সাদা কালো থেকে রঙিন
শৌভিক রায়
গোল বাগানটি দেখে বাবার কথা মনে পড়ল। এখানেই বিশেষ দিনগুলিতে বাবা জাতীয় পতাকা তুলতেন।
শিক্ষক বিরাম কক্ষের (শেষ যখন দেখেছিলাম, তখন এটিই ছিল, জানি না এখন স্থান পরিবর্তন হয়েছে কিনা) সামনের ওই বারান্দায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিন প্রেয়ার লাইনে কম্যান্ড দিয়েছি। দুটো গান গাইতাম আমরা। বিদ্যালয় সংগীত `সমুখে তুঙ্গ তুষার মৌলী...` এবং জাতীয় সংগীত `জনগণমন অধিনায়ক...`। বিদ্যালয় সংগীত শান্তিনিকেতন থেকে তৈরি হয়ে এসেছিল। মূল উদ্যোগ ছিল কার্তিকস্যারের।
যেহেতু থাকতাম স্কুল কোয়ার্টার্সে, তাই বড় রাস্তার দিকের মূল গেট নয়, আমার ঢুকবার গেট ছিল হোস্টেলের উল্টোদিকের গেট। হোস্টেল বোধহয় আর নেই এখন। শেষের তিন বছর অবশ্য মেন গেট দিয়েই ঢুকেছি। কেননা নতুন বাড়ি করে আমরা কলেজ পাড়ায় চলে গিয়েছিলাম।
দূরের ওই গেট দিয়ে প্রবেশ ছিল আমার
বাবা বসতেন এই দালানের ঘরেই
শিক্ষক বিরাম কক্ষের সামনের ওই বারান্দা
সাদা ঘরটির ওখানেই থাকতেন গুরুংদা আর রামদা
আমাদের সময় এই মঞ্চ ছিল না
স্কুল স্পোর্টস। টাউন ক্লাবের মাঠ। পোল ভোল্ট। রয়েছেন প্রয়াত মন্টু ঘোষ।
চেয়ারে বিচারক হিসেবে সম্ভবত শ্রদ্ধেয় নিতাই পাল
স্কুল স্পোর্টস। টাউন ক্লাবের মাঠ। পতাকা তুলছেন বাবা
স্কুল পিকনিক
স্কুল স্পোর্টস। টাউন ক্লাবের মাঠ।
রয়েছেন আমার বাবা, শিল্পপতি এস পি রায়,
সুভাষ গার্লস হাই স্কুলের তদানীন্তন প্রধান শিক্ষিকা পূর্ণিমা মাসি,
আমাদের সহ প্রধান শিক্ষক হরকাকু
স্কুলের অতীত চিত্র
স্কুল এক্সকারসনে কার্তিক স্যার। সঙ্গে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তদানীন্তন ডিরেক্টর, বাবা
স্কুলের পুজো। কার্তিক স্যার, রণেনকাকু, পন্ডিতকাকু, চন্ডীস্যার, বাবা, রামদা...
কোনও এক ভবনের দ্বারোদ্ঘাটন
সুবোধ স্যার, হরকাকু ও অমর স্যার
স্কুল ভবন যখন তৈরি হচ্ছে। বাবা
একতলা ছিল আমাদের স্কুল। যতদূর জানি ১৯৬৭ সালে বাবা প্রধান শিক্ষক হওয়ার পরে পরে ইংরেজি H আকারের এই বিল্ডিং তৈরি হয়েছিল। এখন অবশ্য স্কুল দোতলা। প্রধান শিক্ষক বাবা, সহ প্রধান শিক্ষক হরকাকু, গেমস টিচার চন্ডীস্যার বসতেন যে বিল্ডিংয়ে, সেটি তৈরি হতে দেখেছি। লাইব্রেরি আর অফিসও ছিল ওখানেই। ওই দালান আর বাউন্ডারি দেওয়ালের মাঝে প্রচুর গন্ধরাজ গাছ ছিল। বাবার ঘর ম ম করত।
স্কুলের পেছন দিকে যে বিল্ডিং, সেটিও আমাদের সামনেই তৈরি হয়েছিল। ওই বিল্ডিংয়ের পেছনে গার্লস হাই স্কুল দেখা যেত। ছিল একটা বিরাট কামরাঙা গাছ। আর পার্কের দিকে ছোট্ট একটা গেট।
পেছনেই উত্তর দিকে, মানে বেসিক স্কুলের দিকে, একটা ঘরে থাকতেন দপ্তরি রামদা। কিছুদিন গুরুংদাও থেকেছেন ওখানে।
আসলে এই স্কুল নিয়ে কিছু বলতে গেলে কথা থামে না। জীবনের প্রথম পনেরো বছর এই স্কুল ঘিরেই বড় হয়েছি। বাবা প্রধান শিক্ষক আর মা শিক্ষিকা হওয়ার জন্য স্কুলটির ওপর বোধহয় একটু বেশিই অধিকার ছিল। বাকি সব শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মী সকলেই তো কাকু বা দাদা। তাই ওটুকু হবে না-ই বা কেন?
চব্বিশে এপ্রিল, বিকেলে, ফালাকাটা হাই স্কুলে ঢুকেছিলাম।
বহুদিন পর।
ফাঁকা স্কুলে শুধু আমি আর রীনা।
সঙ্গে স্কুল ঘিরে থাকা কত স্মৃতি আর কত কথা!




















No comments:
Post a Comment