Tuesday, October 11, 2022

 নীলা আশমা শো গয়া...

শৌভিক রায়


তাঁকে দেখামাত্রই শিড়দাঁড়ায় ঠান্ডা স্রোত বয়ে যেত। 


আজকাল তো মনে হয় বৃদ্ধকালও এতো সুন্দর হতে পারে!


মানুষটি যখন কেবিসি করতে এলেন তখন লেখিকা শোভা দে বলেছিলেন ব্যাপারটা যেন স্যার লরেন্স অলিভিয়ের ফিল্ম শো-এর ইন্টারভ্যালে বাদাম বেচছেন! 


স্বাভাবিক এই ভাবনাটা। কেননা একেই তিনি টিভির পর্দায় তায় আবার গেম শো'র অ্যাঙ্কর! 


রোলস রয়েস কি আর তৃতীয় বিশ্বের ভাঙাচোরা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলতে পারে নাকি? 


কিন্তু তিনি তো তিনিই! হিসেব উল্টোতে আগাগোড়াই শাহেনশা!


 ভাগ্যিস এসেছিলেন। তাই তো ওই ব্যারিটোন গলা, ওই গভীর চোখ, ঠিকরে পড়া ব্যক্তিত্ব চোখের সামনে মাঝেমাঝে আজকাল। (নিজের নজর না লেগে যায়!)


ব্যক্তিপূজায় বিশ্বাসী না হয়েও এই ভদ্রলোকের কাছে কেন যেন হেরে বসে আছি। পুজো করতে ইচ্ছে করে বড্ড। 


এরকম ছেলেমানুষি পোস্ট করতে অভ্যস্ত নই আমি। কিন্তু এঁর মহিমা, অবশ্যই আমার ওপর, এতোটাই যে বারবার ছেলেমানুষ হয়ে যাই। গন্ডগোল বেঁধে যায় সব আর শিরদাঁড়ায় সেই ঠান্ডা স্রোতটা বয়ে যায়! 


ভদ্রলোকের আজ জন্মদিন। কোচবিহার-মুম্বাই দূরত্বটা বিরাট। এই পোস্টটি দেখবার কোনো সুযোগ ভদ্রলোকের নেই। উনি দেখুন সে আর্জিও আমার নেই। কিন্তু আর্তি আছে। আর্তি এটাই যে উনি ঠিকঠাক থাকুন। এতোটাই ঠিকঠাক থাকুন যে আমি যেন বারবার ছেলেমানুষ হয়ে যেতে পারি! 


সবশেষে স্মৃতিতে সেই দিন আবার। 

কলেজ ফেরতা জিনস-পাঞ্জাবির কানে রাস্তার ধারের দোকান থেকে টেপডেকে ভেসে আসছে 'নীলা আশমা শো গয়া...' সেই কলেজ ফেরতা মুহূর্তে ফ্রিজ শট। সব্বাই চলে গেল। একা কলেজ ফেরতা দাঁড়িয়েই রইল!


সবশেষে তিনি এলেন। হাত ধরলেন। 

ধরেই রইলেন। 


নীল আকাশ আজও শুয়ে বুকের মাঝে। 


আকাশেই তো তাঁরা থাকেন। 

আকাশেই তো তারা থাকে।


(পুরোনো লেখা। আবার পোস্ট করলাম। তাঁর জন্মদিন আজ.....)

No comments: