Thursday, September 28, 2023



১৯৮০ সাল থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। বেছে নেওয়া হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে। কিন্তু কেন এই তারিখ?   আসলে ১৯৭০ সালের এই দিনে জাতিসংঘ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্বীকৃতি লাভ করে। তাই  United Nations World Tourism Organization  বিশ্ব পর্যটন দিবস হিসেবেই এই দিনটিকেই মান্যতা দিয়েছে। 

বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নতিতে পর্যটনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই এই বছরের লক্ষ্য হল পর্যটনের হাত ধরে বিশ্বমানবের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পৃথিবীর সামগ্রিক বিকাশ। নতুন অর্থনৈতিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিও লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। 
আমার মতো সামান্য পর্যটকের কাছে এই দিনটির তাৎপর্য আলাদা। জীবন শেষের পথে এসেও নিজের দেশটিকেই ভাল করে চিনলাম না। পৃথিবীর অন্য কিছু তো কল্পনাতেই রয়ে যাবে! আসলে আমাদের মতো মানুষদের সাধ আর সাধ্যের মধ্যে ফারাকটা তো বিরাট!
তবু নিজের মতো উদযাপন এই দিনটির। ভিডিওটি আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারে মাটি স্পর্শ করবার মুহূর্তে করেছিলাম। প্লেনের জানালার কাঁচ অপরিষ্কার থাকায় কিছুটা ঝাপসা হয়েছে চিত্রায়ণ। ভিডিওতে ব্যবহার করেছি কিশোরকুমারের গাওয়া চিরদিনের একটি গান। এই গানটি আজও হুটহাট বেরিয়ে পড়তে প্রেরণা দেয়...... 

Sunday, September 24, 2023


 

   

হরিদ্রাভ সন্ধ্যায় বানভাসি হয় চাঁদ 
শৌভিক রায় 

পরান মণ্ডলের জালে আজকাল আঁশবোরোলি আর ধরা দেয় না। অনীহা নামের গুপ্তরোগ গ্রাস করেছে তাদের। 

গর্ভিণী হরিণীদেরও দেখা যাচ্ছে না । আকাশে মেঘ করলেই ওরা ভিড় জমাতো মস্ত পাকুড়তলায়। আসলে নেই সেই পাকুড় গাছ। বদলে পড়ে আছে তার বিরাট আস্ত গুঁড়িটা! গাছ নেই তো ঝরবে কী! স্নান করাবে কাকে? অগত্যা চলে যায় মেঘদল। অন্য কোথাও। অন্য কোনও খানে। 

পেছনে পড়ে রইল তাই এক বিরাট ভূমি। সেই ভূমির মাথায় নীল পাহাড়। বুকে এঁকেবেঁকে থাকা গুচ্ছের নদী। ছোট, মাঝারি, বড় হরেক কিসিমের। পায়ের দিকে মস্ত ঢাল বলে সেই নদীরা বয়ে চলে দ্রুত। 

চলে? নাকি চলত? পাহাড় থেকে বয়ে আসা পাথররা জেদ ধরেছে আর যাবে না। বালির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা জাগিয়ে তুলেছে চর। এই শরতে সেই চর কাশ ফুলে ঢাকা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বরফ পড়ে আছে যেন! 

এছাড়াও হয়েছে এক কাণ্ড! ভালবেসে জল,নদীকে আটকেছে মানুষের দল। বিরাট ব্যাপার সেসব। চাকা ঘুরছে। বিদ্যুৎ আসছে। চমক দিচ্ছে চারদিকে। নদীও হতভম্ব। সে জানতো না ঐশ্বর্য তার এত! থমকে গেছে সে। সহসাই। 

ওদিকে চিলাপাতার অরণ্যে সাজো সাজো ব্যাপার। কালো মৃত্তিকা বড্ড খুশি আজ। রোদের সঙ্গে দেখা হবে যে! ঠাসাঠাসি ঘেসাঘেসি করে থাকা মহীরুহদের ষড়যন্ত্র ছিল এতদিন। সূর্যের আলো পেত না মৃত্তিকার সুখস্পর্শ। আদিম অন্ধকারে ছেয়ে থাকত চারদিক। হিংস্র শ্বাপদেরা ছমছমে ঘুরে বেড়াত যত্রতত্র। তাদের জ্বলজ্বলে চোখ ত্রাস আনতো আবহে। 

মহীরুহ মরে গেছে। লাশ হয়ে ভিনদেশে পাড়ি দিয়েছে সে।

নিজের জেলে ডিঙিতে পরান মণ্ডল তাই আকাশ ধরে। গাঢ় নীল আকাশ। কখনও কৃষ্ণ কালো। কখনও ঝুপি ঝুপি অন্ধকার। কখনও তারা ভরা আকাশ। তার জালে ধরা পড়ে অনায়াস। ফাউ মেলে নীল সারি পাহাড়ের চিত্রপট। সবুজের ঝলক। সঙ্গে লাল নীল নানা রং। তোর্ষার চরের বিষণ্ণ শালিখ। একা ওদাল। কৃষ্ণচূড়া। কিংবা মাদার। কল্পিত রেখা পেরিয়ে বালিহাঁসেদের সঙ্গে উড়ে যেতে যেতে পরান দেখে নক্ষত্ররা ডাকে তাকে- সপ্তর্ষি, অরুন্ধতী, রোহিনী। প্রেমাসক্ত চোখে সে জেগে ওঠে করতোয়া, কুমলাইয়ে আর মুজনাইয়ের ধারে, নিজস্ব অবগাহন শেষে।

তবু টপ স্টেশনের নীলাকুরুনজির মতো সুখ তার কপালে ওই বারো বছরে একবার। প্রতি বছর কোনও হরিদ্রাভ সন্ধ্যায় বানভাসি হয় তার চাঁদ। জল থৈ থৈ চারধারে ভেলা বায় সে। জল সেঁচবার চেষ্টাও করে না সে। মা দুর্গা স্বয়ং যেখানে পারেননি, সেখানে কোন ছাড় সে! 

থিকথিকে পলি জমে জমে হাতের মুঠোয় সর্বনাশ হলে, অদূরে ঢাকের আওয়াজ। পরান টের পায় প্রান্তসীমার টলটলে স্মৃতি জাগিয়ে মা আসছেন। কিছু হাঁড়িকুড়ি আর নিঃসীম মান-অভিমান নিয়ে, সে থিতু হয় আবার উদ্বাস্তু হবে বলে! পাওনা তার মায়ের মৃদু হাসি। অশ্বিনের নতুন ধানে রাইকিশোরীর চুলের গন্ধ। 

কল্পনায় শরীরের আলপথ আর অজানা বাঁকে হেঁটে যেতে যেতে সে শোনে মধ্যবর্তী এক বেসুরো গান। তারপর বনজ্যোৎস্নায় স্নান। সবকিছু হারিয়েও অম্লান। 

আসলে ছায়া সরে যায়। আর ছায়া সরতেই দাঁড়িয়ে থাকে ধুলো মাখা সময়। সেই সময়ের পরতে পরতে রয়ে যায় গোলাবাড়ির ধান, মাটির দাওয়ার আল্পনা, ফলবতী বৃক্ষ, দিঘিজল, দেশভাগ আর এক অদৃশ্য বৃত্তপথে। নিঃশব্দে কেটে যায় প্রবলপরাক্রমী রাত। যন্ত্রণার ছায়াঘরে কর্কট সেজে সুখ যখন কামড়ে ধরে, তখনই তো উলম্ব বিছানা পেতে শুয়ে পড়ে কেউ। হালকা ঝোলে। বুড়ো আঙুল দেখায় জীবনকে। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও এই যে খেলতে নামা, যাবতীয় প্রত্যর্পণ শেষে, কীভাবে তাকে পরাজিত বলি! 

দিগন্তে মন্দাক্রান্তা ছন্দে আরশিনগর দেখি তাই। হয়ে যাই পরান মণ্ডল। আঁকি অভিমানী ছবি নিজস্ব ক্যানভাসে। 

`আকাশপ্রদীপ সবার সাথে/ তুলসীতলায় মায়ের আঁচল/  ইচ্ছেডানার স্বপ্ন উড়ান/ হঠাৎ সে যে দিনবদল!`

জানি দিনবদল হয় না। হতে পারে না। 

তারাদের লিখে চলা ইতিহাসে অনির্দিষ্ট নির্দিষ্টতায় একক কেউ মিশে যায় আমাদের সবার সঙ্গে। এভাবেই।


(আজকের (২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩)  উত্তরবঙ্গ সংবাদের রংদার রোববারের `এলোমেলো গদ্য, উত্তরের ভাবনা`য় প্রকাশিত একটি লেখা। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা উত্তরবঙ্গ সংবাদ ও কার্যকরী সম্পাদককে।)

Saturday, September 23, 2023


পাঠকের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে যে সংকলন 

শৌভিক রায় 


যামিনী রায়ের প্রচ্ছদে দেবায়ন চৌধুরী সম্পাদিত, `এখন ডুয়ার্স` পরিবেশিত, `উত্তরীয় ১` নজরকাড়া ম্যাগাজিনগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে। ধারে ও ভারে প্রথম সংখ্যাতেই সম্পাদক ও প্রকাশক প্রদোষ রঞ্জন সাহা যে চমক দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে অভিনব। 


প্রচ্ছদ নিবন্ধের কথাই ধরা যাক। প্রখ্যাত শিল্পী যামিনী রায়ের চিত্রকলার ওপর অঞ্জন সেনের আলোকপাত শিল্পপ্রেমী তো বটেই, নিতান্ত সাধারণ পাঠকদেরও ভাল লাগবে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই চটজলদির যুগে যেখানে অতীতের বহু শিল্পী বিস্মৃতপ্রায়, সেখানে তাঁদের একজনকে নিয়ে এই প্রয়াস অভিনন্দনযোগ্য।  ডঃ অর্ঘ্য দীপ্ত কর ও শার্ণব নিয়োগীর যথাক্রমে  ত্রিশক্তি ও অকাল-বোধনে ষষ্ঠী তত্ত্ব থেকে কুণ্ডলিনীর কুমারী তত্ত্ব এই পত্রিকার অন্যতম সেরা সম্পদ। অত্যন্ত জটিল দুটি বিষয়কে লেখকেরা প্রাঞ্জল ভাষায় সহজবোধ্য করে পাঠকদের উপহার দিয়েছেন। একই কথা প্রযোজ্য `লেখকদের লেখক' প্রয়াত অমিয়ভূষণ মজুমদারের `তাঁদের জন্য গোলাপ` নিবন্ধ ও অঞ্জন সেনকে লেখা তাঁর চিঠিগুলির ক্ষেত্রে। এই জাতীয় সংযোজন যে কোনও পত্রিকার মান বাড়িয়ে তোলে। সম্পাদকের মাস্টার স্ট্রোক এখানেই। সুনিপুণ দক্ষতায় তিনি বাংলা সাহিত্যের মণিমুক্তো সেঁচে এনেছেন। 

পত্রিকায় একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ বাদে মোট প্রবন্ধ সংখ্যা আট। বরেন্দু মন্ডলের বাংলা কবিতায় মৃত্যুর শিল্প আগামীতে বাংলা সাহিত্যের ছাত্রদের অত্যন্ত সহাযক হবে। লোকশিল্প গবেষণার ক্ষেত্রে ডঃ রাজর্ষি বিশ্বাসের লুপ্তপ্রায় পালাগান কুশান চমক দেয়। এই রাজ্যের উত্তর অঞ্চলে এরকম কত কী যে ছড়িয়ে আছে তা আজও অনেকের অজানা। এই জাতীয় আলোকপাত অবশ্যই এই অঞ্চলকে অন্যভাবে চিনতে সাহায্য করে। অনেকটা একই কথা বলা যায় রঞ্জন রায়ের `ত্রয়ী কাব্যে ডুয়ার্সের যাপনকথা` প্রসঙ্গে। কবি বেণু  দত্তরায়, সমীর চক্রবর্তী ও পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্তর কাব্যগ্রন্থ নিয়ে অত্যন্ত জরুরি আলোকপাত করেছেন তিনি। একইরকমভাবে সনৎকুমার নস্কর আবাদমহলের আঞ্চলিক কবিতাকে তুলে এনেছেন তাঁর দীর্ঘ লেখায়। অন্যদিকে শ্রীনিত্যানন্দ, মণীন্দ্র গুপ্ত, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এবং আখতারাজ্জুমান ইলিয়াসের সাহিত্যকৃতি নিয়ে লিখেছেন যথাক্রমে মুগ্দ্ধ মজুমদার, নিতাই জানা, পঞ্চানন মণ্ডল এবং দেবর্ষি বন্দোপাধ্যায়। প্রবন্ধগুলি সুচিন্তিত এবং সুগঠিত হলেও ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে একটু একাডেমিক ভাবনা সম্পৃক্ত। ঠিক সাধারণ পাঠকদের জন্য নয়। তুলনায় শুভ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোচ দর্শন সহজবোধ্য এবং একটি মূল্যবান দলিল।

দীপালোক ভট্টাচার্যের মুক্তগদ্যের পাশাপাশি সম্পাদক পঞ্চাশ জন কবির কবিতা রেখেছেন পত্রিকায়। ভাল লেগেছে রানা সরকার, মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস, সুজিত দাস, অমিত কুমার দে, সুদীপ্ত মাজি, তনুশ্রী পাল, মানসী কবিরাজ, স্বপ্ননীল রুদ্র, অজিত অধিকারী, উত্তম চৌধুরী প্রমুখ প্রখ্যাত ও অগ্রজ কবিদের পাশাপাশি মানিক সাহা, পীযুষ সরকার, অনিমেষ, অমিত দে-এর মতো নবীন কবিদের একসঙ্গে দেখে। এঁরা বাদেও আরও অনেকেই রয়েছেন। প্রত্যেকের নাম উল্লেখ সম্ভব হচ্ছে না। কবিতাগুলি নিয়ে আলাদা করে বিস্তারিত বলবার অবকাশ নেই। প্রত্যেকেই নিজের সুনাম বজায় রেখেছেন। পত্রিকার মান সমৃদ্ধ করেছেন তাঁদের সৃষ্টিতে। সেদিক থেকেও পাঠকদের জন্য উত্তরীয় ১ একটি বড় উপহার।  

মুদ্রণ ও কাগজ নিয়ে নতুন করে কিছু বলবার নেই। বরাবরের মতো এক্ষেত্রে প্রকাশক কোনও আপোষ করেননি। ঝকঝকে কাগজ ও মুদ্রণ পত্রিকাটিকে ভাল লাগতে বাধ্য করে। সব মিলিয়ে উত্তরীয় ১ প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।  



(প্রকাশিত: এখন ডুয়ার্স, অনলাইন আশ্বিন সংখ্যা ১৪৩০)   

Wednesday, September 20, 2023


KIJITI 
শৌভিক রায় 

যারা অভিযোগ করল, তাদেরকেই ধরা হল! বিষয়টি নতুন নয়। কোনও একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডেরও নয়। সর্বকালে সর্বদেশে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আজও ঘটছে। ধর্ষণ ও হত্যা করে অপরাধী পালিয়ে গিয়েছিল Dar es Salaam-এ। তার বিরুদ্ধে যে মহিলারা সুস্পষ্ট অভিযোগ এনেছিল, তাদেরকে আটক করা হয়েছিল মদ্যপানের দোহাই দিয়ে। 

ক্ষমতাধরদের এহেন প্রদর্শন হয়েই আসে। কিন্তু এর বিরুদ্ধেই গান বেঁধেছিলেন Siti binti Saad। গানের বিষয় ওপরের কথাগুলি। 

`তরাব`সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করবার পেছনে Siti binti Saad-এর অবদান ভুলবার নয়। আফ্রিকার তানজানিয়া ও কেনিয়াতে প্রচলিত সঙ্গীতের এই ধারা কিন্তু রাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে উত্তর ও মধ্যে আফ্রিকার পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশেও ছাপ রেখেছে। উইকিপিডিয়া বলছে সুলতান সৈয়দ বারঘাস বিন সাইদের হাত ধরেই আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তরাব পরিচিতি পেয়েছিল। আদতে আরব সঙ্গীতের ক্ল্যাসিকাল ধারা হল তরাব। সৌন্দর্যের ঐশ্বরিক অনুভূতিই সৃষ্টি করে তরাব।

আরব থেকে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে আসতে বেশিদিন সময় নেয়নি অনন্য এই ধারা। ছোট্ট শহর জাঞ্জিবার থেকে শুরু হয় তরাবের জয়যাত্রা। প্রাদেশিক আর্ট ফর্ম হিসেবে তরাবে পাওয়া যায় সোয়াহিলি, আরবি ও মিশরিয় সংস্কৃতি।       
   
এই ঘরানার কিংবদন্তি গায়িকা ফাতিমা বিনতি বারাকা ওরফে বি কিডুডে সেই মহিলাদের অন্যতম যাঁরা পুরুষতন্ত্রের প্রবল আপত্তি নিয়েও, পর্দা প্রথার বিলোপ ঘটিয়ে, তুলে ধরতেন সাধারণ মানুষের কথা তাঁদের গানে। অবশ্যই তরাবের নিজস্ব ধারায়। তাঁর সঙ্গীত বলে আফ্রিকান মহিলাদের দৈন্য দশার কথা।পূর্বসূরি Siti binti Saad-এর গানের অনুপ্রেরণায় ক্রমশ তিনি নিজে ওঠেন অন্যায় অবিচারের মূর্ত প্রতিবাদ। শুধু এটুকুতেই নয়, তাঁর প্রভাব ছড়িয়ে ছিল আফ্রিকার সাধারণ মেয়েদের মধ্যে। না, তাঁকে কোনও আলাদা অস্ত্র ধরতে হয়নি। গান ছিল তাঁর একমাত্র সম্বল।  

এই লেখার সঙ্গে শেয়ার করছি বি কিডুডের গাওয়া বিখ্যাত গানটি যার কথা প্রথমেই বলেছিলাম  





 

Monday, September 18, 2023

 ।। নিজের ভাবনায় ।।

       শৌভিক রায় 

ছোটবেলায় ফালাকাটা মোটর কর্মী সংঘের বিরাট বিশ্বকর্মা ঠাকুরকে দেখে মনে হত, পৃথিবীতে এঁর চাইতে সুদর্শন আর কেউ হতে পারে না! 


মাদারি রোডের দুপাশে, সেই বিরাট গাছগুলিতে তখনও শ্যাওলা জমে । সারারাত বৃষ্টির সেতার না বাজলেও, আকাশ থেকে দুরন্ত গতিতে নেমে আসা চিলের মতো হঠাৎ বৃষ্টি কখনও ভিজিয়ে দিত সব। ছোট্ট ছোট্ট ঝোরা বয়ে যেত খাসমহলের মাঠে। বেগবান হত তারা। সাপটানাও যেন গতি পেত আচমকা। 


কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে যেত প্রতি সকালের শিউলি। শিউলি মানেই পুজো এসে গেল প্রায়।বিশ্বকর্মা পুজো আর শিউলি তাই ছিল সমার্থক।


শহরের ইট কাঠের জঙ্গলে শিউলি পাই না আর এখন। নেই বলছি না। আছে। কিন্তু আমার দেখবার চোখটা হারিয়ে গেছে। খুঁজে পাই না তাদের। তাই বুঝিও না পুজো এসে গেল যে! কদাচিৎ টিভি বা খবরের কাগজে 'অপেক্ষার আর _____ দিন' জানান দেয় শরত এসেছে। যদিও হিমের পরশ লাগে না। আমলকী বনও আর দুরুদুরু বুকে কাঁপে না! 


আমিই কি বদলে গেলাম নাকি দুনিয়াটা? কিংবা দুজনেই!!


উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বর্ণাঢ্য বিশ্বকর্মা পুজোর সেই জৌলুস হারিয়ে গেছে। কোচবিহারে ওই একটি পুজো দেখতেই যেতাম ভয়ানক ভিড় ঠেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদল অন্যত্রও। স্বাভাবিক সেটাই। পরিবর্তন‌ই একমাত্র শব্দ যা এক রয়ে যায় সব যুগে সব দেশে। তাই মানতে হয় সেটিও।


তবু বুকের ভেতর রয়ে যায় সেই বালক যার অন্বেষণ আজীবন করেই চলি। তাই এই দিনে এখনও সেই সুপুরুষ দেবতাটি, তার বাহন এবং এসব কিছুর অনুষঙ্গে কারও জন্য অপেক্ষা একই রয়ে যায় নিজস্ব অ

বচেতনে.....




Saturday, September 2, 2023



 

নিতান্তই সমাপতন?
শৌভিক রায় 

খুব রহস্যময় কোনও কিছু। অথবা খুব সহজ। 


বৈজ্ঞানিক মন বলবে, নেহাতই কাকতালীয়। সমাপতন। 

'মা' শীর্ষক সিরিজে ২৮ অগাস্ট লিখছি- 

''পুটন আসে। ছাতা মাথায়। হাতে চারটে রুটি। কাকিমা পাঠিয়েছে। রুটি ভালবাসি। ঝোলা গুড় বের করে দেয় মা। মাখিয়ে নিই। দুটো রুটি আমার। দুটো পুটনের। জানালায় বসি। পা বের করি দিই বাইরে। দুজনেই। পায়ে বৃষ্টি ঝরে। ঠাণ্ডা লাগে।
কেউ হাত রাখে দুজনের কাঁধেই। পেছনে তাকাই। মা। মায়ের চোখে জল। ঠোঁটে হাসি।
`যেদিন শেষ হবে সব, দুজনেই থাকিস আমার কাছে।` মা বলে।
কী শেষ হবে মা? কী? ও মা, কী???
মা কথা বলে না।
দমকা হাওয়ায় বৃষ্টির ছাট ভিজিয়ে দেয় আমাদের চোখ।
ভিজিয়ে দেয়? নাকি মুছিয়ে দেয়!''

লিখছি যখন তখন পরনে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা। 
এই সেটটা এনে দিয়েছিল পুটন। বাবা চলে যাওয়ার পর কোনও একটা ধর্মীয় বিধিতে সেটা ব্যবহার করতে হয়েছিল।
এই বছর ওই সেটটা বের করেছিলাম ২৭ তারিখে, অর্থাৎ এই লেখাটা লিখবার আগের দিন।
পুটন অসুস্থ হল ৩০ তারিখ। চলে গেল ৩১শে। 

ওর চলে যাওয়ার মাত্র তিনদিন আগে কেন লিখলাম এই কথাগুলি? কেন বা পরলাম ওর নিয়ে আসা ওই পোষাক!
ও কি পড়েছিল লেখাটি? আমার এই লেখা ওর চলে যাওয়াকে দ্রুত করল না তো? 
ওর নিয়ে আসা ওই পাঞ্জাবির সাদা রঙে মৃত্যু লুকিয়ে ছিল না তো?
লিখেছিলাম বৃষ্টির কথা। আগুনের শিখায় শুয়ে যখন পুটন অনন্তে মিশে যাচ্ছে, তখন প্রবল বৃষ্টি। দমকা হাওয়া।   

জীবন কি কোনও সংকেত দিচ্ছিল আমাকে? বোঝাতে চাইছিল কিছু?
একি কোনও রহস্য? নাকি নিতান্তই কাকতালীয়?

উত্তর খুঁজে ফিরছি....
জীবনের লুকোচুরিতে লুকিয়ে থাকা বন্ধুটি মুচকি হাসছে। বুঝতে পারছি।
কিন্তু আমি উত্তর পাচ্ছি কোথায়?
উত্তর কে দেবে!

Friday, September 1, 2023

 




স্মরণ: দেবব্রত (পুটন) ঘোষ 


নির্জনতার নিজস্বতায় যারা থাকে, তাদের স্পর্শ করা যায় না....
আমরা হেরে গেছি। স্পর্শ করতে পারিনি ওকে। 
এভাবে হেরে যাব ভাবিনি কেউ। 
একটা নির্বেদ অবস্থায় রয়েছি তাই সবাই। 

আমরা কারা? 
বন্ধু? শুভানুধ্যায়ী? সমালোচক? প্রতারক? ঘাতক?
কে...কে আমরা? কেন আমরা? 
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কষে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে করছে নিজের গালে!

প্রশস্তি তো হবে। হবেই। প্রশস্তি হওয়ার মতোই ছিল সবকিছু। 
অতীত হয়ে গেলে প্রশস্তি হয়। অত্যন্ত স্বাভাবিক সেটা। 
কিন্তু কেন অতীত হতে হয়? কেন এই ট্রাপিজের খেলায় হাত ছেড়ে দিই বিষণ্ণতম মুহূর্তে?
পোস্ট মর্টেম কেন হবে না আমাদের নিজেদের? কেন দেখে নেওয়া হবে না আমাদের ভেতরের ক্লীব আর একটা আমাদেরকে!

এক সরলরেখায় যে চার বিন্দু সবার আগে থাকত, তার থেকে একটা বিন্দু খসে গেলে বাকিরা যে আর সরল থাকে না! 
আবর্তিত হয় না সেই চার বিন্দুকে ঘিরে থাকা আরও বহু বিন্দু!
অতর্কিতে থেমে যায় অন্তর্গত সব আর্তনাদ। 
থেমে গেল আমাদেরও।

মুজনাইয়ের জলে পা ডোবানো বাকি রয়ে গেল। 
চা-বাগানে কুঁড়ি তোলাও হল না আর। 
হাড়িয়ার নেশায় আবিরও ছুঁড়ে দিচ্ছি না। 
প্রজ্জ্বলিত চিতায় ফেলে দিলাম সব। নিয়ে নিক পবিত্র আগুন। শুদ্ধ করুক অনন্ত অবগাহন। 

এরপরেও যদি আবার হাত ধরতে হয়, বলতে হয় সুজন কথা, বলব.....বলব ছন্দ, তাল, লয় মিলিয়ে। 
অনন্তে থেকে যাবে শব্দহীন নির্জনতা তোমার আমার। 

বিদায় বন্ধু..... বিদায়