Thursday, July 31, 2025
Tuesday, July 29, 2025
Saturday, July 26, 2025
Friday, July 25, 2025
ভিউয়ের দাপটে ব্যাকফুটে ভ্রমণসাহিত্য
শৌভিক রায়
সমাজ মাধ্যম খুললেই অজস্র ছবি ও ভিডিও। নতুন কিংবা পুরোনো পর্যটন কেন্দ্রের। ছবির ওপর বিস্তৃত পরিচিতি। ভাষার বর্ণচ্ছটা। ভিডিওতে গাঢ় স্বরে বর্ণনা। স্বর প্রক্ষেপণ বলে দিচ্ছে বর্ণনাকারীর হর্ষ ও উচ্ছ্বাস।
এই প্রজন্মের অধিকাংশই ভ্রমণসাহিত্য বলতে এগুলিকেই বোঝেন। এতে অবশ্য বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এই চটজলদির যুগে সাহিত্য সম্পর্কেই যখন আমাদের অনেকের ধারণা সুস্পষ্ট নয়, তখন ভ্রমণসাহিত্য অনেক দূরের ব্যাপার। নিশ্চিত করে বলতে পারি বর্তমান সময়ের অনেক পাঠকই জানেন না প্রবোধ কুমার সান্যাল, শঙ্কু মহারাজ কিংবা উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। পড়েননি সুবোধ কুমার চক্রবর্তীর 'রম্যাণী বীক্ষ' বা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পালামৌ'।
কিন্তু এতে কি কিছু যায় আসে? সাধারণভাবে দেখলে হয়তো কিছুই যায় আসে না। বরং সমাজ মাধ্যমে এইসব ভিডিও ও ছবি দেখে কোনও পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। সেখানে কীভাবে যাওয়া যাবে, কী কী দেখা যাবে, কোথায় থাকা যাবে ইত্যাদি বিভিন্ন তথ্য জানা থাকলে সুবিধে প্রত্যেকের। ফলে, এই জাতীয় পোস্টের চাহিদা তুঙ্গে। তাই ক্রমে বাড়ছে ট্রাভেল ব্লগের চাহিদা। গুগল ম্যাপেও অনেকে বিস্তারিত জানিয়ে দিচ্ছেন নানা তথ্য। এতে যেমন বর্ণনাকারীর লাভ, তেমনি যাঁরা দেখছেন তাঁদেরও। কেননা ভিউয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে অর্থ সমাগম হতে পারে। আর তথ্য নির্ভর এইসব পোস্ট দেখে সেই ভিউয়ার নিশ্চিন্তে চলে যেতে পারেন বেড়াতে। কিন্তু ট্র্যাভেল ব্লগ বা এই জাতীয় বিবরণ আর ভ্রমণ সাহিত্য এক নয়।
সত্যি বলতে, ভ্রমণ সাহিত্য কোনও অংশে কবিতা, গল্প বা উপন্যাসের চাইতে কম নয়। কেননা শুধু দেখে ও বর্ণনা করেই ভ্রমণসাহিত্য রচিত হয় না। সঠিক অবলোকন, পর্যবেক্ষণ ও রসময় বর্ণনা না থাকলে, ভ্রমণ সাহিত্য জাতে ওঠে না। ফলে ভ্রমণ নিয়ে প্রচুর লেখা হলেও, সেগুলি নিতান্তই ভ্রমণবৃত্তান্ত হয়ে রয়েছে। সাহিত্য হয়নি।
বাংলায় ভ্রমণ সাহিত্যের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এর টান এতটাই যে, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবধি তা এড়াতে পারেননি। অবশ্য তিনি প্রথম নন। কিন্তু সাহিত্যের এই শাখাকে তিনি অন্য মাত্রা দিয়েছিলেন তাঁর ভ্রমণকথার আটটি গ্রন্থে। স্বামী বিবেকানন্দ, অবধূত, সতীনাথ ভাদুড়ী, বুদ্ধদেব বসু, অন্নদাশঙ্কর রায়, নারায়ণ সান্যাল, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, নবনীতা দেবসেন প্রমুখরা সেই ধারাকেই সমৃদ্ধতর করেছেন। এঁদের প্রত্যেকের লেখাতেই যে অন্তর্দৃষ্টি ও আত্মদর্শনের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ ও বোধের যে গভীরতা রয়েছে, সেটিই ভ্রমণসাহিত্যের সবচেয়ে বড় শর্ত। তাঁদের লেখা পাঠককে মানসলোকে নিজস্ব কল্পনার উড়ান ভরতেও সক্ষম।
আরও অনেক কিছুর মতোই আমরা ভ্রমণসাহিত্য ভুলে গেছি। অন্তর্দৃষ্টির অভাবে পার্থক্য করতে পারছি না ট্যুরিস্ট আর ট্র্যাভেলারের মধ্যে। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভিড় উপচে পড়লেও, লাভ কতটা হল, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ভ্রমণের রস আস্বাদন ও জানার আগ্রহের চাইতে, অন্যকে দেখানোর আর অর্থ লাভের ইচ্ছে যদি বেশি হয়, তবে সেটি ভ্রমণ থাকে না। দুর্ভাগ্য, এখন সেটিই চলছে। ফলে একদিকে যেমন ভ্রমণসাহিত্যের অপমৃত্যু হয়েছে, তেমনি ভিড় বাড়লেও সফল হচ্ছে না পর্যটনের আসল উদ্দেশ্য।
( * প্রকাশিত: উত্তরবঙ্গ সংবাদ, জুলাই ২৫, ২০২৫)
Tuesday, July 22, 2025
Saturday, July 19, 2025
Friday, July 18, 2025
Tuesday, July 15, 2025
মোহিত
শৌভিক রায়
বসতে না বসতেই ঝকঝকে পোশাক পরা বয় ঠকাস করে গ্লাসটা রাখল। লাল নীল কমলা সব রং মেশালে যেমন হবে, তেমন রঙের তরল গ্লাসে টলটল করছে। তাতে ভাসছে গোল গোল চাকা চাকা করে কিছু একটা ফলের দু'তিন টুকরো। তরলের ভেতর থেকে খানিকটা মাথা উঁচিয়ে হঠাৎ বিনয়ী হয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে দিয়েছে সাদা স্ট্র বাবাজি।
চিরকালের ভীতু পাবলিক আমি। এভাবে ওপেন দোকানে কেউ ইয়ে সাপ্লাই দেয় নাকি? তাও আবার অর্ডার ছাড়া! আমাকে কী ভেবেছেটা কী! কেউ যদি দেখে ফেলে? কটমট করে তাকালাম ছেলেটির দিকে। অবশ্য আমার এই ছোট ছোট কুতকুতে চোখে কটমট ভাবটা ফুটে ওঠে কিনা কে জানে। বোধহয় ফোটে না। তাই সে দিব্যি ভ্রু নাচিয়ে বলল, 'মোহিটো স্যার!'
আরে কে তোমার নাম জিজ্ঞাসা করেছে বাবা?তাছাড়া এরকম বিটকেল উচ্চারণ করতেই বা কে বলেছে? তবে খুশি হলাম। ভাবলাম অবাঙালি হয়েও এই যে বাংলা বলার প্রয়াস, এটা তো অভাবনীয়। আজকাল বাঙালিরা বাংলা বলে না! সেখানে এই ছেলেটি ঠিক উচ্চারণ করতে না পারলেও, চেষ্টা করছে।
- মোহিত? আচ্ছা আচ্ছা...লেকিন মোহিত ম্যায় না ইয়ে নেহি চাহা মানে মাঙ্গা...হাম তো দার... মানে ইয়ে...বুঝলে না... শরাব নেহি খাতা..না না পিতা...ফাদার পিতা না কিন্তু...খাওয়া পিতা... মানে জল..নেহি পানি..বুঝলে মোহিত?
- না না স্যার... আমার নাম মোহিত নয়..
নাম মোহিত নয়? তবে মোহিত বলল কেন? আমাকে দেখে তো মোহিত হওয়ার কিছু নেই। যথেষ্ট দানবীয় আমাকে দেখতে। ছেলেটা বলে কী?
- অ... তুমি তবে বাঙালি? কিন্তু হঠাৎ মোহিত কেন হলে? মানে ঠিক বুঝতে পারছি না। আধা বুড়ো এই টেকোকে দেখে...
- স্যার আমি মোহিত নই, মোহিতও হইনি। এটার নাম মোহিটো। কিউবান ড্রিংক। ওরা রামের সঙ্গে আরও কিছু মিশিয়ে ককটেল তৈরি করে। আমাদের ওসব নয়। সিম্পল শরবত। এটা স্যার আমাদের তরফ থেকে আপনাদের জন্য ওয়েলকাম ড্রিংক...
- কিউবাতে রাম! ওখানে তো ফিদেল কাস্ত্রো শুনি। রাম কীভাবে গেলেন? সেতু বন্ধ তো শ্রীলঙ্কায় হয়েছিল শুনেছি। কিউবা তো সেই আমেরিকার কাছে...বোধহয় আটলান্টিকে...
- স্যার খেলে খান, না হলে থাক...
কিন্তু ওই যে। আমি চিরকালের ভীতু লোক। না খেলে (নাকি পিলে? পিলে চমকানো সব ব্যাপার স্যাপার) যদি কোনও ক্যাচাল হয়...
মিথ্যে বলব না...মোহিটো খেয়ে বেশ মোহিত হলাম কিন্তু.... কুতকুতে ঢুলু ঢুলু চোখে মেন কোর্সের (পাতি বাংলায় ভাত) অপেক্ষায় বসে রইলাম...
( বোকামির এককাল )
Saturday, July 12, 2025
নিউ কোচবিহার স্টেশনে শেয়ালদা- জলপাইগুড়ি রোড সাপ্তাহিক ট্রেনটি দাঁড়িয়ে রয়েছে দেখে অবাক লাগল। শুনলাম কোচ পরিষ্কার করবার জন্য ট্রেনটিকে নাকি নিউ কোচবিহার স্টেশনে আনা হয়েছে বা হয়। বিষয়টি কতটা সঠিক জানি না। কিন্তু যদি সত্যিই সেটা হয়, তবে ট্রেনটি তো নিউ কোচবিহার থেকেই ছাড়তে পারত। ট্রেনটিকে নিউ কোচবিহার অবধি টেনে আনা ও আবার পাঠানোর মধ্যে একটা খরচ তো রয়েছে। সেটা তো কিছুটা মিটতো নিশ্চয়ই তাতে। জলপাইগুড়ি রোড থেকে ট্রেনটি ছাড়ে রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে।
Friday, July 11, 2025
Monday, July 7, 2025
পারি, তবু পারি না...
শৌভিক রায়
ভেবেছিলাম বলি...."হে মধ্যবয়স্কা, স্থূলকায়া, বিগতযৌবনা, শ্রদ্ধেয়া নারীগণ...যেভাবে আপনারা বানেশ্বর শিবমন্দিরের বিরাট চাতালে উঠিয়া, নানা প্রকার অঙ্গভঙ্গি করিয়া, চলমান দূরভাষের ক্যামেরা সামনে রাখিয়া, রিল নামক অত্যাধুনিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের শুটিং করিতেছেন, তাহাতে আগত ভক্তবৃন্দের চোখ কপালে উঠিলেও, চক্ষুলজ্জা ও আপনাদিগের বয়স বিচারে, সশব্দে কিছু না বলিলেও, মনে মনে সকলেই গালমন্দ করিতেছেন। পাথরের দেবতার আশীর্বাদ লইতে আসিয়া, মনুষ্যকূলের অভিশাপ কুড়াইবার মধ্যে কোনও প্রকার পুণ্য নাই। 'হাই গাইজ' কিংবা 'বন্ধুরা' সম্বোধন করিয়া, যেমত ভাবে আপনারা বর্তমানে, নিজেদের রান্না হইতে স্বামীর লুঙ্গি বা কালি মাখা কুৎসিত গামলা ইত্যাদি যাবতীয় যা কিছু দেখাইতেছেন, তাহাতে আমরা পরম বিস্মিত। এই সকল দ্রব্যাদিও যে প্রদর্শনের বিষয় হইতে পারে, তাহা ছাত্রাবস্থায় জানিলে, রসায়ন শিক্ষকের চাটা খাইয়া, বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানের বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে রঙ্গ (কেমিক্যাল রঙগুলিকে ওই নামেই ডাকিয়া থাকি) দেখাইতাম না। সমস্যা হইল, ত্রিনেত্র হইলেও মহাদেব এই সব বোঝেন না। ঠাকুর দেবতারা এমত হইয়া থাকেন। উহারা ঝট করিয়া মনুষ্যকূলকে অনুকরণ করিতে অভ্যস্ত। দেখিবেন মাঝেমধ্যেই দুর্গা মাতা জনপ্রিয় নায়িকার মুখ, নিজের মুখে বসাইয়া ফেলেন এবং অসুরটিকে প্রতিপক্ষ নেতা বানাইয়া দেন। মা সরস্বতী প্রায়শই জিন্স টপ পরিয়া বীণার বদলে গিটার লইয়া ভিজিট দিয়া যান। ফলে ব্যোমভোলা দেবাদিদেব শিবঠাকুর যদি আপনাদের দেখিয়ে অনুপ্রাণিত হইয়া (অনুপ্রেরণা ছাড়া আজকাল কিছুই হয় না) রিল বানাইতে শুরু করেন, তবে আর এক চিত্তির হইবে..." কিন্তু বলতে পারলাম না। আমার দিদিমণি ফুট কাটল, "যত বীরত্ব বাড়িতেই! আমাকেই যা বলতে পারে। হুঁ, মুরোদ জানা আছে...."





