বোতাম
শৌভিক রায়
১
বোতাম দেখলেই বড্ড খিদে পায়! এক ছুটে বোতাম স্পর্শ করতে ইচ্ছে জাগে প্রচন্ড।
যত বেশি স্পর্শ বোতামে, তত লাভ। সেই লাভেই ছুটে চলা অদম্য জেদে, দুরন্ত গতিতে।
আসলে এ এক অদ্ভুত মায়াজাল। হাতের নাগালে নষ্ট চাঁদ, পায়ের তলায় লুটোপুটির সমুদ্র!
আর এই সব ছাপিয়ে এক অদ্ভুত সিঁড়ি। টপাটপ ওপরে, আরও ওপরে, আরও ...
অবশেষে পায়ের তলায় আর্যাবর্ত, এমনকি সুউচ্চ হিমালায়টাও।
তাই বোতাম দেখলেই খিদে পায় ভীষণ।
স্বপ্ন দেখি, বোতামের জন্য সর্বময় কর্তা থেকে একা এক ঈশ্বর হয়ে উঠছি ক্রমশ...এমন এক ঈশ্বর যার সামনে পেছনে ডাইনে বাঁয়ে কেউ নেই।
নেই পরিবার, নেই পরিজন, এমনকি কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী।
নিজের সাম্রাজ্যে সব ক্ষমতা নিয়ে অঙ্গুলি হেলনে গ্রাস করছি সব সর্বগ্রাসী এক খিদে নিয়ে!
আমার খিদের সামনে ফিকে হয়ে যাচ্ছে বিধ্বংসী দাবানল। খেয়ে নিচ্ছি এই দেশ, এই রাষ্ট্র।
আমার বিচিত্র খিদেয় চারদিক ধু ধু মরুভূমি কিংবা প্লাবিত জলাভূমি হয়ে গেলেও কিচ্ছু এসে যায় না আমার!
আমি শুধু নিজেকে জানি। আর জানি আমার খিদেকে।
বোতাম মেটায় আমার সেই খিদে....
২
ভরসা রেখেছি ওই বোতামেই। বোতামের সঙ্গে এক অদ্ভুত শব্দ। ভরসা তাতেও।
শব্দ মানে ব্রহ্ম।
ব্রহ্ম সত্য। বাকি সব মিথ্যে।
তাই অনন্ত শূন্যতা নিয়েও বিশ্বাস সেই সত্যে। জানি চিরদিন এক যায় না। পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।
ফি বছর ঋণ নিতে হয়। কৃষ্ণ মৃত্তিকায় যে সাদা ফসল ফলে, জোটে না তার ন্যায্য মূল্য।
শুনেছি শস্য শ্যামলা মিঠে বুলির কোনও এক দেশের মাটি বড় উর্বরা। কিন্তু সেখানেও পথে নামে আমারই ভাইয়েরা।
ওরা বসে থাকে সিংঘু থেকে অলৌকিক রেখার সর্বত্র।
প্রত্যেকের চোখে একই স্বপ্ন। ভরসাও সেই এক!
এক দুরন্ত বোতাম। এক শব্দ ব্রহ্ম। এক স্বপ্ন জগৎ।
সেই জগতে সব শিশুরা এক আসনে বসে। রাম নামাজ পড়লে, রহিম মন্দিরে বাজায় ঘন্টা।
আন্তরিক আলিঙ্গনে গাছকে জড়িয়ে বারবার ভালবাসেন মোটা চশমার অশীতিপর কোনও বৃদ্ধ।
মুক্ত আকাশের নিচে গারদের স্যাঁতসেতে পরিবেশকে তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে প্রতিবাদ রাখেন বিষণ্ণ কবি।
আলো জ্বলে ওঠে সুদূর গ্রামে....ঘরে ফেরে জলপাই পোশাক সন্তান হাতের অস্ত্র বিসর্জন দিয়ে।
বোতাম এনে দেয় এইসব যা কিছু ....
৩
আশা নিরাশা দুরাশার এই টানাপোড়েনে যদি কিছু সত্য থাকে তবে সে ওই বোবা বোতাম।
বোতামই স্বপ্ন দেখায় এভাবে। বোতামই নিয়ে আসে এক অদ্ভুত আশা।
তাকে ঘিরেই আবর্তিত নানা তন্ত্র। কখনও সে নিজে একনায়ক, কখনও গণনায়ক।
তার প্রদর্শিত পথেই ঘুরে চলা নিজেদের মতো।
বোতাম....কখনও আত্মনিধন, কখনও আততায়ী, কখনও বারিশওয়ালা !
(কবি শ্যামলী সেনগুপ্তের ওড়িয়া অনুবাদের জন্য লেখা)
No comments:
Post a Comment