।। নিজের ভাবনায় ।।
শৌভিক রায়
নদীর সঙ্গে বিদ্যালয়ের মিল কোথায় জানেন তো?
দুজনেই প্রবাহিত। নিজের মতো।
সমস্যা হল আমরা নদীতে বাঁধ বেঁধেছি। তার স্বাভাবিক যাত্রাপথকে আটকে দিয়েছি। যত্ন নিইনি নদীর। ফল? সকলেই জানেন।
বিদ্যালয়ের জীবনেও যত্নের অভাবে প্রকট হয় অজস্র অসঙ্গতি।
তার ফল? ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে এমন কলহ যা স্তম্ভিত করে।
কিন্তু যত্নটি নেবে কে?
বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অন্যত্র কখনও পিতা-মাতা, অভিভাবক-অভিভাবিকা।
এই অভিভাবক-অভিভাবকদের মধ্যে, একটা সময়, পাড়ার বা জনপদের অগ্রজরাও থাকতেন।
আজকাল অবশ্য এতটা আশা করা বৃথা।
বিগত দু`দিনে ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্রদের কলহের (পড়ুন অস্বস্তিকর হাতাহাতি ও মারামারি) যে ভিডিও দেখলাম, তাতে স্পষ্ট বুঝতে পারছি বিরাট খামতি রয়ে যাচ্ছে আমাদের বড়দের দিক থেকে। আমরা যত্ন নিতে পারিনি তাদের।
ছাত্রদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি হয় না এমন নয়।
এরকম ঘটনার সাক্ষী প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ই।
কিন্তু সেটা শেষ কথা হতে পারে না।
কেননা এই জাতীয় ঘটনা কখনও এমন আকার ধারণ করতে পারে, যা কল্পনাতীত। যে কোনও মুহূর্তে অনেক বড় বিপদও ঘটতে পারে।
ভিডিওতে যত্নের অভাব স্পষ্ট।
এই প্রসঙ্গে বলতে পারি, নিজের ঘরে বসে যত্নহীন ও নড়বড়ে হয়ে যাওয়া ভিত অনেক সময় বোঝা যায় না।
সেটি বুঝতে একটু বাইরেও আসতে হয়।নিতে হয় সুপরামর্শ, সাহায্য।
যারা বিদ্যালয়ের যত্নের দায়িত্বে আছেন তাদের অন্তত এটুকু বোঝা উচিত।
ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজস্ব সঙ্গীতে উল্লেখ করা হয়েছে `ফালাকাটা নামে নিভৃত এ গ্রামে মিলেছি আমরা ভাগ্যবন্ত...`
ব্যক্তিগতভাবে মনে করি `ভাগ্যবন্ত` তারাই যারা যত্ন নেয় ও যত্ন প্রদান করে।
যত্নহীন বিদ্যালয় আর যত্নহীন নদী বেপরোয়া। গতি হারাতে সময় লাগে না কারোরই।
No comments:
Post a Comment