কথোপকথন
(একান্তই কাল্পনিক ও অর্থহীন)
শৌভিক রায়
- স্যার ফেসবুকে লেখেন কেন?
- কেন? ফেসবুকে লেখা বারণ নাকি?
- না...মানে ফেসবুকে তো ফেসবুক কবি-লেখকরা লেখে...তাই বলছিলাম আর কি!
- আরে তুত...আমি তো সেটাও নই...মানে ওই ফেসবুক কবি-টবি...
- তবু স্যার, ফেসবুকে না লিখলেই পারেন! কেমন যেন একটা ইয়ে লাগে!
- কিয়ে?
- ওই ঠিক জাতে না ওঠা লেখক...মাপ করবেন স্যার।
- জাতে উঠতে চাইছে কে যে মাপ করব!
- না স্যার মানে ছোট মুখে বড় কথা তো...বুঝিও কম।
- কম বোঝাই ভাল, বুঝলি। বেশি বুঝে আজকাল বড্ড বেশি বেশি হচ্ছে।
- কী বেশি হচ্ছে স্যার?
- সবটাই...
- এটাকে তবে কী বলা যায় স্যার?
- আদিখ্যেতা।
- স্যার সামনে একটা পিওর যোগ করি?
- কর।
- আজকাল ইংরেজি-বাংলা কম্বিনেশন খুব চলছে স্যার।
- তাই যোগ করলি?
- হ্যাঁ স্যার...বেশ ইয়ে হল।
- আবার ইয়ে?
- ওটা স্যার যাকে বলে মুদ্রাদোষ।
- তা বেশ। মুদ্রাদোষ থাকা ভাল।
- স্যার... বলছিলাম যে, ওই ফেসবুক কবি-লেখক আর কি।
- দেখ রে বাবা...না আমি কবি, না লেখক। কী বলি বল তো!
- যেমন ইচ্ছে আপনার। আপনার কোনো ইচ্ছে হয় না স্যার?
- ইচ্ছে হবে না? হয় তো!
- আচ্ছা ঠিক এই মুহূর্তে আপনার কী ইচ্ছে হচ্ছে?
- এই মুহূর্তে...উমমমম...দাদরা বাজাতে।
- তবে তো স্যার শূন্যে উঠে মেঘের ওপর দিয়ে হাঁটতেও ইচ্ছে করছে!
- সাবাস। এই জন্যই তোর বকবকানি ভাল লাগে।
- কোথায় আর স্যার ভাল লাগে আপনার? উত্তরটাই দিলেন না।- - প্রশ্নটা করলি কোথায়?
- ওই যে ফেসবুক...
- ওহ, আচ্ছা...শোন তবে। ফেসবুকে যদি সব করতে পারি তবে লিখতে কেন পারি না?
- সব বলতে?
- সব বলতে সব। এই ধর কোথায় লেখা প্রকাশ পেল, এখন কী খাচ্ছি, প্লেনের ছবি দিয়ে জানান দিচ্ছি যে কাঁঠালতলা থেকে পাঁচতালতলা যাচ্ছি, লাইভ করে গান-টান গাইছি, কী রাঁধলাম সেটার ছবি দিচ্ছি...মানে বুঝলি তো বাকি কিছুই রাখছি না। তাহলে ফেসবুকে লিখলে অসুবিধেটা কোথায় রে বাপু?
- আপনার কথায় পয়েন্ট আছে স্যার। তবে কি...
- কী তবে?
- বই-টই থাকলে কিন্তু বেশ ভারিক্কি হয় বুঝলেন!
- তা হয়, তবে সেই বইয়ের খবরও তো ফেসবুকে দিতে হয় রে। তার চেয়ে এখানেই লেখ। ঝামেলা শেষ।
- বলছেন স্যার?
- বলছি।
- তবে লিখেই ফেলি।
- কী লিখবি?
- এই কথোপকথন দিয়ে লেখা শুরু করি।
- এটা লিখে কী হবে?
- পোস্ট হবে।
- কে পোস্ট করবে শুনি? তোর তো ফেসবুক একাউন্ট নেই।
- কেন স্যার আপনি করবেন।
- তোর এই লেখা আমি কেন পোস্ট করব?
- স্যার আমার জন্য এটুকু করবেন না? আমি না আপনার ইয়ে!
- আবার ইয়ে? তা কী হ`স তুই আমার? বল তো একটু। শুনি। তুই তো আমার ছাত্রও না, তাও স্যার স্যার করিস।
- ছাত্রসম তো স্যার! এটা তো মানবেন।
- থাকিস কোথায় তুই? কোনোদিন তো বলিস নি।
- ওই যে স্যার ফেসবুকেই...
- মামদোবাজি পেয়েছিস? ফেসবুকে কেউ থাকে নাকি?
- আহা...রেগে যাচ্ছেন কেন? ধরে নিন না ভার্চুয়াল জগতে থাকি।
- খামোকা ধরতে যাব কেন? জ্বলজ্যান্ত সামনে বসে আছিস।
- ধরুন না স্যার...সেই ছোটবেলার অংকের মতো ধরুন আমি হলাম এক্স।
- পাগল।
- এতক্ষনে ঠিক বলেছেন স্যার। আসলে স্যার রতনে তো রতন চিনবেই।
- তার মানে আমি পাগল?
- ছি ছি...ও তো কথার কথা। কোথায় আপনি আর কোথায় আমি!
- তেল দিচ্ছিস?
- দিতে হয় স্যার...ভার্চুয়াল জগত হলে কী হবে! মানুষ তো বটে!
- হুমমম...বুঝেছি। তা কী করতে হবে সেটা বল।
- ওই যে স্যার...পোস্ট।
- আমি পোস্ট করলে তোর লাভটা কী?
- আপনি হলেন খুঁটি। খুঁটিতে নিজেকে বেঁধে রাখলে লাভ হবে না?
- আমাকে খুঁটি ভাবছিস? হায় রে! লোক চিনতে ভুল করলি।
- সে করলেই বা কি!
- কিছু নয়? আর আমার লাভটা বা কী তোর এই প্রলাপ পোস্ট করে?
- করুন না স্যার...দেখবেন অন্যের কাজ করে দেওয়ায় কি দারুণ আনন্দ!
- বলছিস?
- করে দেখুন স্যার...
( ভার্চু এটুকু বলেই পালালো। মাঝে মাঝে আসে নানা আবদার নিয়ে)
No comments:
Post a Comment