এই মানুষটিই বাধ্য করেছিলেন লেখা পাঠাতে।
লেখাটি প্রকাশিতও হয়েছিল বিখ্যাত দৈনিক পত্রিকায়।
এই মানুষটিই বাধ্য করেছিলেন লেখা পাঠাতে।
লেখাটি প্রকাশিতও হয়েছিল বিখ্যাত দৈনিক পত্রিকায়।
শৌভিক রায়
পুরানো দিনের মোড়ল নেই, কিন্তু ভোটারের মন কি আজও পরাধীন?
'শুধু অভিযোগ আর অনুযোগ! তোমার কি মন নেই, ভোটার?' জানতে ভীষণ ইচ্ছে করে, এইরকম প্রশ্ন কি করে থাকেন রাজনৈতিক দলের ভোটপ্রার্থী নেতা-কর্মীরা? নাকি তাঁরাও মনে করেন, মানুষের মন বোঝা বড্ড কঠিন। আর সেটা যদি ভোটারের হয়, তবে তা কঠিনতর। একটা সময় কিন্তু রঙ্গভরা এই বঙ্গে ভোটারের মন বোঝা খুব কিছু কঠিন ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে খুব সহজেই তাদের মন বোঝা গিয়েছিল বলেই, সত্তর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাঙালির মসনদ সামলেছিল কার্যত একটি দল। তারপর বদলে গেল অনেক কিছুই। নকশাল আন্দোলন ও পরবর্তীতে জরুরি অবস্থা ভোটারের মন দিল বদলে। হু হু করে পাল্টে গেল সব। এমন সে পরিবর্তন, যা হয়ে উঠল রীতিমতো গবেষণা ও চর্চার বিষয়। কিন্তু ওই অবধিই। এরপর আর ভোটারের মন বুঝতে ভুল করেননি রাজনীতির সেদিনের ধুরন্ধররা। তাই তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত থেকেছে এই রাজ্যের রাজনীতির পটচিত্র। আসলে আমরা বাঙালিরা খুব বেশি নাড়াচাড়া বা পরীক্ষা ভালোবাসি না। বরং অনেক বেশি পছন্দ করি স্থিতাবস্থা। তাই ভারতের অন্যান্য নানা রাজ্যে পাঁচ বা দশ বছর অন্তর ভোটারের মন বদলে গেলেও বাংলায় সে দৃশ্য দেখা যায় না। এখানে অনায়াসে ঘটে যায় বিজন সেতু, বানতলা, সিঙ্গুর, সাইবাড়ি, নন্দীগ্রামের মতো নারকীয় ঘটনা। আবার রাজ্যের মন্ত্রীদের জেলযাত্রা, কয়লা-বালি-গরু মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যও 'এহ বাহ্য' হয়ে যায় অনায়াসে। অভয়া কাণ্ডের মতো নারকীয় ঘটনাও তাঁদের মনে শেষ অবধি রেখাপাত করে না। যোগ্য শিক্ষকদের পথে বসে থাকাও ভোটারের মনে বদল আনে না। স্থিতাবস্থা বজায় রাখায় বাংলার ভোটারের মন যেন তুরীয় অবস্থায় থাকে সবসময়। জগদ্দল পাথর হয়ে স্থিতাবস্থায় চলে যাওয়া প্রশাসন আর স্থিতধী বাঙালি ভোটারের মনকে আলাদা করা যায় না কোনও ভাবেই। বহু বছর পরে পরে তার হঠাৎ কখনও মনে হয়, 'অনেক হয়েছে, এবার পাথরটাকে সরানো উচিত।' অতীতে বহু শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারে দেখতাম, বাড়ির কর্তা কিংবা সম্ভ্রমের মানুষটি পরিবারের অন্য ভোটারদের মন বুঝে নিজের মতো তাঁদের পরিচালনা করতেন। বাড়ির পরিচারকসহ কর্মচারী শ্রেণির মানুষজনও তাঁর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতেন। কেউ বেসুরো গাইলে সেই সদস্য বা কর্মচারীর মন বুঝে নিতেন কর্তা ব্যক্তিটি। ছোট ছোট গ্রামগুলিতেও মোটামুটি একই ছবি ছিল। বিশেষ করে সেই সব গ্রামে যদি একই সম্প্রদায়ের মানুষ থাকতেন, তবে তো কথাই নেই। গ্রামকর্তা বা মোড়লের কথাই ছিল সব ভোটারের মনের কথা। ফলে একবার সেই কর্তার মনের কথা পড়ে ফেলতে পারলেই কেল্লা ফতে। জন্মাবধি চা বাগান এলাকায় বড় হয়েছি বলে বোধহয় এই ব্যাপারটা ভালো বুঝেছি। দেখেছি কীভাবে নির্বাচনের দু-তিন দিন আগে, রাতের বেলায় পানভোজন করিয়ে শ্রমিক ভোটারের মন বুঝে নিত রাজনৈতিক দলগুলি। সঙ্গে থাকতেন শ্রমিকদের নেতা বা মাতব্বরজাতীয় কেউ। কোনও কোনও সময় একটি ছাতা বা যৎসামান্য পোশাক দিয়েও ভোটারের মন দখল করে নিত তারা। আর তার ছবি ধরা পড়ত ব্যালট বক্সে। অনায়াসে জিতে যেত উপঢৌকন দেওয়া সেই দল বা তাদের সমর্থিত প্রার্থী। চা বাগানের সরল সহজ গরিব ভোটারদের মন এভাবেই বহুবার প্রলুব্ধ হতো। না বুঝে তাঁরা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করতেন। ভারতের অন্য রাজ্যগুলিতে ভোটারের মন বোঝা এত সহজ নয়। কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি। তামিলনাড়ুতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ সাল অবধি মোট কুড়ি বছর টানা রাজত্ব করেছিল কংগ্রেস। ১৯৬৭-তে আন্নাদুরাইয়ের ডিএমকে ক্ষমতায় এসে কাটিয়েছিল পরবর্তী দশ বছর। ১৯৭৭ সালে এমজি রামচন্দ্রন এআইএডিএমকে প্রতিষ্ঠা করবার পর মোটামুটিভাবে পাঁচ বছর পর পর ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছে তাদের ও ডিএমকে-র মধ্যে। বহুবার বহু চেষ্টা করেও সেখানকার ভোটারের মন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন পোড়খাওয়া রাজনৈতিক নেতা বা বিশ্লেষক। স্বাধীনতার পর থেকে কেরালায় ভোটারের মন এখনও পর্যন্ত বাইশ বার ক্ষমতার অদলবদল ঘটিয়েছে। তুলনায় কর্ণাটকের ভোটার খানিকটা স্থিতাবস্থা পছন্দ করলেও সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বদল হয়েছে প্রায় তেইশ বার। অন্ধ্রপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ভোটারের মনের এই পরিবর্তন সাতবার, গুজরাটে আটবার। তুলনামূলকভাবে দেশের পূর্বদিকের রাজ্যগুলির মধ্যে অসমের ভোটারের মন পশ্চিমবঙ্গের মতোই পাঁচবার বুঝতে পেরেছে রাজনৈতিক দলগুলি। তুলনায় অনেক এগিয়ে ওড়িশা, মণিপুর, নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যগুলি। এই সব রাজ্যেই ভোটারের মন দশবারের বেশি বদল এনেছে। বহুত্ববাদের এই দেশে যেখানে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের ভাষা, বর্ণ, খাদ্য, ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার, ব্যবহার ইত্যাদি সবই আলাদা, সেখানে ভোটারের মন আলাদা হবে—সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে ভোটারের মনের যে একটা যোগ রয়েছে, সেটা স্পষ্ট। কেরালায় স্বাক্ষরতার হার ৯৬.২ শতাংশ। তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরিতে ৮৫.৫ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমেও ৮০ শতাংশের ওপর। কিন্তু তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ বা অসমে ভোটারের মনের গতিপ্রকৃতি আঁচ করা অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় অনেকটা সহজ। আসলে স্বাক্ষরতা আর শিক্ষা এক নয়। আর রাজনৈতিক শিক্ষা ও জ্ঞান তো সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। বলতে দ্বিধা নেই, এই বিষয়ে আমাদের রাজ্যের ভোটারের মন অনেকটা পিছিয়ে। আবার সর্বভারতীয় স্তরে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যের অধোগতিও প্রমাণ করে আমাদের রাজনৈতিক দৈন্য। এরকম বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের ব্যাপক খামতি রয়ে গেছে। ফলে ভোটারের মন বোধহয় সেভাবে পরিপক্ক হয়ে ওঠেনি আজও। এর সঙ্গে দিন দিন বেড়ে চলেছে ড্রপ আউট, ছদ্ম ও সাময়িক বেকারত্ব এবং পরিযায়ীর সংখ্যা। আর তাতেই সামান্য চাকরি বা ভাতাকে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরছে এক বিপন্ন বিরাট প্রজন্ম, যারা আজ ও আগামীর ভোটার। এদের মন বোঝা খুব কিছু কঠিন নয়। যেন-তেন-প্রকারেণ উপার্জন ও জীবনধারণ তাদের একমাত্র পাখির চোখ। আজ যে রাজনৈতিক দল ভোটারের মনের শুধু এইটুকু বুঝতে পারবে, অ্যাডভান্টেজ তাদের। তার প্রমাণও যে আমরা পাচ্ছি না, তেমন নয়। অতীতেও ভোটারের মনের এই নির্লিপ্ততা 'প্রমোদ জ্যোতি মাতব্বর, আপেল পেঁয়াজ এক দর' হওয়ার পরেও বদলায়নি। কিন্তু সেটা বুঝতে পারেননি সেদিনের বিরোধী পক্ষ। উল্টে বিরোধিতা করতে গিয়ে ক্রমে সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছেন। একইভাবে বর্তমানের 'জিতলে গণতন্ত্র, হারলে ষড়যন্ত্র' সময়েও ভোটারের মন একইরকমভাবে নির্মোহ। হয়তো কখনও বিবেকের অত্যাধিক তাড়নায় সে পালাবদলের ডাক দেয়, কিন্তু পরক্ষণেই আবার আপোসের রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। ফলে সেদিনের দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসক আজ বিরোধী দল হয়ে ক্রমে শূন্যে মিলিয়ে যায়। বঙ্গের ভোটারের মন এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্মম বলা যেতেই পারে। কেননা মাত্র এক দশকে সে নিজের একসময়ের পথপ্রদর্শককে ব্রাত্য করেছে। তাঁদের অবস্থা আজ এমনই যে, দূরবীন দিয়ে দেখলেও খুঁজে পাওয়া যায় না। সমাজমাধ্যমে তাঁদের দাপুটে উপস্থিতি কিংবা জনসভায় ভিড় থাকা সত্ত্বেও ক্ষয় অব্যাহত। সেজন্যই বলছি, ভোটারের মন বোঝা সবসময় সহজ হয় না। তবে ভারতীয় গণতন্ত্রে শেষ কথা হলো সংখ্যার প্রাধান্য। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত সমীকরণ। গণতন্ত্রের পক্ষে সেটি কতটা স্বাস্থ্যকর কে জানে। কিন্তু বোধহয় সেটি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। ২০২৪ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে ৬৫.৭৯ শতাংশ ভোটার নিজেদের মনের কথা বলেছিলেন ভোটিং মেশিনে। অর্থাৎ মনের কথা না জানানোর দলে ছিলেন ৩৪.২১ শতাংশ। বিজয়ী দলের ভোটের শতাংশ ছিল ৩৬.৫৬। এখানেই ভাবনা আসে যে, মনের কথা না বলা ভোটাররা যদি তাঁদের ভোট বিরোধীদের দিতেন, তবে নির্বাচনের ফল পুরোটাই বদলে যেত। সেই অর্থে দেখতে গেলে গণতন্ত্রের এই প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ সময় সংখ্যালঘু ভোটারের মন জয় করে পরবর্তী পাঁচ বছরে তখতে মৌরসীপাট্টা গেড়ে বসে কোনও রাজনৈতিক দল। সংখ্যাতত্ত্বের এ এক অদ্ভুত খেলা। আর একটা ব্যাপার হলো, ভারতীয় গণতন্ত্রে এখনও ব্যক্তিপুজো করেই চলেছে মানুষ। দলবদলু বহু নেতার বারংবার জয় সে কথাই প্রমাণ করে। ভোটারের মন এক্ষেত্রে বুঝতে অসুবিধে হয় না। সে মন চলে নেতার সঙ্গে সঙ্গে। কখনোই স্বাবলম্বী হয় না সে। নিজের মনের ওপরেই থাকে না তাঁর আস্থা। সেটা না হলে আদর্শহীন, নীতিহীন, ভ্রষ্ট এই রাজনৈতিক ধান্দাবাজরা কখনোই নির্বাচনে জিততে পারতো না। তাঁদের জিতিয়ে দেয় ভোটারের অপ্রাপ্তবয়স্ক মন। তবে সম্প্রতি ভোটারের মনের অদ্ভুত দোলাচল দেখছি। সরকারি ভাতার টাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডে ভাষণ শুনতে হাজির হওয়া তরুণ ভোটার আপাতত ভাইরাল। বহু ভোটার মনে করছেন, বিগত এক-দেড় দশকে স্রেফ রাজনীতি করে যদি কোনও ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী কোটিপতি হয়ে যায় বা কুঁড়েঘরে থাকা দিনমজুর পাঁচতলা হাঁকায়, তাহলে সরকার বিভিন্ন খাতে যে টাকা ভাতা দিচ্ছে, সেটা নেওয়ায় কোনও লজ্জা নেই। বরং বেশি করে সেটিই নেওয়া উচিত। কেননা এই টাকা তাঁদের নিজেদের। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের টাকা নিচ্ছেন। কেউ আলাদা করে দিচ্ছে না। কিন্তু তার জন্য ঋণী থাকবার প্রয়োজন নেই। ভোটবাক্সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ব্যাপার নেই। অবশ্য এই ভাবনার বিপরীতেও বহু মানুষ আছেন। এই দেওয়ার জন্য তাঁরা দু-হাত তুলে বরাভয় দেখাচ্ছেন শাসক দলকে। কিন্তু একটি জায়গায় বোধহয় প্রত্যেক ভোটারের মন এক। সেটা হলো উন্নয়ন ও সুশাসন। খাতায়-কলমে নয়, আক্ষরিক অর্থে। কোনও সন্দেহ নেই, বিভিন্ন কারণে আজ এই রাজ্যের সুনাম তলানিতে। রাজ্যের বাইরে থাকা তরুণ দুই ভোটার জানালেন, ‘নির্বাচনের দিন ঘোষণার সাংবাদিক সম্মেলনে যেভাবে প্রত্যেক সাংবাদিক পশ্চিমবঙ্গের ভোট নিয়ে প্রশ্ন করলেন, তাতে আমাদের লজ্জা আরও বেড়েছে। অফিসে আমরাও অনেকের প্রশ্নের মুখে।’ এই লজ্জা বোধহয় এই মুহূর্তে আমাদের রাজ্যের সব ভোটারের মনে। তার মধ্যেই আবার ওত পেতে আছে সাম্প্রদায়িক শক্তির শক্ত হাত। আমাদের রাজ্যের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে যে ব্যাপারগুলি আগে ছিল না, সেগুলি বেড়ে চলেছে দিনের পর দিন। ধর্মীয় উন্মাদনায় কম যাচ্ছে না কেউই। পাশাপাশি রয়েছে বেকারত্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব, হানাহানি-রক্তক্ষয়, সংঘাত, অপশাসন, দুর্নীতি ইত্যাদির মতো ব্যাপার। সব কিছু মিলে ভোটারের মন খানিকটা হলেও সংকটে। শাঁখের করাতের মধ্যে পড়েছেন তাঁরা। রক্তক্ষরণ দু-দিকেই। ফলে অন্তত এই মুহূর্তে তাঁরা বুঝতে পারছেন না ঠিক কীভাবে বলবেন মনের কথা। তাঁদের অবস্থাটা অন্তত এখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের কথায় অনেকটা— ‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, শুধাইল না কেহ’।
https://a2onuswor.com/view?articale_id=a9d4d040-6b76-4473-b57d-31905bb14590
** প্রকাশিত: সানডে ফানডে: অ2অনুস্বর / সম্পাদক: শ্রী রূপায়ণ ভট্টাচার্য
উত্তরবঙ্গে পাশ্চাত্য শিক্ষার আলোর ইতিহাস
(উত্তরবঙ্গে শিক্ষা বিস্তারে মিশনারিদের ভূমিকা—ঐতিহ্য, সামাজিক পরিবর্তন ও আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি নির্মাণ।)
সিরিজ: মা
কোচবিহারের হেরিটেজ পোস্ট অফিস
শৌভিক রায়
অতীত ইংল্যান্ডে ডাক ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত ব্যয় সাপেক্ষ। সত্যি বলতে সাধারণ মানুষের প্রায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই। ফলে গরীব মা`কে খামের ওপর নির্দিষ্ট একটি চিহ্ন দিয়ে পরিযায়ী সন্তানটি বুঝিয়ে দিত সে ভাল আছে। কেননা চিঠিটি নিতে যে পয়সা খরচ করতে হবে সেটি দিয়ে হয়ত দুদিনের খাওয়া হয়ে যাবে। প্রখ্যাত ব্রিটিশ প্রাবন্ধিক এ জি গার্ডিনার বলছেন, মহার্ঘ ছিল বলেই চিঠি লেখা একটি শিল্পে পরিণত হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি কিটস, কার্লাইল প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকদের চিঠির কথা উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে ডাকে চিঠি পাঠানো সস্তা হয়ে যায় যখন পেনি-পোস্টের প্রচলন হয়। অর্থাৎ পেনি বা সামান্য পয়সা খরচ করলেই ডাকে চিঠি পাঠানো যেত। গার্ডিনার বলছেন, এই সস্তা হয়ে যাওয়া ব্যাপারটি চিঠি শিল্পের অপমৃত্যু ঘটিয়েছিল। পরবর্তীতে টাইপ-রাইটারের মতো দ্রুত লিখে ফেলার যন্ত্র আবিষ্কার হলে সেটি আরও ত্বরান্বিত হয়।
স্থানিক ইতিহাস নিয়ে লিখতে বসে ইংল্যান্ডকে দিয়েই শুরু করলাম। না, কোনও কলোনিয়াল হ্যাংওভার নয়। শুধুমাত্র সেই আমলের ডাক ব্যবস্থা বোঝাতে। আসলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পোস্ট অফিস নিয়ে সেভাবে এর আগে কাজ হয়নি। সেদিক থেকে `দাগ' পত্রিকার এই উদ্যোগ অভিনব। তথ্য প্রযুক্তির এই প্রবল বিস্ফোরণের যুগে পৌঁছে মনে হয়, আজ গার্ডিনারের মতো মানুষ বেঁচে থাকলে কী বলতেন! এখন তো এই সেদিনের `এস এম এস` বা `শর্ট মেসেজ সার্ভিস`ও প্রায় ব্রাত্য। চোখের নিমেষে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ছবি বা ভিডিও সহ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন ব্যবস্থা হাতের মুঠোয় মজুদ। পোস্টকার্ড, ইনল্যান্ড লেটার, এনভেলোপ ইত্যাদিও এই প্রজন্ম দেখেছে কিনা সন্দেহ। টাকা জমা ও তোলা ছাড়া পোস্ট-অফিসের আর কতটা প্রয়োজনীয়তা আজকের দিনে রয়েছে, সেটিও গবেষণার বিষয় হতে পারে। খাকি পোশাকে বসন্তের পোস্টম্যান এখন নস্টালজিয়া আক্রান্ত কবি-সাহিত্যিকদের অবসেশন। আগামী দিনে আর কী আসতে চলেছে, সেটা আমরা এই মুহূর্তে কল্পনাও করতে পারছি না।
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বিশ্বের প্রথম ডাক ব্যবস্থা চালু হয়েছিল জিশুর জন্মের ২০০০ বছর আগে প্রাচীন মিশরে। নিজেদের এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে রীতিমতো বাহক পাঠিয়ে চিঠি পৌঁছতেন ফ্যারাওরা। তাঁদের রাজত্বের আরও হাজার বছর পর, মোঙ্গলদের চিনে, চাও বংশের রাজত্বকালে, `পোস্ট হাউস রিলে সিস্টেম` চালু হয়। পিছিয়ে ছিলেন না সাইরাসের পার্সিয়ান রাজারাও। অবশ্য তাদের অবদান কিছুটা পরে। খ্রিস্টপূর্ব ছয় শতকে তাঁরা পোস্টহাউসের মাধ্যমে দ্রুতগামী ডাক-ব্যবস্থা চালু করেন। প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যের শাসনের ভিত্তি ছিল কিন্তু চিঠির দ্রুত আদান-প্রদান। সে ব্যাপারে রোমান শাসকরা আবিষ্কার করেছিলেন cursus publicus, যা ছিল সেই আমলের সবচেয়ে দ্রুত ডাক-ব্যবস্থা। দিন যত এগিয়েছে ডাক-ব্যবস্থার তত উন্নতি হয়েছে। নতুন নতুন উদ্ভাবন এসেছে। মধ্যযুগ স্পর্শ করে আধুনিক কাল পৌঁছতে পৌঁছতে ডাক-ব্যবস্থারও আমূল পরিবর্তন এসেছে।
অতীত বিশ্বের সঙ্গে যদি নিজেদের দেশের দিকে তাকাই, তাহলে কিন্তু খুব কিছু পার্থক্য দেখছি না। এই দেশেও একসময় বিভিন্ন ছোট ছোট রাজ্যের মধ্যে দূত পাঠিয়ে বার্তা আদানপ্রদান হত। দ্রুতগামী অশ্ব, পায়রা ইত্যাদির সাহায্য নেওয়া হত চিঠি পৌঁছনোর ক্ষেত্রে। কিন্তু পোস্টহাউসের ধারণা ভারতে সম্ভবত ছিল না। ১৭৬৬ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস `কোম্পানি মেল` নামে পোস্টাল সার্ভিসের উদ্যোগ নেন। তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্ব চলছে। ১৮৫৪ সালে লর্ড ডালহৌসি ইন্ডিয়া পোস্ট অফিস এক্ট পাস করানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হন। ১৮৩৭ সালের এক্টের চাইতে এটি ভারতে পোস্ট-অফিস খুলবার ব্যাপারে অনেক বেশি কার্যর্করী হয়েছিল।
কোচবিহারে ঠিক কবে থেকে ডাক ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছিল সে বিষয়ে খুব কিছু প্রামাণ্য তথ্য নেই। কেন নেই সে প্রশ্ন করেও আজ আর লাভ নেই। তবে এই রাজ্যে যে খৎগির বা সরকারি গোপনীয় চিঠি আদান-প্রদানে নিযুক্ত ব্যক্তি ছিল তার উল্লেখ পাওয়া যায়। ছিল হুকুমবরদার, কারপরদাজ, ডাকুয়া, জিনকাপ প্রমুখ নানা পদবীর মানুষেরা। এদের মূল কাজ ছিল চিঠির আদান-প্রদান। আবার চিঠি লেখার কাজেও কিন্তু তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত। কিন্তু এই সব ব্যবস্থায় সেভাবে আধুনিকতার ছাপ পড়েনি।
কিছুটা পরিবর্তন এলো মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণের রাজত্বকালে। তিনি ১৮১৩ সালে রংপুর থেকে ভেলাডাঙ্গা অবধি একটি নিয়মিত ডাকব্যবস্থা চালু করলেন। মাসিক ব্যয় ধরা হল ৩৭ টাকা ০৮ আনা। ম্যাকলয়েড সাহেবের লেখা চিঠির কথা এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। তিনি রংপুরের কালেক্টর ডিগবি সাহেবকে লিখেছিলেন- Being about to proceed immediately to Cooch Behar as Commissioner, in pursuance of the orders of Government, under the date 7th of August last, I beg to suggest to you the propriety of a regular dawk being established between this station and the present abode of the Rajah of that Province, near Bheladanga in Cooch Behar, for fecilitating my communications with Government or any authorities, with whom I have may occasion to correspond. এই চিঠির তারিখ ছিল ১৮১৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর। মাসিক ৩ টাকায় ২ জন হরকরা অর্থাৎ ৬ টাকা হিসেবে রংপুর, কালিদহ, মোঘলহাট, আঠারোবেঙ্কি ও বেলডাঙার জন্য মোট ৩০ টাকা এবং তেল, কাপড় ইত্যাদি বাবদ ৭ টাকা ০৮ আনা খরচ ধরা হয়েছিল।
এই হিসেবে দেখা যাচ্ছে কোচবিহারের ডাক ব্যবস্থা যথেষ্ট পুরোনো। কিন্তু এর পরের কয়েক দশকে কোচবিহারের ডাকব্যবস্থার ঠিক কী পরিবর্তন এসেছিল, তা বিশেষ জানা যাচ্ছে না। তবে চিঠির আদানপ্রদানে ঘোড়া, নৌকো ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হল মাঝ শতক থেকে। রংপুরে ১৮৫০ সালে একটি পোস্ট অফিস তৈরি হল। অনেকটা সেই অনুকরণে ১৮৬৪ সালে কর্নেল হটন কোচবিহারে আলাদা ডাক ব্যবস্থা চালু করেন। কিন্তু ১৮৭৫ সালে কোচবিহারের ডাক ও টেলিগ্রাফকে রংপুরের অধীনে নিয়ে যাওয়া হয়।
১৮৭৬ সালকে কোচবিহারের ডাক ব্যবস্থার একটি স্মরণীয় বছর ধরা হচ্ছে। কেননা এই বছরই কোচবিহারে রেল পথ চালু হয়। দ্রুতগামী রেল ডাক ব্যবস্থাকে অনেকটা বদলে দিয়েছিল। ১৯৯৩ অবধি এই রেলপথ ছিল ন্যারো গেজ। ট্রেন চলত গীতালদহ থেকে তোর্ষা ঘাট অবধি। গেজ পরিবর্তন ও তোর্ষার ওপর তৈরি হওয়া ব্রিজ কোচবিহারকে সারা ভারতের সঙ্গে জুড়ে দেয়। ফলে ডাক ব্যবস্থারও দ্রুত উন্নতি হয়েছিল। ইতিমধ্যে কোচবিহারের হলদিবাড়িতে পোস্ট অফিস তৈরি হয়েছে। সারা ভারতের ডাক সেই পোস্ট অফিসেই একত্রিত হত। তারপর কোচবিহারের ডাকের সঙ্গে বিশাল ব্রহ্মপুত্র পার করে ছড়িয়ে পড়ত পূর্ব ভারতে। তবে শুধু হলদিবাড়ি নয়, ইতিমধ্যে দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙ্গা, বলরামপুর ইত্যাদি জনপদেও পোস্ট অফিস স্থাপিত হয়েছে।
কোচবিহারের পোস্ট অফিসটি প্রথমে ছিল পুরোনো পোস্ট অফিস পাড়ায় কবিরাজখানার পাশের অংশে। আধুনিক ডাকের বহুল প্রচলন ও কাজ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য জনপদের মতো কোচবিহারেও পোস্ট অফিসের দরকার দেখা দিয়েছিল। আজ এই বাড়িটিকে সবাই উপাধ্যায় বাড়ি হিসেবেই জানে। রেলপথ স্থাপনের পর রেল গাড়িতে ডাক দেওয়া নেওয়ার জন্য এরপর পোস্ট অফিস স্থানান্তরিত হয় কোচবিহার রেল স্টেশনের সামনে সুকুলদের বাড়ির পাশে। কিন্তু প্রয়োজন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ফলে শুরু হয় কোচবিহার হেড পোস্ট অফিসের কাজ। ১৯২১ সালে এই কাজ শুরু করেছিলেন মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ। তাঁর মৃত্যুর পর কাজটি সম্পূর্ণ করেন মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ। চন্দন দিঘির উত্তরে বরাদ্দ জমিতে ৮৮৯ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে এই ভবনটি নির্মাণের জন্য। প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছিল ৮০৫০৮ টাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খরচ হয়েছিল ৭৮৬৫২ টাকা। অতীত কোচবিহারের স্থাপত্যকে মাথায় রেখে এই ভবন নির্মাণেও ব্যবহার করা হয়েছে নিও-রোমান শৈলী। ইতিমধ্যেই হেরিটেজের তকমা পেয়েছে কোচবিহারের হেড পোস্ট অফিস। গর্বের বিষয়, ভারতীয় ডাক বিভাগ সারা দেশের যে ছয়টি হেরিটেজ পোস্ট অফিসের ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে এই অনিন্দ্যসুন্দর ভবনটি। এই পোস্ট অফিসে এখনও রয়েছে সেই কালো গোল টেবিলটি যেখানে চিঠি সর্টিং করা হত। সাধারণত ইমিরিয়াল পদ্ধতিতে চিঠি ট্রেনের ভেতর সর্টিং করা হয়। কিন্তু ছোট ছোট সমানভাবে বিভক্ত এই টেবিলে যে পদ্ধতিতে চিঠি আলাদা করা হয়, সেই পদ্ধতি পরবর্তীতে বহু জায়গায় অনুসৃত হয়েছিল। রেলওয়ে মেল সার্ভিসের পাশাপাশি কোচবিহার স্টেট ট্রান্সপোর্ট চালু হওয়ার পর ডাক ব্যবস্থায় আরও কিছুটা পরিবর্তন আসে। ১৯৪৫ সালের ২ এপ্রিল সকাল সাতটায় ডাক নিয়ে যাত্রীবাহী বাস পৌঁছেছিল ফালাকাটায় পৌঁছেছিল সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে। সেখানে থেকে শৌলমারী এসেছিল সকাল ৯ টায়। কোচবিহারের ডাক ব্যবস্থার ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিন্তু এই পোস্ট অফিস থেকে হত। সেটি ছিল রেভিনিউ স্ট্যাম্প। সেটি বিক্রি করা হত রাজ্যের খাজনা আদায়ের জন্য।
নবনির্মিত ভবন যেমন কোচবিহারের ডাকব্যবস্থার একটি নতুন দিক খুলে দিয়েছিল, তেমনি ডাক বিভাগের কর্মচারীদেরও নতুন ভাবনায় আন্দোলিত করতে পেরেছিল। এমনিতেই ব্রিটিশ ভারতে ডাক বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। করদ রাজ্য হয়েও কোচবিহারের ডাক ব্যবস্থা তার থেকে আলাদা হতে পারেনি। নতুন ভবন, নতুন ভাবনা এবং সারা দেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ঢেউ ছুঁয়ে গিয়েছিল এই পোস্ট অফিসের চাকুরেদের। ফলে `কুচবিহার দর্পণ`-এর ৯ম বর্ষ চতুর্থ সংখ্যা (শ্রাবণ ১৩৫৩, পৃ: ১৭৭) লিখেছে- `গত ১১ই জুলাই হইতে ডাকপিয়ন ও ডাকবিভাগের নিম্নপদস্থ কর্ম্মচারীদিগের ধর্ম্মঘট চলিতেছে। ধর্ম্মঘটের আশঙ্কায় ডাকবিভাগ পূর্ব্ব হইতেই মণিঅর্ডার, ইন্সিওরেন্স ও রেজিস্ট্রি মাল গ্রহণ বন্ধ করিয়াছেন; কেবলমাত্র সাধারণ চিঠিপত্র গৃহীত ও বিলি হয়ত। ২২শে জুলাই হইতে এই ধর্ম্মঘট আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে ডাকবিভাগ সকলপ্রকার চিঠিপত্র গ্রহণ বন্ধ কোরিয়া দিয়াছেন। কেবল সরকারী চিঠিপত্র গৃহীত ও বিলি হইবার ব্যবস্থা বলবৎ রহিয়াছে। এই ধর্ম্মঘটের ফলে জনসাধারণের অত্যন্ত অসুবিধা হইতেছে।` স্বাধীনতার পরে ১৯৬৮ সালে এই পোস্ট অফিসে `এফ এন পি ও` নামের সংগঠন তার শাখা খোলে। এর উল্লেখ করলাম বিশেষ কারণে। কেননা এই সংগঠনের প্রথম সভাপতি ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক অমিয়ভূষণ মজুমদার। তিনি ছিলেন কোচবিহার হেড পোস্ট অফিসের অন্যতম কর্মী। তাঁর উপস্থিতি অবশ্যই এই হেরিটেজ পোস্ট অফিসকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
এই মুহূর্তে কোচবিহার জেলায় শতাধীক পোস্ট অফিস রয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু অত্যন্ত প্রাচীন। কিন্তু কোচবিহার হেড পোস্ট অফিসের মতো ধারে বা ভারে কেউই পৌঁছতে পারেনি। খুব স্বাভাবিক সেটি। কিন্তু তাই বলে কারও গুরুত্ব কম নয়। কিছুদিন আগেও কোচবিহার হেড পোস্ট অফিসের পেছনের বিল্ডিংয়ে টেলিগ্রাফ অফিসের অস্তিত্ব ছিল। সেটি আজ আর নেই। কেননা টেলিগ্রাফ ব্যবস্থাই আমূল বদলে গেছে। কোচবিহার হেড পোস্ট অফিসের মুকুটে নতুন পালক হল, পাসপোর্ট তৈরির ব্যবস্থা। এখন জেলাবাসীকে পাসপোর্টের জন্য কলকাতা বা শিলিগুড়ি দৌড়তে হয় না।
কোচবিহারের বহু কিছুর মতোই হেড পোস্ট অফিস অন্যতম দ্রষ্টব্য। উত্তরে তো বটেই, সারা রাজ্যে এরকম সুন্দর ভবন ও দক্ষ কর্মীর পোস্ট অফিস বিরল। এরকম ঐতিহাসিক একটি ভবনকে নিয়ে লেখার সুযোগ পাওয়াও অবশ্যই লেখককেও গর্বিত করে।
(ঋণ স্বীকার: প্রসাদ দাস, দেবায়ন চৌধুরী, এবিপি আনন্দ)
** প্রকাশিত: দাগ (উত্তরবঙ্গের ডাকঘর সংখ্যা ১৪৩১)/ সম্পাদক- মনোনীতা চক্রবর্তী