Monday, June 30, 2025


 

অধ্যাপক হিতেন নাগ।
মানুষটিকে চিনতাম সেই ছোট্ট থেকে। পারিবারিক একটা সম্পর্ক ছিল....
ছিল বলছি কেন, আছে। থাকবেও। শিক্ষক হিসেবেও তাঁকে পেয়েছি দিনহাটা কলেজে ইংরেজি অনার্স পড়াকালীন।
বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে নতুন কিছু বলবার নেই। বরং মনে করি, তাঁর মূল্যায়ন আজও হয়নি।
এই মানুষটির জন্মদিন ও প্রয়াণ দিবস ২৯ জুন। এই দিনেই হিতেন নাগ সাহিত্য মঞ্চ ও দিনহাটা কলেজের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত হয়েছিল হিতেন নাগ স্মারক বক্তৃতার। সঙ্গে অধ্যাপক হিতেন নাগের সুহৃদ এবং দিনহাটার প্রাণপুরুষ প্রয়াত কমল গুহর নামাঙ্কিত স্মারক বক্তৃতা।
অধ্যাপক হিতেন নাগের সুযোগ সন্তান শ্রী অনির্বাণ নাগ, আমার রাজাদা, হিতেন নাগ স্মারক বক্তৃতার বক্তা হিসেবে আমাকে আহ্বান করেছিলেন।
`বাংলা সাহিত্যে ভ্রমণ` শীর্ষক সেই বক্তৃতা নিয়ে সত্যিই চিন্তিত ছিলাম। কেননা এর আগে `হিতেন নাগ স্মারক বক্তৃতা` দিয়েছেন লেখক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, অমর মিত্র প্রমুখ প্রখ্যাত মানুষেরা।
এমনিতেই অধ্যাপক হিতেন নাগ, তার ওপর নিজের কলেজ এবং পূর্ববর্তী এত বিখ্যাত মানুষেরা। সুতরাং চাপ ছিল প্রবল।








স্বাগত ভাষণে রাজাদা বরাবরের মতো সাবলীল ভাষায় ফুটিয়ে তুললেন `বক্তৃতামালা` শীর্ষক অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ও প্রয়াত কমল গুহর সন্তান শ্রী উদয়ন গুহ, দিনহাটা কলেজের বাংলা বিভাগের দুই অধ্যাপক, সম্পাদক-কবি-প্রাবন্ধিক শ্রী গৌতম গুহ রায়, প্রাবন্ধিক শ্রী দেবব্রত চাকি প্রমুখদের বক্তব্য শেষে কমল গুহ স্মারক বক্তৃতা ও হিতেন নাগ স্মারক বক্তৃতার দুই কথা-সমন্বয়কারী শ্রী জয়ন্ত চক্রবর্তী ও শ্রী জয়দীপ সরকারের হাত ধরেই সূচনা হল দুটি বক্তব্যের।
`কমল গুহ স্মারক বক্তৃতা`র বিষয় ছিল `বাংলা সাহিত্যে রাজনীতি`। অসাধারণ বললেন লেখক শুভ্র মৈত্র।
হিতেন নাগ সাহিত্য মঞ্চ ও দিনহাটা কলেজকে অজস্র ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আসলে নিজের যে কলেজে পড়েছি, সেই কলেজে এই রকম একটি বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে সত্যিই পরম পাওয়া। তাছাড়াও এই কলেজ থেকে শুরু হয়েছিল এক অন্য ভ্রমণ। সে গল্প অবশ্য আলাদা।
ভ্রমণ সাহিত্য নিয়ে নিজের কথা শেষে, বেশ কিছুটা রাতে যখন বাড়ি ফিরছি, বারবার চোখে ভাসছেন অধ্যাপক হিতেন নাগ। ২০২১ সালের বকলম পত্রিকার `হিতেন নাগ স্মৃতি পুরস্কার` প্রাপক আর ২৯ জুন, ২০২৫ `হিতেন নাগ স্মারক বক্তৃতার বক্তা হিসেবে মনে হচ্ছিল, ওই মানুষটির নীরব আশীর্বাদ যদি না থাকত আমার ওপর, তবে কি সম্ভব হত এইসব!

Tuesday, June 24, 2025



সদ্য দেখে এসেছি ওডিশার হেরিটেজ গ্রাম রঘুরাজপুর ও পিপিলি।

অনবদ্য ওই দুই জনপদের কিছু ছবি থেকে যাক এখানে।  

















###

গত রবিবার (জুন ২২, ২০২৫) উত্তরবঙ্গ সংবাদের ট্র্যাভেল ব্লগে সেই দেখা নিয়েই একটি ছোট্ট লেখা প্রকাশিত হয়েছে। পড়া যাবে নিচের লিঙ্কে-   

https://sauvikr.blogspot.com/2025/06/blog-post_22.html

Sunday, June 22, 2025


 

পটচিত্রের সন্ধানে ওডিশায় 
শৌভিক রায় 

দশ বাই বারো ফিটের ঘরটায় বসে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, এটা স্টুডিও নাকি বিপণী? হস্তশিল্পের কাজ চলছে একদিকে। সেখানে সামিল বাড়ির বাচ্চা-বুড়ো সবাই। মহিলারাও আছেন। তাঁরা অবশ্য বেশি ব্যস্ত বেচাকেনায়। বাড়ির উঁচু দাওয়ায় পসরা নিয়ে দিব্যি বসে আছেন। 

এমনই এক বিক্রেতা তরুণীর সঙ্গে কথা হল। সদ্য পড়াশোনা শেষ করেছেন। জানতে চাইলাম, এর পরের পরিকল্পনা কী। নির্দ্বিধায় বললেন, নিজেদের গ্রামের এই বিপুল সম্ভারকে যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দেওয়া। ভাল লাগল কথাগুলি। বর্তমান প্রজন্মের সবাই বোধহয় এটাই চাইছেন। 

আসলে মাত্র দশ কিমি দূরে পুরী শহর। এত মানুষের ভিড় সেখানে। কিন্তু তাঁদের গ্রাম রঘুরাজপুরে আসেন আর ক`জন! অথচ বিশ্ববন্দিত নৃত্যগুরু কেলুচরণ মহাপাত্র জন্মেছেন এখানে। বিখ্যাত গোতিপুয়া নৃত্যশৈলীরও উৎসভূমি এই গ্রাম। তবে সেসব ছাপিয়েও পটচিত্রের জন্য আজ তার বিশেষ খ্যাতি। নারকেল, পাম, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি গাছের ছায়া সুনিবিড় রঘুরাজপুরে বংশ পরম্পরায় চলে আসছে পটচিত্রের কাজ।      

পটচিত্র কথাটি এসেছে পট্ট অর্থাৎ বস্ত্র আর চিত্র বা ছবি থেকে। কাপড়ের ওপর আঁকা ছবিকে তাই পটচিত্র বলা হয়। ঠিক কবে থেকে পটচিত্রের চল সেই বিষয়ে প্রামাণ্য কোনও তথ্য নেই। তবে মনে করা হয়, দ্বাদশ শতকে এর উদ্ভব। আজকের দিনে ছবি আঁকার জন্য মূলত তসর ব্যবহৃত হলেও, অন্য কাপড়েরও চল রয়েছে। কাপড়ের ওপর প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহারের আগে, তেঁতুল বীজের আঠার প্রলেপ দেওয়াই রেওয়াজ। রঙের জন্য ব্যবহার করা হয় শঙ্খের ও বিভিন্ন পাথরের  গুঁড়ো, কেরোসিন তেলের আলো থেকে প্রাপ্ত কালি, শাকসবজি ইত্যাদি। কখনও দুটো কাপড়কে জোড়া দিয়ে আঁকার চলও প্রচলিত। বিষয়বস্তু হিসেবে রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের নানা কাহিনীর পাশাপাশি অতি অবশ্যই জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রা স্থান পান।

মনে করা হয়, জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা ও রথযাত্রাকে কেন্দ্র করেই পটচিত্রের আবির্ভাব। রীতি অনুসারে স্নানযাত্রার সময় তাঁদের তিন ভাইবোনকে ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করানো হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। দর্শন দিতে পারেন না। তখন জগন্নাথ দেবের প্রতিভূ হয়ে দেখা দেন পুরীর কুড়ি কিমি দূরে, মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের স্মৃতিবিজড়িত ব্রহ্মগিরি শহরের আলারনাথ। আবার রথযাত্রার সময়েও জগন্নাথ দেবের দর্শন পাওয়া যায় না, যেহেতু তিনি তখন থাকেন মাসি গুন্ডিচা দেবীর কাছে।

যেহেতু বহু সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব জায়গায় যাওয়া সম্ভব নয়, তাই পরিধেয় বস্ত্রের ওপর তাঁদের ছবি আঁকার প্রচলন শুরু হয়। কালক্রমে সেটিই পরিণত হয় পটচিত্রে। তবে শুধু পটচিত্র নয়, শুকনো তালপাতার ওপর আঁকা দেখলেও চমকে উঠতে হয়। সরু পাতাগুলিকে ভাঁজ অথবা সেলাই করে যে ছবি আঁকা হচ্ছে, সেগুলি চাক্ষুস না দেখলে বোঝা যায় না কতটা সূক্ষ সেসব কাজ। এসব বাদেও নারকেলের ছোবড়া দিয়ে বানানো বিভিন্ন শোপিস, সুপারির ওপর আঁকা ছবি ও নকশা দেখে স্তম্ভিত হতে হল। পাথরের ওপর কাজগুলিও অনবদ্য। 

শিল্পীগ্রাম বলে খ্যাত রঘুরাজপুরে পৌঁছোনো মাত্রই মন ভরে উঠেছিল সুদৃশ্য বাড়িগুলি দেখে। প্রতিটি বাড়ির দেওয়াল সুন্দর সব ছবিতে সজ্জিত। নানা কিছু এঁকে রেখেছেন এই গ্রামের শিল্পীরা। বাড়িগুলি নিজস্বতায় আলাদা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। প্রায় একশো তিরিশটি পরিবারের প্রায় সকলেই শিল্পী। এরকম একটি গ্রামও যে থাকতে পারে, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না কখনও।  

বরং রঘুরাজপুরের আটাশ কিমি দূরে পিপিলিতে এসে প্রথমটায় হতাশ হলাম। আসলে আমার ধারণা ছিল রঘুরাজপুরের মতো এটিও একটি গ্রাম। কিন্তু পিপিলি ইতিমধ্যেই শহরের আকার নিয়েছে। পিপিলিতে আসবার কারণ একটাই। পুরীর রথযাত্রার সময় রথগুলিকে যে বিরাট বিরাট রঙিন কাপড়ে সাজানো হয়, সেগুলি তৈরি করেন এখানকার মানুষেরা। তাছাড়াও এপ্লিকের কাজের জন্য বিখ্যাত হল এই জনপদটি। চাঁদোয়া, ছাতা, কাপড়ের ব্যাগ, মানিব্যাগ, মেয়েদের পোশাক ইত্যাদির জন্য ওড়িশা তো বটেই, দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন এখানে। পাসাপালি ডিজাইন ও সম্বলপুরী ইক্কতের খনি হল পিপিলি। তাজ্জব হলাম এখানকার ছোট ছোট দোকানগুলির বিপুল পরিমান মজুত দেখে। প্রত্যেকটি বিপণী নিজের মতো করে অনবদ্য। 

তবে রঘুরাজপুরের গ্রাম্য সৌন্দর্য নেই এখানে। আধুনিক সভ্যতার স্পর্শে সে যেন একটু অন্য ধরণের।  অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই ইউনেস্কোর `হেরিটেজ ক্রাফট ভিলেজ`-এর মর্যাদা পেয়েছে রঘুরাজপুর। পিপিলি অবশ্য ব্যবসার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে রীতিমতো পরিচিত। 

দুটি জনপদের মিল একটি জায়গায়। এখানকার মানুষেরা হাজার বছরের ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। আবহমানকাল থেকে এইভাবে শিল্পকে আঁকড়ে ধরে  বেঁচে থাকার দৃষ্টান্ত খুব কম। শিল্প তাঁদের কাছে শুধুমাত্র জীবিকা নয়।  বরং এক অন্তর্গত তাগিদ...ভেতর থেকে উঠে আসা একমাত্র ভালোবাসা।  



প্রকাশিত: রংদার রোববার/ উত্তরবঙ্গ সংবাদ/ জুন ২২, ২০২৫

Tuesday, June 17, 2025


 

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভিটে। 

বহুবার নৈহাটি স্টেশনে ট্রেনে বসে বাড়িটি দেখেছি। 
প্রতিবারই ভেবেছি, ভালভাবে দেখতে হবে। অবশেষে এতদিনে সেই সুযোগ হল।

বিরাট বাড়িটি সযত্নে রক্ষিত। বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মস্থানটি আলাদা করে সাজানো। বিভিন্ন ঘরগুলিতে প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর পালঙ্ক, মাথার পাগড়ি, পারিবারিক গানের খাতা, ব্যবহৃত শাল, দাবার ঘুঁটি, দেওয়াল ঘড়ি, আলমারি, তাঁর ব্যবহৃত টেবিল ইত্যাদি বহু কিছু। তাঁর বিখ্যাত বইগুলির প্রথম সংস্করণের ছবি সহ পুরো পরিবারের সচিত্র পরিচয় সত্যিই ভাল লাগে। ভাস্কর বিপিন গোস্বামী ও নিরঞ্জন প্রধানের `কৃষ্ণকান্তের উইল`-এর কৃষ্ণকান্তের ও `বিষবৃক্ষ`-এর কুন্দনন্দিনীর মূর্তি দুটিও অসামান্য। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মভিটের এই গ্যালারিতে স্থান পেয়েছেন রয়েছেন সমরেশ বসু ও হরপ্রসাদ শাস্ত্রীও। 









নৈহাটির গর্ব তাঁরাও। বাড়ি লাগোয়া ১৭৭২ সালে নির্মিত রাধাবল্লভ জিউয়ের মন্দির। এমনিতেও বঙ্কিমচন্দ্রদের পারিবারিক মন্দিরটিও আছে বৈঠকখানার পাশেই। 

আজকাল `বড়মা` দর্শনে অনেকেই নৈহাটি যাচ্ছেন। রেল লাইনের পশ্চিম দিকে তাঁর মন্দির। আর লাইনের পূর্ব দিকে `বন্দে মাতরম` রচয়িতার বাড়িটি। ইচ্ছে করলে দেখা যেতেই পারে সেটি। এটুকু তো তাঁর প্রাপ্য। স্বাধীনতা আন্দোলনে যে মন্ত্র বুকে নিয়ে আমাদের অগ্রজরা প্রাণ দিলেন, সেই মন্ত্রের জনককে শ্রদ্ধা জানানোটা আমাদের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে বলে আমার বিশ্বাস। 




Tuesday, June 10, 2025


 

পর্ব পুরী  
শৌভিক রায় 

সালটা সম্ভবত ১৯৮২। ঠাকুরদা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন বলে। পুরীর রিজার্ভেশন ক্যানসেল করতে হল। কিছুদিন রোগ ভোগের পর প্রথমে তিনি আর তারপর কয়েক বছরের ব্যবধানে দিদা (যদিও ঠাকুমা বলা উচিত) চলে গেলেন। ওঁদের আর পুরী দেখা হল না। জগন্নাথ দর্শনের জন্য দিদা ছিলেন উতলা। ওই একটা অতৃপ্তি তাঁর রয়ে গিয়েছিল। 

পুরী এলেই তাই দিদাকে মনে পড়ে। এবার যখন শ্রী গম্ভীরায় ঢুকছি তখন মনে হল, দিদা সঙ্গেই বোধহয়। আমার পাশে।

###

পুরী প্রথম যাই আজ থেকে বছর পঁয়ত্রিশ আগে। সেবার উঠেছিলাম সাউথ ইস্টার্ন রেলের হলিডে হোমে। স্টেশন থেকে হরিহর চৌক এসে বা দিকে ঘুরলেই চক্রতীর্থ রোডে কিছুটা এগোলে বি এন আর চাণক্য হোটেল। মোটামুটি তার উল্টোদিকে ছিল সেই হলিডে হোম। সামনে সমুদ্র। 

ওদিকটা তখন ফাঁকা ফাঁকা। হলিডে হোমের কাছে সোনার গৌরাঙ্গ ছাড়া আর কোনও মন্দিরের কথা মনে পড়ছে না। বরং মাছের গন্ধ মাখা নুলিয়া বস্তি ছিল একটু দূরেই। ভুলিনি উঁচু নিচু বালিয়াড়ি, কাঁটাঝোপ আর অনেকটা জায়গা নিয়ে পেল্লায় পেল্লায় বাড়িগুলির কথা। তাদের অনেকগুলিই ছিল পরিত্যক্ত। কোনও কোনও বাড়ি বালিতে প্রায় ঢাকা। কেন যেন মনে হত, সত্যজিৎ রায় এই বাড়িগুলি দেখেই বোধহয় `হত্যপুরী`র সেই অসামান্য স্কেচগুলি করেছিলেন!

সেবার জগন্নাথদেবের মন্দিরে দর্শন খুব সহজেই হয়েছিল। ভিড় আর তখন কোথায় তেমন! হলিডে হোমের পাণ্ডা মহাপ্রসাদের হাঁড়ি দিয়ে গেলেন একদিন। সত্যিই খেয়ে শেষ করা গেল না এতজন মিলেও। সবুজ চেক শার্ট আর সাদা প্যান্ট পরে চন্দ্রভাগা, কোণার্ক, ধৌলি, ভুবনেশ্বর, উদয়গিরি, খন্ডগিরি, নন্দনকানন ইত্যাদি দর্শনের কথাও ভুলিনি। সেবারই প্রথম।

###

পরেও বেশ কয়েকবার গিয়েছি পুরী। একবার ছিলাম উল্টোরথে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সঙ্গে রথের দড়িতে টান দিয়েছিলাম সেবার। বিগ্রহ দর্শন করেছিলাম খুব কাছ থেকে। রাতের বেলায় জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার স্বর্ণবেশ (স্থানীয় ভাষায় সোনা কাপড়) দেখাও ছিল আজীবনের অভিজ্ঞতা। আর তার পরদিন রথে উঠে দু`হাত দূর থেকে তিন বিগ্রহকে দেখা জীবনের স্মরণীয় ঘটনাগুলির একটি।











###

এই সবের মাঝে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন শ্রী চৈতন্য। অথচ পুরীর মন্দিরে পাথরের স্তম্ভে তাঁর আঙুলের ছাপ দেখেছি কয়েকবার। তবে এবার যা ভিড় দেখলাম, তাতে মন্দিরের ভেতরে খুঁটিয়ে দেখার দিন বোধহয় শেষ। 

শ্রী গম্ভীরায় ঢুকবার সময় মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিলাম। কিন্তু মনে হল দিদা যেন ফিসফিস করে বলছেন, `নাই মামার চ্যায়া কানা মামা ভাল। এতো দিন আসোস নাই তো কী? তরে টানে নাই। অহন টানছে। যা ভিতরে যা। তর চক্ষু দিয়া আমিও দেখি।` গা কাঁটা দিয়ে উঠলো। কোথায় দিদা? দিদা তো সেই কবে.....

###

জগন্নাথদেবের মন্দিরের কাছেই বালুসাহির এই মঠে জীবনের শেষ কয়েক বছর কাটিয়েছেন মহাপ্রভু। গম্ভীরা বলতে বোঝায় ঘরের মধ্যে ঘর। কাশী মিশ্রের সেই বাড়ি আজ রাধাকান্ত মঠ নামেও পরিচিত। এখানে এখনও রক্ষিত মহাপ্রভুর পাদুকা, কমণ্ডলু, চাদর। নিত্য পুজো হয় রাধাকৃষ্ণের মূর্তির। একদিকে তুলসী মালা গাঁথতে দেখলাম কিছু মহিলাদের। সুপুরুষ এক ভক্ত খোল করতাল বাজিয়ে নামজপ করছিলেন সুরেলা গলায়। ছবি তোলা নিষিদ্ধ। ইচ্ছেও করবে না অবশ্য ওই সুন্দর পরিবেশে। 

ভাল লাগছিল ভেবে যে, একটু আগে দেখে এসেছি আলরনাথ মন্দির। এই মন্দিরটিও শ্রী চৈতন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। আসলে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার আগে হয় স্নানযাত্রা। সেই সময় তিনি দর্শন দেন না। কিন্তু শ্রী চৈতন্য বলেন যে, আলরনাথে তিনি জগন্নাথদেবকে দর্শন করেছেন। পুরীর ২০ কিমি দূরের সেই আলরনাথ মন্দিরে অন্য সময় তেমন দর্শনার্থী না থাকলেও, স্নানযাত্রার দুই সপ্তাহ থাকে ভিড়ে ঠাসা। 

###
শ্রী গম্ভীরা থেকে বেরিয়ে লাগোয়া আর এক মন্দিরে গেলাম। নাম তার সিদ্ধ বকুল। সেখানে পাওয়া গেল অক্ষয় এক গাছ। বলা হয় এই গাছের ডাল আদতে নাকি জগন্নাথদেবের `টুথ পিক`। মন্দির থেকে শ্রী চৈতন্য এনেছিলেন। যত্ন করে পুঁতে ছিলেন। কিন্তু তাঁর মহিমায় সেই ডাল বিরাট গাছে পরিণত। অদ্ভুত হল সেই গাছের কোনও কাণ্ড নেই। শুধু বাকল রয়েছে। আর তার ওপর দাঁড়িয়ে পূর্ণবয়স্ক গাছটি। হরিদাস ঠাকুরের বাসভবনের এই গাছটি নাকি রাজার লোকেরা কাটতে এসেছিল। প্রথমদিন বাধা পেয়ে তারা ফিরে যায়। পরদিন যখন আবার আসে, তখন দেখে গাছের কাণ্ড ফাঁকা। শুধু বাকল পড়ে রয়েছে। 

বিশ্বাস অবিশ্বাস পরের কথা। চোখের সামনে অদ্ভুত গাছটি দেখে বিস্মিত তো হতেই হল। 




###
এখানে একটু ঋণ স্বীকার আছে। আমার প্রিয় ছাত্র প্রসাদের কাছে। প্রসাদ যদি না বলত তবে বোধহয় এবারও শ্রী গম্ভীরা দর্শন হত না। দেখতে পেতাম না আরও একটি অপূর্ব স্থান। তবে তার কথা পরে।



  



    
গুগল বলছে ভারতের জনসংখ্যার ৭৯.৮, ১৪.২ ও ২.৩ শতাংশ মানুষ যথাক্রমে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টান। অন্য ধর্ম যেগুলি আছে, তার মধ্যে  ১.৭ শতাংশ হলেন শিখ ধর্মাবলম্বী। বৌদ্ধ, জৈন, জরাথ্রুস্টিয়ান, ইহুদি সহ আরও কিছু ধর্মের মানুষও রয়েছেন এই দেশে।  

সর্বধর্ম সমন্বয় বললে অবশ্য আমরা মূলত হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মকেই বুঝি। কেন জানি না, অন্য ধর্মের কথা ভাবিই না। অথচ ওই সব ধর্মের মানুষদেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে বহুত্ববাদের এই দেশে। আর সবাই মিলেই তৈরি হয়েছে এক অপরূপ বৈচিত্র। 

পুরীর গুরুদ্বারা বাউলি সাহিবে গিয়ে এটাই মনে হচ্ছিল বারবার। এই জায়গাটির প্রাচীনত্ব নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলা হয়, জগন্নাথদেব দর্শনে এসে স্বয়ং গুরু নানক এখানে অবস্থান করেছিলেন। থেকে ছিলেন দুই মাস। পুরীর রাজা নাকি সেই সময় অনেকটা জমিও দান করেন তাঁকে। এখানে থাকবার সময় গুরু নানক একটি কুয়োও খনন করেন। দেধাসুর ভাই বহু কুয়া নামে পরিচিত মিষ্টি জলের এই কুয়ো প্রায় বারো কিমি জুড়ে থাকা মানুষের তৃষ্ণা মেটাত একটা সময়। এখানে রাখা গ্রন্থ সাহিব অত্যন্ত প্রাচীন। 

খুব ভাল লাগল গ্রন্থ সাহিব যে কক্ষে রাখা, ঠিক তার পাশের কক্ষেই জগন্নাথদেবের মূর্তি। পূজিত হচ্ছেন তিনি গ্রন্থ সাহিবের সঙ্গেই। হিন্দু ও শিখ ধর্মের এরকম সমন্বয় এই প্রথম দেখলাম। শিখ উদাসীন সম্প্রদায় ও হিন্দুদের এই পবিত্র উপাসনালয়টি দেখে মনে হল, পুরী সত্যিই অনন্য। বেনারস ছাড়া সম্ভবত ভারতের অন্য কোনও জায়গায় নানা ধর্মের এরকম সহাবস্থান দেখা যায় না। 







পুরীতে আরও কিছু গুরুদ্বারা আছে। তার মধ্যে মঙ্গু মঠ নিয়ে কিছুদিন আগে বিতর্ক হয়েছিল। আরতি সাহিব নামেও একটি গুরুদ্বারা আছে। তবে সেগুলিতে আর যায়নি। গুরু নানকের স্মৃতি বিজড়িত এই গুরুদ্বারা দেখবার পর, আর কিছু না দেখলেও চলে। স্বর্গদ্বার থেকে জগন্নাথদেবের মন্দিরের দিকে যে রাস্তা গেছে সেই পথে একটু হাঁটলেই দেখা যায় বাউলি সাহিব। 

তবে বাউলি সাহিবের যে ভগ্নদশা তাতে যদি দ্রুত সংরক্ষণ না করা যায়, এক দুরন্ত ইতিহাস হারিয়ে যাবে। কোনও সন্দেহ নেই তাতে।  

###
জুন-জুলাই মাসে চন্দন যাত্রার সময় জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি এখানে এনে চন্দন কাঠের গুঁড়ো দিয়ে পরিষ্কার করা হয় বলে, এই জলাশয়ের নাম চন্দন পুষ্করিণী। কৃত্রিম এই জলাশয়টি অবশ্য নরেন্দ্র পুকুর নামেও পরিচিত। পনেরো শতকে পুরীর তদানীন্তন রাজা গজপতি কপিলেন্দ্রদেবের ভাই নরেন্দ্র দেব খনন করিয়েছিলেন। পুরীর সবচেয়ে বড় জলাশয় এটিই। ষোলোটি ঘাট রয়েছে এখানে। জলের মাঝে ছোট্ট দ্বীপে চন্দন মণ্ডপ নামে একটি মন্দিরও রয়েছে। 









###
বিভিন্ন মঠ আর মন্দিরের ফাঁকে একটু আলাদা হওয়ার জন্যই গিয়েছিলাম সুদর্শন ক্রাফ্টস মিউজিয়ামে। প্রখ্যাত শিল্পী সুদর্শন সাহু ১৯৭৭ সালে অন্যায় শিল্পীদের সঙ্গে এই মিউজিয়ামটি তৈরি করলেও আগে দেখিনি কখনও। এখানকার জাপানি প্যাগোডা আর প্রদর্শিত অন্যান্য সামগ্রী ভাল লাগতে বাধ্য। লাগোয়া স্যুভেনির শপ থেকেও সংগ্রহ করা যায় অনেক কিছুই। 







###
এক সময় বাঙালিদের বহু কিছু ছিল পুরীতে। এখনও বহু বাঙালি রয়েছেন এখানে। তবে সেই স্বর্ণযুগ আর নেই। তাদের বিরাট বিরাট বাড়িগুলি ভেঙে কবে যেন উঠে গেছে ছোট খুপরির বহুতল। নতুন নতুন মঠ তৈরি হয়েছে বর্ধিত পুরীতে। নিউ মেরিন ড্রাইভে একের পর এক হোটেল। রিং রোড ধরে ভুবনেশ্বরের দিকে একটু এগোলেই দেখা যায় এয়ারপোর্ট নির্মাণের কাজ। বিমানবন্দর হয়ে গেলে নিউ মেরিন ড্রাইভে আর একটিও ফাঁকা জায়গা থাকবে না। মাতা মঠের দিকে যে টাউনশিপ উঠছে, তাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাজু গাছগুলি।







###
এসব ভাবতে ভাবতেই চলে এসেছিলাম সাতপাদার গাবাকুণ্ডে। চিলিকার ডলফিন দেখতে.... 



     


###
এশিয়ার সর্ববৃহৎ `ব্র্যাকিশ ওয়াটার লেগুন` চিলিকার সঙ্গে সখ্য আমার অনেকদিনের। একটা সময় যখন প্রতি বছর একবার হলেও দক্ষিণ ভারত যেতে হত, সেই সময় ট্রেন খুরদা রোড ছাড়লেই অপেক্ষা করে থাকতাম কখন চিলিকা আসবে। টেবল মাউন্টেন, রম্ভা নামের স্টেশন, ট্রেনের দুরন্ত বাঁক আর দিগন্ত বিস্তৃত নীল হ্রদ...চিলিকা বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিত। 

তাই পুরী গেলে চিলিকা মোটামুটিভাবে একবার ঘুরে আসা হয়। এর কারণও আছে। কেননা কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে গিয়ে একবারে চিলিকা দেখা কখনই সম্ভব না। ঠিকঠাক দেখতে গেলে দিন কয়েক লেগে যাবে। 













###
এবারের দেখাটা ছিল  সাতপাদা থেকে। বোট নিয়ে গেল হ্রদের মাঝে। দেখা গেল চিলিকার বিখ্যাত ডলফিন। ঝাঁক বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এত দ্রুত জলের তলায় চলে যায় একবার মাথা উঁচিয়েই যে, ছবি তুলতে পারলাম না। কিছু পাখি দেখা গেল। মে মাসের গরমে তবু যে দুই একটি পাখি পেয়েছি এটিই অনেক। এমনিতে শীতকালে ২৫০ প্রজাতির ওপর পাখির দেখা মেলে। মাছ রয়েছে প্রায় একশো ধরণের। কাঁকড়ার প্রজাতি দশ। প্ল্যান্ট রয়েছে ৭৫০-এর ওপর। তথ্য আরও অনেক দেওয়া যায়। কিন্তু থাকে সেসব। 

###
চিলিকার বুকে যে দ্বীপগুলি মোটামুটি পরিচিত সেগুলির মধ্যে হানিমুন আইল্যান্ড, ব্রেকফাস্ট আইল্যান্ড, সোমোলো, দুমকুড়ি ইত্যাদি বিখ্যাত। কলিজাই মন্দিরে বহু মানুষ যান। নবগ্রহ, চৌবার, মনিকা পাটনা ইত্যাদিও পরিচিত ধর্মস্থান। মঙ্গলজোরি বিখ্যাত পাখিদের জায়গা বলে। 

###
চার ঘন্টার বোটিংয়ে এক দ্বীপে এই প্রান্তে নেমে অন্য প্রান্তে সমুদ্রও দেখা গেল। তবে এবার সি-মাউথে যাইনি আর। 

###
চিলিকা নিয়ে নানা গবেষণা হয়েছে। এখনও হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসেও চিলিকা জায়গা পেয়েছে। চিলিকা নিয়ে লেখা যায় বহু কিছু। কিন্তু সেসব গবেষকদের কাজ।  




 

###
পর্ব পুরীর শেষে বিশেষ কিছু বলবার নেই। 

###
কলিঙ্গ স্থাপত্যের জগন্নাথ দেবের মন্দিরের প্রাচীনত্ব নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই। অবন্তি রাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরের পুনর্নির্মাণ হয়েছিল ১১ শতকে। শ্রীচৈতন্য থেকে রামানুচার্যের মতো মানুষেরা এই মন্দির দর্শন করেছেন। প্রতিদিন লক্ষ লোকের সমাগম হয় এই মন্দিরে। মন্দির নিয়ে গল্পও প্রচুর। সে সব কমবেশি সকলেই জানেন। 

অতীতে বহুবার ক্যামেরা নিয়ে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করেছি। আজকাল সব কিছু বাইরে রাখতে হয়। অপেক্ষা করতে হয় লাইনে দাঁড়িয়ে। সকাল সাড়ে ছয়টায় লাইন দিয়ে মন্দিরের চার দেওয়ালের ভেতরে প্রবেশ করলাম সাড়ে সাত নাগাদ। মূল মন্দিরে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করতে হল আরও প্রায় আধাঘন্টা। ঠেলাঠেলি গুঁতোগুঁতি করে গর্ভগৃহে ঢুকতে পেলাম আরও কিছুটা পরে। শেষটায় যে তাড়াহুড়ো করে সাধারণ মানুষ, তাতে ভয় হয় কোনও বিপদ না ঘটে। ক্লান্তি আসে শরীরে ও মনে। 

তবে সব উধাও হয়ে যায় অনিন্দ্যসুন্দর তিন মূর্তি দেখে। এ এক বিরাট পাওনা। কেননা তিনি না দর্শন দিলে, হাজার চেষ্টাতেও কিছু হয় না। 

জগন্নাথ দেবের রান্নাঘর, পুরোনো মূর্তি যেখানে সমাধি দেওয়া হয় সেই জায়গাও দেখে নেওয়া উচিত। আর মন্দিরের নিজস্ব ডোনেশন ডেস্কে প্রণামী দেওয়াটা ব্যক্তিগতভাবে ভাল বলে মনে করি। সেখান থেকে প্রসাদও কেনা যেতে পারে। 
















####
পুরী ভারতের বিখ্যাত চার ধামের অন্যতম। বিষ্ণু ক্ষেত্র। বলা হয়, ভগবান বিষ্ণুর জাগরণ বদ্রিতে, স্নান দ্বারকায়, আহার পুরীতে ও নিদ্রা রামেশ্বরমে। ভারতের চার প্রান্তে এই চার ধাম সব দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিষ্ণু কৃপায় চার ধাম দর্শন হয়েছে আমার। এটা জীবনের বড় পাওনা। 

আজকাল অবশ্য `ধাম` নিয়ে বিতর্ক চলছে। সেই বিতর্কে ঢুকছি না। তবে এটা না হলেই বোধহয় ভাল ছিল।           

###
স্বর্গদ্বারের গোল্ডেন বিচে সন্ধেবেলায় মারকাটারি ভিড়। বেলাভূমিতে রাজ্যের দোকান। অস্থায়ী মেলা। একটু সামনে বিচের মধ্যে কনস্ট্রাকশন চলছে। শুনলাম কিছু দোকানপাট সেখানে নেমে যাবে। সত্যি মিথ্যে জানি না। যদি সেটা হয়, তবে বলব আর একটা মূর্খামি হবে। পরিবেশের এমনিতেই যে দফারফা দেখছি, তাতে আরও বারোটা বাজবে। 

###
কোণার্কও বদলে গেছে অনেকটা। রাজ্যের দোকানপাট। হৈচৈ। আগের সেই আরণ্যক পরিবেশটা নেই। বাদবাকি যেসব জায়গাগুলি সবাই দেখে, সেগুলি এবার ব্রাত্য রেখেছিলাম।  

### 
সব শেষে কিছু ছবি। এবারের পুরী ভ্রমণে আমার আর রীনার সঙ্গী ছিলেন রীনার মা ও আমাদের কোচবিহারের বাড়ি বিগত তেইশ চব্বিশ বছর ধরে যে সামলাচ্ছে, সেই স্বপ্না। মূলত এই দুইজনের জন্য এবারের পুরী যাত্রা। গরমে কষ্ট হয়েছে। বন্দে ভারত বহু লেট্ করে `মধুরেণ সমাপয়েৎ` হয়েও হয়নি হয়ত। কিন্তু পুরী তো পুরীই। দিন দশেক পরে যখন টিভির পর্দায় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা দেখব, মনে পড়বে এই রথ বানানো দেখে এলাম এই সেদিন। হেঁটে এলাম এই রাস্তাগুলি ধরে। 

আসলে পুরী তো চিরদিনের। হাজার বদলে গেলেও, পুরী একই রয়ে যাবে বাঙালি মননে।