Friday, November 29, 2024



সমাজমাধ্যমে বি ইউ ই টি ইউনিভার্সিটির (Bangladesh University of Engineering and Technology) প্রবেশপথে বিছিয়ে রাখা ভারতীয় জাতীয় পতাকা মাড়িয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবার একটি ছবি দেখতে পাচ্ছি।  
ছবিটি সত্যি কিনা জানি না। যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে কোনও ক্ষমা নেই। চরমতম অন্যায় করেছে তারা। 
যদি ছবিটি সঠিক না হয়, তবে তাদের উচিত জনসমক্ষে সেটি জানানো এবং ছবিটি সরানোর সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া।
জাতীয় পতাকা কিন্তু প্রত্যেক দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সবচেয়ে বড় আবেগ। 
আগুন নিয়ে বহু খেলছেন। হাত পুড়বে না, এতটা দক্ষ খেলোয়াড়ও নন আপনারা।   

Tuesday, November 26, 2024


 


উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলির সঙ্গে কালী মন্দিরের একটা সম্পর্ক রয়েছে বলে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। একটা সময় বহু চা বাগানের মালিকানা ছিল বাঙালিদের হাতে। বাগানে নিযুক্ত হতেন বহু বাঙালি করণিক। বাবু নামেই পরিচিত ছিলেন তারা। হয়ত তাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই মন্দির প্রতিষ্ঠা। বহু চা বাগানে এরকম কালী মন্দির দেখেছি। কোনও মন্দির কোম্পানি নির্মিত, কোনওটি আবার যৌথ প্রচেষ্টায়। মন্দিরগুলির বয়সও কম নয়। কেউ শতবর্ষ পার করেছে, কেউ আবার একশো বছর স্পর্শ করবার মুখে। এরকমই একটি মন্দির আটিয়াবাড়ি চা বাগানে দেখা যায়। বাগানটি সম্ভবত ১৯০০ সালে তৈরি হয়। মন্দিরের বয়স সঠিক জানি না। তবে ফ্যাক্টরি গেটের উল্টোদিকের এই মন্দিরটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সুন্দর। রবিবার বিকেলে খানিকক্ষণ সুন্দর সময় কেটেছে সেখানে। জলপাইগুড়ির প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব সর্বজনশ্রদ্ধেয় এস পি রায়ের মালিকানায় থাকা এই বাগানটি এখন অন্যদের হাতে। অবসরপ্রাপ্ত বহু কর্মী এখনও গ্র্যাচুইটির টাকা পাননি। বাগানের প্রোডাকশন কমছে। সমস্যা অনেক। কিন্তু মন্দির চত্বর পরিচ্ছন্ন। মন ভাল হয়ে যায়। প্রসঙ্গত এই মন্দিরে পুজো দিতে দূরদূরান্ত থেকেও ভক্তরা আসেন।     

Monday, November 18, 2024

অতএব
শৌভিক রায় 

চাপড়াতে বেশ ভাল লাগে,
বাজাতেও,

চাপড়ালে আর বাজালে
কেউ চাপড়ে দেয় পিঠ,
বাজিয়ে সাজিয়ে দেয় পকেট!

বাজাচ্ছি চাই
চাপড়াচ্ছিও, 

চাপা দিচ্ছি আর্তনাদ 
চেপে দিচ্ছি আলো.....
মঞ্চ করে কালো মেতে উঠছি হুল্লোড়ে!


 

ধূমপান নিষেধ যদিও.....

(খারাবা, কচ্ছের গ্রামে)

Saturday, November 16, 2024


 

উত্তরবঙ্গ নিয়ে সঠিক জানব কবে?
শৌভিক রায়    

'দার্জিলিং আর সিকিম ছাড়া দেখার আর কী কী আছে উত্তরবঙ্গে?' সমাজ মাধ্যমে বেড়ানোর এক গ্রুপে এরকম একটি প্রশ্ন দেখে চমকে উঠলাম। রাগ হল। খানিকটা দুঃখ‌ও। তবে অবাক হইনি। উত্তরবঙ্গ সম্পর্কে আমাদের অনেকের জানার পরিধি এটুকুই। রাজ্যের উত্তরে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস করেন। এখানে বহু প্রাচীন জনপদ আছে। কিন্তু সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা আমাদের অনেকেরই নেই। এই শ্রেণির মানুষদের কাছে এই রাজ্য একটি ছোট্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ। তার বাইরে আর কিছু নেই। ফলে এই জাতীয় হাস্যকর প্রশ্ন ঘুরপাক খায় অনেকের মনেই।  যাঁরা উত্তরবঙ্গ জানেন না, তাঁরা দক্ষিণবঙ্গও জানেন না।  

অন্য রাজ্যের মানুষ বাঙালি বুঝে প্রথমেই জানতে চান, কলকাতা থেকে গিয়েছি কিনা। খুব স্বাভাবিক সেটা। রাজ্য রাজধানী হল কলকাতা। একসময় শিক্ষা সংস্কৃতি অর্থনীতিতে সেরা শহর ছিল। ছিল দেশের রাজধানীও। সমৃদ্ধ তার অতীত। ফলে বাইরের লোক পশ্চিমবঙ্গ বলতে কলকাতা বুঝলে, খুব কিছু অবাক হওয়ার ব্যাপার নেই। কিন্তু যখন এই রাজ্যে জন্মানো ও বড় হয়ে ওঠা কেউ কোচবিহার বলতে 'বিহারের কোথায়' বা 'অসমে তো, তাই না' জাতীয় প্রশ্ন করেন তখন রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের শিক্ষাকার্যক্রম এতটাও খারাপ নয় যে, পড়ুয়াদের রাজ্যের জেলা সম্পর্কে পরিচিত করানো হয় না! প্রশ্ন জাগে, আমরা কি আদৌ পড়াশোনা করেছি? 

অনেকেরই ধারণা উত্তরবঙ্গ বোধহয় নির্দিষ্ট কোনও একটি জায়গা। হয়তো শ্যামবাজার থেকে গড়িয়া তার এলাকা। কিন্তু মালদাও উত্তরবঙ্গে, আবার দিনহাটাও তাই। দূরত্ব? প্রায় দশ ঘণ্টা। ট্রেনে রীতিমতো রিজার্ভেশন করে যাতায়াত করতে হয়। এই জাতীয় কথা আসলে নিজেদের দৈন্যতার  প্রকাশ। নিজের রাজ্য ও দেশকে না জানার উদাহরণ। কিন্তু এর ফলে যে জায়গায় জন্মালাম, যেখানকার আলো বাতাসে বড় হয়ে উঠলাম, সেই জায়গা ও তার মানুষদেরকেই পরোক্ষভাবে অপমান করা হল। সেটা আমরা বুঝি না। অজ্ঞতা আমাদের এতটাই।

কিছুদিন আগে এক অত্যন্ত নামী বাণিজ্যিক পত্রিকায় একটি উপন্যাস চমকে দিয়েছিল। সেখানে লাটাগুড়িতে অসুস্থ হওয়া মানুষকে চিকিৎসার জন্য আলিপুদুয়ারে নিয়ে আসা হচ্ছিল। অথচ জলপাইগুড়ি লাটাগুড়ির কাছে। শিলিগুড়িও। খুনিয়া মোড় থেকে আধাঘন্টার মধ্যেই কোনও কোনও চরিত্র পৌঁছে যাচ্ছিল সংকোশে।  স্থানজ্ঞানহীন লেখক ভাসা ভাসা ভাবে লিখছিলেন। বিস্ময়ের কথা, সেই পত্রিকার পক্ষ থেকে তাঁর এই ভুলগুলি ধরিয়েও দেওয়া হয়নি। বরং 'উত্তরবঙ্গের প্রেক্ষাপটে উপন্যাস' ভেবে শ্লাঘা বোধ করেছিল তারা। আবার এক বিখ্যাত সংস্থার বিজ্ঞাপনেও দেখেছি কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুর ইত্যাদি জায়গার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও তাদের শাখা আছে। কী বুঝবেন? উত্তরবঙ্গের কোথায়? রায়গঞ্জে? মালবাজারে? উত্তর অজানা।   

আমরা উত্তরের মানুষদের অনেকেরও  নিজেদের জায়গা নিয়ে সঠিক ধারণা নেই। অনেকেই মনে করেন, ডুয়ার্স মানে দার্জিলিং আর সিকিম। কিন্তু ডুয়ার্সের সঙ্গে এদের কারও কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা জানি না। একটি সময় অসম ডুয়ার্স ও বেঙ্গল ডুয়ার্স বলে বিভাজন ছিল। জানি না তাও। 

ভূগোল ও ইতিহাস জ্ঞানহীন তাই বেড়েই চলেছি আমরা। দেখা ও জানার আনন্দ থেকে, দেখানো ও জানানো আজকালকার ট্রেন্ড। আর সেটিই আমাদের ট্র্যাজেডি।  

(লেখক শিক্ষক। কোচবিহারের বাসিন্দা) 


* আজকের (নভেম্বর ১৬, ২০২৪) উত্তরবঙ্গ সংবাদে সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত একটি লেখা। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা কার্যকরী সম্পাদক ও উত্তরবঙ্গ সংবাদকে। 

Wednesday, November 13, 2024


চিঠিটি লিখেছিলেন প্রণম্য ব্যক্তিত্ব সদ্যপ্রয়াত মনোজ মিত্র। প্রাপক ছিলেন উত্তরের পরিচিত নাট্যকার ও অভিনেতা মদন রায়। সম্পর্কে আমার সেজকাকু। সেই সময় তিনি রাঙালিবাজনায় কর্মরত। তাঁর নির্দেশনায় রাণার প্রযোজিত ও মনোজ মিত্র রচিত `নরক গুলজার` নাটকটি বেশ নাম করেছিল। সেই প্রসঙ্গে কাকু ও নাট্যকার মনোজ মিত্রের চিঠিপত্র আদানপ্রদান হয়েছিল।

একটি চিঠি আমাকে দিয়ে গিয়েছেন সেজকাকু। ঠিকানায় সামান্য ভুল থাকলেও, চিঠি পৌঁছোতে অসুবিধে হয়নি।
আমার কিছু মূল্যবান সম্পদের মধ্যে এই চিঠিটিও একটি.....


 

বারোটি ছবি তোলা যাবে। এরকমই রিল। সাদা কালো। ছবি প্রিন্ট হতে সময় লাগবে কিছুদিন। রিল আবার মেলে না সর্বত্র। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি-কোচবিহারের মতো জায়গা থেকে কিনে আনতে হয়। অত্যন্ত মহার্ঘ। একটা ক্লিক নষ্ট হওয়া মানে অনেকটাই। 

তবু আমার জেদের কাছে হার মেনে ছিলেন বাবা। ১৯৭৫ সালের সেই দিনে  সাদা কালো ছবিটি তুলেছিলাম। গৌহাটির। কামাখ্যার ওপরে ভুবনেশ্বরী মন্দির থেকে। তখন আজকের মতো সাজানো ছিল না সেই মন্দির। রাস্তাও বিশেষ ছিল না বললেই হয়। হেঁটে উঠেছিলাম। 
কয়েকদিন আগে গিয়ে সেই জায়গা আবিষ্কার করে অচেনার আনন্দ পেলাম যেন! ক্যামেরা মোবাইল ক্যামেরায় তুললাম ছবি। গৌহাটির। কামাখ্যার ওপরে ভুবনেশ্বরী মন্দির থেকে। শহরের বদল স্পষ্ট। নদীর বাঁকেও বোধহয় সামান্য পরিবর্তন।

থেকে যাক দুটি ছবিই টাইমলাইনে। আবার হয়ত ৫০ বছর পর কেউ নতুন করে ওখান থেকেই তুলবে একই ছবি অনেক পরিবর্তন নিয়ে.....   

Monday, November 4, 2024




ধ্রুবতারা নাকি সাদা অর্কিড?

শৌভিক রায় 


সাদা অর্কিডের দেশ। সঙ্গে সবুজের বিস্তার। সে চা-বাগানই হোক কিংবা চারদিকের পাইন আর বার্চ। 

এই সাদা সবুজে ভাসতে ভাসতেই প্রায় পাঁচ হাজার ফিট ওপরে উঠে পড়া! আরও কিমি বত্রিশ গেলে শৈলরানি দার্জিলিং। তবে আপাতত এখানেই থামা। কেন জানি না ভোরের ধ্রুবতারাকে ছেড়ে আর যেতে ইচ্ছে করছে না। 

না, বাড়িয়ে বলছি না।  খারসাং শব্দটির অর্থ ভোরের ধ্রুবতারা। অবশ্য খারসাং নামে জায়গাটিকে চিনবার মানুষ কম। তার পরিচিতি কার্শিয়াং হিসেবেই। ব্রিটিশদের মুখে এই নামটি পরিবর্তিত হয়েছে ১৮৩৫ সালের পর, যখন সিকিমের রাজা এই জায়গাটি তাদের উপহার দেন। তবে `খারসাং রূপ` তত্ত্বটিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেই অর্থে এই জনপদ সাদা অর্কিডের দেশ বলেও পরিচিত। 

পর্যটন মানচিত্রে কার্শিয়াং একটু অবহেলিত। খুব স্বাভাবিক সেটা। কেননা দার্জিলিঙের অমোঘ টান কে আর কবে উপেক্ষা করতে পেরেছে। তবে এবার ধনুক ভাঙা পণ করেছিলাম। কার্শিয়াঙের ওপরে আর উঠছি না। 

চেনা পথে শুকনা রোহিনী হয়ে দ্রুতই পৌঁছে গেলাম কার্শিয়াঙে। ওই পথে যে যায়নি, সে বুঝবে না পথ কতটা সুন্দর হতে পারে। চা-বাগান, সুদৃশ্য মিলিটারি ক্যান্টনমেন্ট, জঙ্গল আর নীল আকাশ পেছনে নিয়ে উত্তুঙ্গ পাহাড় মুহূর্তে পাগল করে দেয় নিতান্ত বেরসিককেও। আমাকেও দিচ্ছিল। সেটা শেষ হতে না হতেই কার্শিয়াঙের মাটি ছুঁল আমাদের গাড়ি। 

শুরু করলাম গিদ্দা পাহাড় দিয়ে। বাঙালির আইকন নেতাজির পরিবারও আস্ত একটা বাড়ি কিনে ফেলেছিলেন এই পাহাড়ে। সেই বাড়ি এখন নেতাজি ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ। সুদৃশ্য এই বাড়িটিতে রয়েছে নেতাজি মিউজিয়াম এবং সেন্টার ফর দা স্টাডিজ অফ হিমালয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস সোসাইটি এন্ড কালচার।   ১৯২২ সালে Rowley Lascelles Ward-এর থেকে এই বাড়িটি কিনেছিলেন নেতাজি সুভাষের দাদা শরৎচন্দ্র বোস। ১৯২৫-এ এই বাড়িতে পা রেখেছিলেন দেশপ্রিয় চিত্তরঞ্জন দাস ও তাঁর স্ত্রী বাসন্তী দেবী। শোনা যায়, নিশিযাপনও করেন তাঁরা। 

শরৎচন্দ্র বোস নিজে এই বাড়িতে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫ অবধি গৃহবন্দী ছিলেন। ১৯৩৬ সালে নেতাজিকেও এই বাড়িতে সাত মাস গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়। কিন্তু বিশ্বস্ত সহচর কালু সিং লেপচার মাধ্যমে নেতাজি কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ১৯৩৮ সালের হরিপুরা কংগ্রেসের ভাষণ রচনা করা ছাড়াও, এই বাড়ি থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে স্বাধীনতা ও ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে নেতাজির পত্রালাপ চলত। 

স্বাধীনতার পর ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ অবধি এই বাড়িতে বসু পরিবারের যাতায়াত ছিল। কিছু চিঠি, নেতাজির ইউনিফর্ম, অতীত আসবাবপত্র এখন দ্রষ্টব্য এখানে। শরৎচন্দ্র বোসের নিজের হাতে লাগানো ক্যামেলিয়া গাছটি অতীতের স্পর্শ নিয়ে আজও ফুল দিয়ে চলেছে। 

এই বাড়িতে কালু লেপচার মেয়ে মতি মায়া লেপচা ২০১৬ অবধি মালির কাজ করতেন। সিঙ্গাপুরের Stonebench-এর গবেষক জাবির রহমান বলছেন, নেতাজি ও এমিলি শেঙ্কেলের মেয়ে বলে পরিচিত অনিতা বসু পাফের এক সন্তানের নামও মায়া। হতে পারে বিষয়টি একেবারেই কাকতালীয় অথবা কালু লেপচার পরিবারকে স্মরণে রাখা।   

সম্প্রতি এই বাড়ির কাছেই তৈরি হয়েছে ভিউ পয়েন্ট। কার্শিয়াঙের বিস্তীর্ণ এলাকা, সবুজ চা-বাগান, বয়ে চলা মহানন্দা আর আঁকাবাঁকা পথের প্যানোরামা সত্যিই অসাধারণ। কোনও তুলনা হয় না তার। অনন্ত সময় এখানে বসেই কাটিয়ে দেওয়া যায়। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরের এই ভিউ পয়েন্ট নিঃসন্দেহে আজকের কার্শিয়াঙের অন্যতম সেরা। 

ডাউহিলে পৌঁছতেই কুয়াশা চাদর বিছিয়ে দিল চারদিকে। এমনিতেই ডাউহিল অতিপ্রাকৃতিক ব্যাপারে জন্য পরিচিত। তাই আধো-অন্ধকারে তৈরি হওয়া রহস্য ভালোই লাগছিল। চারদিকে ঘন জঙ্গল। কখনও কুয়াশা ঢেকে দিচ্ছে, কখনও গাছের ফাঁক দিয়ে এক ফালি রোদ পাহাড়কে চুমু দিচ্ছে। দেখে নেওয়া গেল বিখ্যাত ডাউহিল স্কুল। খানিকটা দূরে ডাউহিল আমিউজমেন্ট ও ডিয়ার পার্ক পার করেই ফরেস্ট স্কুল ও মিউজিয়াম। দেরাদুনের ফরেস্ট স্কুল ও মিউজিয়ামের পাশে অতি সামান্য মনে হলেও, নির্জনতা ও নিস্তব্ধতায় জায়গাটি অদ্বিতীয়। ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়ে হেঁটে বেড়াই ডাউহিলের জঙ্গলে। প্রজাপতি আর পাখিদের হুটোপুটি যেমন দারুণ লাগে, তেমনি অতি শান্ত পরিবেশে নিজের পায়ের শব্দই চমকে দেয় মাঝেমধ্যে!

কার্শিয়াং টুরিস্ট লজের রেস্টুরেন্টের লাঞ্চ ও ডিনার কার্শিয়াং ভ্রমণের নতুন আবিষ্কার। প্রায়  শতাব্দী-প্রাচীন এই কাঠের রেস্টুরেন্টটি হেরিটেজ গোত্রীয়। সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে সঙ্গে কাঁচের বিরাট বিরাট জানালা দিয়ে কার্শিয়াঙ পাহাড় দেখাও অনবদ্য অভিজ্ঞতা বৈকি! উল্টোদিকেই চার্চ গেট। অতীতে এটি হল্ট স্টেশন ছিল। দার্জিলিঙের রেলের আধিকারিকদের কোয়ার্টার ছিল এখানেই। পাহাড়ের মাথায় সেই জায়গাটি এলিসিয়া প্লেস নামে পরিচিত। ১৮৮০ থেকে ১৮৯৬ অবধি কার্শিয়াং স্টেশনের অবস্থান ছিল এখানেই। কাছেই ছিল সেন্ট আলফোনসাস স্কুল। 

একটা কথা বলা বোধহয় অপ্রাসঙ্গিক হবে না। দার্জিলিং-কার্শিয়াং-কালিম্পঙ কিন্তু স্কুলের জন্য বিখ্যাত। কার্শিয়াং ভ্রমণে তাই স্কুল দেখার জন্য কিছু সময় বরাদ্দ করা উচিত। হয়ত স্কুলের ভেতর ঢোকা যাবে না কিন্তু বাইরে থেকে দেখলেও সেগুলির আভিজাত্য সম্পর্কে একটা ধারণা করা যায়। এগুলি বেশিরভাগই বোর্ডিং স্কুল। তবে ডে-স্কলাররাও পড়ছে। স্কুল বাড়িগুলির স্থাপত্য নিয়েও লেখা যেতে পারে বড় প্রবন্ধ। সারা ভারত থেকে ছাত্ররা ভর্তি হচ্ছে এইসব স্কুলে।   

তবে রেল স্টেশনের মাথায় এক কিমি চড়াইয়ে ঈগলস ক্র্যাগ থেকে সানসেট না দেখলে কার্শিয়াং দেখা ঠিক শেষ হয় না। কাছেই রয়েছে ভুবনবিখ্যাত মকাইবাড়ি চা-বাগান। অতটা বিখ্যাত না হলেও ক্যাসেলটন চা-বাগানটিও দেখা যেতে পারে। খানিকটা দূরে গয়াবাড়ি পার করে পাগলাঝোরা অতীতের সেই সুনাম ধরে রাখতে না পারলেও, আজও স্মৃতিতে হানা দেয়। 

আসলে কার্শিয়াং স্মৃতির শহর। মার্ক টোয়েনের মতো প্রখ্যাত লেখক ১৮৮৫ সালে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে গেছেন এখানে। রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, সিস্টার নিবেদিতা, অতুলপ্রসাদ প্রমুখের মতো ব্যক্তিত্বরা পা রেখেছেন এই শহরে। ছিমছাম এই শহরকে যেমন ঘিরে রয়েছে চা-বাগান, তেমনি শহরের বাড়িগুলিকে ঢেকে রেখেছে রংবেরঙের ফুল গাছ। আর দার্জিলিং পাহাড়ের সকলের খাবার স্কোয়াশ ঝোলে বহু বাড়ির সবজি বাগানে। রোহিনী আর কার্শিয়াং দুই মিলে সপ্তাহের শেষে দুই তিনদিন মনে করায় সেই বিখ্যাত কথাগুলি-  Who is more happy, when, with heart's content,/ Fatigued he sinks into some pleasant lair/Of wavy grass, and reads a debonair/ And gentle tale of love and languishment?  (To One Who Has Been Long in City Pent: John Keats)  






















(ছবি- লেখক)

Sunday, November 3, 2024