্তত্ব নিয়ে পড়া স্বরূপ গুপ্ত, `এই প্রজন্মের অনেকেই `না` শুনতে অভ্যস্ত নয়। সম্ভবত শোনেইনি কোনওদিন। তাই প্রেমিকা না বললেও বুঝতে পারে না। বাড়িতে যেভাবে জেদ করে কিছু আদায় করে, এক্ষেত্রেও একই চেষ্টা করে। ব্যর্থ হলে প্রত্যাঘাত করে। সেটা কখনও চরম আকার নেয়।`

তবে শুধু মন নয়। পাশাপাশি জরুরি হল শিক্ষা, যা আমরা পাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বৃহত্তর সমাজ থেকে। এই শিক্ষার সামান্য খামতি কোনও কোনও মানুষের ব্যক্তিত্বে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। সেটি কখনও এতটাই মাত্রা ছাড়া হয়ে যায় যে, তারা সঠিক-বেঠিক অথবা শুভ-অশুভর পার্থক্যটুকুও করতে পারে না। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ভালবাসার মানুষটির ক্ষতি করার অপরাধে যারা জড়িয়ে পড়ে, তাদের অধিকাংশই এরকম। তাদের বেড়ে ওঠায় বিরাট ফাঁক রয়ে যায়। 

আসলে প্রবল অধিকারবোধের প্রাবল্যে নয়, প্রেমের সাফল্য পারস্পরিক বোঝাপড়ায়। জোর করে কোনও কিছু আদায় করা যায় না। বরং তাতে বিপ্রতীপে থাকা মানুষটির মন আহত হয়। আর এই জোর করা ব্যাপারটি যখন শারীরিক নিগ্রহে বা হত্যার মতো বিষয়ে পরিণত হয়, তখন সেটি অতি অবশ্যই ঘৃণ্য অপরাধ। সেই অপরাধের কোনও ক্ষমা হয় না। হওয়া উচিতও নয়। তাহলে সকলের ওপরেই অবিচার করা হয়। 

* প্রবাহ তিস্তা তোর্ষা


Thursday, April 27, 2023

নিজের ভাবনায়

শৌভিক রায় 

আমাদের কারও কারও মানবিক মুখ ঢাকা পড়ে যায় অসংবেদনশীল বোধহীন আচরণে। আমরা বুঝি হয়ত। অনুভবও করি হয়ত। কিন্তু নিজেদের পাল্টাই না। কেননা আমরা সেটা চাই না। পেছন পেছন দৌড়টাই তাই আমাদের ভবিতব্য। ওটাই আমাদের ট্র্যাজেডি....

Thursday, April 20, 2023


 

আনন্দ পাওয়া ব্যাপারটি নিতান্তই আপেক্ষিক। কে কীসে আনন্দ পাবে সেটি তার ব্যক্তিগত।নিজের ক্ষেত্রে বলতে পারি, খুব ছোট ছোট ব্যাপার আনন্দ দেয়। নিচের ছবির ছোট্ট ওই পিন আর কার্ডটি যেমন দিচ্ছে এখন।

জানি অনেকেই পেয়েছেন। আগামীতেও পাবেন। নতুন কিছু নয়। তবু আনন্দ পাচ্ছি। 
ব্যাপারটা কিছুই নয়। 
গুগুল ম্যাপে লোকাল গাইড হিসেবে বিভিন্ন জায়গার ছবি ও রিভিউ পোস্ট করলে পয়েন্টস পাওয়া যায়। অনেকেই জানেন। 
সেটাই করছি অনেকদিন থেকে। পয়েন্টসের ভিত্তিতে এই মুহূর্তে আমি গুগুলের লেভেল ৮ লোকাল গাইড। 
গুগুল তাই ভালবেসে ছোট্ট উপহার দিয়েছে। আমেরিকা থেকে পাঠানো খামটি গতকাল পৌঁছেছে। 

আমার নিজের লোকাল গাইড অবশ্য সেটি আমাকে দিতে বিলকুল ভুলে গেছিলেন.... 


   
 

Monday, April 17, 2023


 

পাঠ প্রতিক্রিয়া 

Poems of Dreams Language of Sunset- Santosh Sinha/ Translated by Biplab Sarkar Evincepub Publishing 

Price- Rs. 185/-


প্রথিতযশা অধ্যাপক প্রয়াত শ্রদ্ধেয় অশ্রুকুমার শিকদার বা কবি-আলোচক প্রখ্যাত গোপাল লাহিড়ীর মতো মানুষ যে কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় ভূয়সী প্রশংসা করেন, সেই কবিতার বই নিয়ে কিছু বলা বাতুলতা। তার ওপর উপরি পাওনার মতো রয়েছে আমেরিকার Transcendent Zero Press ও Harbinger Asylun-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক Dustin Pickering-এর মূল্যবান কথা। তবু কিছু বলতে হচ্ছে একটাই কারণে। কেননা কাব্যগ্রন্থটি একটি অনুবাদ কর্ম। অনুবাদ করেছেন তরুণ কবি বিপ্লব সরকার। মূল কবিতাগুলি বর্ষীয়ান কবি শ্রদ্ধেয় সন্তোষ সিনহার। কিন্তু কবি সন্তোষ সিনহার কবিতাকেই কেন বিপ্লব বেছে নিলেন? 


প্রশ্নটির উত্তর বিপ্লবের ভাষায়- uniqueness of the way of expression in a subconscious state of mind. বিপ্লব এটাও বলেছেন যে, কবি সন্তোষ সিনহার কবিতা অনুবাদ করতে গিয়ে কখনও কখনও তাঁর মনে পড়েছে বিখ্যাত কবি John Donne-এর The Good Morrow বা The Anniversarie শীর্ষক বিখ্যাত কবিতাগুলির কথা। কেননা কবি সন্তোষ সিনহার কবিতা `so pervasive and centralised`। John Donne-এর কবিতার সঙ্গে যাঁদের সামান্য পরিচয় রয়েছে, তাঁরা বুঝতে পারবেন এই তুলনা করতে গেলে ঠিক কতটা সাহস লাগে। বিপ্লব সেটা করেছেন। এই বিষয়ে নিজের কাছে তিনি সৎ ও স্বচ্ছ। এখন কবি সন্তোষ সিনহার কবিতা (অবশ্যই সব নয়, কিছু কিছু) ও বিপ্লবের অনুবাদ সেই পর্যায়ভুক্ত কিনা তার বিচার করবে মহাকাল। আপাতত এটুকু বলা যায়, অনুবাদগুলি পড়লে কবি সন্তোষ সিনহার কবিতা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। বাংলা ভাষার বাইরে যে অগুনতি পাঠক রয়েছেন তাঁরা বুঝতে পারবেন, বাংলা কবিতা এই মুহূর্তে ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। কেননা বর্তমান সময়ে যে কতিপয় কবি বাংলা কবিতার সত্যিকার (in the true sense of the term...আমার নিজের অনুবাদ ঠিক হল কিনা সেই বিষয়ে অনুবাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি) প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁদের মধ্যে অবশ্যই কবি সন্তোষ সিনহা অন্যতম। তাই অনুবাদের কাজটি করে বিপ্লব সত্যিই বৈপ্লবিক একটি কাজ করলেন। অনুবাদের কাজ সেভাবে আর কোথায়? 


বিপ্লব যে কবিতাগুলি অনুবাদ করেছেন সেগুলির রচনাকাল ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮। মোট ৬১টি কবিতা রয়েছে Poems of Dreams Language of Sunset শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে। কবিতাগুলি রচনার সময় কবি সন্তোষ সিনহার মানসিক স্থিতির একটি নিপুন বর্ণনা দিয়েছেন কবি-পত্নী শ্রীমতী বাসন্তী সিনহা। আসলে সকল কবির জীবনেই বোধহয় এমন একটি সময় আসে। একটি অদ্ভুত আবহে তাঁরা বন্দি করে ফেলেন নিজেকে। যাপন করেন ঘোরের মধ্যে। সেই অবস্থায় বোধহয় নিজেরাও বোঝেন না ঠিক কী বলছেন বা করছেন। আমাদের মতো সাধারণেরা সেই অবস্থাকে বুঝতে ঠিক পারি না, ব্যাখ্যাও করতে পারি না। হয়ত কবি পরবর্তীতে নিজেও সেটা পারবেন না। কিন্তু সেই অজানা ঘোর থেকেই তাঁরা লিখে ফেলেন এমন কিছু কথা যা নিমেষে আলাদা করে দেয় তাঁদের। ১৪ জানুয়ারি ১৯৯৪ তারিখের ভোরে কবি সন্তোষ সিনহার সেই মানসিক পরিস্থিতি থেকে যা লিখেছিলেন অনুবাদক বিপ্লব তাকে বর্ণনা করেছেন- There are some entrails around me/ The womb becomes pierced by an evil generation..../ What I see/ For that/ Don`t need much alphabet । এভাবেই এগিয়েছে বিপ্লবের অনুবাদ। 


অনুবাদের ক্ষেত্রটি কিন্তু সবসময় একটু কঠিন কাজ। বিশেষ করে কবিতার অনুবাদ। কেননা বিভিন্ন মানুষের কাছে কবিতার interpretation আলাদা আলাদা হতে পারে। তাই অনুবাদক যেভাবে অনুবাদ করলেন সেটিই যে মূল কবিতাটির আত্মা, সে বিষয়ে জোর দিয়ে কিছু বলা যায় না। অনুবাদটি অন্যরকম হতেই পারে বা পারত যদি অনুবাদকের কাছে তার interpretation আলাদা হত। তবে সামগ্রিকভাবে একটি বক্তব্য থাকে সব কবিতার ক্ষেত্রেই। সেটিকে ধরে এগোনোই যায়। ব্যাপারটি অনেকটা যেন মূল দরজার ভেতর দিয়ে ঢুকে একটি ঘরের আনাচে কানাচে আরও দরজা বা জানালা আবিষ্কার করা। দ্বর্থহীন ভাবে বলব, বিপ্লব সেটি পেরেছেন। আর পেরেছেন বলে তাঁর অনুবাদে উঠে এসেছে The crazy wind blowings want to eat my lungs away/ Yet under these legendary trees of swayings/ I`m here with some bones only বা Those who are there spreading feathers I`d like to tell them secretly....be careful, Cover yourself up shaking all the nobilities and celebrated sunshine off জাতীয় লাইন। 


কবি সন্তোষ সিনহা বা অনুবাদক বিপ্লব সরকার ঠিক কী বলতে চেয়েছেন কবিতাগুলিতে? পাঠকদের interpretation আলাদা হবে ঠিকই, তবু বলা যায় এক অসামান্য দর্শন যেন কবিতাগুলির ছত্রে ছত্রে। একক ব্যক্তি মানসের এক অন্তর্লীন যাত্রায় সেই দর্শনে ফুটে ওঠে এক অদ্ভুত কান্না। ভবিষ্যতদ্রষ্টা কবি দেখেন এক নষ্ট জীবন যেখানে মিলেমিশে যায় সব জীবন বোধ। সামগ্রিকতার বিচারে যূথবদ্ধ মানবের একক স্খলন যে অবক্ষয়ের সূচনা করে সেখানে সত্যিই দরকার রুদ্র তাণ্ডব থেকে শুরু করে তথাগতর আত্মস্থ জীবনীশক্তিকে। জীবনবোধ যখন প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড়ায়, তখনই শুরু মানবমনের এই যাত্রা। ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এতদিনের লালিত সংস্কার। যন্ত্রনাবিদ্ধ মানুষ শুধু চায় এমন কোনও আশ্রয় যা তাকে শীতল করবে। উপশম হবে সব কষ্টের। নিজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সে পাবে সব প্রশ্নের উত্তর। এই যাত্রা আসলে মনের। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলিতে সেই একক যাত্রার এক দর্শন ধরা হয়েছে। বড় প্রবল তার অভিঘাত।    


শব্দ চয়নে ও কবিতার আত্মা স্পর্শে অনুবাদকের মুন্সিয়ানা নিঃসন্দেহে এই কাব্যগ্রন্থের বড় পাওনা। অনুবাদের কাজ হয়ত অনেকে করেন, কিন্তু সেটা কতটা অনুবাদ হয় সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে আমার। কিন্তু বিপ্লব তার নিরসন করেছেন। অন্তত এই কাব্যগ্রন্থের ক্ষেত্রে। মনে হয়, কবি সন্তোষ সিনহার মতো অনুবাদক বিপ্লব সরকারেরও অনুবাদের সময় একটি ঘোর কাজ করছিল। যে subtelty, wit, imagery ইত্যাদি অনুবাদের কাজটিকে জীবন্ত করেছে তা অর্জন করা সহজ যায়। বিপ্লবের বয়স অল্প। আগামীতে অনুবাদকের ভূমিকায় তাঁকে আরও কাজ করতে দেখাব এরকম আশা করা যায়। কেননা Poems of Dreams সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে কিছু কবিতা অনুবাদের ক্ষেত্রে বিপ্লব একটু তাড়াহুড়ো করেছেন বলে মনে হচ্ছে। উৎকর্ষতার দিক থেকে সেগুলি আরও যেন ভাল হতে পারত, যেমন ৩১ ও ৪৭ নম্বর কবিতা দুটি। এরকম আরও কয়েকটি রয়েছে। শব্দচয়নেই ক্ষেত্রেও দুই একটি জায়গায় মনে হয়েছে আরও catchy word ব্যবহার করলে ভাল হত। মনে রাখতে হবে, অনুবাদ মানে কিন্তু একটি ভাষার সৃষ্টিকে অন্য ভাষায় প্রতিষ্ঠার লড়াই। 


সবশেষে, কবি সন্তোষ সিনহা ও অনুবাদক কবি বিপ্লব সরকারের জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল। বিশ্বাস করি, পৃথিবীতে কিছু কাজ এমন থাকে যার মূল্য পরিমাপ করা যায় না। এই কাব্যগ্রন্থটিও সেই অমূল্য কাজের একটি হয়ে রইল।   


আলোচক- শৌভিক রায়  



Sunday, April 16, 2023

উৎসব আসে যায়, কিন্তু মনের দরজা খোলে কোথায় 

শৌভিক রায়   

মধু মাস। ঋতুটিও মধুময়। এই সময়ে মধু যেন ঝরে বিশ্ব চরাচরে।

মধুক্ষরা এই সময় বড্ড বেশি আপন আমাদের প্রাত্যহিকতায়। আর তারই রং প্রকৃতিতে। রঙের সেই খেলায় কে নেই! 

প্রকৃতির খেলা উত্তরেও। এমনিতেই পাহাড়, অরণ্য, চা-বাগান ঘেরা এই তরঙ্গায়িত ভূমি নয়নলোভন। আর তার সঙ্গে যদি মিশে যায় হরেক রং, তবে কী নিদারুণ হতে পারে ব্যাপারটি সেটা চোখে না দেখলে বোঝা যায় না। সংকোষের পশ্চিম থেকে তিস্তার পূর্ব অবধি ডুয়ার্স তাই রঙিন। শিমুল, পলাশ, মাদার, সজনে, রুদ্রপলাশ  প্রত্যেকে নিজের মতো রং ঢেলে সাজিয়ে তুলেছে পৃথিবীকে। 

রঙিন তরাইয়ের অন্য অঞ্চলও। রঙের সুখ স্পর্শ চারদিকে।

রং কি শুধু প্রকৃতিতে? নাকি রঙের নির্যাস মনুষ্য জীবনেও? 

একটু তলিয়ে দেখলেই উত্তর মেলে। প্রকৃতির রঙের মেলা কবে কখন যেন আমাদের জীবনেও ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলেছে এই বসন্তে। তাই কোচবিহার থেকে মালদা পর্যন্ত, উত্তরের প্রায় সব জনপদে, বসন্ত উৎসব উদযাপিত হয়েছে পুরোদমে। ছোট থেকে বড়, কচি থেকে বুড়ো, কে নেই সেই উৎসব উদযাপনে! অবশ্য শান্তিনিকেতনের ধাঁচে বসন্ত উৎসব পালনের রেওয়াজ, আজকাল রাজ্যের সর্বত্র।

বারো মাসের তেরো পার্বণের বাঙালি জীবনে বসন্ত উৎসবকে হয়ত নতুন সংযোজন বলা যাবে না। কিন্তু কয়েক বছর আগেও তার এতটা  ব্যাপকতা ছিল না। ১৯০৭ সালে বসন্ত উৎসব শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তখন তার নাম ছিল ঋতুরঙ্গ উৎসব। তবে বসন্ত উৎসবের সবটুকু কৃতিত্ব বোধহয় তাঁর একার নয়।  

'১৩১৩ সালের ৫ই ফাল্গুন তারিখে শ্রীপঞ্চমীর দিন রবীন্দ্রনাথের কণিষ্ঠ পুত্র শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে প্রথম বসন্তোৎসব উদযাপন করেন। সে সময়ের আশ্রমের গুটি কয়েক ছাত্র নিয়ে শমীন্দ্রনাথ আদি কুটিরের হলঘরে এই উৎসব পালন করেন। বর্তমানে সে ঘর নিশ্চিহ্ন।  তার পরিবর্তে স্থান নিয়েছে নব প্রাক কুটির। সেই ১৩১৩ বঙ্গাব্দ থেকে শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসব পালিত হয়ে আসছে।  শ্রীপঞ্চমী এখনো উদযাপিত হয়। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দোলের দিন বসন্তোৎসব পালিত হয়। রবীন্দ্রনাথ এই উৎসবকে ঋতু উৎসব পর্যায় ভুক্ত করেন।'  ( প্রসঙ্গ রবীন্দ্রনাথ:  উৎসব ও ভবন-- দিলীপ কুমার দত্ত)

হোলির অনুষঙ্গে বসন্ত উৎসবের সূচনা হলেও, হোলির সঙ্গে তাকে এক করে দেওয়া ঠিক নয়। হোলিকা দহন থেকে সৃষ্ট হোলির গভীরে শীতের বিদায় ও বসন্তের আবাহন থাকলেও, তার মূল সুর ধর্মীয়। হোলির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রাধাকৃষ্ণ। মথুরা-বৃন্দাবন সহ উত্তর ভারতের সব জায়গাতেই, 'লাথমার হোলি' থেকে যত ধরণের হোলি উৎসব হয়, তার নেপথ্যে রয়েছেন তাঁরা। 

নন্দলাল বসু তাঁর 'দৃষ্টি ও সৃষ্টি'-তে এই প্রসঙ্গে বলেছেন, বসন্ত উৎসবের মুলে রয়েছে প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে জানা ও চেনা। কেননা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীর সার্বিক উন্নয়ন। আর সেখানে শিল্পের রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কারণ, শৈল্পিক নান্দনিকতা ও শিক্ষা একে অপরের পরিপূরক। দুর্ভাগ্য, আমাদের পাঠ্যক্রমে অন্য সব বিষয় থাকলেও, শিল্পের জন্য একটি পাতাও বরাদ্দ হয় না।  

রবীন্দ্রনাথ বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। শান্তিনিকেতনের তাই চালু করেছিলেন প্রকৃতির মাঝে পড়াশোনা। আসলে, প্রকৃতির ওপর বড় শিল্পী যেমন কেউ নেই, তেমনি তার মতো শিক্ষকও কেউ হতে পারে না। তাঁর শিক্ষাপ্রথার অঙ্গ হিসেবে শুরু হয়েছিল বসন্ত উৎসব। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে যারা শহুরে, চিনুক ও জানুক প্রকৃতিকে। প্রকৃতির রূপ রস বহন করুক তাদের চেতনায়। শৈল্পিক হয়ে উঠুক নিজস্ব যাপনে।

তাঁর নিজের কথায়, `আমি তো আজ গাছপালার সঙ্গে বহু প্রাচীনকালের আত্মীয়তা স্বীকার করিব। ব্যস্ত হইয়া কাজ করিয়া বেড়ানোই যে জীবনের অদ্বিতীয় সার্থকতা, এ কথা আজ আমি কিছুতেই মানিব না। আজ আমাদের সেই যুগান্তরের বড়োদিদি বনলক্ষ্মীর ঘরে ভাইফোঁটার নিমন্ত্রণ। সেখানে আজ তরুলতার সঙ্গে নিতান্ত ঘরের লোকের মতো মিশিতে হইবে। আজ ছায়ায় পড়িয়া সমস্তদিন কাটিবে—মাটিকে আজ দুই হাত ছড়াইয়া আঁকড়াইয়া ধরিতে হইবে—বসন্তের হাওয়া যখন বহিবে, তখন তাহার আনন্দকে যেন আমার বুকের পাঁজরগুলার মধ্য দিয়া অনায়াসে হুহু করিয়া বহিয়া যাইতে দিই—সেখানে সে যেন এমনতরো কোনো ধ্বনি জাগাইয়া তোলে, গাছপালারা যে ভাষা না বোঝে। এমনি করিয়া চৈত্রের শেষ পর্য্যন্ত মাটি, বাতাস ও আকাশের মধ্যে জীবনটাকে কাঁচা করিয়া সবুজ করিয়া ছড়াইয়া দিব—আলোতে-ছায়াতে চুপ করিয়া পড়িয়া থাকিব।

 কিন্তু, হায়, কোনো কাজই বন্ধ হয় নাই—হিসাবের খাতা সমানই খোলা রহিয়াছে। নিয়মের কলের মধ্যে কর্ম্মের যাঁদের মধ্যে পড়িয়া গেছি—এখন বসন্ত আসিলেই কী, আর গেলেই কী।

 মনুষ্যসমাজের কাছে আমার সবিনয় নিবেদন এই যে, এ অবস্থাটা ঠিক নহে। ইহার সংশোধন দরকার। বিশ্বের সহিত স্বতন্ত্র বলিয়াই যে মানুষের গৌরব, তাহা নহে। মানুষের মধ্যে বিশ্বের সকল বৈচিত্র্যই আছে বলিয়া মানুষ বড়। মানুষ জড়ের সহিত জড, তরুলতার সঙ্গে তরুলতা, মৃগপক্ষীর সঙ্গে মৃগপক্ষী। প্রকৃতি-রাজবাড়ীর নানা মহলের নানা দরজাই তাহার কাছে খোলা। কিন্তু খোলা থাকিলে কী হইবে? এক-এক ঋতুতে এক-এক মহল হইতে যখন উৎসবের নিমন্ত্রণ আসে, তখন মানুষ যদি গ্রাহ্য না করিয়া আপন আড়তের গদিতে পড়িয়া থাকে, তবে এমন বৃহৎ অধিকার সে কেন পাইল?`


বসন্ত উৎসবের সব চাইতে প্রচলিত সংগীত `ওরে গৃহবাসী`তে তাই `দ্বার` খুলবার যে আহ্বান তা মনের দরজা খুলে দেওয়ার ডাক। যে সংকীর্ণতা আমাদের মনকে অন্ধকারে ঢেকে রাখে, তার থেকে মুক্তি পাওয়ার চিরন্তন বাণীই ধ্বনিত হয় এই গানের প্রতিটি ছত্রে। বসন্ত সেই প্রকৃতি যে নিজে উদার, যার পরতে পরতে অমৃতের আলো প্রজ্বলিত!  

 
আজ যারা বসন্ত উৎসব পালন করছেন, আশা করা যায় তারা এই বিষয়টি ভালভাবে জানেন। ধরে নেওয়া যেতে পারে, উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা প্রকৃতিকে ভালবেসে ও প্রকৃতির রঙে নিজেদের রাঙিয়ে এই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। উৎসব শেষে ঘরে ফিরে নিজের বাড়ি থেকে শুরু করে নিজের এলাকা ও শহরকে কলুষমুক্ত রাখছেন। নান্দনিক করে তুলছেন। সহ-নাগরিকদেরকেও সচেতন করছেন এই বিষয়ে। তাদের যাপনে ফুটে উঠছে শিল্প-স্বত্বা। চর্চা করছেন মুক্ত চিন্তার। দূরে সরিয়ে রাখছেন সব রকম প্রাদেশিকতা। বিশ্ব নাগরিক হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন ক্রমশ।  

আসলে যে কোনও উৎসবের গভীরে থাকে এমন কিছু শিক্ষা, যা আমাদের আত্মিক উত্তরণ ঘটায়। রবীন্দ্রনাথের মতো মানুষ যে উৎসবের সূচনা করেন, তার তাৎপর্য সবসময়ই আলাদা। বসন্ত উৎসব তাই কোনও হুজুগ নয়। বরং মুক্ত মনের ভাবনা থেকে জন্ম নেওয়া এক অত্যন্ত আধুনিক উৎসব। সেটি ভুলে যদি স্রেফ লোক দেখানোর বা সমাজমাধ্যমে ছবি দেওয়ার জন্য বসন্ত উৎসবে মাতি, তবে আর পাঁচটা অর্থহীন উৎসবের মতো সেই গড্ডালিকা প্রবাহেই গা ভাসানো হবে!

https://www.ekhondooars.com/story/khola-mone-khola-khame/moner-dorja-khole-kothay-241.html?fbclid=IwAR1i5oWewuYNCKHWwN101JLzmi2O6MmJm2gxWEGNDq7iNHkN1tIJ9T98wEM

Thursday, April 13, 2023


 

অস্তিত্বের অধিকার নয়, সহাবস্থানই মূল
শৌভিক রায় 

কবি বলেছিলেন, 'প্রাণ আছে এখনও প্রাণ আছে/ সমস্ত বিধিনিষেধের বাইরেও আছে অস্তিত্বের অধিকার'। 

অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে পূর্ববর্তী প্রজন্মের সঙ্গে পরবর্তীদের টানাপোড়েন বোধহয় সৃষ্টির শুরু থেকেই। আর সেই সুবাদে পরের প্রজন্মকে দাগিয়ে দেওয়ার জ্যাঠামশাই সুলভ ব্যবহার ব্যবহার, অগ্রজদের এসেই যায়। অনেক সময় নিজেদের অজান্তেও তারা এমনটি করে থাকেন। বুঝিয়ে বললেও বোঝেন না!

অধিকার বোধ কোনও অন্যায় নয়। বরং সেটি থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু তার প্রাবল্য যখন স্বাভিমানে পরিণত হয়, দ্বন্দ্ব আসে তখনই। 'শুরু থেকে আছি, অতএব আজও থাকব, যা বলব সেটিই ঠিক' জাতীয় ভাবনায় জীর্ণ হয় মন। ফল? কখনও হতাশা, কখনও অসহিষ্ণুতা আর শেষ পর্যন্ত সংঘাত। 

সংঘাতটা অবশ্য যতটা না অন্যের বিরুদ্ধে, তার চাইতে অনেক বেশি নিজের সঙ্গে। মনস্তত্বের ভাষায় পুরো ব্যাপারটিই এক ধরণের ম্যানিয়া, যা শেষ পর্যন্ত পাল্টে যায় অন্যকে দোষারোপে, 'বিলো দা বেল্ট' আঘাত করায়। এই রোগে আক্রান্ত সমাজের বহু মানুষ। বিস্মিত হই প্রাজ্ঞ বিবেচক বলে পরিচিত সৃজনশীল বয়স্ক মানুষটিও এই মনোভাবের বাইরে নন।

উল্টোদিকে অস্তিত্বের অধিকার ময়দানে নামিয়ে দেয় অপেক্ষাকৃত অনুজদের। পথ চলতি তাই দেখি, শহরের নোংরা দেওয়ালকে নিজেদের সৃষ্টিতে অন্য রূপ দিচ্ছে তারা। কে বলেছিল তাদের ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে? কেউ না। অন্তর্গত ভাবনা থেকে উঠে আসা এই বোধ, নিঃসন্দেহে অদ্ভুত এক মূর্ততা প্রকাশ করে। বুঝিয়ে দেয় সব কিছুর ওপর নিজেদের নিরুচ্চার অস্তিত্ব। এই অস্তিত্ব তাদের কেউ শেখায়নি। নিজেদের মতো খুঁজে নিয়েছে তারা। নিজেদের মগ্ন চৈতন্যে যে চেতনা জেগে উঠেছে তার তুলনা তারা নিজেরাই।

এই চেতনায় জারিত হয়েই একদা তরুণ অ্যালেন গিন্সবার্গ ছুটে এসেছিলেন যশোর রোডে। উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে। কিছুদিন আগেই সিংঘুতে সমবেত হয়েছিল বর্তমানের হাজারও তরুণ। দাবি ছিল কৃষক বিল প্রত্যাহার। আবার, অতিমারি চলাকালীন লক্ষ লক্ষ যুবক সাহায্যের থলি নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিল নিরন্ন জনতার পাশে। বুঝিয়ে দিয়েছিল, সমাজের ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তারা কখনই পিছপা নয়। সেদিনও তাদের এই ভাবনা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। 

সহজাত এই ভাবনা কি কুর্নিশের নয়? প্রশংসার নয়? সেটা কিন্তু আমরা অগ্রজরা বিশেষ করিনি। কাছে টানিনি তাদের। বরং যখনই বুঝেছি নিজেদের অস্তিত্ব সংকটের মুখে, কখনও বিদ্রুপে ভরিয়ে দিয়েছে, কখনও এক কদম এগিয়ে নিজেদের নাক কেটে তাদের যাত্রা ভঙ্গ করেছি! বাহবা যে একেবারেই দিইনি, সেটা হয়ত নয়। কিন্তু সেই দেওয়ার মধ্যে কতটা আন্তরিকতা ছিল, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। 

অথচ কোনও ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই তারা। সাহিত্য থেকে শুরু করে শিল্প, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, বিনোদন ইত্যাদি সর্বত্র তাদের উজ্জ্বল অস্তিত্ব প্রমাণিত। সেই অস্তিত্বে ঔদ্ধত্য নেই। আছে লাজুক শ্লাঘা। আছে বাড়িয়ে দেওয়া বন্ধুত্বের হাত। অগ্রবর্তী হিসেবে সেই হাত যদি আমরা না ধরি, যদি না তাদের জন্য জায়গা করে দিই, তবে তার দায় আমাদের। ওদের নয়। কেননা মহাকালের নিয়ম এটাই। স্বতঃসিদ্ধ এই বিষয়টি বুঝতে না পারলে অস্তিত্ব বিপন্ন হবে অগ্রজদেরই। 

আসলে সংঘাতে নয়, দুনিয়া চলে সহাবস্থানে।


** শ্রী কৃষ্ণ দেব সম্পাদিত 'প্রবাহ তিস্তা তোর্ষা' পত্রিকায় প্রকাশিত 

Tuesday, April 11, 2023

 'নাম লিখেছি একটি তৃণে...'

শৌভিক রায় 

মা'কে দাদু গান শিখতে দেননি বলে মায়ের চাপা অভিমান ছিল। 

সেই আমলের ছাপোষা শিক্ষক, ছোট নাগবাবু নামে পরিচিত, দাদু সম্বোধনের মানুষটি ভাগ্য অন্বেষণে বীরভূমের গ্রাম ছেড়ে কাটিহারে এসেছিলেন। 

তাঁর সত্যিই সামর্থ ছিল না, মা'কে গান শেখান। টানাটানির সংসার! নুন আনতে পান্তা না ফুরোলেও বড় মেয়েকে গান শেখানো ছিল নিতান্তই বিলাসিতা। 

মা বুঝতেন সেটা। গান না শিখলেও আসলে মা সুর বুঝতেন। ছিলেন সুরেলা।

মায়ের সুর খেলে বেড়াত সারা বাড়িতে। সেলাই, উল বোনা, সকাল সন্ধ্যা ঘরদোর পরিষ্কার রাখা, আলনায় কাপড়চোপড় গুছিয়ে রাখা ইত্যাদি সবেতেই মা সুর ছড়িয়ে যেতেন। 

সেজন্যই বোধহয় বিয়ের সময় মায়ের জ্যাঠামশাই আশীর্বাদ করেছিলেন, 'সুরে থাকিস লীলু, সুরেলা করিস সবাইকে।'

মা সবাইকে সুরেলা করেছিলেন। তালহীন, লয়হীন আমার বাবা কাকা ঠাকুরদা দাদা সবাই মায়ের কাছ থেকে সুর শিখেছিলেন। আমি শিখিনি। বেসুরো ছিলাম তাই। 

সুরে ভাসতে ভাসতে আমার মা একদিন বৃদ্ধা হলেন।

মা কি বৃদ্ধা হয়েছিলেন? মায়েরা কি বৃদ্ধা হন? 

মায়েদের গায়ের গন্ধে এত সুর খেলা করে যে, কখনও মনে হয় না মায়েরা বৃদ্ধা হন। 

আমার মাও বৃদ্ধা হননি। বরং আরও সুরেলা হয়েছিলেন বা হচ্ছিলেন দিন দিন...

বেসুরো আমি সুর শিখলাম চিতা জ্বললে। স্পষ্ট দেখলাম লেলিহান সেই আগুনে সুর চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে আমার চারদিকে।  

আসলে আগুনের আসনে বসে মা তাঁর সব সুর শিখিয়ে যাচ্ছিলেন বেসুরো এই আমাকে!

জ্বলছিল প্রবল আগুন। সুরের আগুন।

পুড়তে পুড়তে মায়ের দেওয়া সেই সুরে ভিজে যাচ্ছিলাম ক্রমশ... 

ভিজে যাচ্ছি এখনও....

Thursday, April 6, 2023

পরিবার 
শৌভিক রায় 


পরিবার ব্যাপারটি ঠিক কী? জন্মের বা রক্তের সম্পর্কিত মানুষেরা মিলে পরিবার? 

শুধুমাত্র সেই অর্থে ধরলে কিন্তু আগামীতে পরিবার নামের প্রতিষ্ঠানটি থাকবে না।

এই বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। থাকাটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু খুব ভুল বোধহয় বলছি না।
   
একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দাদা, দিদি, কাকা, পিসি, মাসি ইত্যাদি ডাকগুলি। এই প্রজন্মের মধ্যে তবু যেটুকু আছে, সেটা হারাতেও আর বেশিদিন নেই। যৌথ পরিবার কবেই ভেঙে চৌচির। দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হয় তাদের। ছোট ছোট পরিবারগুলোতে `তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তান` ছাড়া কেউ নেই। এরকম পরিবারের সন্তানটি যখন বাবা মা হবে, তখন তার সন্তানটিকে দেখতে আসবে না কোনও পিসি বা মাসি, কাকা বা জ্যাঠা কিংবা মামা। 

তাহলে পরিবার কি থাকবে না? সত্যিই? 
উত্তর তো দেবে ভবিষ্যত।
 
তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, পরিবারে আত্মীয়ের জায়গা নেবে বন্ধুরা। ইতিমধ্যে তারা অনেকটাই নিয়ে ফেলেছে। আগামীতে সেই নেওয়াটা হয়ত সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। বৃত্ত পূরণ হবে। 

পরিবারের কথা ভাবলে, নিজের পরিবার ছাড়া যে পরিবারের কথা মনে হয় তা ছিল ফালাকাটা হাই স্কুলের অতীতের শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীদের পরিবার। 

এক বর্ণ বাড়িয়ে বলছি না। আমরা সত্যিই যেন একটা পরিবারে বড় হয়েছিলাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লেও, কমবেশি যোগাযোগ সবার সঙ্গেই রয়েছে। তাই কেউ অকালে চলে গেলে সবাই বোধহয় একই রকম মন খারাপে ভুগি।
 
মজা হল আমাদের সেই পরিবার কিন্তু শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীদের সন্তানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বৃহত্তর পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের ব্যক্তিগত স্তরের বন্ধু-বান্ধবরাও ছিল আমাদের স্বজন। আমি জানি আমাদের সেই বন্ধুরা (যারা ফালাকাটা হাই স্কুলের সঙ্গে আমাদের মতো সম্পর্কিত নয়) একই রকম কষ্ট পায় কোনও অকালবিয়োগে। 

সেসব দিন বোধহয় এরকমই ছিল। একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একসঙ্গে সবকিছু ভাবা। অবশ্যই বয়সের ফারাকে কারও কারও সঙ্গে কিছু দূরত্ব ছিল। সেটা থাকা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু পারস্পরিক সম্মান-ভালবাসা-স্নেহ-শাসনের খামতি ছিল না কখনও। কত অনায়াসে রুমাদি বা রুবিদি বা তুলিদি, বেবিদি বকুনি দিতে পারত, ডাম্পি বা ছোটু আবদার করতে পারত। আজও পারে। সেই অধিকার সবার আছে। 

এই মুহূর্তের বড় হয়ে উঠতে থাকা প্রজন্মের কাছেও আজকের দিনগুলি এরকমই থাকবে। যে অনুভূতি নিয়ে এই লেখাটি লিখছি, সেই অনুভূতি নিয়েই আজ থেকে বহু বছর পর কেউ হয়ত লিখবে এরকম কোনও কথা। 

আসলে আমরা কেউ তো নতুন কিছু লিখি না। কেননা নতুন কিছু লেখা যায় না। মানুষের অনুভূতি সর্বদেশে সর্বকালে এক থাকে। লেখার ধরণ পাল্টে আমরা সেই একই কথা বলে চলি আজীবন। 

বৃত্ত এভাবেই পূর্ণ হয়.... শুধু সেই বৃত্তে কেউ কেউ জলের দাগ রেখে যায় হঠাৎ!     








   
  

Wednesday, April 5, 2023

গভীরে কোথাও

শৌভিক রায়


সব যাওয়া জরুরি নয়

তবু ব্যস্ততা থাকে কখনও...


গল্প, হাসি, আড্ডা

তারপর বিপরীতে 

সময়


উঠে পড়া হঠাৎ

হাত নেড়ে বিদায় 

আকস্মিক


শিখা নিভলে, কান্না থামলে 

নিস্তরঙ্গ হলে সব 

থেকে যাওয়া কারও কাছে 

কোনও গভীরে কোথাও!!



Monday, April 3, 2023

 


কোভিল
শৌভিক রায় 

পেছন ফিরে দেখি বাবা মা নেই।
একটু চিন্তা হল। কোথায় গেল এরা? না। হারানোর ভয় নেই। আশ্রমের গার্ডেন হাউস সবাই চেনে। মাতৃ মন্দির থেকে খুব একটা দূরে নয়। আছিও বেশ কয়েকদিন থেকে। সবাই রাস্তাঘাট চিনে গেছি মোটামুটি। আমি খানিক বেশি। সকালে ঘণ্টা প্রতি পঞ্চাশ পয়সায় সাইকেল ভাড়া করি আর টো টো করে ঘুরে বেড়াই মেরিন ড্রাইভ থেকে যেদিকে চোখ যায়। দাদা একশ টাকা হাতখরচ দিয়েছে। কাজেই চিন্তা নেই।

কিন্তু এরা গেল কোথায়? 

প্রতিদিন সকালে মাতৃ মন্দিরে এসে সমাধিতে ধুপ কাঠি জ্বালাই আর ফুল দিই। এদিক ওদিক কয়েকজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। সমুদ্রের গর্জন শোনা যায় শান্ত নিস্তব্ধতায়।

আজও ফিরছিলাম মাতৃ মন্দির থেকে। রাস্তায় বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা। একসঙ্গে কিছুটা হাঁটার পর পেছন ফিরে দেখি দুজনের একজনও নেই। গেল কোথায়!

এদিক ওদিক তাকাতে হঠাৎ কানে এলো- ভা ভা...

দেখি ষন্ডগন্ডা চেহারার মিশকালো রঙের এক মানুষ চেঁচিয়ে যাচ্ছে। বেশ মারমুখী একটা ভাব। 

কাকে বলছে কী বলছে বুঝতে না পেরে এগোনোর জন্য যে-ই পা বাড়িয়েছি, দুম করে আমার হাত টেনে ধরল লোকটা। আমার ততক্ষণে ভয়াবহ অবস্থা। ভর দিনের বেলা! এখন ছিনতাই করবে!! পন্ডিচেরির তো এরকম দুর্নাম শুনিনি।

কাঁদব কী কাঁদব না বুঝতে না বুঝতেই আবার 'ভা ভা' বলে লোকটা হাসল। ঝকঝকে সাদা দাঁত। বেশ খোলতাই হয়েছে ওই মুখে। হাত দিয়ে একটা মন্দির দেখালো। বুঝলাম মন্দিরে যেতে বলছে।

যাক। তাও ভাল। 

গুটিগুটি পায়ে এগোলাম। প্যা পো করে দক্ষিণী সঙ্গীতের আওয়াজ আসছে। গেট দিয়ে ঢুকে বেশ বড় উঠোন মতো। সার সার চেয়ার পাতা। দেখি বাবা মা বসে আছে। কপালে টিপ তিলক লাগানো। কেমন ভেবলে যাওয়া মুখ। 

- আম্মা! উঙ্গাই মাকেন। উতকারে...

আবার একগাল হাসি। আমাকে চেয়ারে প্রায় জোর করে বসিয়েই দিল। কপালে ফোঁটাও লাগিয়ে দিল।

আমার তখন খুউব রাগ হচ্ছে। এটা কী! এভাবে জোর করে কেউ মন্দিরে টেনে আনে? মায়ের দিকে তাকাতেই মা বলল,
- তোর বাবা! বুঝিস না? সাউথ ইন্ডিয়ায় এসে একেবারে ধর্মাবতার হয়েছে। মন্দির দেখলেই হল। ঢুকতেই হবে। এই মন্দিরে ঢুকবার কী ছিল? গোপুরম পর্যন্ত নেই। বিগ্রহই বা কোথায় বুঝতে পারছি না। ঢোকার পর থেকে শুধু উতকারে উতকারে করে যাচ্ছে! তোকেও ধরে আনলো! কী উটকো ঝামেলা।
- আহা ঝামেলার কী পেলে! অন্য মন্দিরের সঙ্গে মিল নেই বলেই তো ঢুকলাম। কোনও মন্দিরে এভাবে বসিয়েছে? 

বাবার ডিফেন্স।

- সে তো বুঝলাম। কিন্তু বিগ্রহ কোথায়?
- আরে গর্ভগৃহে পুজো বা ধোওয়া মোছা চলছে। সেজন্যই তো বসিয়ে রেখেছে।

বাবার কনফিডেন্স।

কী আর করা। বসে রইলাম। 

মিনিট দুয়েকের মধ্যে তিন প্লেটে মিষ্টি এলো। বয়স্ক মহিলা থেকে শুরু করে কিশোরীরা ঘিরে ধরল।

- সাপ্পিডে সাপ্পিডে...

সাপ ব্যাঙ তো নেই!  ছাইভস্মও নেই। বোধহয় খেতে বলছে। এ তো ব্যাপক মন্দির। বেশ দামি দামি মিষ্টি।

- উঙ্গালেক্কে পুরিইয়া ভিল্লাই এন বাদেই নাঙ্গাল পুরিন্দা কুম গেরুম।

কী বলে কে জানে। বলুক গিয়ে। চুপচাপ খেয়ে নিতেই সামনে দেখি নতুন বর বউ দাঁড়িয়ে।

বাবা আর মা-কে ঢিপ ঢিপ প্রণাম। আমার দিকে তাকিয়ে একগাল হাসি।

- উঙ্গালেই পেটরা দিল নাঙ্গাল মিকাভুম মাদাইচি আদায় কেরুম।
- আশীর্বাদিপ্পার।
- দেব পাভ ভিরুন্তানুর....

এতক্ষণে কেসটা বুঝলাম। ওটা মন্দির নয়। বাড়ি। বিয়ে বাড়ি। বাবা ভুল করে মন্দির ভেবে ঢুকে পড়েছে। ওরা বুঝতে পেরেছে সেটা। কিন্তু অতিথি নারায়ণ। তাই রাস্তা থেকে আমাকে ধরে এনে বসিয়েছে। আপ্যায়ন করে মিষ্টি খাইয়ে এখন বাবা মায়ের আশীর্বাদ নিচ্ছে।

আমরা তিনজনই হতভম্ব। বাবার কনফিডেন্স শেষ হয়ে মুখে এক চিলতে হাসি। মা রাগতে গিয়েও সামনে মিষ্টি মুখের নববধূ আর তার সুপুরুষ সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে গলে জল। আমার পেট থেকে সোডার বোতল খোলার মতো হাসি ভুস ভুস করে বেরিয়ে এলেও কন্ট্রোল করছি নিজেকে....

আর কী! বেরিয়ে এলাম অবশেষে। ওরা সমস্বরে বলল,
- মিন্তুম ভারুকা.....


(বোকামির এককাল)

(১৯৮৯ সালে প্রথম দক্ষিণ ভারত বেড়াতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আজ বাবা মা নেই। কিন্তু আমাদের তিনজনের সেই বোকা বনে যাওয়ার ঘটনাটা স্পষ্ট মনে আছে।)

* কোভিল- মন্দির
বাকি তামিল ভাষা বুঝতে গেলে পাঠককে খাটতে হবে। ওটা আমার পারিশ্রমিক।




Sunday, April 2, 2023


 

নিজস্ব কিছু দাগ 
শৌভিক রায় 

প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু শব্দ থাকে। হয়ত বা কোনও বাক্য। 
আমার নিজের ক্ষেত্রেই যেমন। `জলের দাগ একবার লাগলে মোছা যায় না` বাক্যটি আমার বিভিন্ন লেখায় ঘুরেফিরে আসে। 
ভীষণভাবে বিশ্বাস করি এই কথাটা...

গত দুদিন ধরে, মনোনীতা চক্রবর্তী সম্পাদিত `দাগ` পত্রিকার সাম্প্রতিকতম ৯৬৮ পাতার বিশালাকার সংখ্যাটি কিছুটা উল্টেপাল্টে মনে হল, মনোনীতাকেও হয়ত কোনও দাগ তাড়িয়ে বেড়ায়। 

ইতিমধ্যেই পত্রিকাটি নিয়ে প্রখ্যাত গুণীজনেরা তাঁদের মূল্যবান কথা বলেছেন। তাঁদের মেধা, মনন, সৃজনের পাশে বড্ড অকিঞ্চিৎকর আমার এই কথন। কিন্তু অন্তর্গত তাগিদ থেকে কিছু বলে ফেলার ধৃষ্টতা করে ফেললাম। নইলে বিশ্বাস করুন, আমার সেই ক্ষমতা নেই যা দিয়ে মনোনীতার এই কাজের মূল্যায়ন করব। 

শব্দ শিল্পের নান্দনিক আয়োজনে `দাগ`-এর দ্বাদশ বর্ষ, সপ্তম সংখ্যাটি সেজে উঠেছে। `উত্তরবঙ্গের নারী, নদী, আদিবৃক্ষ এবং...` এবারের ক্যাচ লাইন। আত্মকথায় লিখেছেন শতাধিক নারী। জলকথা পর্বে স্থান পেয়েছে উত্তরের পঞ্চাশটির ওপর নদী। সংখ্যায় আঠারোর ওপর মহীরুহের কথা উঠে এসেছে আদিবৃক্ষ পর্যায়ে। নারী সুরক্ষা, ভ্রমণ, স্মৃতিকথা, প্রত্নকথার পাশাপাশি গ্রন্থ আলোচনাও গুরুত্ব পেয়েছে। কবিতাকে সম্পাদক ভাগ করেছেন দীর্ঘ কবিতা, কবিতা, গুচ্ছ কবিতা, ওপারের কবিতা, অন্য ভাষার কবিতা, অনুবাদ কবিতা ইত্যাদি নানা ভাগে। চিত্রকলা, এখন, ক্রোড়পত্র, অনুলিখন, নারীর মনন-মেধায় স্রোতস্বিনী ইত্যাদি বিষয়গুলিও যথেষ্ট আকর্ষক। 

এই বিপুল আয়োজনে কত সংখ্যক লেখক-কবি থাকতে পারেন সেটা নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। নিজে সম্পাদনার কাজ করি বলে বুঝতে পারছি কী দুরূহ ছিল এই বিরাট ব্যাপারটিকে মলাটবন্দি করা। মনোনীতা সেটা করেছেন অনায়াসে। `এখন ডুয়ার্স'-এর পরিবেশনায় পত্রিকাটির প্রচ্ছদ করেছেন সৌরীশ মিত্র। 

আলাদা করে কারও লেখার উল্লেখ করছি না। কেননা যাঁরা লিখেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই লেখার জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁদের নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। তুলনায় কম হলেও নবীন লেখকেদের লেখাও খুব যত্নে স্থান পেয়েছে। আগামীতে মনোনীতার হাত ধরে নবীন লেখকেরা আরও বেশি সংখ্যায় উঠে আসবেন এই প্রত্যাশা করতেই পারি। 

নিজের সম্পাদকীয় কলমে মনোনীতা আমার নাম উল্লেখ করেছেন। সত্যি বলতে নিজের লেখা পাঠানো আর রীনাকে বকেঝকে লেখানো ছাড়া কোনও কাজ আমি করিনি। তাই মনোনীতার এই কৃতজ্ঞতা প্রদান আমার কাছে সত্যিই বোনাস

পত্রিকার মূল্য ৫০০ টাকা। সেটা রাখতে হয় বলে রাখা। কেননা যে কাজ হয়েছে, তাতে পাঁচশোর সঙ্গে আরও অনেকটা যোগ করলেও মূল্য হয় না। আমার বাড়িতে আবার মিয়া-বিবি মিলে দুটি কপি এসেছে। মনোনীতার বিরুদ্ধে এটাই আমার সমালোচনা করার একমাত্র জায়গা। ভবিষ্যতে এরকম হলে রীতিমতো ঝগড়াঝাঁটি হবে ভাই-বোনে। 

আর আমার এই বলা তখনই পূর্ণতা পাবে, যদি কেউ `দাগ` সংগ্রহ করেন। 
দেখবেন, আমার সেই নিজস্ব বাক্যটি মিলে যাচ্ছে- জলের দাগ একবার লাগলে তা মোছা যায় না।
এখানে অবশ্য জলের দাগ নয়। মনোনীতার 'দাগ', উত্তরের `দাগ`.....