KIJITI
শৌভিক রায়
যারা অভিযোগ করল, তাদেরকেই ধরা হল! বিষয়টি নতুন নয়। কোনও একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডেরও নয়। সর্বকালে সর্বদেশে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আজও ঘটছে। ধর্ষণ ও হত্যা করে অপরাধী পালিয়ে গিয়েছিল Dar es Salaam-এ। তার বিরুদ্ধে যে মহিলারা সুস্পষ্ট অভিযোগ এনেছিল, তাদেরকে আটক করা হয়েছিল মদ্যপানের দোহাই দিয়ে।
ক্ষমতাধরদের এহেন প্রদর্শন হয়েই আসে। কিন্তু এর বিরুদ্ধেই গান বেঁধেছিলেন Siti binti Saad। গানের বিষয় ওপরের কথাগুলি।
`তরাব`সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করবার পেছনে Siti binti Saad-এর অবদান ভুলবার নয়। আফ্রিকার তানজানিয়া ও কেনিয়াতে প্রচলিত সঙ্গীতের এই ধারা কিন্তু রাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে উত্তর ও মধ্যে আফ্রিকার পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশেও ছাপ রেখেছে। উইকিপিডিয়া বলছে সুলতান সৈয়দ বারঘাস বিন সাইদের হাত ধরেই আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তরাব পরিচিতি পেয়েছিল। আদতে আরব সঙ্গীতের ক্ল্যাসিকাল ধারা হল তরাব। সৌন্দর্যের ঐশ্বরিক অনুভূতিই সৃষ্টি করে তরাব।
আরব থেকে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে আসতে বেশিদিন সময় নেয়নি অনন্য এই ধারা। ছোট্ট শহর জাঞ্জিবার থেকে শুরু হয় তরাবের জয়যাত্রা। প্রাদেশিক আর্ট ফর্ম হিসেবে তরাবে পাওয়া যায় সোয়াহিলি, আরবি ও মিশরিয় সংস্কৃতি।
এই ঘরানার কিংবদন্তি গায়িকা ফাতিমা বিনতি বারাকা ওরফে বি কিডুডে সেই মহিলাদের অন্যতম যাঁরা পুরুষতন্ত্রের প্রবল আপত্তি নিয়েও, পর্দা প্রথার বিলোপ ঘটিয়ে, তুলে ধরতেন সাধারণ মানুষের কথা তাঁদের গানে। অবশ্যই তরাবের নিজস্ব ধারায়। তাঁর সঙ্গীত বলে আফ্রিকান মহিলাদের দৈন্য দশার কথা।পূর্বসূরি Siti binti Saad-এর গানের অনুপ্রেরণায় ক্রমশ তিনি নিজে ওঠেন অন্যায় অবিচারের মূর্ত প্রতিবাদ। শুধু এটুকুতেই নয়, তাঁর প্রভাব ছড়িয়ে ছিল আফ্রিকার সাধারণ মেয়েদের মধ্যে। না, তাঁকে কোনও আলাদা অস্ত্র ধরতে হয়নি। গান ছিল তাঁর একমাত্র সম্বল।
No comments:
Post a Comment