।। নিজের ভাবনায়।।
শৌভিক রায়
মৃত্যুরও রকমফের থাকে।
কারও মৃত্যুতে শোক বেশি, কারও মৃত্যুতে কম।
মাঝে মাঝে প্রশ্ন করি নিজেকে, একান্ত আপনজন ছাড়া অন্য কারও মৃত্যু কি আমাদের তেমন স্পর্শ করে? বোধহয় করে। বোধহয় করে না। ঠিক বুঝি না আজও।
ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর আমার পরিচিত অনেককে কাঁদতে দেখেছিলাম। অথচ তারা কেউ কোনোদিন তাঁকে চাক্ষুষ দেখেননি! এরকম আরও বহু নাম বলা যায় যাঁদের মৃত্যুতে আমরা কেঁদেছি অথবা তীব্র মন খারাপ করে বসে থেকেছি। জল স্পর্শ পর্যন্ত করিনি।
আবার দীর্ঘদিন সহকর্মী হয়েও কেউ কেউ আমাদের স্পর্শ করতে পারে না! তার মৃত্যু খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে যায়! তার স্মরণে সামান্য সময় নীরব থাকার চাইতেও বড় হয়ে ওঠে নানা অর্থহীন কাজ!
ভাবি, যে মানুষটা তার জীবনের অনেকটা সময় কর্মক্ষেত্রকে দিল, তার কি এটুকুও পাওনা থাকতে পারে না? একটা দিন কি তার কথা বলতে পারে না সহকর্মীরা? ভাবতে পারে না তার কথা? মৃত্যুর পর অন্তত একটা দিন কি তাকে ঘিরে আবর্তিত হতে পারে না?
একবিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু তো কমতে কমতে এমনিতেই তলানিতে এসে ঠেকেছে। গতানুগতিকতার চাপে মানুষটিকে পুরোপুরি ভুলে যেতে সময় লাগবে না জানি সবাই! কিন্তু তার আগে একটি দিন, একটু সময় তার কি প্রাপ্য নয়!
চলে গেলে তাই দিন চাই না আর। চাই না অপমানে বিদ্ধ হোক শায়িত দেহ।
এটুকু চাওয়া যেতেই পারে। এটুকু অহঙ্কার থাকতেই পারে.....
শিল্পী - রাকেশ পাল
(এই শিল্পকর্মটি গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের ১৫৮ তম বার্ষিক প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছিল)

No comments:
Post a Comment