Monday, March 25, 2024




জলের দাগ আর এই সব রং

Thursday, March 21, 2024

 জন্মদিন?

শৌভিক রায় 

বাবা বা মায়ের জন্মদিন ঠিক কবে 
জানি না....

সত্যি বলতে জানতে চাইনি কখনও 

নিজেদের জন্মদিনে 
কেক কাটেননি ওঁরা,
মুখে দেননি পরমান্ন।

আমাদের জন্মদিনে 
মা পায়েস রাঁধতেন,
বাবা কুড়িয়ে বাড়িয়ে  
জোগাড় করতেন কেক

আমরা কেক কাটতাম, 
পায়েস মুখে দিতাম,
ওঁদের মুখ দেখে মনে হত
ওঁদেরই জন্মদিন পালন হচ্ছে যেন!

এখন বাবা নেই,
মা নিজেও ফোটো ফ্রেমে বন্দী।

আজকাল সাড়ম্বরে 
বাবা মায়ের জন্মদিন পালন করি
ছবির সামনে কেক রাখি
আমার বউ পায়েস রাঁধে
আমরা হ্যাপি বার্থডে বলি...

বাবা-মা কি কিছু শুনতে পান?

চলে যান যাঁরা  
তাঁরা কি শোনেন কিছু?


মোমবাতির তিরতিরে কাঁপুনিতে
মনে হয় ছবি কিছু বলছে

ওঁরা কিছু বলছেন.....


(সেই দিনটিও ছিল ২১ মার্চ....)





Sunday, March 17, 2024


 

Friday, March 15, 2024


 

রঙিন রঙ্গতে
শৌভিক রায়  

হামফ্রি স্ট্রেট ক্রিকের ওপর সুদৃশ্য আজাদ হিন্দ ফৌজ সেতু পার করতেই কদমতলা এসে গেল। ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর উদ্বোধন হওয়া এই একটি সেতু বারাটাং আর রঙ্গতের দূরত্ব কমিয়ে এনেছে অনেকটাই। সেটা না হলে মিডল স্ট্রেট আর বারাটাংয়ের নীলাম্বর জেটির মতো, এখানেও গান্ধি জেটি থেকে উত্তরা জেটিতে পৌঁছতে হত বিরাট ভেসেলে, যেগুলিতে একসঙ্গে ছয়টি গাড়ি আর অজস্র মানুষ উঠতে পারে। ব্যাক ওয়াটারে ওই দানবাকৃতি ভেসেলগুলির গতি এত ধীর যে, সময় লাগে অনেকটাই। অবশ্য ওদের দিন শেষ হয়ে আসছে মিডল স্ট্রেট আর নীলাম্বর জেটিতেও। কেননা ওখানেও সেতুর কাজ চলছে দ্রুত।







আজাদ হিন্দ ফৌজ সেতু কিমি দেড়েক লম্বা। পার হতে সুভাষের স্করপিও একটু বেশি সময় নিলো। তার কারণ অবশ্য আমি নিজেই। আসলে এই দ্বীপগুলি এত সুন্দর, এত সুন্দর যে কিছুতেই আঁশ মেটে না। পোর্ট ব্লেয়ারে নামার পর থেকেই তাই পাগলামি করে চলেছি। বাদ রাখিনি কিছু। হ্যাভলক থেকে নিল যেতে পারিনি সামুদ্রিক ঝড় মোচার পাল্লায় পড়ে। সে বান্দা মাঝ সমুদ্রে তুর্কি নাচ দেখিয়েছিল। জীবন ফিরে পেয়ে দেখার ইচ্ছে বোধহয় আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আর আমার সেই ইচ্ছেকে প্রশ্রয় দিচ্ছে সুভাষ। 

সুভাষ বাঙালি ছেলে। বয়স অল্প। নিজের গাড়ি কিনবে বলে উদয়াস্ত পরিশ্রম করছে। তামিল মালিক স্বামীনাথনের গাড়ি নিয়ে আমার সফর সঙ্গী সে। সত্যি বলতে ওর ওপর নির্ভর করছে অনেকটাই। ওর বাংলায় হিন্দির টান। যতটা ভাল বাংলা বলে, ঠিক ততটাই হিন্দিতে পারদর্শী। আজ আমরা বেরিয়েছি রাত আড়াইটায়। ঝিরকাটাংয়ের চেক পোস্টে কনভয়ের লাইনে দাঁড়িয়েছি সেই ভোরে। সকাল ছয়টায় প্রথম কনভয়ে জারোয়া রিজার্ভ পার করেছি। দেখা মিলেছে তাদের। সিল্কি কালো রংয়ের মানুষগুলির টানা টানা চোখ নাক আর সুগঠিত চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। 

বারাটাংয়ে লাইমস্টোন কেভ আর মাড ভলক্যানো দেখে এবার চলছি উত্তরে। এইদিকে পর্যটকদের ভিড় কম। পোর্ট ব্লেয়ার, হ্যাভলক, নিল, বারাটাংয়ের লাইম স্টোন কেভ- মোটামুটি এই কয়েকটিই আন্দামানের দ্রষ্টব্য টুরিস্ট সার্কিটে। কিন্তু আমি কখনই টুরিস্ট হতে চাইনি। পর্যটক হতে চেয়েছি। জানি সেটা হয়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কিন্তু চেষ্টা করতে ক্ষতি কী! সেই চেষ্টাতেই মায়াবন্দর আর ডিগলিপুরের দিকে চলছি। 





কদমতলায় সুভাষ থামলো এক বাঙালি হোটেলে। রঙ্গত এখনও চল্লিশ কিমির ওপরে। মাঝে কিছুটা রাস্তা ভাল হলেও বেশিটাই নাকি খারাপ। কদমতলা নিতান্তই ছোট্ট জনপদ। রাস্তার দুই ধারে বড়জোর গোটা পঞ্চাশেক বাড়ি। ভেতরে আরও রয়েছে কিনা সেটা অবশ্য বুঝলাম না। এমনিতে বোঝাও যায় না। কেননা এক একটা বাড়ির ব্যবধান বিশাল। সেটা পরে বুঝেছিলাম বিল্লি গ্রাউন্ড-এর কাছে সুভাষের গ্রামে  গিয়ে। আসলে স্বাধীনতার সময় বা আরও পরে বাংলাদেশ থেকে যারা উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিলেন, তারা তিরিশ বিঘা জমি পেয়েছিলেন। পনেরো বিঘা ছিল ধানি জমি, বাকিটা টিলা বা জঙ্গলে ঢাকা। সেই জঙ্গলে অবশ্য হিংস্র শ্বাপদ নেই। তবু তাকে ঠিকঠাক করতে বেশ কয়েক দশক লেগে ছিল ওই মানুষদের।এখনও অবধি যতগুলি জনপদ পেরিয়ে এসেছি প্রতিটিই আয়তনে ছোট্ট। চারদিক ফাঁকা ফাঁকা। পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব দেখা অভ্যস্ত চোখ তাই বারবার ধাক্কা খাচ্ছিল যেন!

সুস্বাদু খাবারের পর হোটেলের মালকিনের সঙ্গে কথা হল সামান্য। জানতে চাইলাম,  
- আপনাদের বাড়ি কোথায় ছিল?
- আমার বাড়ি এখানেই। জন্ম। বিয়ে। সব কিছুই।
- আপনি তবে সেটেলার নন? 
- আমি নিজে নই। যদিও আমার কার্ড সেটলার হিসেবেই। 
- তার মানে কেউ তো এসেছিল! 
- হ্যাঁ সে তো বটেই। বাবা-ঠাকুরদা বা শ্বশুরমশাইয়ের মুখে শুনেছি বাংলাদেশ নাকি ওয়েস্ট বেঙ্গলের কোথাও ছিল একটা বাড়ি। বলতে পারব না।
- দেশের কথা মনে হয় না? 
- হবে কেন? এটাই তো আমার দেশ। হ্যাঁ যদি আন্দামান ছাড়তে হয়, তবে অবশ্যই মরে যাবো!

প্রায় সত্তর ছুঁই ছুঁই টুটুল মণ্ডলের কথা শুনে অবাক হইনি। আন্দামানে যে বাঙালিরা একসময় উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিলেন, তাদের এখন তিন বা চার প্রজন্ম চলছে। এখানেই জন্মেছেন ও বড় হয়ে উঠেছেন যারা, তাদের কেনই বা পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশ নিয়ে টান থাকবে? খুব স্বাভাবিক। আমার বাবাকে ভিটেমাটি ছাড়তে হয়েছিল একদিন। সারা জীবন বাংলাদেশের কথা বলেছেন বা ভেবেছেন। আমার সেই টান কোথায়? আবার আমার পুত্রের কোচবিহারের জন্য যে টান থাকবে, সেটা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের এক অখ্যাত গ্রামের জন্য থাকবে কি? আন্দামানের বাঙালিরা বরং বাংলা না বললে বোঝা যায় না, তারা বাঙালি। তাদের বাংলাতেও অজস্র হিন্দি শব্দ। তবে বাড়িতে যে বাংলা বলেন, সেই কথায় ওপার বাংলার ছাপ স্পষ্ট। 

কদমতলা থেকে তিন নম্বর গেট দিয়ে এবার আমাদের গন্তব্য ১৫ নম্বর গেট। অর্থাৎ আবার একটি জারোয়া রিজার্ভ। আগের সেই অরণ্যভূমির মতোই এটিও পাহাড়ের গায়ে। মাঝ বরাবর ফুলতলা নামমাত্র কয়েকটি ঘর নিয়ে একটি গ্রাম এলো। জানলাম, এখানকার বাড়িগুলিতে নাকি জারোয়ারা মাঝে মাঝে চলে আসে। এটা সেটা দিয়ে যায়। হয়ত লিপস্টিক পাউডার ইত্যাদি নিয়ে যায়। মজা লাগল শুনে। ফিরতি পথে এই জঙ্গলেই একদল জারোয়া তরুণকে দেখেছিলাম আড্ডা দিতে। বেশ লাগছিল তাদের দেখতে। কিন্তু কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশ। ওদের সামনে যাওয়া যাবে না। থামাও চলবে না। মুখ ফিরিয়ে দেখছিলাম। ওরাও বুঝেছিল। দেখছিল ওরাও। 

জঙ্গল সাধারণ। যদিও সুভাষ নিজে উত্তেজিত। বারবার বলছে গভীর অরণ্যের কথা। ডিগলিপুরের স্যাডল পিকের কথা। মেঘ জমে থাকে পাহাড়ে। সেই উঁচু। মজা লাগছিল। উত্তরবঙ্গের মানুষকে পাহাড় আর জঙ্গলের লোভ দেখিয়ে লাভ নেই। তাও আবার আন্দামানের জঙ্গল মানে কুকুর বা শুয়োর ছাড়া আর কোনও প্রাণী নেই। কিন্তু ওকে থামাচ্ছিলাম না। সরল মানুষ। বলুক নিজের মতো।   





কৌশল্যা নগর থেকে বেশ খারাপ রাস্তায় কলসি, বকুলতলা ও সবরি হয়ে পৌঁছলাম রঙ্গতে। মধ্যে ও উত্তর আন্দামানকে যে তিনটি প্রশাসনিক জেলায় ভাগ করা হয়েছে রঙ্গত তার অন্যতম। সারা জেলায় লোকসংখ্যা হয়ত ৫০ হাজারের ওপরে হবে না। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে খানিকটা দূরে সমুদ্র। পাহাড়ের গায়ে কিছু বাড়িঘর রয়েছে।  রাস্তার দুই ধারে সার বাঁধা দোকানপাট। ছিমছাম জনপদ। কোলাহল নেই। সন্ধে নামলেই শহর যেন ঘুমিয়ে পড়ে। রঙ্গতে যে কটেজে ছিলাম সেটি সুদৃশ্য। রাতে খেলাম যে হোটেলে সেখানেও শ্বশুর-শাশুড়ি-বৌমা মিলে হোটেল চালাচ্ছেন। শ্বশুরমশাই আমার সঙ্গে বার তিনেক হ্যান্ডশেক করলেন কোচবিহারের লোক শুনে। মদের নেশার চাইতে গাঁজার নেশা ভাল- এই বিষয়ে তাঁর মুখে অনেকটা শুনবার পর বুঝলাম ভদ্রলোক দুটোই খেয়ে আছেন। সে গল্প অন্য কোনও প্রসঙ্গে বলা যাবে না হয়!   





রঙ্গত থেকে শুরু হল আমাদের বিচ পরিক্রমা। রাস্তা এখন দারুণ। চার নম্বর জাতীয় এই সড়ক আন্দামান ট্রাঙ্ক রোড নামেও পরিচিত। শহর ছেড়ে সামান্য এগিয়েই ঢুকে পড়লাম রমন বাগিচায়। বিচটি রঙ্গতের জেটির কাছে। এই জেটি থেকে সরকারি ভেসেলে লং আইল্যান্ড, হ্যাভলক, নিল, পোর্ট ব্লেয়ার ইত্যাদি প্রতিটি জায়গায় যাওয়া যায়। এখানকার বাসিন্দারা সাধারণত জলপথেই যান। কিছু জায়গায় পিচ রাস্তার বেহাল দশা, জারোয়া রিজার্ভগুলি পার করবার জন্য নির্দিষ্ট সময় পৌঁছোনো ইত্যাদি ঝক্কির চাইতে ট্রাফিকহীন অনন্ত সমুদ্রপথ অনেক ভাল। 

রমন বাগিচায় আমাদের ড্রাইভার সুভাষকে ধরলে আমরা তিনজন। পাতার ছাউনি দেওয়া গোল গোল বসবার জায়গা, নারকেল বীথি, কেয়া গাছ আর বিরাট বেলাভূমির রমন বাগিচায় জোরে কথা বলতে হচ্ছিল সমুদ্রের গর্জনের জন্য। রমন বাগিচা দেখে একটা ব্যাপার বুঝলাম। আন্দামান ট্রাঙ্ক রোড ও রঙ্গতের বসতি তৈরি করা হয়েছে পাহাড় কেটে সমতল করে। কেননা রমন বাগিচায় পৌঁছতে আমাদের খানিকটা উঁচুতে উঠে, আবার নিচে নামতে হয়েছে। সমগ্র আন্দামানই মোটামুটি এরকম। পাহাড়ের মতো টিলা আর সমুদ্র। টিলা কেটে সমতল তৈরি করে সমুদ্রের ধরে বসতি গড়ে তোলো!





রমন বাগিচার পর আমকুঞ্জ বিচ। খাঁড়ির মধ্যে সমুদ্র প্রবেশ করলেও এখানকার ঢেউ পুরীর কথা মনে করিয়ে দিল। বিচের একদিক পাথুরে। অন্যদিকে বালি। এখানেও বেশ কিছু কুকুর আমাকে ঘিরে ধরল। রমন বাগিচায় পেতে রাখা ডেক চেয়ারে আধাশোয়া হয়ে ছিলাম। একটি তো রীতিমতো গায়ের ওপর উঠে বসেছিল। আমকুঞ্জেও একদল। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি। পূর্ণবয়স্ক কুকুরগুলোও আকারে ছোট। প্রথমটায় মনে হবে বাচ্চা কুকুর। কিন্তু সেটি নয়। এদের আকৃতিই ছোট! কারণ বুঝলাম না। এরা টুরিস্ট পেলে ঘিরে ধরে খাবারের লোভে। 

মানস মণ্ডলের দোকান থেকে বিস্কুট কিনে খাওয়ালাম শেষটায়। মানসদা চল্লিশ বছর আগে শ্যামনগর থেকে আন্দামানে এসে আর ফিরে যাননি। বিচের কাছেই ওঁর বাড়ি। দুই ছেলের একজন চাকরি করে। বৌমাও চাকুরে। আর এক ছেলে বাবার সঙ্গে ব্যবসা করে। তার বৌ গৃহবধূ। রীনা চলে গেল মানসদার বাড়ি দেখতে। আমি বসে বসে ডাব খেলাম। তিরিশ টাকায় যে জল পেলাম তা দিয়ে দুটো গ্লাস ভরে যাবে। সঙ্গে আবার শাঁস। খানিক বাদে দেখি রীনা মোচা, কাঁচা কলা, সজনে ডাঁটা নিয়ে হাজির। মানসদার বাড়ি থেকে সব দিয়েছে। আমার ভয়ে এঁচোড় আনেনি। যদি বলি, তবে সেটাও আনবে। চোখ পাকালাম। এসব বইতে হবে আমাকেই। মানসদা বারবার বললেন, ফেরার পথে যেন আর একবার আসি। দুর্ভাগ্য, ফেরার পথে অনেকটা দেরি হয়ে যাওয়ায় মানসদার সঙ্গে আর দেখা করতে পারিনি। 





আমকুঞ্জের পর থেকে সমুদ্র আমাদের সঙ্গী হল। একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র। দীর্ঘ পথ। কোথায় লাগে মুম্বাই, চেন্নাই বা পন্ডিচেরির মেরিন ড্রাইভ। এই পথে যে যায়নি সে কোনোদিন বুঝবে না পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর পথ ব্যাপারটা ঠিক কী! আর এই পুরো পথে আমরা তিনজন মাত্র। দুই একটা গাড়ি আসছে না তা নয়। আসছে। কিছু মানুষজনও দেখা যাচ্ছে কখনও। কিন্তু তাদের সংখ্যা এত কম যে মনে হচ্ছে আমরা সভ্যতার থেকে বহু দূরে চলে গেছি। এই চলতে চলতেই দেখে নিলাম মরিস ডেরা ও পঞ্চবটি। দুর্দান্ত দুটি বিচ। পঞ্চবটিতে বাচ্চাদের উপযোগী কিছু রাইড রাখা। মরিস ডেরায় বিরাট রকের ওপর বসবার ব্যবস্থা। নিচে সমুদ্র মহা গর্জনে ভেঙে পড়ছে সেই রকের গায়ে। ভয় ভয় লাগে রীতিমতো। সমুদ্রের ভেতরেও রকের ছড়াছড়ি। সব মিলে একেবারেই অন্যরকম! 






এবার ধানিনালায়। স্থানীয় ভাষায় ধানিপাত্তি নামের এক বিশেষ ধরণের ম্যানগ্রোভের নামে পরিচিতি এই বিচে, ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের ভেতর পাতা কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়ে প্রায় দেড় কিমি হেঁটে পৌঁছতে হল বিচে। লাইমস্টোন কেভেও এরকম হেঁটেছি। পার্থক্য হল ওখানে অনেকের সঙ্গে। এখানে শুধু আমরা। হাঁটতে হাঁটতে শুনতে পাচ্ছিলাম পাখির ডাক। মধ্যে আন্দামানে মিনিভেট,উড স্যান্ডপাইপার, অরেঞ্জ হেডেড থ্রাশ, এমারেল্ড ডাভ, আন্দামান কুকু, গোল্ডেন প্লোভার, ক্রেস্টেড ঈগল সহ আরও বহু প্রজাতির পাখি দেখা যায়।  ধানিনালা  বিচটিও অসাধারণ। মনে হল ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে সে যেন লুকিয়ে আছে। বেশ কিছুক্ষণ বসে নিজেদের মতো সময় কাটিয়ে চলা শুরু আবার। 





পার হয়ে গেল বেটাপুর, বিল্লি গ্রাউন্ড, নিম্বু ডেরা। সামনে বাদাম নালা রেস্ট ক্যাম্প। এখন থেকে চল্লিশ কিমির পথ অত্যন্ত খারাপ। ঘন জঙ্গল আর পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে চলতে হবে এবার। রয়েছে বুনো জন্তুর ভয়ও। এই এলাকা পেরিয়ে পৌঁছব টোগাপুরে। তার খানিক পরে রাস্তা দুই ভাগ হবে। একদিকে যাবে মায়াবন্দর। অন্যদিকে ডিগলিপুর। 

আমরা দুই দিকেই যাব। আন্দামানের মধ্যাঞ্চল ছেড়ে আমাদের স্করপিও এবার প্রবেশ করল মায়াময় উত্তরে। কিন্তু সে তো আর এক গল্প! 


(ছবি- শৌভিক রায়)

প্রকাশিত- পেগ লাইফ পুজো সংখ্যা ২০২৩