গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সব নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। প্রশাসন যদি সেটা ভুলে যায় তবে তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে হয়। উচ্চ ন্যায়ালয় সেটা করিয়ে দিচ্ছেন বারেবারে। কিন্তু দুর্ভাগ্য কোনও শিক্ষাই নিচ্ছে না তারা।
Tuesday, October 15, 2024
Monday, October 14, 2024
কথা বলছিলাম দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক গবেষকের সঙ্গে ,তিনি বললেন, `প্রথম দু`তিনদিন খুব ভাল লেগেছিল। ভেবেছিলাম গাইড স্যার আমাকে খুব ভালবাসেন। তাই তাঁর ব্যক্তিগত কাজ করে দিয়েছিলাম। খুশি হয়েই। কিন্তু ব্যাপারটা নিয়মে পরিণত হয়ে গেল। প্রতিবাদ করলাম। এখন তার ফল ভুগছি। প্রায় সাত বছর হয়ে গেল। এখনও গবেষণা শেষ হল না।` উচ্চ শিক্ষায় গাইডদের বিরুদ্ধে এই জাতীয় অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি উঠে আসছে আর একটি তত্ত্ব। গবেষণার পেপার পাস করানোর জন্য টাকা চাওয়া নাকি অনেক সময় গাইডকে টাকা দিতে হয়। আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও এরকম কথা শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ, গবেষণা পত্র পাস করাবার জন্য নির্যাতিতার কাছে বিরাট পরিমাণ টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেটি সত্য কিনা সময় বলবে। তবে সব দেখেশুনে মনে হয়, শিক্ষার ক্ষেত্রে এই সব অপকীর্তি অতি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আর তাতে প্রত্যক্ষ মদত যোগান উচ্চ পদে আসীন কর্তাব্যক্তিরা। নিজের সুবিধার জন্য তারা তৈরি করছেন এমন কিছু ছাত্র যারা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
Thursday, October 10, 2024
মিলিয়ে দেন, তিনিই মিলিয়ে দেন
শৌভিক রায়
ভুবনম। অর্থাৎ মহাবিশ্ব।
ঈশ্বরী। যিনি শাসন করেন এমন নারী।
দুইয়ে মিলে ভুবনেশ্বরী।
রাবণকে বোধ করতে এই ভুবনেশ্বরীর বোধন করেছিলেন রামচন্দ্র। অকালে। সেই থেকেই অকালবোধন।
এই ভুবনেশ্বরী আসলে অন্য কেউ নন। তিনিই দুর্গা, তিনিই পার্বতী, তিনিই ভগবতী। মহাশক্তির অংশ তিনিই আবার কালী। দশ মহাবিদ্যার চতুর্থ তিনি। বেদ তাঁকে বলেছে অদিতি। তিনি অসীম। তিনি নিজের গর্ভে ধারণ করেন সমগ্র বিশ্বকে। ফলে এই বিশ্বই তাঁর পবিত্র শরীর। তাঁর অধিষ্ঠান সর্বত্র। অর্থাৎ মহাবিশ্বের ব্যক্তিস্বত্বা স্বয়ং তিনি। মহাজাগতিক শক্তির আদি হিসেবে তিনি শক্তিশালী নবগ্রহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে তাঁর হাতে অঙ্কুশ। একহাতে বন্ধন। অন্য দুই হাতে বরাভয়, তাঁর সন্তানদের জন্য আশীর্বাদ।
তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান অসমের বিখ্যাত কামাখ্যা মন্দির যে পাহাড়ে অবস্থিত, সেই নীলাচল পাহাড়ের মাথায় রয়েছে ভুবনেশ্বরী মন্দির। সেখানে পূজিতা হন দেবী ভুবনেশ্বরী। মা কামাখ্যা মন্দিরের প্রবল ভিড় ও ব্যাপক কোলাহলের তুলনায় অত্যন্ত শান্ত সমাহিত এই মন্দিরে এলে মন এমনিই ভাল হয়ে যায়। সপ্তম থেকে নবম শতাব্দীতে তৈরি এই মন্দির Cradle of Tantra হিসেবেও পরিচিত। কামাখ্যা মন্দির থেকে আনুমানিক ১ কিমির পথ নৈসর্গিক দৃশ্যে অনবদ্য। আর মন্দিরে পৌঁছে পাওয়া যায় অদ্ভুত প্রশান্তি। দেখা মেলে তান্ত্রিকদেরও।
গোয়ালপাড়া থেকে একদিনের সফরে মা কামাখ্যা আর মা ভুবনেশ্বরী দর্শন ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। তার আগে দর্শন মিলেছে গৌরীপুরের কাছের বগড়িবাড়িতে মা মহামায়ার।
সবশেষে একবার ভূপেন হাজারিকার সমাধি স্পর্শ করা। আসলে `বিস্তীর্ণ দুপাড়ে অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও` যদি `মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য` না হয় তবে আর এই জন্ম কেন? মা কামাখ্যা, মা ভুবনেশ্বরী, মা মহামায়া তো সেই কথাই বলেন!
ছবি- লেখক
Saturday, October 5, 2024






