।। একটি স্বীকারোক্তি ।।
শৌভিক রায়
প্রিয় বন্ধুর সম্পাদিত পত্রিকার বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। ভ্রমণ পর্বে দুটি নাম। একটি আমার। অন্যটি অনুজ প্রিয় লেখকের। তাঁর নামটি আমার আগে।
বন্ধু ফোন করল। অনুজ লেখকের নাম আগে থাকায় আমার কোনও আপত্তি আছে কিনা। প্রথমটায় বুঝিনি। হঠাৎ এই কথা কেন! বন্ধুই জানালো আপত্তি অনুজ লেখকের। তিনি বয়সে ছোট, লেখার জগতেও হয়ত পরে এসেছেন। তাঁর মতে, আমার নামটি আগে থাকা উচিত।
একটা অদ্ভুত ভাল লাগায় মন ভরে গেল। আমি যে আমলের মানুষ, তখন অন্যায় করলে পাড়ার দাদাদের কান ধরবার অধিকার ছিল। শিক্ষকদের বকুনির ও শাসনের ক্ষেত্রটি শিক্ষার্থীর অভিভাবক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর মুদ্রিত অক্ষরে নিজের নাম দেখা ছিল পৃথিবীর অষ্টমার্য।
একটি পত্রিকায় নিজের লেখা নির্বাচিত হয়েছে ও প্রকাশিত হচ্ছে- এটাই আমার কাছে অনেক। কে আগে কে পরে এসব কোনও দিন ভাবিইনি। বরং লেখা ছাপা হলে এখনও দুরুদুরু বুকে ভাবি, লেখাটা আদৌ ছাপার যোগ্য ছিল তো!
সম্পাদক বন্ধু ও অনুজ লেখকের কথা শুনে তাই সত্যিই অদ্ভুত ভাল লেগেছে। একটু মজাও পেয়েছি সহপাঠী সম্পাদক বন্ধুর কুণ্ঠিত গলা শুনে। যেন কোনও অপরাধ করে ফেলেছে। এরকম ছিল ওর গলা। পাগল ছেলে (নাকি লোক!)। অনুজ লেখককে আমার স্নেহাশিস ও শুভেচ্ছা।
আসলে উদারতা একটা বোধ। আজকের 'আমিত্ব' ঘেরা এই ঘুণপোকা ধরা সময়ে সেটা বোঝার ক্ষমতা অধিকাংশের নেই। 'আমাকে নয় কেন, আমি নই কেন, আমি ছাড়া কেন' মার্কা জ্বরে যখন সবাই কমবেশি আক্রান্ত আমরা, তখন এই আপাত ছোট্ট অথচ প্রবল প্রসারী পাওনাগুলি নতুন করে ভাবতে শেখায়। উত্তরণ ঘটায় নিজের। জীবন থেকে এটাই তো অর্জন!
No comments:
Post a Comment