গুহা
শৌভিক রায়
১
সেদিন ঝিরকার হাতে মদের বোতলটা দেখেও এতটা অবাক হয়নি সম্পদ, আজ যতটা হল গুহার মুখটাকে দেখে। মুখটা সত্যিই বড় হচ্ছে। ঝিরকা ভুল বলেনি।
- প্রথম বড় হয়েছিল সেই মহামারির সময়।
- কোন মহামারি?
- তোরা যখন নামলি দ্বীপে। আমাদের সঙ্গে ভাব করলি।
- কী যে বলিস, আর না বলিস! সে সব কি আজকের কথা নাকি?
- জানি তো।
- জানিস যখন, তখন বলছিস কেন? তোর বাপ ঠাকুর্দাও তো জন্মায়নি তখন।
- ইতিহাস তো তাতে বদলাবে না.....তোদের জন্যই ওই মহামারি। তোরাই এনেছিলি। তোদের সঙ্গে মিশেই তো রোগ ছড়ালো আমাদের মধ্যে। তোদের ওই সব রোগ সামলানোর মতো শরীর আমাদের আজও নেই। শেষ করে দিয়েছিলি তোরা।
- বেশ। মানলাম। কিন্তু তার সঙ্গে গুহার মুখ বড় হওয়ার সম্পর্ক কোথায়?
- আছে আছে। বুঝবি না। একদিন এই গুহা সব কিছু গিলে খাবে।
- তার আগে বল, মদের বোতল পেলি কোথায়?
- দিয়েছে একজন।
- গ্রামের কেউ? কী দিয়েছিলি তাকে? হরিণের মাংস?
- পরিচিত না। বেড়াতে এসেছিল।
- টুরিস্ট? তোদের সঙ্গে না ওদের মেশা বারণ!
- ওসব কথার কথা।
- কিন্তু কী দিলি তাকে?
- ছবি তুলতে দিয়েছি আমার সঙ্গে।
- ছবি? সেকি রে। লোকটা ধরা পড়লে তো জেল খাটবে।
- সেটা তার সমস্যা। নে সিগারেট খা।
- সিগারেট? এটাও শিখেছিস? এটা আবার কে দিল?
- তোদের গ্রামের লোক। ঝিনুক দিয়েছিলাম।
- এখন তোদের রোগ হবে না ?
ঝিরকা উত্তর দিল না। মদ খেতে শুরু করল। দেখেই বোঝা যাচ্ছে আনাড়ি। এসব খায়নি বিশেষ। একটু পরেই ঝিমিয়ে পড়ল। তারপর ঘুম।
২
ঝিরকার গলায় কিছু একটা ছিল। সম্পদ তাই গুহার মুখের ঠিক বাইরের গাছটায় চিহ্ন এঁকেছিল। দুই মাস পর গাছটাকে দেখতে এসে, একটা ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেল তার মেরুদণ্ডের মধ্যে। গাছটা গুহার মুখের ভেতরে ঢুকে গেছে। তার মানে গুহার মুখটা সত্যিই বড় হচ্ছে। ঝিরকা ঠিকই বলেছে। সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে। কিন্তু সে বুঝলে কী হবে! তার কথা শুনে তো অন্যেরা হাসে! কেউ বিরক্ত হয়। কেউ মেইনল্যাণ্ডে গিয়ে মাথার ডাক্তার দেখাতে বলে।
কথাটা অবশ্য তার নিজেরও মনে হয়েছে। ডাক্তার একবার দেখালে হয়। গুহা বড় হচ্ছে, সব গ্রাস করছে- এরকমটা আবার হয় নাকি? মনের ব্যারাম। মন? নাকি মাথার? মন আর মাথার পার্থক্যটা কী সেটা অবশ্য সম্পদ বোঝে না। কিন্তু অন্যদের ভাবভঙ্গিতে এটা বোঝে, কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে তার। কিন্তু দেখাবে কোথায়? মেইনল্যান্ডে যাওয়া কি সহজ নাকি?
প্রথমে বোটে চেপে মেজ শহরে যাও। সেখান থেকে বাসে ধরে, রিজার্ভ ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে, বড় শহর এড়িয়ে ঝলমলে শহরে পৌঁছনো যায়। অবশ্য মেজ শহর থেকে উল্টো দিকে, আর এক জঙ্গলের ভেতর দিয়েও, পৌঁছনো যায় বড় শহরে। তারপর সেখান থেকে সারা রাত ভেসেলে চেপে ঝলমলে শহর। কিন্তু তাতেও হুজ্জত কম নাকি! আর ঝলমলে শহরে পৌঁছোলেই তো হল না। মেইনল্যান্ডে যেতে ধরতে হবে জাহাজ বা প্লেন। প্লেন হলে ঠিক আছে। আড়াই-তিন ঘন্টার মামলা। কিন্তু জাহাজে চাপলে প্রায় তিন দিন। আইল্যান্ডার কার্ডে প্লেনের ভাড়া কিছুটা কম পড়ে ঠিকই, কিন্তু সেটাও তার কাছে অনেক। ওদিকে জাহাজে চাপলে সময় তো সময়, অবিরাম দুলুনিতে তার বমি-টমি হয়ে একাকার অবস্থা!
এমনিতে সম্পদ এখন তিরিশ বিঘে জমির মালিক। এই তিরিশ বিঘের পনের বিঘে চাষের। বাকিটা আধা জঙ্গল। ঠাকুরদা যখন উদ্বাস্তু হয়ে এই আইল্যান্ডে আসেন তখন সেটেলার হিসেবে এটুকুই পেয়েছিলেন। কিন্তু এত দ্বীপ থাকতে কেন যে ঠাকুরদা এখানে এলেন, সেটাই মাথায় ঢোকে না সম্পদের। এখনও তাদের এখানে গুটি কয়েক বাড়ি। ফাঁকা ফাঁকা। জমির পরিমাণ সবারই ওই এক। তিরিশ বিঘে। কিন্তু তার বেশিটাই জঙ্গল। চাষের উপযুক্ত নয়। যেটুকুতে করা যায়, সেখানেও সব কিছু ফলে না সমুদ্রের নোনা জল আর হাওয়ায়।
তার ওপর ওই গুহাটা এখন বেড়ে চলেছে দিনদিন। সম্পদ স্পষ্ট দেখছে, ওটা হাঁ করে একটু একটু করে গিলে নিচ্ছে চারপাশ। সে বারবার বলছে সবাইকে। কিন্তু তাকে কেউ পাত্তা দিচ্ছে না। তাদের দোষ নেই। ওই গুহাটাই তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। ওটা দেখতে প্রতিদিন দলে দলে লোক আসে। মোটামুটি সকাল দশ-এগারো থেকে একের পর এক স্পিড বোটে রাজ্যের লোক হৈহৈ করতে করতে নামে জেটিতে। তারপর ম্যানগ্রোভের ভেতর দিয়ে কিমি তিনেক হেঁটে পৌঁছোয় এখানে। অবশ্য ম্যানগ্রোভের সেই ঘন অরণ্য এখন অনেকটা পাতলা। তবে এতটা হেঁটে সবাই নেতিয়ে পরে। শহুরে লোক। মেইনল্যান্ডের আরামে মানুষ। তারা একটু বসতে চায়। গলা ভেজাতে চায়।
ফলে দোকান দিয়ে বসে গেছে কম বেশি গ্রামের সবাই। বিস্কুট, চিপস, চা, লেবু জল। মোটামুটি এই আইটেম সব দোকানেই। লেবু জলের কাটতিই বেশি। এক গ্লাস জলের জন্য কুড়ি টাকাও পাওয়া যায় সিজন টাইমে। কেউ কেউ আবদার করে জংলি মুরগির মাংস খাবে বলে। গুহা দেখতে যত সময় লাগে, তার মধ্যে রান্না হয়ে যায়। এই জঙ্গলে অন্য হিংস্র প্রাণী পাওয়া না গেলেও, মুরগি আছে প্রচুর।
নিজেদের জমিতে চাষ আর দোকান। মোটামুটি এভাবেই চলে সবার। এর মধ্যেই কেউ কেউ সাহস করে স্পিড বোট কিনেছে ব্যাংক লোন নিয়ে। ঠিকঠাক চালাতে পারলে তেলের খরচ মিটিয়ে আর ইন্টারেস্টের টাকা শোধ করে বছর দুয়েক পর লাভ শুরু হয়। সম্পদের প্রতিবেশীদের অনেকেই বোট কিনে স্বচ্ছল হয়ে গেছে। সম্পদও টাকা জমিয়েছিল। বোট কিনবে বলে। কিন্তু যেদিন থেকে বুঝেছে গুহাটা সব খেয়ে নিচ্ছে, সেদিন থেকে বোট কেনার চিন্তা ছেড়েছে।
৩
ঝিরকা এই দ্বীপের আদিবাসী। সত্যি বলতে এই দ্বীপ ঝিরকাদের সম্পত্তি। কিন্তু এখন ওরা কোনঠাসা। সম্পদের মতো মেইনল্যান্ড আসা মানুষেরা ঝিরকাদের প্রায় হটিয়ে দিয়েছে। তারা প্রথমটায় ঝিরকাদের হাত করেছিল এটা সেটা দিয়ে। মিশতে শুরু করেছিল খোলামেলা। তারপর যা হওয়ার হল তাই! বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে না মিশে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাই ছিল না ঝিরকাদের। ফলে সামান্য সংক্রমণ আকার নিল মহামারির। সংখ্যা কমতে লাগল ঝিরকাদের। এখন তারা হাতে গোনা।
মহামারির আগে নাকি গুহাটা ছোট ছিল। ঝিরকা বলে। সম্পদের হাসি পায়। যে আমলে মহামারি দেখা দিয়েছিল ঝিরকাদের মধ্যে, তখন বোধহয় ঝিরকার বাবাও জন্মায়নি। কিন্তু ও এমন করে বলে যেন নিজের চোখে গুহাটাকে দেখেছিল। সম্পদের হাসি দেখে গম্ভীর হয়েছিল ঝিরকা। বুঝিয়ে দিয়েছিল, ঠাকুরদা আর বাবার মুখে শুনে আসা কথাকে এভাবে অবজ্ঞা করাটা সে ভালভাবে নিচ্ছে না। তবে সম্পদের হাসি অবশ্য মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। ঝিরকার সঙ্গে ওই সেদিনের কথার পর, মাস দুয়েক পরে সম্পদ নিজেও দেখল, গুহার মুখটা সত্যিই বড় হচ্ছে।
৪
গুহাটা একটু অদ্ভুত। যেদিকে ওদের গ্রাম সেদিকে একটা মুখ। সেদিক দিয়েই সবাই ঢোকে আদিম গুহাটা দেখতে। একটা নির্দিষ্ট জায়গার পর আর কেউ এগোয় না। কেননা রাস্তাটা সেখান থেকে ভাগ হয়ে গেছে। রাস্তা দুটো কোনদিকে গেছে কে জানে। তবে গুহাটা যে পাহাড়ে সেটা পেরিয়ে খুব কষ্ট করে ওপারে যাওয়া যায়।ফলে ওই পাশে লোকজন এমনিতেই যায় না। একেই পাহাড়, তার ওপর জঙ্গল। সম্পদও বিশেষ যায়নি কোনও দিন। কিন্তু সেবার টুরিস্টের ঢল নেমেছিল। চাহিদা বেড়েছিল বনমোরগের। পাহাড়ের ওপরে বা ওপাশে মুরগি মিলতে পারে ভেবে কষ্ট করছিল সম্পদ। তখনই প্রথম দেখা ঝিরকার সঙ্গে। বেশ গুছিয়ে বসেছিল সে। পাহাড়ের ঢালে খানিকটা সমতল জায়গায়। সামনে ছিল কচ্ছপের কাঁচা মাংস। আর মদের বোতল। ওর নৌকোটা দেখা যাচ্ছিল নিচে। ব্যাক ওয়াটারে। ঝিরকার মুখে সাদা হলুদ রং। কুচকুচে কালো সুঠাম চেহারা। সম্পদ প্রথমটায় ভয় পেয়েছিল। কিন্তু তাকে অবাক করে ভাঙা ভাঙা বাংলায় ঝিরকাই প্রথম কথা বলেছিল। ও নাকি ভাষাটা শিখেছে কোন কোন টুরিস্টের সঙ্গে মিশে।
অথচ ওদের সঙ্গে টুরিস্টদের মেশা তো অনেক পরের ব্যাপার, দূর থেকে ছবি তোলাও বারণ। সম্পদ হিসেবে মেলাতে পারে না।
৪
ঝিরকা আর গুহার কথাটা সম্পদ বেমালুম ভুলে গেল নতুন দ্বীপে এসে। তার বাড়ি থেকে প্রায় তিনশো কিমি দূরের এই দ্বীপ। নতুন এক প্রকল্পের কাজ চলছে সেখানে। সারা বিশ্ব থেকে এখানে মালবাহী জাহাজ আসবে। আদান-প্রদান হবে সেগুলির। তার জন্য নানা রকম কাজ চলছে। বসছে অতিকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট। টাউনশিপ তৈরি হচ্ছে আর একদিকে। আর এত কিছুর সঙ্গে যদি এয়ারপোর্ট না হয়, তবে কি চলে? মোট কথা, বিরাট এক কর্মযজ্ঞের ছোট্ট অংশীদার হয়ে ডুবে রয়েছে সম্পদ। দেখছে কীভাবে সবুজ অরণ্য কাটতে হয়। পুঁততে হয় আরসিসি পিলার। পাওয়ার প্ল্যান্টের দূষিত জল কেমন করে ফেলতে হয় সমুদ্রে। দ্বীপের আদি বাসিন্দাদের ওখান থেকে উঠিয়ে কী সুন্দরভাবে বসিয়ে দিতে হয় অন্য কোথাও, সেটাও জেনে গেল সম্পদ।
মোটামুটি বছর দেড়েক কাজ করে বাড়ি ফিরল সম্পদ। আর ফিরেই দেখতে গেল গুহাটাকে। ঠিক যা ভেবেছিল। গুহাটা আরও বড় হয়েছে। তার বিরাট মুখের মধ্যে ঢুকে গেছে আশেপাশের অনেকটা অংশ। কিন্তু গ্রামের লোকেদের কোনও হেলদোল নেই। তারা কেউ মানতেই চাইল না যে, গুহার মুখটা বড় হয়েছে। উল্টে সম্পদের দিকে এমন করে তাকালো যে বলার না! এক খুড়ো বলে বসল,
- নতুন দ্বীপে গিয়ে তোর মাথাটা ঠিক হবে ভেবেছিলাম। ওখানে কত বিরাট কাজ হচ্ছে। কত লোক। মেইনল্যান্ড থেকে এসেছে। তাদের সঙ্গে মিশে কি কিছুই শিখলি না? আবার সেই গুহার মুখটা বড় হয়েছে বলছিস! তুই তাড়াতাড়ি এখন থেকে চলে যা। না হলে সবাই তোকে পেটাবে এবার। তোর এই বলার জন্য সেবার সার্ভে হয়েছিল। টুরিস্ট আসা বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। আমাদের পেটে লাথি মেরেছিলি তুই । আবার শুরু করলি?
অবাক হল সম্পদ। সত্যিই কি এরা অন্ধ? দেখতে পাচ্ছে না? গুহাটা যে তাদের গ্রামের কতটা গ্রাস করেছে, বুঝতে পারছে না সেটা? মন খারাপ করে সে এলো আবার গুহার কাছে। শেষ বিদায় নিতে। সে সত্যিই এবার চলে যাবে একবারে। নতুন দ্বীপেই থেকে যাবে। ডুবিয়ে দেবে নিজেকে আরও অনেক কাজে।
৫
গুহার কাছে আসতেই যেন মাটি ফুঁড়ে বেরোল ঝিরকা। সেই চকচকে কালো চেহারা আর নেই। ঋজু শরীরটাও কেমন নুইয়ে গেছে। মুখে ক্লান্তির স্পষ্ট ছাপ। তবু হিসহিসে গলায় ঝিরকা বলে উঠল,
- সম্পদ। তুই চলে যা। নতুন দ্বীপে। ওখানকার গুহাটা বড় হচ্ছে। পাহারা দে গিয়ে। আর বড় হতে দিস না।
- নতুন দ্বীপে গুহা আবার কোথায়?
- কেন পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য মাটি খুঁড়িসনি? এয়ারপোর্টের জন্য গাছ কাটিসনি?
- তার সঙ্গে গুহার সম্পর্ক কোথায়?
- পাশে পাহাড় আছে? ওসব জায়গার?
- আছে তো। এখানকার সব দ্বীপেই তো পাহাড়।
- যা। ভাল করে দেখ। গুহা পাবি। ওটা বড় হতে দিস না। তাহলে সমস্যা।
- কী সমস্যা?
- এই গুহাটা পুরো দ্বীপটাকে খেয়ে নিচ্ছে বুঝতে পারছিস তো?
- হ্যাঁ তো। কেন বুঝব না? কিন্তু কেউ তো বিশ্বাস করছে না।
- তুই করলেই হল। এই দ্বীপের আয়ু আর মাত্র কয়েক বছর। তারপর শুধু গুহাটাই থাকবে।
- কী বলছিস এসব?
- ঠিকই বলছি। অভিশাপ।
- কার অভিশাপ?
- সমুদ্রের। আকাশের। জঙ্গলের। সবার....
- কী পাগলামো করছিস?
- তুই যা সম্পদ। নতুন দ্বীপে পাহারা দে। নইলে ওটাও যাবে।
- ওখানে যে এত কিছু হচ্ছে সেই খবর তুই কীভাবে জানলি?
- হাওয়া বয়ে খবর আসে রে। তুইও জানবি, তুইও জানবি। যা সম্পদ...দেরি করিস না।
৫
...... নতুন দ্বীপের লোকজন আজকাল সম্পদকে দেখে অবাক হয়। যখন প্রথম এখানে আসে তখনই একটু ছিটেল ছিল। কিন্তু শেষবার নিজের বাড়ি থেকে ফিরে বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যাবে, কেউ ভাবেনি।
আজকাল নতুন এয়ারপোর্টের পাশের ছোট্ট পাহাড়টায় সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। ওখানে একটা গুহা দেখা গেছে কিছুদিন আগে। এতদিন ওটার অস্তিত্ব কেউ টেরই পায়নি। সেদিক থেকে বলতে গেলে সম্পদই ওটাকে আবিষ্কার করেছে। কিন্তু গুহাটা বড় হচ্ছে বলে যে কথাটা সম্পদ সারাদিন বলে বেড়ায়, সেটা পাগলামির লক্ষণ।
মজা হল, পাগলেরও বন্ধু থাকে। তার কথাও কেউ বিশ্বাস করে। এখানকার আদি বাসিন্দারা অন্য জায়গায় সরে গেলেও, শম্পু মাটি কামড়ে পড়েছিল। সম্পদের সঙ্গে ওর বেশ ভাব। সারাদিন সেও সম্পদের সঙ্গে ঘোরে। হাওয়ায় কান পেতে কী যেন শোনে। সমুদ্রের কাছে গিয়ে বিড়বিড় করে। গাছের গায়ে হাত বোলায়। আর যখন পাগলামি চরমে ওঠে আকাশের দিকে দুই হাত তুলে চিৎকার করে ওঠে,
- গুহাটা বড় হচ্ছে....খেয়ে নিচ্ছে সব। তোরা দেখছিস না কেন? মরবি রে সব্বাই মরবি....গুহার পেটে পচে মরবি.....
(প্রকাশিত: কোচবিহার সাহিত্যসভা পত্রিকা, ২০২৫)










































