।। নিজের ভাবনায় ।।
শৌভিক রায়
ছোটবেলায় ফালাকাটা মোটর কর্মী সংঘের বিরাট বিশ্বকর্মা ঠাকুরকে দেখে মনে হত, পৃথিবীতে এঁর চাইতে সুদর্শন আর কেউ হতে পারে না!
মাদারি রোডের দুপাশে, সেই বিরাট গাছগুলিতে তখনও শ্যাওলা জমে । সারারাত বৃষ্টির সেতার না বাজলেও, আকাশ থেকে দুরন্ত গতিতে নেমে আসা চিলের মতো হঠাৎ বৃষ্টি কখনও ভিজিয়ে দিত সব। ছোট্ট ছোট্ট ঝোরা বয়ে যেত খাসমহলের মাঠে। বেগবান হত তারা। সাপটানাও যেন গতি পেত আচমকা।
কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে যেত প্রতি সকালের শিউলি। শিউলি মানেই পুজো এসে গেল প্রায়।বিশ্বকর্মা পুজো আর শিউলি তাই ছিল সমার্থক।
শহরের ইট কাঠের জঙ্গলে শিউলি পাই না আর এখন। নেই বলছি না। আছে। কিন্তু আমার দেখবার চোখটা হারিয়ে গেছে। খুঁজে পাই না তাদের। তাই বুঝিও না পুজো এসে গেল যে! কদাচিৎ টিভি বা খবরের কাগজে 'অপেক্ষার আর _____ দিন' জানান দেয় শরত এসেছে। যদিও হিমের পরশ লাগে না। আমলকী বনও আর দুরুদুরু বুকে কাঁপে না!
আমিই কি বদলে গেলাম নাকি দুনিয়াটা? কিংবা দুজনেই!!
উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বর্ণাঢ্য বিশ্বকর্মা পুজোর সেই জৌলুস হারিয়ে গেছে। কোচবিহারে ওই একটি পুজো দেখতেই যেতাম ভয়ানক ভিড় ঠেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদল অন্যত্রও। স্বাভাবিক সেটাই। পরিবর্তনই একমাত্র শব্দ যা এক রয়ে যায় সব যুগে সব দেশে। তাই মানতে হয় সেটিও।
তবু বুকের ভেতর রয়ে যায় সেই বালক যার অন্বেষণ আজীবন করেই চলি। তাই এই দিনে এখনও সেই সুপুরুষ দেবতাটি, তার বাহন এবং এসব কিছুর অনুষঙ্গে কারও জন্য অপেক্ষা একই রয়ে যায় নিজস্ব অ
বচেতনে.....
No comments:
Post a Comment