পুলিশ আর লেডি পুলিশ
শৌভিক রায়
- আরে ও দিদি....দাঁড়ান.... একটু দরকার....
কোথায় কে দাঁড়ায়! যত ডাকি তত সাইকেলের স্পিড বাড়ে। শাড়ি পরিহিতা কোনও মহিলা যে এরকম সাইকেল চালাতে পারেন ধারণাই ছিল না। তবে ছাড়ছি না। স্কুটার স্টার্ট দিয়ে পিছু ধরলাম। স্মার্টলি। টেনশন ফ্রি হয়ে। আসলে সঙ্গে গিন্নি আছেন। না হলে এই বয়সে মহিলার পিছু ধরব এতটা সাহসী আমি নই। তার ওপর মাস্টার। মশাই পর্যন্ত হতে পারিনি। সামনে দেখলে অবশ্য দাঁত কেলিয়ে 'হে হে মাস্টারমশাই' বলে সকলে। কিন্তু মুদি দোকান থেকে অনলাইন শপিংয়েও বোধহয় ওই বোকা মাস্টার বলেই রেজিস্টার্ড!
যাহোক, স্কুটার স্টার্ট করে তাকে বসাতেই যেটুকু দেরি। এর মধ্যেই মহিলা ভ্যানিশ। আবছায়া রাস্তায় তখন 'নাই নাই এ আঁধার থেকে ফেরার পথ নাই'। তার সন্ধানে প্রায় পুরো শহর চক্কর দিয়ে ফেললাম। তিনি কোথাও নেই। কী মুশকিল!
সেই তিন কিমি দূর থেকে খোঁজ করে করে মহিলার বাড়ি আবিষ্কার করেছিলাম। তার আগে কমসে কম দশ বারো জনের কাছে খোঁজ করতে হয়েছে। কেউ বলেছে, রাজবাড়ির সামনে চা বিক্রি করছে। কেউ বলেছে বাড়িতে আছে। কেউ আবার দেশবন্ধু মার্কেটের কথা বলেছে।
খোঁজটা শুরু হয়েছিল ওই দেশবন্ধু মার্কেট থেকেই। যেহেতু আজ আমার দরকার, তাই তিনি নেই। চিরকাল আমার সঙ্গে এটাই হয়ে এসেছে। যেদিন যেটা প্রয়োজন সেদিনই সেটার অভাব! যাহোক ঠিকানা জোগাড় করে বাড়ি পৌঁছলাম। বাইরে আলো জ্বলছে। চেঁচিয়ে ডাকলাম। কোনও আওয়াজ নেই। গিন্নি একটু উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখল ভেতরে আলোও জ্বলছে। কিন্তু সাড়া নেই। কী করব বুঝতে পারছি না। হঠাৎ বাড়ির পাশের অন্ধকার থেকে ভয়ানক বেগে একটা সাইকেল, আমাদের পাশ দিয়ে, হুঁশ করে বেরিয়ে গেল। স্পষ্ট দেখলাম মহিলাকে। পেছন থেকে ডাকতে স্পিড বাড়িয়ে তিনি গায়েব। তারপর থেকে খুঁজেই যাচ্ছি।
না পেয়ে শেষটায় ভাবলাম দেশবন্ধু মার্কেটে মহিলা যেখানে বসেন, তার পাশের সবজিওয়ালাকে বলে আসি। তাতে যদি কিছু কাজ হয়। যদি পরদিন পাওয়া যায়।
ওমা! কী কাণ্ড। মহিলা দেখি ওখানেই বসে আছে। সাইকেলটা একপাশে রাখা। খুব রাগ হলো। সারা শহর খুঁজে হয়রান আর ইনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে, আমাকে ফাঁকি দিয়ে, এখানে বসে আছেন!
- এটা কী হল?
- কোনটা?
- আপনি তো দেখলেন আমাকে আর ওকে। দাঁড়ালেন না কেন?
- মানে হয়েছে কী.....
- কী মানে!! এত খুঁজে আপনার বাড়ি গেলাম, বাড়িতেই ছিলেন। কোনও সাড়া দিলেন না। সোজা সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে এলেন। ডাকলাম এতো। তাও...
- আমি তো পালালাম।
- পালালেন? মানে?
- সাইকেল রেডি করা ছিল অন্ধকারে। পিছন দিয়ে বেরিয়ে তালা দিলাম। তারপর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেলাম।
- কিন্তু কেন!! আর এত ডাকলাম। থামবেন না?
- আমি কী জানি আপনারা? আমি তো ভাবলাম পুলিশ। লেডি পুলিশ নিয়ে এসেছে সঙ্গে...
- পুলিশ? লেডি পুলিশ? কী বলছেন এসব??
- রাগ করেন কেন?? শোনেন শোনেন। আজকে দুপুরে পাশের বাড়ির সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে তো। ওরা পুলিশে যাওয়ার কথা বলেছিল। কেস দেবে নাকি। আমি ওই জন্যই আজ বাজারে আসিনি। আপনারা ডাকতে ভাবলাম পুলিশ। যা গলা আপনার! জানলার ফাঁক দিয়ে দেখলাম সঙ্গে মহিলা। ভাবলাম নির্ঘাত লেডি পুলিশ। তাই পালালাম। আমি কী আর জানি যে মাস্টার.... মাস্টারমশাই! সঙ্গে বৌদি!!
হাসব নাকি রাগ করব বুঝতে পারলাম না। মাস্টার বেশি ইয়ে নাকি পুলিশ? ভাবলাম একটু জিজ্ঞেস করি। গিন্নির দিকে তাকালাম। বিহবল মুখ। নাকি গম্ভীর?
লেডি পুলিশে উত্তীর্ণ হয়ে যদি আরও ইয়ে বেড়ে যায়, থাক....তার চাইতে না জানতে চাওয়াই ভাল....
No comments:
Post a Comment