সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ ও রাজা রামমোহন রায়
শৌভিক রায়
বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়ের সঙ্গে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের সম্পর্ক ছিল কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। কোনও গবেষক বা ঐতিহাসিকই মনে করেন না যে, রামমোহন এই আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছিলেন। উল্টে এই আন্দোলন হয়ত তাঁকেই প্রভাবিত করেছিল। অধুনা বাংলাদেশের রংপুরে রামমোহন বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। আর সেই সময়ের রংপুর এই আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান ছিল। তবে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ শুধু রংপুরেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছিল অন্যত্রও। মূলত ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের সূচনা হয় । ``১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে বাংলা ও বিহারের দরিদ্র কৃষকেরা অন্ন ও বস্ত্রের জন্য সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের ধ্বজা তোলেন । বিদ্রোহের আগুন ক্রমশঃ রাজশাহি, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কোচবিহার, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে । উত্তরবঙ্গের 'মাদারি' সম্প্রদায়ের ফকির এবং পূর্ববঙ্গ ও 'ময়মনসিংহের' 'গিরি' ও দাশনামী, মারাঠা সম্প্রদায়ভুক্ত 'গোঁসাই' এবং শৈব সম্প্রদায়ভুক্ত নাগা সন্ন্যাসীরা, ভোজপুরি রাও প্রমূখ এই বিদ্রোহে যোগ দেয় । পরে ক্ষমতাচ্যুত জমিদার, ছাঁটাই হওয়া সৈনিক ও বিতাড়িত কৃষক এ বিদ্রোহে যোগ দেয়।``
এখন ইতিহাস বলছে ``তরুণ বয়সে রামমোহন কলকাতায় মহাজনের কাজ করতেন। ১৭৯৬ সালে রামমোহন অর্থোপার্জন শুরু করেন। ১৮০৩ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন। কলকাতায় প্রায়ই আসতেন এবং কোম্পানির নবাগত অসামরিক কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাঁদের নানা বিষয়ে সাহায্য করেন। এই সুযোগে ভালো করে ইংরেজি শিখে নেন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজে সিভিলিয়ান কর্মচারীদের মধ্যে জন ডিগবির সঙ্গে তাঁর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠতা হয়। কোম্পানির কাজে ডিগবির অধীনে তিনি দেওয়ানরূপে রংপুরে কাজ করেন ১৮০৩ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে তিনি দু'বার ভুটান সীমান্তে যান কোম্পানির হয়ে দৌত্যকার্যে ডিগবির সাহচর্যে তাঁর সমস্ত নতুন চিন্তা এই সময়ের মধ্যেই পরিপক্কতা লাভ করে। ১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে রামমোহন কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হন, এখন থেকেই প্রকাশ্যে তাঁর সংস্কার-প্রচেষ্টার শুরু।``
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, রামমোহন যখন রংপুরে দেওয়ান হিসেবে থাকতে আসছেন, তখন সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ অস্তমিত। কোনোভাবেই তাঁর সঙ্গে এই বিদ্রোহের নেতা বা অন্যান্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেই যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে না, যাতে বলা যায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। রামমোহন নিজে ছিলেন ইংরেজদের বেতনভুক্ত একজন দেওয়ান। তাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে কোনও লড়াই-আন্দোলনকে তিনি সমর্থন করবেন না এটা নিশ্চিন্ত। তিনি বরং ইংরেজি শিক্ষাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন, এই দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক শ্রীবৃদ্ধি একমাত্র ব্রিটিশদের পক্ষেই সম্ভব। তাই, উল্টোপথে হেঁটে তিনি সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহকে সমর্থন করবেন কিংবা রংপুরে অবস্থানকালে তাঁদের সাহায্য করবেন এরকম ভাবা বাতুলতা মাত্র। রংপুরে তাঁর অবস্থানকালের সময়সীমা, সেই সময়ের তাঁর নিজস্ব দর্শন ইত্যাদি কোনোটিই রামমোহনের সঙ্গে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহীদের বিন্দুমাত্র যোগসূত্রকে প্রতিষ্ঠিত করে না। বরং এই ব্যাপারে রামমোহনের সমসাময়িক বাবু বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলা যেতে পারে। কেননা ``এই বিদ্রোহের পটভূমিকায় সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের জীবন্ত চিত্র তুলে ধরেছেন । এই বিদ্রোহের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের মধ্য ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরাণী, কৃপানাথ, মুশা শাহ, মজনু শাহ, পরাগল শাহ, চিরাগ আলি শাহ, অনুপ নারায়ণ, নুরুল মহম্মদ, পীতাম্বর শ্রীনিবাস প্রমুখ অন্যতম।`` সরকারি দস্তাবেজে ১৮৭৪ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের মালদহে আসবার কথা উল্লেখ করা আছে। অর্থাৎ সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের একদম তুঙ্গ মুহূর্তে বঙ্কিমচন্দ্র এই অঞ্চল পরিদর্শন করেন। স্বচক্ষে বিদ্রোহের আঁচ লক্ষ্য করেন এবং সেটিই উপন্যাস আকারে লিপিবদ্ধ হয় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে। `দেবী চৌধুরানী` ও `আনন্দমঠ` উপন্যাসে পাওয়া যায় রংপুরের বিস্তৃত বিবরণ।
তাহলে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের ব্যাপারে রামমোহনের কথা উঠছে কেন? সম্ভবত, রামমোহনের একেশ্বরবাদ ভাবনার সঙ্গে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহীদের চিন্তাধারার খানিকটা মিল পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়, সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ রামমোহনের মননে কোথাও রেখাপাত করেছিল। আসলে, ইতিহাসের এই অধ্যায়টি এতটাই ধূসর যে এখানে কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়াও সম্ভব নয়। অনেক গবেষক ও ঐতিহাসিক তো রামমোহন বা বঙ্কিমচন্দ্রের অবিভক্ত উত্তরবঙ্গে অবস্থানকালটিকেও ভুলে যান। ``আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী। এই সুফি তরিকা সতেরো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শাহ সুলতান সুরীয়া বুরহানার নেতৃত্বে বাংলায় প্রসার লাভ করে। সন্ন্যাসীগণ ছিলেন বেদান্তীয় হিন্দু যোগী এবং একদন্ডী সন্ন্যাসবাদের গিরি ও পুরী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ফকির ও সন্ন্যাসীগণ যথাক্রমে খানকাহ ও আখড়ায় বাস করতেন। সুফি ফকির ও যোগী সন্ন্যাসীদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ধর্মাচরণে যথেষ্ট সাদৃশ্য ছিল। এই সাদৃশ্য ও একাত্মতা কোম্পানি শাসনের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে সহায়ক হয়েছিল। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সংগঠক ও নেতা ছিলেন মাদারিয়া তরিকার সুফিসাধক মজনু শাহ। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বিহার ভিত্তিক মাদারিয়া সুফি তরিকার নেতা হিসেবে শাহ সুলতান হাসান সুরীয়া বুরহানার স্থলাভিষিক্ত হন। বিদ্রোহের নেতৃত্ব দানে তাঁর খলিফা ছিলেন সুফিসাধক মুসা শাহ, চেরাগ আলী শাহ, পরাগল শাহ, সোবহান শাহ, করিম শাহ প্রমুখ। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহে সম্পৃক্ত জনৈক ভোজপুরী ব্রাহ্মণ ভবানী পাঠক তখন মজনু শাহর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। জমিদার দেবী চৌধুরানীর সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল। তিনি বিদ্রোহী সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন বলেও ধারণা করা হয়।`` এই প্রসঙ্গে উত্থাপন করে অনেকে বলেন যে, একদম সম্পূর্ণ না হলেও, কোথায় যেন রামমোহনের দর্শনের সঙ্গে এই ফকির সন্ন্যাসীদের ভাবধারার মিল পাওয়া যায়।
``রামমোহন হিন্দুধর্মের মধ্যে খুব অনুজ্জ্বলভাবে বিদ্যমান একেশ্বরবাদীতাকে তার ধর্মের চালিকাশক্তি করেন। এর বাইরের দিকটি ছিল ইসলাম ও খ্রিষ্টান ধর্মের মতো একশ্বেরবাদের সঙ্গে যুক্ততা। কারণ রাজনৈতিক, জ্ঞানগত ও ধর্মীয় দিক থেকে হিন্দুধর্মের বহু ঈশ্বরবাদ ও জাতপ্রথা নানাভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছিল বলে তারা মনে করতেন। যা একইসঙ্গে নব্য শিক্ষিত ও নীচু শ্রেণীর মানুষদের ক্রমবর্ধমানহারে ধর্মান্তরিত করছিল। রংপুর থেকে ফিরে কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর শুরু হয় তাঁর সংস্কার-প্রচেষ্টা। ``তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ফারসী ভাষায় লেখা (ভূমিকা অংশ আরবীতে) ‘তুহফাতুল মুবাহ হিন্দীন’। বইটিতে একেশ্বরবাদের সমর্থন আছে। এরপর একেশ্বরবাদ (বা ব্রাহ্মবাদ) প্রতিষ্ঠা করার জন্য বেদান্ত-সূত্র ও তার সমর্থক উপনিষদগুলি বাংলার অনুবাদ করে প্রচার করতে থাকেন। ১৮১৫ থেকে ১৮১৯ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়- বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, কেনোপনিষদ, ঈশোপনিষদ, কঠোপনিষদ, মাণ্ডূক্যোপনিষদ ও মুণ্ডকোপনিষদ। রক্ষণশীল ব্যক্তিরা তার লেখার প্রতিবাদ করতে থাকেন। রামমোহন কটুক্তি এবং বিদ্বেষপ্রবণ প্রতিবাদের উত্তর দেন যুক্তি ও ভদ্রভাষায়। 'বেদান্তগ্রন্থ' প্রকাশের সঙ্গে তিনি ব্রহ্মনিষ্ঠ একেশ্বর উপাসনার পথ দেখালেন আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করে। এই আত্মীয় সভাকেই পরে তিনি ব্রাহ্মসমাজ নাম ও রূপ দেন।``
এখন রামমোহনের এই ভাবনা কিন্তু একদিনে আসেনি। তাঁর জীবন ইতিহাস দেখলেই বোঝা যায় যে, বহুদিন থেকে তাঁর মন এই বিষয়ে অনুরণিত হয়েছিল। আসলে তিনি এমন এক যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা ভারতের ইতিহাসের অন্ধকারতম যুগ বলে চিহ্নিত করা হয়। দেশটি বহু আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত ছিল, ধর্মের নামে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি সংস্কৃত ও বাংলায় গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছিলেন এবং পরে তাকে পাটনায় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার জন্য পাঠানো হয় যেখানে তিনি ফারসি ও আরবি শিখেছিলেন। তখনকার দিনে এই দুটি ভাষা শিখলে সরকারি কাজে সুবিধে হত বলে, বহু মানুষ এই দুই ভাষা-শিক্ষা করতেন। আর এই ভাষা শিক্ষা করতে গিয়ে রামমোহনের মধ্যে একেশ্বরবাদ ভাবনার বীজ প্রোথিত হয়েছিল। সেই বীজ অংকুরিত হয় ধীরে ধীরে। রংপুরে থাকাকালীন সেটি পল্লবিত হয়।
রংপুরেই তিনি সমাজ থেকে ধর্মীয় হানাহানি বন্ধে সর্বধর্ম সমন্বয়ের ডাক দিয়েছিলেন। এক ঈশ্বরের পৃথিবীতে এত মত ও পথ থাকবে কেন? তাই সবাইকে একত্র হয়ে সমাজ পাল্টে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর এই ভাবনার সঙ্গে সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের ভাবধারার খানিকটা মিল কিন্তু লক্ষণীয়। সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের মাধ্যমে সমাজ পাল্টাবার যে প্রচেষ্টা আমরা দেখেছিলাম, সেটিই যেন আবার দেখলাম তাঁর ভাবনার মধ্যে। এখানে বরং রামমোহন নিজেই সন্ন্যাসী-ফকির আন্দোলনে আন্দোলিত হয়েছিলেন বলে মনে করা যায়। পরবর্তীতে একেশ্বরবাদ প্রচার, সহমরণ রোধ, বিধবা বিবাহ, নারীশিক্ষা প্রচলনসহ আরো অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি নবজাগরণ সৃষ্টি করেন। আর সেটা তিনি করেছিলেন অধুনা বাংলাদেশের রংপুর শহরে বসে। তাই সদ্য ঘটে যাওয়া সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনে অন্য মাত্রা এনেছিল। বলা যায় যে, আন্দোলনকারীরা তাঁর ভাবনায় হয়ত খানিকটা প্রভাবিত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে অনেকটা বুঝতে পেরেছিলেন নিজেকে। ``প্রবীণ লেখক মোতাহার হোসেন সুফীর লেখা নিবন্ধ সূত্রে জানা যায়, একেশ্বরবাদের এই চিন্তাধারা রাজা রামমোহন রায় রংপুরে থাকাকালীনই অর্জন করেছিলেন। ব্রাহ্মধর্ম প্রবর্তনের আগে তিনি এখানে হিন্দু শাস্ত্রবিদ ও মুসলমান মৌলভিদের সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা ও তর্কের সূত্রপাত করেছিলেন। অনেক সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় হিন্দু শাস্ত্রবিদদের আলাপ-আলোচনার পর তুমুল বাদানুবাদ ও বাগিবতণ্ডার সৃষ্টি হতো। সন্ধ্যার পর তিনি তাঁর মাহিগঞ্জের বাড়িতে বসে পৌত্তলিকবিরোধী বক্তব্যের পাশাপাশি ব্রহ্মজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতেন। রংপুরে অবস্থানকালে ১৮১০ সালের ৮ এপ্রিল রামমোহনের বড় ভাই জগমোহন রায় মারা গেলে তাঁর স্ত্রী অলনমনি দেবী সহমরণে যান। লাশের সঙ্গে একটি জীবিত মানুষের করুণ মৃত্যুর বিবরণ শুনে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা রদ করার দৃঢ় সংকল্প করেন, যা ছিল ব্রাহ্মধর্মের অন্যতম পদক্ষেপ।``
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহে তাই রামমোহনের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকলেও, বিদ্রোহের অন্যতম ভূমি রংপুর তাঁকে প্রভাবিত করেছিল ভীষণভাবে। মনে রাখতে হবে, রামমোহন যে সময় রংপুরে অবস্থান করেছেন, সেই সময়কাল সদ্য একটি বিদ্রোহ দেখেছে। বিদ্রোহের রেশ তখনও সম্পূর্ণ মুছে যায়নি। এইরকম সময়ে রামমোহনের ওপর এই বিদ্রোহের খানিকটা হলেও প্রভাব ছিল খুব স্বাভাবিক।
ঋণ স্বীকার: ডঃ আনন্দগোপাল ঘোষ, ডঃ রাজর্ষি বিশ্বাস, অধ্যাপক বাপ্পা মোহন্ত, বাংলাপিডিয়া
(প্রকাশিত: অঙ্কুরোদ্গম, পুজো সংখ্যা ২০২২)
No comments:
Post a Comment