Monday, January 16, 2023




গিদ্দা পাহাড়ের একটি বাড়ি ও কিছু কথা 

শৌভিক রায় 

The happiest day in my life will be when I shall become independent and a still happier one when I shall go to Darjeeling

বলা হয়, স্বয়ং নেতাজি এরকম কথা বলেছিলেন। সত্য মিথ্যে জানি না। তবে তিনি এই কথা বলেছিলেন ভাবতে অবশ্যই ভাল লাগে। 

আসলে দার্জিলিং পাহাড়ের হাতছানি তো সহজে এড়ানো যায় না। বাঙালির আইকন নেতাজির পরিবারও পারেননি। আস্ত একটা বাড়ি কিনে ফেলেছিলেন কার্সিয়াংয়ের গিদ্দা পাহাড়ে। সেই বাড়ি এখন নেতাজি ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ। সুদৃশ্য এই বাড়িটিতে রয়েছে নেতাজি মিউজিয়াম এবং সেন্টার ফর দা স্টাডিজ অফ হিমালয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস সোসাইটি এন্ড কালচার।

১৯২২ সালে Rowley Lascelles Ward-এর থেকে এই বাড়িটি কিনেছিলেন নেতাজি সুভাষের দাদা শরৎচন্দ্র বোস। ১৯২৫-এ এই বাড়িতে পা রেখেছিলেন দেশপ্রিয় চিত্তরঞ্জন দাস ও তাঁর স্ত্রী বাসন্তী দেবী। শোনা যায়, নিশিযাপনও করেন তাঁরা। 

শরৎচন্দ্র বোস নিজে এই বাড়িতে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫ অবধি গৃহবন্দী ছিলেন। ১৯৩৬ সালে নেতাজিকেও এই বাড়িতে সাত মাস গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়। কিন্তু বিশ্বস্ত সহচর কালু সিং লেপচার মাধ্যমে নেতাজি কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ১৯৩৮ সালের হরিপুরা কংগ্রেসের ভাষণ রচনা করা ছাড়াও, এই বাড়ি থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে স্বাধীনতা ও ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে নেতাজির পত্রালাপ চলত। 

স্বাধীনতার পর ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ অবধি এই বাড়িতে বসু পরিবারের যাতায়াত ছিল। কিছু চিঠি, নেতাজির ইউনিফর্ম, অতীত আসবাবপত্র এখন দ্রষ্টব্য এখানে। শরৎচন্দ্র বোসের নিজের হাতে লাগানো ক্যামেলিয়া গাছটি অতীতের স্পর্শ নিয়ে আজও ফুল দিয়ে চলেছে। 

এই বাড়িতে কালু লেপচার মেয়ে মতি মায়া লেপচা ২০১৬ অবধি মালির কাজ করতেন। সিঙ্গাপুরের Stonebench-এর গবেষক জাবির রহমান বলছেন, নেতাজি ও এমিলি শেঙ্কেলের মেয়ে বলে পরিচিত অনিতা বসু পাফের এক সন্তানের নামও মায়া। হতে পারে বিষয়টি একেবারেই কাকতালীয় অথবা কালু লেপচার পরিবারকে স্মরণে রাখা।   

গত ১২ জানুয়ারি, ২০২৩, বাঙালির আর এক মহান নায়ক বিবেকানন্দের জন্মদিনে, কার্সিয়াংয়ে নেতাজির সেই বাড়ি দেখতে গিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা ছবি-সহ লেখা থাকে নিজের মতো করে...... 

(ছবি- লেখক) 












No comments: