উত্তরের মুছে যাওয়া মহকুমা ফালাকাটা
শৌভিক রায়
ডুয়ার্স তথা উত্তরবঙ্গের ছোট ছোট অনেকগুলি জনপদ চা-বাগানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও, আলিপুদুয়ার জেলার ফালাকাটা কিন্তু বয়সের দিক থেকে এদের চাইতে অনেকটা পুরোনো। ঠিক কবে এই জনপদটি গড়ে ওঠে সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য না থাকলেও একসময় ফালাকাটা যে ভুটানের অন্তর্ভুক্ত ছিল তা নিয়ে সন্দেহ নেই। মনে করা হয় যে, কোচবিহার রাজ্যের সাথে ভুটানের যুদ্ধে কোনো এক পক্ষের সৈনিকদের এখানে প্রবল যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে রংপুরের জমিদার শ্যামল বর্মনের স্ত্রী ফুলটুসি সমরবিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন এবং প্রতিপক্ষের সৈনিকদের টুকরো টুকরো বা ফালা ফালা করে কেটেছিলেন বলে জায়গাটির নাম হয় ফালাকাটা। অধুনা একটি মত বলছে লোকদেবতা ফালাকাটা থেকে জায়গাটির নাম এসেছে। লোকদেবতা ফালাকাটার বাহন হল বাঘ এবং রয়েছে তাঁর দুই ভাইয়ের নাম হল তুলাকাটা এবং ধুনাকাটা। শোনা যায় দেবতা ফালাকাটাকে নিয়ে ছড়াও- 'ভক্তি দিনু ফালাকাটা মহারাজ, থাকেন বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলত। পশ্চিমে হইল করতোয়া, উত্তর হইতে পূর্বেত তিস্তাবুড়ি বহে ধীর...।' তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, আমবাড়ি-ফালাকাটার নামকরণের পেছনে এই ছড়াটি বেশি প্রযোজ্য। অন্য একটি মত বলছে যে, ফালাকাটার পূর্ব -পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে ঘিরে থাকা ছোট্ট যদি সাপটানা ভূখন্ডকে ফালা ফালা করে কেটেছে বলে জায়গাটির নাম ফালাকাটা। তবে ফালা ফালা করে গাছ কেটে সীমানা চিহ্নিত করার বিষয় থেকে নামকরণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
১৮৬৯ সালে ফালাকাটা প্রশাসনিক দিক থেকে অবিভক্ত জলপাইগুড়ির প্রথম মহকুমার মর্যাদা পেয়েছিল। স্থাপিত হয় থানা। কিন্তু ১৮৭৪ সালে মহকুমা স্থান্তরিত হয় বক্সায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে আলিপুদুয়ারে। ফালাকাটাকে মহকুমা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইংরেজরা এই জনপদের গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছিল ঠিকই কিন্তু বর্ষায় ভয়ঙ্কর তিস্তা-জলঢাকা ও তোর্ষার মাঝে অবস্থিত এই জায়গাটি থেকে জেলার অন্যত্র মজুদ থাকা সেনাবাহিনীর রসদ, ওষুধপত্র ইত্যাদি যোগান দেওয়া কষ্টসাধ্য ছিল। সেজন্যই মহকুমা বক্সাতে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু ফালাকাটার কৌলিন্য বা গুরুত্ব তাতে কমে নি। কেননা নির্জন ও প্রায় জনমানবহীন ডুয়ার্সের যে জায়গাগুলি থেকে কিছু পরিমান খাজনা আদায় করা যেত, ফালাকাটা ছিল তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানে। ফলে এখানে তৈরি হয়েছিল এই অঞ্চলের সর্ববৃহৎ তহশীলখানা। সে সময় ফালাকাটার পরিচয় ছিল যে, ফালাকাটা মানেই হ'ল 'তহশীল অফিসের ঘড়ি, বংশীধরের ভুঁড়ি আর শিরীষ বসুর দাড়ি'।
প্রাচীন জনপদ ফালাকাটা অতীতে ছিল ঘন অরণ্যে ঢাকা। সেই সময় জলদাপাড়া অরণ্যের বিস্তার ছিল অনেকটা। ফলে সেভাবে লোকবসতি ছিল না। আজও ফালাকাটার কুঞ্জনগর ইকো টুরিজম সেন্টারের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা বুড়িতোর্ষা নদী পার হলেই জলদাপাড়া। ফালাকাটার কাছে দেওগাঁর অরণ্যও একসময় জলদাপাড়ার অংশ ছিল। রাজ্যসড়ক সেই অরণ্যকে দু'ভাগ করেছে সেটা বোঝাই যায়। দেওগাঁতেই রয়েছে দক্ষিণ খয়েরবাড়ির বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন ও ইকো টুরিজম। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আদিম অরণ্যের বিপুল বিস্তারের জন্যই ফালাকাটা ব্লকে সেভাবে জনপদ গড়ে ওঠে নি। তাই এখানে পুরাতাত্ত্বিক কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না। জটেশ্বরের শিব মন্দির, ফালাকাটার মহাকাল মন্দির জাতীয় দু'চারটি সাধারণ মন্দির বা মসজিদ ছাড়া অতি প্রাচীন বা ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পন্ন কোনো মন্দির বা মসজিদ বা গির্জা নজরে আসে না।
ডুয়ার্সের অন্যান্য বহু জনপদের মতোই ফালাকাটার উপকন্ঠেও রয়েছে দু'টি চা-বাগান। আর এই চা-বাগান পত্তনের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে আজকের ফালাকাটার অন্যতম দ্রষ্টব্য এখানকার রেমন্ড মেমোরিয়াল হাই স্কুল। এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অমূল্য ইতিহাস। সেভেনথ ডে অফ অ্যাভভেন্টিস্ট চার্চ প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত এই বিদ্যালয়টি কালের যাত্রায় সত্তরটি বছর পার করে দিয়েছে। স্বাধীনতার দুই বছর পর ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের স্থাপনের পেছনে চা-বাগানের ভূমিকাকে কেন অস্বীকার করা যায় না। আসলে, ডুয়ার্সে চা-বাগান প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্নে নেপাল ও ছোটনাগপুর অঞ্চল থেকে দলে দলে শ্রমিক নিয়ে আসা হয়েছিল। এইসব হতদরিদ্র, শোষিত ও বঞ্ছিত মানুষদের কাছে খ্রিস্টান ধর্মের গ্রহণযোগ্যতা অন্য ধর্মের চাইতে বেশি ছিল, কেননা মিশনারীরা নানাভাবে তাদের কাছে পৌঁছতে পেরেছিলেন। গত শতকের চল্লিশের দশক সময়কালে ফালাকাটার আরণ্যক পরিবেশে বন কেটে তৈরী হচ্ছিল কাদম্বিনী ও কোচবিহার চা-বাগান। আশেপাশের নানা অঞ্চলেও চলছিল চা-বাগান তৈরীর কাজ। আর তার জন্য তদানিন্তন ছোটনাগপুরের কার্মাটার-সহ নানা প্রান্ত থেকে প্রচুর পরিমাণে শ্রমিক আনা হয়েছিল এবং প্রায় তাদের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন সেভেনথ ডে অফ অ্যাডভেন্টিস্ট চার্চের এম জি চ্যাম্পিয়ান ও সি জে জেনসন। ধর্মপ্রচারের পাশাপাশি তাদের উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার। ফালাকাটা সেই সময় ছিল অত্যন্ত সুন্দর। তেপান্তরের মাঠের মতো বিরাট মেলার মাঠের উত্তরে ঝকঝক করছে নীল পাহাড়। জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের সীমা ছুঁয়ে যাচ্ছে ফালাকাটাকে। আছে থানা, ড্রামাটিক হল, তহশিল অফিস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সৈনিকদের ব্যবহৃত আবাসস্থলটি পরিণত হয়েছে গ্রন্থাগারে। ডুয়ার্সের নিয়মানুযায়ী সারা বছরই ফালাকাটায় তখন না ঠান্ডা না গরম আবহাওয়া। বৃষ্টিপাতও প্রচুর। কার্মাটারের চাইতে তুল্য বিচারে পছন্দের জায়গা ছিল সেই সময়ের ফালাকাটা। এখানে কাজ করবার