Monday, July 26, 2021

এক অন্য কলকাতা ১

শৌভিক রায় 








কবি বলেছিলেন যে, War is a big picnic, a laughter of dead bodies.....ডি এল খান রোডের এই সমাধিতে দাঁড়িয়ে সে কথাটাই মনে এলো আবার। ডি এল খান মানে দেবেন্দ্রলাল খান, স্বাধীনতা সংগ্রামী। ইংরেজ শাসনে পরাধীন দেশে বহু বছর প্রাদেশিক কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর নামে নামাঙ্কিত প্রশস্ত পথের ধারে, ১৮৬৪ সালে নির্মিত এই সমাধিক্ষেত্রে, শুয়ে আছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত ৯৫ জন আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মৃত ৬১৭ জন । 

ফলকে তাঁদের বয়স দেখলে মন সত্যিই খারাপ হয়ে যায়। কেউ চলে গেছেন ১৮ বছর বয়সে, কারও বয়স হয়ত বা বাইশ! 
এখানেই শায়িত সেই আমলের ফোর্ট উইলিয়ামে কর্মরত বিভিন্ন গ্যারিশনের সদস্য বা তাঁদের পরিবারের কেউ কেউ। 

এইসব সমাধি এবং যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা (যাদের 'Service Person' বলা যেতে পারে) আরও ২৩৩টি সমাধির পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশন। 
এ বাদেও সাধারণদের সমাধি দেখভাল করেন ইস্ট ইন্ডিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট।
 
এক অদ্ভুত সহাবস্থান সমস্ত সমাধিক্ষেত্র জুড়ে। 
একদিকে সঠিকভাবে সংরক্ষিত কমনওয়েলথ সমাধিক্ষেত্রগুলি, অন্যদিকে অনাদরে, অবহেলায় পরে থাকা অন্যান্য সমাধি। 
কেউ সমাধি ফলককে কাপড় কাচার পাথর হিসেবে ব্যবহার করছেন, কেউ আবার রাস্তার গর্ত বুজিয়েছেন!

কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি নির্বাক। নির্জন নিঃশব্দ সমাধিক্ষেত্রে দূর থেকে ভেসে আসে মহানগরের কলরব। 
হালকা হাওয়ায় সাদা হলুদ ফুল ঝরে সমাধির বুকে।
 
যেতে আসলে সবাইকেই হয়। 
তবে কেউ কেউ যায় অকালে, বড্ড তাড়াতাড়ি....

(কমনওয়েলথ নেশনস অর্থাৎ ইউনাইটেড কিংডম, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে  যারা  কমনওয়েলথ মিলিটারি সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের মধ্যে ১.৭ মিলিয়ন সমাধিস্থ হয়েছেন মোট ১৫৩টি দেশে, ২৩ হাজার আলাদা আলাদা সমাধিক্ষেত্রে। এই সমাধিগুলির দেখাশোনা করে থাকেন কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশন। War Graves বলতে বোঝায় মিলিটারি অপারেশনের সময় নিহত সৈন্য দলের সদস্য এবং সাধারণ মানুষদের।)  

No comments: