Sunday, August 25, 2019




ত্রয়োদশীর চাঁদ

শৌভিক রায়

মেয়েটাকে কেন জানি চেনা চেনা লাগছে। 
যদিও ঠিক বুঝতে পারছে না মধু। কিন্তু বেশ চেনা। কোথায় দেখেছে? কোথায়? কথাবার্তা বলেও বোঝা যাচ্ছে না ঠিক।

ট্রেন ছাড়ার একটু আগে দৌড়তে দৌড়তে এসেছিল  মেয়েটা। চেপেচুপে বসেও পড়েছিল তাদের পাশে। ট্রেন ছাড়ার পর কথা শুরু হয়েছিল ধীরে ধীরে। শুরু করেছিল মধু নিজেই,
- এলে কোথা থেকে?
- কোথা থেকে আর!! পূজা গো পূজা।
- বুঝলাম। তা পূজা তো শেষ তিনদিন আগেই। তুমি আজকে কেন?
- আর ব'ল না। টাকা তো সব দেয় নি আগে। আজ এসেছিলাম তাই।অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখলো। 
- তা পেলে সব টাকা?
- পেলাম। তবে যা কথা হয়েছিল সেটা দিল না। 
- আমাদের মতোই দশা তবে তোমারও।
- তোমরাও কম পেলে বুঝি!
- কি যে বলি তোমাকে! কম ঠিক না তবে যে কদিন বাজানোর কথা ছিল বাজালাম তো তার চাইতে বেশি! সে হিসাবে তো পয়সা কম দিল। তা আমরা তো ঢাকি। তুমি কি করলে?
- আমি ওই জোগানদার, ঝাড়ুদার সবকিছুই গো! 
- সেটা কিরকম?
- আরে পুরুতকে এটা ওটা এগিয়ে দেওয়া, ভোগ রাঁধা, সকালে মন্ডপটা ঝাঁট দেওয়া, ফাই-ফরমাশ খাটা...বুঝলে না?
- বাপরে! এরকম লোকও লাগে নাকি?
- লাগবে না? এটাও তো কাজ।
- তা তো বটেই। তবে এরকম কাজের জন্যও লোক লাগে সেটা জানতাম না।
- শহরের ব্যাপার গো! নোংরা ফেলতেও লোক চায়। আর এ তো পূজার কাজ। বড় ব্যাপার। বুঝলে না?  
- খুব বুঝলাম। বামনি আর কি তুমি। ওসব ভোগ-টোগ তো বামুন মেয়েরাই করে। তা বাড়িটা কোথায় গো তোমার?
- দাশপাড়া।
- দাশপাড়া? বেশ বেশ। যাক টাকা পেয়েছো তবে সব।
- ওই আর কি। তোমরা তাও একবারে পেয়েছো। আমার মতো ঘুরতে হয় নি!
- তা ঘুরলেই না হয়। কি হল এমন আর! খুব তো দূর না। খানিক বাদেই নেমে যাবে।
- দূর না হলেও কাছেও না। এতো ভাড়া দিয়ে যাতায়াত গায়ে লাগে গো! উপায়ও নেই। অসুস্থ মানুষ বাড়িতে। টাকা কার না লাগে!
- তা ঠিকই।
- তাছাড়া আসতে দেয় নাকি বাড়ি থেকে এতো ঘন ঘন! পূজার কটা দিন তো আসা-যাওয়ার ঠিকই ছিল না। সে কাজে আছি বলে কিছু বলে নি। কিন্তু তারপর কি হয় নাকি! আজ অনেক কষ্টে আব্বাকে বুঝিয়ে...
- কাকে বুঝিয়ে?
- আব্...ওই বাপকে গো।
- আব্বা বললে যে!
- বলেছি নাকি? ও তো মজা করে।
- এরকম মজা কে করে?
- আমি করলাম গো। ছাড়ো ওসব...তোমরা বুঝি ঢাক বাজাও? বাজালে নাকি পূজায়?
- বাজালাম তো।
- খুব বাজালে দেখি। দশমী তো কবে গেছে! আজ ফিরছো। তা তোমার বাড়ি কোথায়? 
- ওই ওদিকেই। দাশপাড়ার দুটো স্টেশন পরে, বকুলবাড়ি।
- নাম শুনেছি, যাই নি....

কথা এগোয় নি এরপর আর। মেয়েটা কেমন চুপ হয়ে যায়! ট্রেন চলতে থাকে ট্রেনের মতো। তারাও দুলতে থাকে ট্রেনের সাথে।
দুলতে দুলতেই চোখ লেগে যায় মধুর। ঠিক ঘুম না। তন্দ্রা মতো। তন্দ্রার মধ্যেই মধুর চোখে ভাসে এই কয়েকদিনের কথা।

... সরকারদের জমিতে নিড়ানি দিতে দিতে চাপা স্বরে সেদিন বলেছিল চরণ,
- তুই কি এবারও চাপাডাঙায় কথা দিলি নাকি?
- কথা দেওয়ার কি আছে! যাবোই তো।
- না করে দে।
- কি? কি বললি?
- না করে দে নাআআ
- কেন না করবো কেন?
- কলকাতায় যাবো।
- কলকাতায়? 
- হ্যাঁ কলকাতায়।
- তুই যাবি তো আমি না করবো কেন চাপাডাঙায়? 
- আমি একা না। তুইও যাবি। মানে আমরা যাবো।
- মতলবটা কি তোর?
- মতলব কিছু না। আমরা কলকাতায় বাজাবো।
- কলকাতায় কোথায় বাজাবো?
- সেটা কিভাবে বলবো? যারা নেবে তাদের ওখানেই বাজাবো।
- কারা নেবে?
- ক্লাবের লোকরা।
- কোন ক্লাব?
- শোন। শেয়ালদায় ঢাকিরা সব জমা হয়। আর নানা ক্লাবের লোকরা এসে তাদের বাজনা শুনে নিয়ে যায়।
- তাই নাকি? তুই জানলি কিভাবে?
- ওই তো...তোকে নিয়ে এইটাই মুশকিল। টিভি দেখিস না। রেডিও শুনিস না। সারাক্ষণ ওই ঢাক!
- সারাক্ষণ আর কোথায়? এই যে নিড়ানি, হাল দেওয়া...এইগুলো কি তবে?
- সে তো কমবেশি সবাই করে রে! শুধু ঢাক বাজিয়ে কি আর সংসার চলে! ঢাকের প্রয়োজন আর ক'দিন! তার ওপর এই গ্রাম দেশ। কিন্তু সে কথা বলি নি। বলছি যে অন্য সময় আমরা তাও এটা ওটা করি। তুই তখন ঢাক নিয়ে পড়ে থাকিস।
- ওটাই আমার নেশা। ঢাক ছাড়া কি বাঁচা যায়?
- সেজন্যই তো চল কলকাতায়।
- কলকাতায় যাবো কেন?
- আরে কলকাতার মন্ডপে না বাজালে কি আর ঢাকি হওয়া যায়? পয়সাও বেশি পাওয়া যায়।
- বেশি পয়সা নিয়ে করবি কি? অভাবটা কিসের তোর?
- ওসব বলিস না। পয়সা সবারই দরকার। তা না হলে তুই চাপাডাঙায় বাজাতে যাস কেন?
- যাই...অভ্যেস হয়ে গেছে। তাছাড়া পুজোটা খুব সাত্ত্বিকভাবে হয় রে। বামুন পুরুতের কি সুন্দর মন্ত্র। আহা...
- একবার কলকাতা চল। ওখানে না বাজালে শিল্পী হবে না।
চরণের এই কথাটাই মধুকে বেঁধে ফেলল শেষ পর্যন্ত। তারপর বাড়িতে বলে-টলে, অভয়াকে অনেক সোহাগ করে এই আসা। অভয়া কি আর আসতে দেয়! পাশের গ্রামে বাজায় বলে পুজোর চারদিন রাত হলেও মধু ফেরে বাড়িতে। কিন্তু কলকাতায় যাওয়া মানে তো একেবারেই না থাকা। তা কি করে হয়? এমনিতেও বাড়িতে থাকলে সারাক্ষণ ওই ঢাক। এই বোল, সেই বোল! এখন আবার কলকাতা! কি দরকাল এতো। এহেন অভয়াকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আসা কি যে সে কথা! আর আসবার পর থেকে বুক দুরুদুরু। কি হয় কি হয় দশা! নাঃ বড্ড ভুলই হল বোধহয়। আর ভাল লাগছে না!

কলকাতায় পৌঁছনো ইস্তক ভয়ে ভয়ে ছিল মধু। চরণ যে চরণ, সেই চরণেরও মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল ভয় খেয়েছে সেও। হবে নাই বা কেন! একজন দুজন? শ'য়ে শ'য়ে ঢাকি...একা, দোকা বা দলে। শিয়ালদা স্টেশনের সামনের চত্বরে সে কি তাদের ঢাক বাজানো! ঢাকের আওয়াজে পিলে চমকে যায়! সবাই নিজের কেরামতি দেখাতে ব্যস্ত। কেউ ঢিমে লয়ে বাজাচ্ছে তো কেউ দ্রুত লয়ে। কেউ কেউ একরকম পোশাক পড়া, কেউ বাজাতে বাজাতে লাফিয়ে উঠে কেরদানি দেখাচ্ছে। সব মিলে মধুর চোখ ছানাবড়া আর তখনই তার মাথায় এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে শিল্পীর অভাব নেই দেশে! অভাব যেটা সেটা হল নিজের শিল্প দেখানোর। এসব সাত-পাঁচ ভেবে নিজের ঢাকেও কাঠি ছুঁইয়েছিল সে আর তারপর
অবশেষে মধু আর চরণ পৌঁছেও গিয়েছিল মন্ডপে। দক্ষিণ কলকাতার এক পুজো পার্টি তাদেরকে নিয়ে গিয়েছিল তাদের। শেয়ালদায় দাঁড়িয়ে থেকে আর সব দেখে-টেখে মধু বুঝেছিল ব্যাপারটা কি আসলে। বড় বড় পুজো কমিটিগুলি আগেই ঢাকি ঠিক করে রাখে। তাদের পুজোর মতো ঢাকিরাও নাম করা। তাদেরকে শেয়ালদায় দাঁড়াতে-টাড়াতে হয় না। যারা দাঁড়ায় তারা ওই মধু-চরণের মতোই নতুন বেশির ভাগ। তবে এটা ঠিক যারা আজ নাম করা তারা অনেকেই একসময় দাঁড়িয়েছে তাদেরই মতো। একদমই দাঁড়াতে হয় নি যাদের তারা হল নামী ঢাকির দলের অন্য বাজিয়েদের। তবে দল ভেঙে গেলে বা দল থেকে বেরিয়ে গেলে হয়তো তাদেরকেও দাঁড়াতে হবে যদি না তারা কারো নজরে পড়ে। আজকাল নাকি দালালও এসেছে এই লাইনে। এইসব শুনেটুনে যখন বেলা গড়িয়ে বিকেল হবে হবে তখন তাদের কপালে এই পুজোটা জুটে গেল। এতক্ষণ ধরে দর কষাকষি দেখে ঝানু হয়ে গেছিল চরণ। তাই খুব একটা কমাতে পারে নি তাদের। দু'জনে ভাগাভাগি করে সে টাকা নিলে এক এক জনের ভাগে যা পড়বে তা চাপাডাঙার তুলনায় অনেকটা বেশি বৈ কি! তাদের থাকা খাওয়াও দেবে কমিটি। তাই সেদিক দিয়ে ভাবনা নেই। থাকবার জায়গা ক্লাবঘর হলেও চলে যাবে ভালই। নিজের বাড়িই বা কি রাজপ্রাসাদ একেবারে! এখানে বাথরুমে বরং কল ঘোরালেই জল পড়ে। তবে বিছানা পাততে হবে ক্লাবের নানা সরঞ্জাম সরিয়ে। সে যাকগে। কতক্ষণই আর শোবে!
সেই পঞ্চমী বিকেলে ঢুকেছিল মধু আর চরণ। আর আজ ত্রয়োদশী। খুব অত্যাচার গেল কদিন ঢাক দুটোর ওপর। মধুরটাতেই বেশী। চরণ ঢাক বাজালেও বাঁধা গতের বাইরে যেতে পারে নি। তাই সমঝদাররা তো বটেই, যারা তেমন বোঝে না তারাও মধুকে নিংড়ে নিয়েছে। মধুও প্রস্তুত ছিল তার সবটা দিতে। দিয়েওছে। যখন যেভাবে বলেছে কমিটির লোকজন সেভাবেই বাজিয়েছে মধু। তার বাজানোতে সব্বাই খুশী। বিরাট মাপের পুজো না হলেও একেবারে ছোটও নয়। লোকজনও ভাল। সব মিলে মধুর প্রথমবারের অভিজ্ঞতা বেশ ভালই।

- কি রে, নামবি না নাকি? কি ঝিমোচ্ছিস?
চমকে চোখ খোলে মধু। চরণ ডাকছে। 
- চল চল আমাদের স্টেশন চলে এসেছে।
তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায় মধু। চোখটা লেগে গেছিল। পাশে তাকায়। মেয়েটার জায়গায় অন্য লোক। মেয়েটা নেই। কখন যেন নেমে গেছে। ঢাকটা নিয়ে সামনে এগোয় মধু। আর এগোতেই বিদ্যুৎ চমকের মনে পড়ে যায় মেয়েটা আসলে কে!

স্টেশন থেকে বেশ খানিকটা যেতে হয় তাদের গ্রামে পৌঁছতে। একটা ভ্যান রিক্সায় ঢাক দুটো চাপিয়ে চলতে থাকে মধু আর চরণ। মধুর মুখে অনেকক্ষণ ধরে চিলতে হাসিটা দেখে চরণ জিজ্ঞাসা করেই বসে,
- কি রে এতো হাসি কিসের?
মধু উত্তর দেয় না। চরণ নিজেই বলে আবার,
- বুঝেছি। হে হে অনেকদিন পর আজকে বৌদির সাথে দেখা হবে তো!
এবারও উত্তর দেয় না মধু। শুধু মুখ ফিরে তাকায় একবার চরণের দিকে। 
মনে মনে ভাবে, বেচারা! আসলটা জানলে আর এসব বলত না। 
ওই মেয়েটা....নাম বলেছিল রেবা। ওর নাম আসলে রাবেয়া। ব্রাক্ষণ তো দূরের কথা, ও হিঁন্দুই না! এটা মনে পড়াতেই হাসি পাচ্ছে মধুর। রাবেয়ার বাড়ি দাশপাড়াতেও না। দাশপাড়ার দুটো গ্রাম পরের মহম্মদবাজারে। ওখানটায় মুসলিমদের বাস। হতদরিদ্র গ্রাম। একবার একটা কাজে যেতে হয়েছিল মধুকে। তখন রাবেয়ার বাবার কাছে দুটো বোল শিখে এসেছিল সে। মুসলমান হলেও ঢাক বাজানোতে রাবেয়ার বাবার খুব নাম। ইচ্ছে ছিল আরও কিছু বোল শেখার। কিন্তু লোকটা এখন বিছানায় নাকি। অসুস্থ। রাবেয়াকে ওখানেই দেখেছিল সে।  কানাঘুষো শুনেছিল মধু যে অনেক মেয়ে পূজার সময় নানা কাজে কলকাতায় যায়। কিন্তু একেবারে হিঁদু সেজে মন্ডপের কাজ! সাহস আছে মেয়েটার। সত্যি বলতে দুঃসাহস। তা ঠিক করেছে একদম। মা তো সবারই, আল্লা যেমন! মায়ের পূজায় সাহায্য করে কোনও ভুল করে নি। মায়ের মেয়ে মায়ের জন্য কাজ করলে কিসের অশুদ্ধি আর কিসের দোষ? আগে তো পেট! আগে তো বেঁচে থাকা। তারপর তো ওসব। ঠিক করেছে! তার চোখে শুধু ভাসছে না দেখা পুরুতের মুখটা। পুরুত ব্যাটা বুঝতেও পারে নি ফুলটা, বেলপাতাটা, কোষাকুশিটা এগোচ্ছে যে, ভোগ রাঁধছে যে সে আদতে রাবেয়া! রেবা না। 
মা দুর্গা অবশ্য ঠিক চিনবেন। খিলখিল করে হাসবেনও! এটা মনে পড়তেই হো হো করে হেসে ওঠে মধু। তার হঠাৎ হাসিতে চমকে তাকায় চরণ। বলে,
- শালা পাগল হলি নাকি! হেসেই যাচ্ছিস।
মধু এবারেও কোনো উত্তর দেয় না। হেসেই চলে।