সুযোগ ও প্রয়োজনও ছিল বেশি। তাছাড়াও কার্মাটারে রবিনসন এস ডি এ হাই স্কুলের দায়িত্বে থাকা এম জে চ্যাম্পিয়ান নিজেও চাইছিলেন বিদ্যালয়টিকে সেখান থেকে অন্যত্র সরাতে। কেননা, কার্মাটারে বিদ্যালয়টি সেভাবে পরিচিতি পাচ্ছিল না। ফালাকাটায় চা-শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করবার ফাঁকেই চ্যাম্পিয়ান ও জেনসন তাই জমি খুঁজতে শুরু করেছিলেন। আজকের ফালাকাটা স্টেশন লাগোয়া পাঁচশো একর জমি সে সময় চা-বাগান তৈরীর জন্য ভাবা হয়েছিল। কিন্তু বালু জমি হওয়াতে চা-বাগানের মালিক ও ম্যানেজাররা সেই জমিতে কোনও আগ্রহ দেখান নি। চ্যাম্পিয়ান ও জেনসন সেই জমি পছন্দ করলেন। তাঁদের ও অ্যাডভেন্টিস্ট চার্চের শুভানুধ্যায়ী মিসেস রেমন্ড আর্থিকভাবে সহায়তা করলেন। জমি নিজেদের অধিকারে এলে শিক্ষাব্রতী চ্যাম্পিয়ান কার্মাটারে রবিনসন এস ডি এ হাই স্কুলকে স্থানান্তর করলেন ফালাকাটায়। শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। ফালাকাটায় বিদ্যালয় শুরুর দিনগুলিতে কার্মাটার থেকে প্রিন্সিপাল চ্যাম্পিয়ানের সঙ্গে ছয়জন মহিলা ও নয়জন পুরুষ অর্থাৎ মোট পনের জন ছাত্রছাত্রী জিপে চেপে এসেছিলেন। পথে দুর্ঘটনায় একজন ছাত্র মারা যান। চ্যাম্পিয়ান নিজেও আহত হয়েছিলেন। সেইসময় দুটি তাঁবুতে সকলের থাকবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ অবধি চ্যাম্পিয়ান ছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপাল। বর্তমান ছাত্রাবাসটি তাঁর নামেই নামাঙ্কিত। চ্যাম্পিয়ানের যোগ্য সঙ্গিনী ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডরোথি। ছাত্রী-আবাসের নামকরণে তাঁর স্মৃতি সযত্নে রক্ষিত আজও।
পাশাপাশি, ফালাকাটা হাই স্কুল দীর্ঘদিন একটি বিস্তীর্ন অঞ্চলের একমাত্র স্কুল ছিল যেখানে বিজ্ঞান,কলা ও বাণিজ্য তিন বিভাগেই পড়ানো হত। বীরপাড়া, মাদারিহাট, শিলবাড়ীহাট, শালকুমার, আটপুকুরিয়া ইত্যাদি নানা জায়গা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা একসময় ফালাকাটায় পড়তে আসত। আজ রাজ্যের সব জায়গার মতোই ফালাকাটাতেও অনেকগুলি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বোঝা সম্ভব না যে, সেসব দিন কীরকম ছিল। তবে সেদিনের সেই কষ্টের পরম্পরাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এখানকার ছাত্র ছাত্রীরা আজ মেধা তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে ভাবতেই ভাল লাগে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এখানকার টাউন লাইব্রেরি বা সুভাষ পাঠাগারের কথা। ফালাকাটার শিক্ষা বিস্তারে এই গ্রন্থাগারটি এখনও অসামান্য ভূমিকা নিয়ে চলেছে।
সংস্কৃতি-মনস্ক এই জনপদের ড্রামাটিক হল ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখনকার ফালাকাটার উত্তরদিকে, তহশীল অফিসের কাছে, খাসমহল ময়দানের পাশে থাকা ড্রামাটিক হল নির্মাণে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তদানিন্তন তহশীলদার স্বয়ং। সঙ্গে ছিলেন জোতদার ফ্যারড ও ফালাকাটার সে সময়কার বিশিষ্ট মানুষেরা। ডুয়ার্সের আর কোনও জায়গায় এরকম নিদর্শন দেখা যাচ্ছে না। সংস্কৃতি চর্চায় ড্রামাটিক হল দীর্ঘদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।পাশাপাশি একটি বিরাট অঞ্চলের বিনোদনের একমাত্র জায়গা ছিল ড্রামাটিক হল যা অন্যসময় নাম পালটে গৌরী টকিজ নামে ছায়াছবি প্রদর্শন করত। ড্রামাটিক হলের বিপরীতে, আজকের দশমীর ঘাটের কাছে, অতীতের শিশু সদনের পাশে শুরু হয়েছিল 'ফালাকাটা মুক্তমঞ্চ'। এর আগে উত্তরবঙ্গের একমাত্র শিলিগুড়িতে ১৯৭৯ সালে মুক্তমঞ্চ শুরু হয়। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে ফালাকাটার মুক্তমঞ্চ সেই সময়ের এক সাহসী প্রচেষ্টা। ১৯৯০ সাল অবধি ফালাকাটা মুক্তমঞ্চে বিভিন্ন নাট্যদল নাটক মঞ্চস্থ করেছে।
১৯৫৯ সালে ফালাকাটা সর্বভারতীয় খবরের শিরোনাম হয়েছিল শৌলমারি আশ্রমকে কেন্দ্র করে। সারদানন্দজী প্রতিষ্ঠিত আশ্রমের দিকে নজর ছিল সমস্ত ভারতের। শৌলমারি কোচবিহার জেলাতে হলেও একেবারেই ফালাকাটা লাগোয়া। সারদানন্দজীর চেহারা ও হাবভাবের সাথে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোসের সাদৃশ্য থাকায় দ্রুত রটে যায় সারদানন্দজী আর কেউ নেন স্বয়ং নেতাজী। সেই আমলে সারা ভারত থেকে দলে দলে লোক আসতে শুরু করেন ফালাকাটায় আশ্রম ও সারদানন্দজীকে দেখতে। আসেন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। কিন্তু ১৯৬৭ সালে সারদানন্দজী ফালাকাটা ছেড়ে যান। শৌলমারির আশ্রম আজও আছে। আশ্রমে দীক্ষিত যারা তারা দেখভাল করেন আশ্রমের, মিলিত হন।
যোগাযোগের দিক থেকে ফালাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই হয়ত ৭৫ বছরের আগে, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহনের জন্মলগ্নে, যাত্রীবাহী যে বাস কোচবিহার থেকে নিয়মত যাত্রা শুরু করেছিল তার প্রথম গন্তব্য ছিল ফালাকাটা। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার পঁচাত্তর বছর পূর্তি বর্ষে ফালাকাটায় কোনও বাসস্ট্যান্ড না থাকা নিঃসন্দেহে একটি বিরাট ক্ষত। একইরকমভাবে মহকুমার মর্যাদা আজও ফিরে পায় নি ফালাকাটা। কুঞ্জনগর ইকো পার্ক, দক্ষিণ খয়েরবাড়ি, খাওচাঁদপাড়া পিকনিক স্পট ইত্যাদি এখনও পর্যটকদের আকর্ষণ করলেও, পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে। ফালাকাটাকে ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও, জোর দেওয়া উচিত দ্রুত বাস্তবায়নে।
দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে, আজকের ফালাকাটার উত্তর আকাশ থেকে হারিয়ে গেছে ঝকঝকে নীল ভুটান পাহাড়ের সারি। যে সাপটানা নদী কোনো কোনো বর্ষায় দু ' কুল ছাপাতো আজ তা শুকনো খাতে পরিণত। রহস্যময় নদী মুজনাইও গতিপথ পাল্টে কোনো অজানা অভিমানে বয়ে চলেছে নিজের মতো। সারা বছর ভোর বেলার সেই টাটকা আমেজ এখন শুধুই স্মৃতি। উধাও প্রবল শীতের জমজমাট কুয়াশা আর দিগন্তে মেলানো হলুদ পাখি। হারিয়ে গেছে রাস্তার ধারের শিমুল গাছের লাল ফুলেরা কিংবা বর্ষা শেষের গাছে পুরু শ্যাওলার আস্তরণ। হারানো ও না পাওয়ার তালিকায় এরকম আরও কতো কি রয়ে গেল কে জানে! তবে, পাওয়া আর না পাওয়া নিয়েই জীবন বলে কোনও কিছু থেমে থাকে না। ফালাকাটাও থেমে নেই। সেই ধূসর অতীত থেকে বর্তমানের আলোকিত এই উজ্জ্বল দিনে ফালাকাটা আজও একইরকম।
(আকাশবাণী শিলিগুড়ি)
No comments:
Post a Comment