নিতান্তই সমাপতন?
শৌভিক রায়
খুব রহস্যময় কোনও কিছু। অথবা খুব সহজ।
বৈজ্ঞানিক মন বলবে, নেহাতই কাকতালীয়। সমাপতন।
'মা' শীর্ষক সিরিজে ২৮ অগাস্ট লিখছি-
''পুটন আসে। ছাতা মাথায়। হাতে চারটে রুটি। কাকিমা পাঠিয়েছে। রুটি ভালবাসি। ঝোলা গুড় বের করে দেয় মা। মাখিয়ে নিই। দুটো রুটি আমার। দুটো পুটনের। জানালায় বসি। পা বের করি দিই বাইরে। দুজনেই। পায়ে বৃষ্টি ঝরে। ঠাণ্ডা লাগে।
কেউ হাত রাখে দুজনের কাঁধেই। পেছনে তাকাই। মা। মায়ের চোখে জল। ঠোঁটে হাসি।
`যেদিন শেষ হবে সব, দুজনেই থাকিস আমার কাছে।` মা বলে।
কী শেষ হবে মা? কী? ও মা, কী???
মা কথা বলে না।
দমকা হাওয়ায় বৃষ্টির ছাট ভিজিয়ে দেয় আমাদের চোখ।
ভিজিয়ে দেয়? নাকি মুছিয়ে দেয়!''
লিখছি যখন তখন পরনে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা।
এই সেটটা এনে দিয়েছিল পুটন। বাবা চলে যাওয়ার পর কোনও একটা ধর্মীয় বিধিতে সেটা ব্যবহার করতে হয়েছিল।
এই বছর ওই সেটটা বের করেছিলাম ২৭ তারিখে, অর্থাৎ এই লেখাটা লিখবার আগের দিন।
পুটন অসুস্থ হল ৩০ তারিখ। চলে গেল ৩১শে।
ওর চলে যাওয়ার মাত্র তিনদিন আগে কেন লিখলাম এই কথাগুলি? কেন বা পরলাম ওর নিয়ে আসা ওই পোষাক!
ও কি পড়েছিল লেখাটি? আমার এই লেখা ওর চলে যাওয়াকে দ্রুত করল না তো?
ওর নিয়ে আসা ওই পাঞ্জাবির সাদা রঙে মৃত্যু লুকিয়ে ছিল না তো?
লিখেছিলাম বৃষ্টির কথা। আগুনের শিখায় শুয়ে যখন পুটন অনন্তে মিশে যাচ্ছে, তখন প্রবল বৃষ্টি। দমকা হাওয়া।
জীবন কি কোনও সংকেত দিচ্ছিল আমাকে? বোঝাতে চাইছিল কিছু?
একি কোনও রহস্য? নাকি নিতান্তই কাকতালীয়?
উত্তর খুঁজে ফিরছি....
জীবনের লুকোচুরিতে লুকিয়ে থাকা বন্ধুটি মুচকি হাসছে। বুঝতে পারছি।
কিন্তু আমি উত্তর পাচ্ছি কোথায়?
উত্তর কে দেবে!
No comments:
Post a Comment