পারি, তবু পারি না...
শৌভিক রায়
ভেবেছিলাম বলি...."হে মধ্যবয়স্কা, স্থূলকায়া, বিগতযৌবনা, শ্রদ্ধেয়া নারীগণ...যেভাবে আপনারা বানেশ্বর শিবমন্দিরের বিরাট চাতালে উঠিয়া, নানা প্রকার অঙ্গভঙ্গি করিয়া, চলমান দূরভাষের ক্যামেরা সামনে রাখিয়া, রিল নামক অত্যাধুনিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের শুটিং করিতেছেন, তাহাতে আগত ভক্তবৃন্দের চোখ কপালে উঠিলেও, চক্ষুলজ্জা ও আপনাদিগের বয়স বিচারে, সশব্দে কিছু না বলিলেও, মনে মনে সকলেই গালমন্দ করিতেছেন। পাথরের দেবতার আশীর্বাদ লইতে আসিয়া, মনুষ্যকূলের অভিশাপ কুড়াইবার মধ্যে কোনও প্রকার পুণ্য নাই। 'হাই গাইজ' কিংবা 'বন্ধুরা' সম্বোধন করিয়া, যেমত ভাবে আপনারা বর্তমানে, নিজেদের রান্না হইতে স্বামীর লুঙ্গি বা কালি মাখা কুৎসিত গামলা ইত্যাদি যাবতীয় যা কিছু দেখাইতেছেন, তাহাতে আমরা পরম বিস্মিত। এই সকল দ্রব্যাদিও যে প্রদর্শনের বিষয় হইতে পারে, তাহা ছাত্রাবস্থায় জানিলে, রসায়ন শিক্ষকের চাটা খাইয়া, বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানের বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে রঙ্গ (কেমিক্যাল রঙগুলিকে ওই নামেই ডাকিয়া থাকি) দেখাইতাম না। সমস্যা হইল, ত্রিনেত্র হইলেও মহাদেব এই সব বোঝেন না। ঠাকুর দেবতারা এমত হইয়া থাকেন। উহারা ঝট করিয়া মনুষ্যকূলকে অনুকরণ করিতে অভ্যস্ত। দেখিবেন মাঝেমধ্যেই দুর্গা মাতা জনপ্রিয় নায়িকার মুখ, নিজের মুখে বসাইয়া ফেলেন এবং অসুরটিকে প্রতিপক্ষ নেতা বানাইয়া দেন। মা সরস্বতী প্রায়শই জিন্স টপ পরিয়া বীণার বদলে গিটার লইয়া ভিজিট দিয়া যান। ফলে ব্যোমভোলা দেবাদিদেব শিবঠাকুর যদি আপনাদের দেখিয়ে অনুপ্রাণিত হইয়া (অনুপ্রেরণা ছাড়া আজকাল কিছুই হয় না) রিল বানাইতে শুরু করেন, তবে আর এক চিত্তির হইবে..." কিন্তু বলতে পারলাম না। আমার দিদিমণি ফুট কাটল, "যত বীরত্ব বাড়িতেই! আমাকেই যা বলতে পারে। হুঁ, মুরোদ জানা আছে...."
No comments:
Post a Comment