ত্রয়োদশীর চাঁদ ঠিক তখনই ধানক্ষেতের শেষে দিগন্ত থেকে উঁকি দেয়।


(প্রকাশিত: ইন্দ্রায়ুধ পূজা সংখ্যা, ২০১৮) 

Tuesday, August 20, 2019



কথোপকথন- ২
(একান্তই কাল্পনিক ও অর্থহীন)
শৌভিক রায়

- স্যার কি ঘুমোচ্ছেন নাকি?
- কে রে? ওহ ভার্চু...না রে ঘুমোই নি। চোখটা এমনি একটু বন্ধ করে ছিলাম। 
- আসলে স্যার আপনার চেয়ারটা বেশ ইয়ে তো...তাই ভাবলাম ঘুমোচ্ছেন।
- চেয়ারটা কী? আর কী হলেই বা চেয়ারে ঘুম আসে?
- আপনার চেয়ারটা হল, মানে স্যার, যাকে বলে আরামকেদারা আর কি...বেশ গা এলিয়ে থাকা যায়।
- তা যায়। সেটা ঠিক বলেছিস।
- বলছিলাম কি স্যার যখন এমনি থাকবেন, মানে ঘুমোবেন না কিন্তু চোখ বুজে থাকবেন, তখন এমন কিছু করবেন যাতে বোঝা যাবে যে ঘুমোন নি।
- তাতে কী হবে?
- তাতে স্যার ওই ভুল বোঝা হবে না। এই যে এখন যেমন আমি চলেই যাচ্ছিলাম। শেষটায় ভাবলুম একবার ডেকেই দেখি। ভয়ও লাগছিল যে, আপনার কাঁচা ঘুমটা না ভাঙিয়ে ফেলি। ঘুম ভেঙে উঠে যদি রেগেটেগে যান। আবার ভাবলাম যে, আমি নগণ্য মানুষ...হয়তো আমার ওপর স্যার রাগবেন না। বড় মানুষেরা আর কি সব বিষয়ে রাগে নাকি? উপেক্ষা করে! এসব সাতপাঁচ ভেবে ডেকেই ফেললুম। আগে তো বুঝিনি আপনি ঘুমোন নি। খামোকা এত ভাবলাম!
- এটা তবে তো একটা সমস্যা। কী করা যায় বল দেখি যাতে লোকে বুঝবে আমি ঘুমোচ্ছি না।
- বলব স্যার? মানে ইয়ে নির্ভয়ে তো?
- আরে বল দেখি...
- স্যার একটা গড়গড়া কিনুন। চোখ বন্ধ করে একটু একটু ধোঁওয়া টানবেন। আর ভাববেন। মৌতাত জমে উঠলে বুঝলেন স্যার ভাবনাগুলোও বেশ খোলতাই হবে।
- বাব্বা। তুই তো বেশ জানিস দেখছি। তোর অভিজ্ঞতা আছে নাকি এই ব্যাপারে?
- কি যে বলেন স্যার! আমার এই চাষাভুষো চেহারা, মাথায় মস্ত টাক, নোয়াপাতি ভুড়ি...পয়সাকড়ি নেই...কোথায় পাবো আপনার মতো ওরকম বাহারী আরামকেদারা! কেদারাই নেই তো ইয়ে...
- কিয়ে?
- স্যার আমার মুদ্রাদোষ  ইয়ের মতো আপনারও কিয়ে মুদ্রাদোষ হয়ে যাচ্ছে।
- এটা আসলে সঙ্গদোষ। 
- দোষ ধরালাম স্যার তবে আপনাকে? অপরাধী হলাম তো।
- আরে না না। এ কি আর পানদোষ যে অপরাধ হবে? যাকগে এবার বল কী বলতে এসেছিস।
- না স্যার আজ কিছু বলতে আসি নি। এমনিই একটু খোঁজ-টোজ...
- ব্যাপার কি রে! আমার খোঁজ নিচ্ছিস। কেউ তো নেয় টেয় না।
- এটা কি স্যার ঠিক বললেন? কতজন আপনার খোঁজ নেয়...আপনি হলেন একজন ইয়ে...
- কী?
- মুরুব্বী মাতব্বর মানুষ।
- তাই নাকি?
- একশোবার স্যার। আপনি অবশ্যই একজন মুরুব্বী মাতব্বর।
- কিভাবে জানলি তুই?
- এসব কি আর আলাদা করে জানতে হয় স্যার? এই যেমন আপনি যদি একটু হাঁচি দেন তো হাজারে হাজারে লোক এসে হাজির! আপনি যদি...স্যার খারাপ কথা...বলব?
- আরে বল বল...
- মানে দুর্গন্ধ বাতকর্ম করলেও লোকে সুগন্ধ বলে কত সুখ্যাত করে।
- বলিস কী?
- ঠিকই বলি স্যার। আপনি শুধু বুঝতে পারেন না।
- এটা একটু বাড়াবাড়ি হল না?
- না না স্যার বাড়াবাড়ি কেন হবে? আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটা দেখুন না!
- আবার ফেসবুক? জ্বালালি।
- তা বললে কি হয় স্যার? আপনি একটা স্ট্যাটাস দিলে হাজার লাইক, পাঁচশ কমেন্ট। আপনি শরীর খারাপ জানালে কত হিতোপদেশ। আপনি ছবি দিলে আপনার চেহারার কত গুণকীর্তন!
- এই আমার চেহারাও তো তোর মতো। মস্ত টাক, নোয়াপাতি ভুড়ি। তোর মতোই চাষাভুষো চেহারা।
- ছি ছি কী যে বলেন! আপনার টাক হল আভিজাত্য, আমারটা হল শালা টাকলু। আপনার ভুড়ি হল সুখী খুশি, আমারটা হল খিদে পেটের গোগ্রাসে খাওয়া হাড়হাভাতে।
- কেন রে, দু'জনেরটা দুরকম ভাগ করছিস কেন?
- এই তো, এই তো হল আপনার নরম উদার মনের পরিচয়। এত উঁচুতে উঠেও আপনার পা মাটিতেই আছে আজও। তবে কি স্যার, আপনি হলেন ইয়ে মানে রইস আদমি...
- বাব্বা! হিন্দিও বলছিস?
- ওটা তো স্যার বাঙালিয়ানা। হিন্দি না বললে বাঙালি হলাম কিসে? তবে সঙ্গে ইংরেজিটাও চালাতে হয়। তবে একেবারে পিওর বেঙ্গলি।
- এখনও কিন্তু বুঝলাম না যে, তুই কেন এলি।
- বোঝেন নি তো?
- না।
- যাক...নিশ্চিন্ত। যত বুঝবেন না তত আমার মঙ্গল।
- মঙ্গল?
- মঙ্গল নয় কি স্যার? আপনাকে তেল দিচ্ছি সেটা বুঝে ফেললে আপনি কি আর তেল খাবেন?
- এবার ভুলটা করলি।
- কিরকম স্যার?
- আমি বাঙালি তো? তোর ভাষায় মুরুব্বী মাতব্বর....
- নির্যস তাই স্যার।
- আমি তাই খাই...
- খান? কী খান স্যার?
- তেল।
- সত্যি তেল খান?
- হ্যাঁ রে, মাতব্বর মুরুব্বী বলেই তো তেল খাই। তেল দিচ্ছে বুঝেও তেল খাই। 
- তেল দিচ্ছে বুঝেও তেল খান স্যার? বলেন কি!
- ওরে তেলের বড় মহিমা রে...এ তুই বুঝবি না।
- তা ঠিক স্যার। কিন্তু স্যার কীভাবে বোঝেন যে, তেল দিচ্ছে?
- নিজে দিই যে!
- আপনি তেল দেন? স্যার এটা কী শোনালেন! আপনি কাকে তেল দেন স্যার?
- মহা মাতব্বরকে!
- আর উনি?
- উনি আরও মহা কে!
- এটা তবে সত্যি স্যার? 
- বিলকুল সত্যি। একশো ভাগ সত্যি।
- তাই তো বলি আমার আজকাল অনলাইনুকে এত ভাল লাগছে কেন!
- অনলাইনু?
- হ্যাঁ স্যার অনলাইনু আমার প্রতিবেশী। 
- তোর তাকে ভাল লাগে?
- হ্যাঁ স্যার ও তো সারাদিন আমাকে তেল দিচ্ছে। এখন টের পাচ্ছি। 
- তাহলেই বোঝ।
- তার মানে পদ্ধতিটা...
- পুরোনো। নতুন বোতলে পুরোনো মদ ঢাললে বোতল-সহ মদকে নতুনই লাগবে! কিন্তু মদ সেই একই থাকবে। তেল দেওয়ার পদ্ধতি পালটালেও তেল তো তেলই রে!

(ভার্চু আনমনা হয়ে চলে গেল। মাঝে মাঝে জ্বালায় এরকম। কি করা আর!)

Saturday, August 17, 2019

কালিখোলা ভুটান, সঙ্গে কুমারগ্রামদুয়ার, সংকোশ আর নিউল্যান্ডস 
শৌভিক রায়  

এই ছিমছাম পরিবেশে একটু কান পাতলেই শোনা যায় স্বর্ণকোষের বয়ে চলার জলশব্দ। ওপারে ভুটান পাহাড়ের নীলে গাঢ় সবুজের সমাহার। এই টিলার ওপর বসলে সময় যে নিজের মতো কোনদিক দিয়ে চলে যাবে কেউ জানে না!
কালিখোলা ভুটানের অসামান্য পরিবেশে স্বর্ণকোষের কাছেই আসা। এই নদী সংকোশ নামেই পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গ আর অসমের সীমান্তে বয়ে চলা এই নদীর রূপলাবণ্যে মোহিত হতে সময় লাগে না। 
রাজধানী কলকাতা থেকে দূরত্ব বিচারে অন্তিম ব্লক কুমারগ্রামদুয়ার ডুয়ার্সের 'আঠারো দুয়ার'-এর অন্যতম। চা-বাগান, বক্সার গভীর অরণ্য, রায়ডাক-সংকোশ নিয়ে এক অন্যরকম ভ্রমণের সাক্ষী হওয়া যায় এখানে। তবে, টুরিস্টের দৃষ্টিতে নয়, দেখতে হবে ট্রাভেলারের মতো। তবেই মিলবে আসল রস। 
আলিপুরদুয়ার থেকে ৫০ কিমি দূরের কুমারগ্রামদুয়ার পৌঁছনো যায় ঘন্টা দেড়েকের ছোট্ট সফরে। প্রকৃতি, মানুষজন ধীরে ধীরে পাল্টে যায় সফরপথে। কুমারগ্রামদুয়ার পেছনে ফেলে সামনে এগোলে আরণ্যক পরিবেশ আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ চা-বাগান। কুমারগ্রাম চা-বাগানের শোভায় বুঁদ হতে না হতেই চলে আসে নিউল্যান্ডস চা-বাগান। আর একদিকে দেখা যায় সংকোশ চা-বাগানের রূপরেখা। টি-ট্যুরিজমের এক অনন্য গন্তব্য এই ত্রয়ী।

নিউল্যান্ডস চা-বাগান ঘেঁষে বয়ে চলেছে রায়ডাক নদী আর নদীর ওপারে বক্সা টাইগার রিজার্ভের ঘন জঙ্গল। এখানে যদি নদীর ওপর সেতু থাকতো তবে সামান্য সময়ে পৌঁছে যাওয়া যেত শামুকতলা, তুরতুরি, হাতিপোতা বা জয়ন্তীতে। কিন্তু সে দুঃখ কেটে যায় নিউল্যান্ডস চা-বাগানের উত্তরপ্রান্তের বনবস্তি আর বক্সার গা ছমছমে অরণ্যের স্পর্শে। ইদানিং কিছু হোম স্টে হয়েছে এখানে। রয়েছে এস এস বি-এর অতন্দ্র প্রহরা।

নিউল্যান্ডস চা-বাগানের উল্টোদিকে গুডরিক কোম্পানির অধীনে থাকা সংকোশ চা-বাগানও কম যায় না। ছিমছাম, পরিচ্ছন্ন এই চা-বাগানটি মুহূর্তেই মন কেড়ে নেয়। হাসপাতাল, বিদ্যালয়, ক্রেশ, শ্রমিক ও বাগানের কর্মচারীদের জন্য সুন্দর কোয়ার্টার আর বিরাট কারখানা মিলে সংকোশ চা-বাগানকে ভালো না বেসে থাকা যায় না। বাগান লাগোয়া জনবসতিতে ডুয়ার্সের কসমোপলিটান ছাপ সুস্পষ্ট। এখনও রয়েছে কাঠের দোতালা জাতীয় ডুয়ার্সের ট্রাডিশনাল বাড়ি। মন্দিরের পাশেই গড়ে ওঠা চার্চ মনে করিয়ে দেয় যে, ডুয়ার্সের নানা জনজাতির মিশ্র সংস্কৃতিতে ধর্ম কোনোদিন বাধা হতে পারে নি। চা-বাগানের একপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ছটফটে সংকোশ আর নদীর ওপারে অসমের ভূখণ্ড।
 
সংকোশ চা-বাগান থেকে এবার চলা কালিখোলায়। কিছুদিন আগেও এই অঞ্চল গোলমালের জন্য পর্যটকবিহীন ছিল। দু`পাশে দুই চা-বাগানের মাঝ দিয়ে কালো পিচের চকচকে রাস্তায় খানিক এগোলেই শুরু অরণ্যভূমি। সেই অরণ্যভূমির মাঝেই এস এস বি ক্যাম্পে বিশেষ অনুমতি নিয়ে আরও এগিয়ে চলা। কিমি তিন-চারেক এগোতেই শুরু ভুটান সীমান্ত। ভুটানে প্রবেশের জন্য এখানেও বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন। অবশ্য অনুমতি পেতে কোনো অসুবিধে হয় না। সোজা পথে খানিকটা এগোলে ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম। লামোইজিংঘার এই ছোট্ট জনপদ এক নিমেষে প্রশান্তি নিয়ে আসে মনে। ইতস্তত কিছু বাড়ি, দোকানপাট, মনাস্ট্রি, বিদ্যালয়, হোম স্টে ইত্যাদি সব মিলে সুন্দর প্রকৃতির মাঝে যেন কোনো এক অদৃশ্য শিল্পী এই জনপদের নকশা এঁকে গেছেন। এখানকার উঁচু টিলা থেকে দৃশ্যমান দুই পাহাড়ের মাঝে বেশ খানিকটা নিচে বয়ে চলা সংকোশ। টিলা থেকে পাকদন্ডী বেয়ে নেমে যাওয়া যায় নদী বক্ষে। আর টিলার ওপর বসেও অনন্তকাল কাটিয়ে দেওয়া যায় নদীর দিকে তাকিয়ে, পাখিদের বিজন তানে হারিয়ে যেতে যেতে। 
 
ভুটান কালিখোলার এই জনপদ থেকে পৌঁছে যাওয়া যায় থিম্পু। তবে সে পথ আমাদের মতো ভারতীয়দের জন্য নয়। মোবাইল ফোনেও মিলবে না টাওয়ার। এখানকার আরণ্যক পরিবেশে আজও যেন সময় থমকে আছে। ভাবতে রোমাঞ্চ হয় যে এই পথ ধরেই অতীতে ভুটান পাহাড় থেকে সমতলে আসতেন ভুটানি যোদ্ধা ও ব্যবসায়ীরা। আজ অবশ্য সে সবকিছুই গল্পকথা। বরং সংকোশের বাঁধ নিয়ে অনেক বেশি উচ্চকিত বিবাদ দুই দেশের। কিন্তু ছোট্ট সফরে সেসব কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। 

টি-ট্যুরিজমের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ কুমারগ্রাম-নিউল্যান্ডস-সংকোশ-কালিখোলা। উপরি পাওনা কালিখোলার অপার সৌন্দর্য্ ও ডুয়ার্সের আদি ফ্লেভার যার মধ্যে মিশে আছে মিশ্র জনজাতি, গহন অরণ্য, সবুজ চা-বাগান আর অবশ্যই অন্য রাষ্ট্র ভুটানের মিষ্টি স্পর্শ। উত্তরবঙ্গের মানুষদের কাছে যেমন ঢিল-ছোঁড়া দূরত্বে এই গন্তব্য, তেমনি দূরের মানুষেরা যাতায়াত বাদে মাত্র দু-তিনদিনে প্রকৃতিকে চেখে নিতে পারেন অনায়াসে। থাকবার জন্য বেছে নেওয়া যায় নিউল্যান্ডস বনবস্তি বা ভুটান কালিখোলার হোম স্টে। 





Friday, August 16, 2019






কথোপকথন
(একান্তই কাল্পনিক ও অর্থহীন)
শৌভিক রায়


- স্যার ফেসবুকে লেখেন কেন?
- কেন? ফেসবুকে লেখা বারণ নাকি?
- না...মানে ফেসবুকে তো ফেসবুক কবি-লেখকরা লেখে...তাই বলছিলাম আর কি!
- আরে তুত...আমি তো সেটাও নই...মানে ওই ফেসবুক কবি-টবি...
- তবু স্যার, ফেসবুকে না লিখলেই পারেন! কেমন যেন একটা ইয়ে লাগে!
- কিয়ে?
- ওই ঠিক জাতে না ওঠা লেখক...মাপ করবেন স্যার।
- জাতে উঠতে চাইছে কে যে মাপ করব!
- না স্যার মানে ছোট মুখে বড় কথা তো...বুঝিও কম।
- কম বোঝাই ভাল, বুঝলি। বেশি বুঝে আজকাল বড্ড বেশি বেশি হচ্ছে।
- কী বেশি হচ্ছে স্যার?
- সবটাই...
- এটাকে তবে কী বলা যায় স্যার?
- আদিখ্যেতা।
- স্যার সামনে একটা পিওর যোগ করি?
- কর।
- আজকাল ইংরেজি-বাংলা কম্বিনেশন খুব চলছে স্যার।
- তাই যোগ করলি?
- হ্যাঁ স্যার...বেশ ইয়ে হল।
- আবার ইয়ে?
- ওটা স্যার যাকে বলে মুদ্রাদোষ।
- তা বেশ। মুদ্রাদোষ থাকা ভাল।
- স্যার... বলছিলাম যে, ওই ফেসবুক কবি-লেখক আর কি।
- দেখ রে বাবা...না আমি কবি, না লেখক। কী বলি বল তো!
- যেমন ইচ্ছে আপনার। আপনার কোনো ইচ্ছে হয় না স্যার?
- ইচ্ছে হবে না? হয় তো!
- আচ্ছা ঠিক এই মুহূর্তে আপনার কী ইচ্ছে হচ্ছে?
- এই মুহূর্তে...উমমমম...দাদরা বাজাতে।
- তবে তো স্যার শূন্যে উঠে মেঘের ওপর দিয়ে হাঁটতেও ইচ্ছে করছে!
- সাবাস। এই জন্যই তোর বকবকানি ভাল লাগে।
- কোথায় আর স্যার ভাল লাগে আপনার? উত্তরটাই দিলেন না।- - প্রশ্নটা করলি কোথায়?
- ওই যে ফেসবুক...
- ওহ, আচ্ছা...শোন তবে। ফেসবুকে যদি সব করতে পারি তবে লিখতে কেন পারি না?
- সব বলতে?
- সব বলতে সব। এই ধর কোথায় লেখা প্রকাশ পেল, এখন কী খাচ্ছি, প্লেনের ছবি দিয়ে জানান দিচ্ছি যে কাঁঠালতলা থেকে পাঁচতালতলা যাচ্ছি, লাইভ করে গান-টান গাইছি, কী রাঁধলাম সেটার ছবি দিচ্ছি...মানে বুঝলি তো বাকি কিছুই রাখছি না। তাহলে ফেসবুকে লিখলে অসুবিধেটা কোথায় রে বাপু?
- আপনার কথায় পয়েন্ট আছে স্যার। তবে কি...
- কী তবে?
- বই-টই থাকলে কিন্তু বেশ ভারিক্কি হয় বুঝলেন!
- তা হয়, তবে সেই বইয়ের খবরও তো ফেসবুকে দিতে হয় রে। তার চেয়ে এখানেই লেখ। ঝামেলা শেষ।
- বলছেন স্যার?
- বলছি।
- তবে লিখেই ফেলি।
- কী লিখবি?
- এই কথোপকথন দিয়ে লেখা শুরু করি।
- এটা লিখে কী হবে?
- পোস্ট হবে।
- কে পোস্ট করবে শুনি? তোর তো ফেসবুক একাউন্ট নেই।
- কেন স্যার আপনি করবেন।
- তোর এই লেখা আমি কেন পোস্ট করব?
- স্যার আমার জন্য এটুকু করবেন না? আমি না আপনার ইয়ে!
- আবার ইয়ে? তা কী হ`স তুই আমার? বল তো একটু। শুনি। তুই তো আমার ছাত্রও না, তাও স্যার স্যার করিস।
- ছাত্রসম তো স্যার! এটা তো মানবেন।
- থাকিস কোথায় তুই? কোনোদিন তো বলিস নি।
- ওই যে স্যার ফেসবুকেই...
- মামদোবাজি পেয়েছিস? ফেসবুকে কেউ থাকে নাকি?
- আহা...রেগে যাচ্ছেন কেন? ধরে নিন না ভার্চুয়াল জগতে থাকি।
- খামোকা ধরতে যাব কেন? জ্বলজ্যান্ত সামনে বসে আছিস।
- ধরুন না স্যার...সেই ছোটবেলার অংকের মতো ধরুন আমি হলাম এক্স।
- পাগল।
- এতক্ষনে ঠিক বলেছেন স্যার। আসলে স্যার রতনে তো রতন চিনবেই।
- তার মানে আমি পাগল?
- ছি ছি...ও তো কথার কথা। কোথায় আপনি আর কোথায় আমি!
- তেল দিচ্ছিস?
- দিতে হয় স্যার...ভার্চুয়াল জগত হলে কী হবে! মানুষ তো বটে!
- হুমমম...বুঝেছি। তা কী করতে হবে সেটা বল।
- ওই যে স্যার...পোস্ট।
- আমি পোস্ট করলে তোর লাভটা কী?
- আপনি হলেন খুঁটি। খুঁটিতে নিজেকে বেঁধে রাখলে লাভ হবে না?
- আমাকে খুঁটি ভাবছিস? হায় রে! লোক চিনতে ভুল করলি।
- সে করলেই বা কি!
- কিছু নয়? আর আমার লাভটা বা কী তোর এই প্রলাপ পোস্ট করে?
- করুন না স্যার...দেখবেন অন্যের কাজ করে দেওয়ায় কি দারুণ আনন্দ!
- বলছিস?
- করে দেখুন স্যার...

( ভার্চু এটুকু বলেই পালালো। মাঝে মাঝে আসে নানা আবদার নিয়ে)

Tuesday, August 13, 2019

তুমি ঠিক তখন
শৌভিক রায়

(লিওনার্দো কোহেনের কবিতার ছায়ায়)

এই যে হাসছ কিংবা দৌড়চ্ছ অথবা খেলছ
কিংবা ধরা যাক নির্বিঘ্নে দিন কাটাচ্ছ,
নিজের মতো

কেমন লাগছে এতে?

কখনো আমার দিকে তাকাচ্ছ
চুপিসারে ঠোঁটে ঠোঁট রাখছ
অনুভব করছ আমাকে, আমারই মতো

ভাল লাগছে এতে?

দিনরাত এই বসে থাকা,
বসে বসে দিন মাপা, রাত মাপা
কিছুই করতে না হওয়া

মানতে পারছ তো সব?

একবার এই ঠোঁটে ঠোঁট রাখা
আশ্লেষে গভীরে চলে যাওয়া,
গভীর হলে, এতটা গভীর হলে,
সহজেই চলে যেতে পারি

চারপাশে সুখী সব,
তোমার চারপাশে,
তুমি নিজে অনুভব

চলে যেতে পারি
গভীর থেকে উঠে এসে
একেবারে চলে যেতে পারি...

যদি যাই
বাঁচবে তো তাতে
তুমি!

ঠিক তখন?