সিরিজ: মা
শৌভিক রায়
ট্রেনের চাকার শব্দ। ব্রিজের ওপর। বিকট। ঘুম জড়ানো চোখ। খুলতে আর চায় না।
মা ধাক্কা দিতেন।
- ওঠ ওঠ।
উঠব কী! ঘুম যে আমার বড্ড। শুধু ঘুম?
সব কিছুই বড্ড। খিদে। খেলা। পড়াশোনা? না না। সেটি বাদ।
- ছেলের ঘুম দেখেছ? ওঠ। দক্ষিণেশ্বর মন্দির তো। গঙ্গা পেরোচ্ছি। প্রণাম কর।
কাকে প্রণাম করব মা?
- উফফ। মা কে। ওই দ্যাখ মন্দির। রামকৃষ্ণদেব পুজো করতেন এখানে। প্রণাম কর শিগগির।
বুঝে না বুঝে প্রণাম। আকাশের গায়ে আঁকা মন্দির। পাশে গঙ্গা। জল টলটল।
- কলকাতা চলে এলো প্রায়। এরপর বরানগর। দমদম। তারপরেই শেয়ালদা। ঘুমিও না আর।
বাবার গলা কানে আসত।
ধোঁয়া ধোঁয়া চারদিক। উঁচু উঁচু বাড়ি। গা ঘেঁষাঘেষি সব। এঁকেবেঁকে ট্রেন ঢুকত শেয়ালদায়।
প্রথম কবে গেছি দক্ষিণেশ্বর? মনে পড়ে না। আমাদের প্রথম কোনও কিছুই আসলে মনে থাকে না- হাঁটা, বলা, শেখা....। বোধহয় মায়ের জন্য।
তার কাছেই তো সব শেখা। তার কাছেই তো থাকা। সারা জীবন ধরে। মায়ের কাছে আবার প্রথম বা শেষ কী! সবই চিরদিনের।
তাই ওসব হিসেব বাদ। যতবার যাই মায়ের কাছেই ফিরি। কবে প্রথম গেছি, কতবার গেছি এসব ভেবে লাভ!
তবে একটা কথা। মা অন্য রূপেও আছেন কাছে। আর একটি জায়গায়। সেটা জানি। কিন্তু মা ডাকে না সেখানে।
গত সন্ধেয় সে ডাক এলো। কসবার আদ্যাশক্তি কালী মন্দিরে তখন সন্ধ্যারতি। মা চাইলেন আদ্যাপীঠে যাই। সকালে তাই আদ্যাপীঠে। তার আগে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে।
শুধু মা কে ভালবাসি। মায়ের কাছে আসি। জগৎ জননী মা তো আমার। কতভাবেই না কাছে থাকেন।
মা ঈশ্বর হয়ে গেলে স্পর্শ করে জীবন। সেই স্পর্শে মায়ের স্নেহ। আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখা।
মায়ের কাছে এটাই তো পাওয়া....
ছবি: দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও আদ্যাপীঠ
ছবি: শৌভিক রায়
sauvikr.blogspot.com

No comments:
Post a Comment