বটি
শৌভিক রায়
ইসলামপুর থেকে ছোটমামা শ্রী বাণীপ্রসাদ নাগ, হোয়াটসঅ্যাপে, বটির ছবি পাঠিয়েছেন কয়েকদিন আগে।
বটিটির বিশেষত্ব হল, মাথার দিকটা মোরগের ঝুটির মতো গোল খাঁজকাটা। নারকেল কুড়োতে সুবিধে হয়।
সম্ভবত আমাদের এদিকে এরকম বটির চল কম।
বটির যদি স্থান-কাল-পাত্র নির্ণয় করা যায়, তবে বলব বটিটি বাঙালি নয়।
তবে বিষয় এটা নয়। ব্যাপার হল, আমাদের জীবনে কি বটির ব্যবহার ক্রমশ কমছে?
জেন এক্স বা ওয়াই বা জেড যা হোক না কেন, বটির ব্যবহার কি জানে তারা?
নিজের বাড়ির কথাই ধরি। গায়ে ছাই লাগিয়ে বটিতে মাছ কাটা আজকাল আর হয় না। মাছ কিনে বাজারেই কুটিয়ে আনাই দস্তুর। সেটাই করি। কুড়ি টাকায় মাছ কেটে দেয় প্রোফেশনাল কাটিয়েরা।
সবজি অবশ্য বাড়িতে কাটা হয়। তবে অনেককেই জানি, যারা ছুরি বা চাকুতে নানা সবজি কেটে অভ্যস্ত। এইসব বাড়িতে বটি ক্রমশ মিউজিয়ামে রাখবার বস্তু হয়ে যাচ্ছে। অন্য বাড়িগুলিতে বটি অবশ্য লড়ে যাচ্ছে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।
তবে বহাল তবিয়তে বটি রয়েছে মাছ বাজারে। উফফ...কী তাদের চেহারা এক একজনের। চকচকে, লম্বা, স্মার্ট, বিরাট... সবমিলে একদম ঝাক্কাস!
আর সেই সব খানদানি বটিতে মাছ কুটতে দেখাও (যদি মাছের গন্ধ সহ্য করা যায়) বেশ একটা ইয়ে ব্যাপার। দিব্যি লাগে। লোকের ভিড়, ধাক্কা, হইচই সব কিছু সহ্য করেও তাই দেখি সেটা মনোযোগ দিয়ে।
তবে মা-মাসিদের সেই রোদে পিঠ দিয়ে মাছ কুটবার মজাটা অবশ্য মেলে না। কিন্তু যা চলে যায়, তা তো মেনে নিতেই হয়! এই জেন **** যুগে আমাদের মতো জেন সি বা ডি বা ই এখনও তাই পুরোনো অ্যালবামে খুঁজে বেড়ায় সেই অতীত ছবি!
* ছবি- মানি (শ্রীমতী সন্ধ্যা সাহা) মাছ কুটছেন। বসে দেখছি বাবুয়াদা (পিসতুতো দাদা) আর আমি।

No comments:
Post a Comment