Thursday, April 21, 2022


 

মডেল নং- 125/LXXI
শৌভিক রায়
তিনটে বাজবার ঠিক তিন মিনিট আগে দাড়িওয়ালা লোকটি বেরিয়ে এলো। তিনটে বাজতেই গঙে তিনটে আঘাত। বোঝা গেল তিনটে বেজে গেছে। আর অপেক্ষা নয়। সময় ঘোষণা করেই আবার সে চলে গেল ভেতরে। কামারের মতো চেহারার আর একজন লোক না থেমে সেকেন্ডের কাঁটা বাজিয়ে চলছিল অনবরত।
ব্যাপারটা আদতে এমন কিছু নয়। কিন্তু যদি দাড়িওয়ালা লোকটি এবং তার সঙ্গী হয় খেলনা পুতুল তবে তো একটু থমকাতেই হয়!
থমকে ছিলাম। থমকে থেমে বসে পড়েছিলাম সামনে রাখা চেয়ারে। আর তারপরেই সেই দৃশ্য। আসলে দাড়িওয়ালা লোকটি ও তার সঙ্গীর আবির্ভাব হয় একটি ঘড়ির ভেতর থেকে প্রতি ঘন্টায়। সময় ঘোষণা করে তারা অদৃশ্য হয়ে যায় পরের ঘন্টায় আসবে বলে। অদ্ভুত এই ঘড়িটি রাখা আছে হায়দ্রাবাদের সালার জং মিউজিয়ামে।




ঊনবিংশ শতকে নির্মিত ইংল্যান্ডের কুক এন্ড কেলভি কোম্পানির এই ঘড়িটি বিংশ শতকের প্রথম দিকে তৃতীয় সালার জং নবাব মীর ইউসুফ আলী খান নিজের মিউজিয়ামের জন্য সংগ্রহ করেছিলেন। ঘড়িটির ৩৫০-এর অধিক যন্ত্রাংশ বিলেতে তৈরি হলেও সেগুলি কিন্তু জোড়া লেগেছিল কলকাতা শহরে। ইংলিশ ব্র্যাকেট ক্লক নামে পরিচিত এই মিউজিক্যাল ঘড়িটি সালার জং মিউজিয়ামের তো বটেই, ভারতের অন্যতম গর্ব। পনের মিনিট পর পর সময় জানানোর পাশাপাশি ঘড়িটিতে দিন, তারিখ ও মাস প্রদর্শনের তিনটি ডায়াল রয়েছে।

No comments: