Sunday, April 2, 2023


 

নিজস্ব কিছু দাগ 
শৌভিক রায় 

প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু শব্দ থাকে। হয়ত বা কোনও বাক্য। 
আমার নিজের ক্ষেত্রেই যেমন। `জলের দাগ একবার লাগলে মোছা যায় না` বাক্যটি আমার বিভিন্ন লেখায় ঘুরেফিরে আসে। 
ভীষণভাবে বিশ্বাস করি এই কথাটা...

গত দুদিন ধরে, মনোনীতা চক্রবর্তী সম্পাদিত `দাগ` পত্রিকার সাম্প্রতিকতম ৯৬৮ পাতার বিশালাকার সংখ্যাটি কিছুটা উল্টেপাল্টে মনে হল, মনোনীতাকেও হয়ত কোনও দাগ তাড়িয়ে বেড়ায়। 

ইতিমধ্যেই পত্রিকাটি নিয়ে প্রখ্যাত গুণীজনেরা তাঁদের মূল্যবান কথা বলেছেন। তাঁদের মেধা, মনন, সৃজনের পাশে বড্ড অকিঞ্চিৎকর আমার এই কথন। কিন্তু অন্তর্গত তাগিদ থেকে কিছু বলে ফেলার ধৃষ্টতা করে ফেললাম। নইলে বিশ্বাস করুন, আমার সেই ক্ষমতা নেই যা দিয়ে মনোনীতার এই কাজের মূল্যায়ন করব। 

শব্দ শিল্পের নান্দনিক আয়োজনে `দাগ`-এর দ্বাদশ বর্ষ, সপ্তম সংখ্যাটি সেজে উঠেছে। `উত্তরবঙ্গের নারী, নদী, আদিবৃক্ষ এবং...` এবারের ক্যাচ লাইন। আত্মকথায় লিখেছেন শতাধিক নারী। জলকথা পর্বে স্থান পেয়েছে উত্তরের পঞ্চাশটির ওপর নদী। সংখ্যায় আঠারোর ওপর মহীরুহের কথা উঠে এসেছে আদিবৃক্ষ পর্যায়ে। নারী সুরক্ষা, ভ্রমণ, স্মৃতিকথা, প্রত্নকথার পাশাপাশি গ্রন্থ আলোচনাও গুরুত্ব পেয়েছে। কবিতাকে সম্পাদক ভাগ করেছেন দীর্ঘ কবিতা, কবিতা, গুচ্ছ কবিতা, ওপারের কবিতা, অন্য ভাষার কবিতা, অনুবাদ কবিতা ইত্যাদি নানা ভাগে। চিত্রকলা, এখন, ক্রোড়পত্র, অনুলিখন, নারীর মনন-মেধায় স্রোতস্বিনী ইত্যাদি বিষয়গুলিও যথেষ্ট আকর্ষক। 

এই বিপুল আয়োজনে কত সংখ্যক লেখক-কবি থাকতে পারেন সেটা নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। নিজে সম্পাদনার কাজ করি বলে বুঝতে পারছি কী দুরূহ ছিল এই বিরাট ব্যাপারটিকে মলাটবন্দি করা। মনোনীতা সেটা করেছেন অনায়াসে। `এখন ডুয়ার্স'-এর পরিবেশনায় পত্রিকাটির প্রচ্ছদ করেছেন সৌরীশ মিত্র। 

আলাদা করে কারও লেখার উল্লেখ করছি না। কেননা যাঁরা লিখেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই লেখার জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁদের নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। তুলনায় কম হলেও নবীন লেখকেদের লেখাও খুব যত্নে স্থান পেয়েছে। আগামীতে মনোনীতার হাত ধরে নবীন লেখকেরা আরও বেশি সংখ্যায় উঠে আসবেন এই প্রত্যাশা করতেই পারি। 

নিজের সম্পাদকীয় কলমে মনোনীতা আমার নাম উল্লেখ করেছেন। সত্যি বলতে নিজের লেখা পাঠানো আর রীনাকে বকেঝকে লেখানো ছাড়া কোনও কাজ আমি করিনি। তাই মনোনীতার এই কৃতজ্ঞতা প্রদান আমার কাছে সত্যিই বোনাস

পত্রিকার মূল্য ৫০০ টাকা। সেটা রাখতে হয় বলে রাখা। কেননা যে কাজ হয়েছে, তাতে পাঁচশোর সঙ্গে আরও অনেকটা যোগ করলেও মূল্য হয় না। আমার বাড়িতে আবার মিয়া-বিবি মিলে দুটি কপি এসেছে। মনোনীতার বিরুদ্ধে এটাই আমার সমালোচনা করার একমাত্র জায়গা। ভবিষ্যতে এরকম হলে রীতিমতো ঝগড়াঝাঁটি হবে ভাই-বোনে। 

আর আমার এই বলা তখনই পূর্ণতা পাবে, যদি কেউ `দাগ` সংগ্রহ করেন। 
দেখবেন, আমার সেই নিজস্ব বাক্যটি মিলে যাচ্ছে- জলের দাগ একবার লাগলে তা মোছা যায় না।
এখানে অবশ্য জলের দাগ নয়। মনোনীতার 'দাগ', উত্তরের `দাগ`.....    
        

No comments: