Thursday, October 10, 2024


 


মিলিয়ে দেন, তিনিই মিলিয়ে দেন 

শৌভিক রায় 


ভুবনম। অর্থাৎ মহাবিশ্ব। 

ঈশ্বরী। যিনি শাসন করেন এমন নারী। 

দুইয়ে মিলে ভুবনেশ্বরী। 

রাবণকে বোধ করতে এই ভুবনেশ্বরীর বোধন করেছিলেন রামচন্দ্র। অকালে। সেই থেকেই অকালবোধন। 

 এই ভুবনেশ্বরী আসলে অন্য কেউ নন। তিনিই দুর্গা, তিনিই পার্বতী, তিনিই ভগবতী। মহাশক্তির অংশ তিনিই আবার কালী। দশ মহাবিদ্যার চতুর্থ তিনি।  বেদ তাঁকে বলেছে অদিতি। তিনি অসীম। তিনি নিজের গর্ভে ধারণ করেন সমগ্র বিশ্বকে। ফলে এই বিশ্বই তাঁর পবিত্র শরীর। তাঁর অধিষ্ঠান সর্বত্র। অর্থাৎ মহাবিশ্বের ব্যক্তিস্বত্বা স্বয়ং তিনি। মহাজাগতিক শক্তির আদি হিসেবে তিনি শক্তিশালী নবগ্রহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে তাঁর হাতে অঙ্কুশ। একহাতে বন্ধন। অন্য দুই হাতে বরাভয়, তাঁর সন্তানদের জন্য আশীর্বাদ। 

তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান অসমের বিখ্যাত কামাখ্যা মন্দির যে পাহাড়ে অবস্থিত, সেই নীলাচল পাহাড়ের মাথায় রয়েছে ভুবনেশ্বরী মন্দির। সেখানে পূজিতা হন দেবী ভুবনেশ্বরী। মা কামাখ্যা মন্দিরের প্রবল ভিড় ও ব্যাপক কোলাহলের তুলনায় অত্যন্ত শান্ত সমাহিত এই মন্দিরে এলে মন এমনিই ভাল হয়ে যায়। সপ্তম থেকে নবম শতাব্দীতে তৈরি এই মন্দির  Cradle of Tantra হিসেবেও পরিচিত। কামাখ্যা মন্দির থেকে আনুমানিক ১ কিমির পথ নৈসর্গিক দৃশ্যে অনবদ্য। আর মন্দিরে পৌঁছে পাওয়া যায় অদ্ভুত প্রশান্তি। দেখা মেলে তান্ত্রিকদেরও। 

গোয়ালপাড়া থেকে একদিনের সফরে মা কামাখ্যা আর মা ভুবনেশ্বরী দর্শন ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। তার আগে দর্শন মিলেছে গৌরীপুরের কাছের বগড়িবাড়িতে মা মহামায়ার। 

সবশেষে একবার ভূপেন হাজারিকার সমাধি স্পর্শ করা। আসলে `বিস্তীর্ণ দুপাড়ে অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও` যদি `মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য` না হয় তবে আর এই জন্ম কেন? মা কামাখ্যা, মা ভুবনেশ্বরী, মা মহামায়া তো সেই কথাই বলেন!     








    

    ছবি- লেখক 

No comments: