Saturday, December 6, 2025


 


সিরিজ: মা/ শৌভিক রায়  
পর্ব- একত্রিশ 

ভোর ভোর বেলা। ঝুপি ঝুপি অন্ধকার। বৃষ্টি হয়েছে। রাতে। জমে আছে মেঘ। জানি। কেটে যাবে। জানি। ঝকঝক করবে কাঞ্চনজঙ্ঘা। উত্তরে। দেখা যাবে। জানি। 
 
স্কুল শেষ। কলেজ শুরু। চলে যেতে হবে। এই যাওয়াই, চলে যাওয়া। মায়ের কাছ থেকে। জানি। যারা ঘর ছাড়ে, তারা ফেরে। কিন্তু ফেরে না। ফিরব আমিও। তবে ফিরব না। কেউ ফেরে না। জানি। 

মায়ের চোখ শুকনো। আমার চোখ শুকনো। আমি কাঁদি না। মা কাঁদে। লুকিয়ে। টের পাই। মায়েরা কাঁদে। 

কান্নাই কি মায়েদের জীবন? মানুষের জীবন? কেন চলে যায় মানুষ? কেন ফেরে না? না, ফেরে। কিন্তু ফেরে না। আবছা হয়ে যায় সব। স্মৃতি হয়ে যায় যাবতীয়। ভারি হয়ে চারদিক। যে ফেরে, সে `সে` নয়। নতুন কেউ। তাকে চিনতে হয়। জানতে হয়। বুঝতে হয়। শুরু হয় সব। নতুন করে। আবার। 

ফেরা। অথচ না-ফেরা। চেনা। অথচ আধা-চেনা। জানা। কিন্তু অজানা।

ঘর ঝাঁট দেয় মা। বারান্দা ঝাড়ে। বাসি ঘর। ঝাঁট না দিলে বেরোতে নেই। মা বলে। ঘরও বাসি হয় মা? খাবারের মতো? বাসি হয়ে যায় সব কিছু? মানুষও? সন্তানও? তবে তুমি কেন বাসি হও না, মা! 

মায়েরা বাসি হয় না। তরতাজা থাকে মা। 

বেরিয়ে পড়ি। এগিয়ে চলি। এগোই? সত্যি? কে জানে। পেছনে পড়ে থাকে মা। বাবা। বাড়ি। 
আবার বাড়ি হবে। নিজের। দাঁড়িয়ে থাকব একদিন। আমিও। কেউ এগিয়ে যাবে। সত্যি? এগোবে? পেছনে ফেলে কাউকে, এগোনো কি যায়! 
মিটিমিটি হাসে সূর্য। সূর্য মানে তো জীবন। 

এই সেই যাওয়া। একেবারে। যেতে হয়। এভাবেই। যায় সবাই। আমিও। 
আমার পরেও কেউ যাবে। এভাবেই। বিষণ্ণ হবে রাত। দিন। চারপাশ। তবু যাবে। ফিরবে না। ফিরবে। কিন্তু ফিরবে না। 

হাত বাড়ালো। সময়। নরম। সেই হাত। শক্ত নয়। টলমলে। চারপাশে অন্ধকার। আমার। বৃষ্টি হয়েছিল। কবে যেন। থেমে গেছে। কিন্তু মেঘ কাটেনি। আসেনি বৃষ্টিওয়ালা। আসবে। মা বলেছে। বুলিয়ে দিয়েছে হাত। স্নিগ্ধ। সেই হাত। মায়ের। 

বৃষ্টি নামাতে হবে। যেভাবেই হোক। অন্ধকার সরাতেই হবে। যেমন করেই হোক। রোদ ঝলমলে দিন আনতেই হবে। যে কোনও উপায়েই হোক। 

রোদ ঝলসালে বৃষ্টিওয়ালা চলে যাবে? মা চলে যাবে? 
যে বৃষ্টিওয়ালাকে ভোলে, সে ভুল করে। বড় ভুল করে। 

যে মা কে ভোলে?
উত্তর নেই। উত্তর হয় না........   

(ছবি- লেখক)      

No comments: