সেই আলো আজও
শৌভিক রায়
বড়দাকে হন্তদন্ত হয়ে বাড়িতে ঢুকতে দেখে সোজা পালিয়েছি রান্নাঘরে।
বাড়ি বলতে ফালাকাটা হাই স্কুলের কোয়ার্টার্স। তখন দুটো ছিল। একটিতে আমরা থাকতাম। অন্যটিতে পণ্ডিতকাকুরা। পরে আরও দুটো তৈরি হয়। জহরস্যার ও প্রদীপস্যার সেই দুটিতে আসেন। আজকের মতো মুখোমুখি নয়। চারটে কোয়ার্টার্স তখন পাশাপাশি ছিল। আর কোয়ার্টার্সগুলির সামনে ইংরেজি এল আকারের কয়েকটি ঘর। সেগুলিতে ইলেভেন-টুয়েলভের ক্লাস হতো। ১৯৮১তে ফালাকাটা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওই ঘরগুলিতেই। আজকের কমিউনিটি হলের জায়গায় তখন খোলা মাঠ আর ফালাকাটা হাই স্কুল হোস্টেলের ক্ষেত। সেখানে সবজি চাষ হত। ক্ষেতের পরেই ছিল হোস্টেল। পুলকস্যার হোস্টেলের একটা ঘরে থাকতেন। সেই ঘরগুলি আজ বোধহয় সরকারি কোনও কাজে ব্যবহার করা হয়। হোস্টেল আর ক্ষেতের পাশ দিয়ে স্কুল থেকে সোজা কোয়ার্টার্সে চলে আসা যেত। মাঠের উত্তরে ঢাকেশ্বরী মিষ্টান্ন ভান্ডার আর গোপাল করের মিষ্টির দোকানের জল জমে থাকত প্রায়ই। পার্ক তখন ছিল না। সুদৃশ্য বিএলআরও অফিস, খাসমহল ময়দান, ড্রামাটিক হল ইত্যাদি সব মিলে ওই পুরো এলাকা ছিল আমাদের দুষ্টুদের দৌরাত্ম্যের স্বর্গভূমি। আমরা অর্থাৎ বেসিক স্কুলের ছাত্র রণজিৎ মাহেশ্বরী, রাজা মাহেশ্বরী, প্রণব রায়, বাপি (সুদীপ্ত) আচার্য, বিপ্লব তালুকদার, অনুপ ভৌমিক আর অন্য স্কুলের পুটন (দেবব্রত) ঘোষ, ঋত্বিক চৌধুরী প্রমুখ সবাই মিলে চলত হুটোপুটি। সেই হুটোপুটিই করছিলাম সেদিন। বড়দাকে দেখে সোজা রান্নাঘরে। দিনহাটা থেকে ঠাকুরদা-ঠাকুমা এসেছেন। তাঁদের কাছে থাকলে বাবার পিটুনি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। কেননা বড়দা তো আর এমনি আসবেন না! আমার দুষ্টুমির কথাই জানাতে এসেছেন নির্ঘাত।
যাহোক, বড়দার সঙ্গে ঠাকুরদা কথা বললেন। বাবা তখনও স্কুল থেকে ফেরেননি। কী কথা হল সেটা জানবার জন্য দুরুদুরু বুকে, দিদার পাশে, রান্না ঘরে বসে, অপেক্ষা করে আছি। ঠাকুরদা এসে বললেন, `শুনছ...নীরদের মা, নীরদের ছোট পোলা বৃত্তি পাইছে। অপরেশবাবু সেইডা কইতে আসছেন। পোলায় কই? ওরে পাঠাও। প্রণাম করুক গিয়া।`
পোলা আর কোথায়! পোলার তখন ভিরমি খাওয়ার অবস্থা। ক্লাস ফোরে যে বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম সেটা কি আর মনে আছে! বৃত্তি পাবো সে আশাও করিনি কোনও দিন। কাজেই ঘোর কাটছে না। কোনও মতে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটে গিয়ে বড়দার পা ছুঁয়ে ছিলাম। আমার জীবনের এখনও অবধি সেরা প্রাপ্তি সেটিই। সেদিন যে শিক্ষকরা আমাকে তৈরি করেছিলেন তাঁদের কাছে জীবনের শেষ পর্যন্ত আমি ঋণী রইব। পরবর্তী জীবনে আরও কয়েকবার বৃত্তি, ডিসটিংশন ইত্যাদি পেয়েছি। কিন্তু বেসিক স্কুলের ছাত্র হিসেবে ক্লাস ফোরের সেই মাসিক ৭ টাকার বৃত্তির যে কী মূল্য, তা একমাত্র আমিই জানি। আর তাঁর জন্য সব কৃতিত্ব আমার স্কুলের। বড়দা থেকে শুরু করে যাঁরা সেই সময় আমার শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের সকলের প্রচেষ্টা ছিল সেই বৃত্তি পাওয়ার পেছনে। সেই আমলে সরকারি ওই বৃত্তি পাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। ফলে সেটি একটা `ইভেন্ট` হয়েছিল তখনকার ফালাকাটার শিক্ষা জগতে।
বেসিক স্কুলে আমি ভর্তি হয়েছিলাম ১৯৭৭ সালে। ক্লাস থ্রি-তে। সেশনের মাঝে। চাকরি সূত্রে আমার বাবা ফালাকাটায় থাকলেও, আমাদের বাড়ি ছিল দিনহাটায়। মা দিনহাটা গার্লস হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। অনেক পরে ফালাকাটা হাই স্কুলে যোগ দেন। আমি দিনহাটা গোপালনগর শরণার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু ছোট কাকুর অকাল মৃত্যু আমাকে এতটাই বিষণ্ণ করেছিল যে, দিনহাটায় থাকতে পারিনি। আমার সৌভাগ্য ফালাকাটা বেসিক স্কুল আমাকে বছরের মাঝেও ভর্তি নিয়েছিল।
বেসিক স্কুলের কথা ভাবলেই যাঁর কথা সবার আগে মনে হয় তিনি শ্রদ্ধেয় প্রয়াত অপরেশ ভৌমিক। আমার অত্যন্ত সৌভাগ্য, তাঁর সান্নিধ্যে আসতে পেরেছিলাম। বড়দাদের পরিবারের সঙ্গে অবশ্য আমাদের বহু আগে থেকেই সখ্য ছিল। বড়দার কনিষ্ঠ সন্তান বাবলু ছিল আমার সমবয়সী। তবে আমার বেশি ভাব ছিল ওঁর মেজো সন্তান প্রবীরদার সঙ্গে। সেটি অবশ্য আজও আছে। জ্যেষ্ঠ সন্তান সুবীরদা সেই আমলের ডাকসাইটে ছাত্র। পরবর্তী জীবনে প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার এই মানুষটির হয়ত আমাকে মনে নেই, কিন্তু তিনি ছিলেন আমাদের প্রেরণা। রাঙাদা শ্রদ্ধেয় কান্তি বসুর মতো মাটির মানুষ জীবনে আর দ্বিতীয়টি দেখিনি। খুব খুব রেগে গেলে উনি আমাদের কপালে চকের ফোঁটা দিয়ে দিতেন। সেটি ছিল চরম শাস্তি।শ্রদ্ধেয়া শেফালি শীল দিদিমণির দুই কন্যা মধুমিতাদি ও নন্দিতা এবং পুত্র ভোলা সহ রাঙাদার বাড়িতে আমরা মাঝেমাঝেই হামলা চালাতাম। আমাদের সব অত্যাচার উনি হাসি মুখে মেনে নিতেন। মেজদা শ্রদ্ধেয় ভূপেন ধর ও সেজদা শ্রদ্ধেয় সন্তোষ-দে কে কমবেশি প্রত্যেকে ভয় পেতাম। ওঁদের মধ্যে যে স্নেহের ফল্গুধারা বয়ে যেত সেটা টের পেয়েছিলাম অনেক পরে। শ্রদ্ধেয়া বাসন্তী ভৌমিক, প্রীতি বসু, বকুল দে সরকার, বিজন পাল চৌধুরী, খুকু ঘোষ প্রমুখ দিদিমণিরা প্রত্যেকেই ছিলেন মায়ের বিকল্প। তাঁদের স্নেহচ্ছায়া ভুলতে পারব না কখনই। পরম যত্নে তাঁরা আমাদের লালন করতেন। ক্লাস থ্রি-এর অর্ধেক আর ক্লাস ফোর অর্থাৎ দেড় বছরের অতি ক্ষুদ্র কালখণ্ড আমাকে এতটাই প্রভাবিত করেছে যে, নিজের প্রাইমারি স্কুল বলতে বেসিক স্কুল ছাড়া আর অন্য কোনও স্কুলকে ভাবতে পারি না। অথচ দিনহাটায় কিন্তু আমি আড়াই বছর পড়েছি।
বেসিক স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে থেকেই কিন্তু বেসিক স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। দিনহাটা থেকে ছুটিছাটায় বাবার কাছে এসেই দৌড়তাম বড়দার বাড়ি। খেলবার জন্য। তখন ফালাকাটা হাই স্কুলের পূর্ব দিকের প্রাচীরে একটা গেট ছিল। সেটা দিয়ে বেসিক স্কুলে যাওয়া যেত। গেটের পাশেই হাই স্কুলের ভেতরে ছোট্ট দুটো ঘর নিয়ে স্কুলের দপ্তরি রামদা থাকতেন। জানিনা বেঁটেখাটো চেহারার সেই রামদাকে কারোর মনে আছে কিনা। বেসিক স্কুলের মাঠে আমাদের সঙ্গে খেলায় যোগ দিত মহুয়া আর খোকন। মহুয়া ছিল ফালাকাটা গ্রামীণ হাসপাতালের প্রখ্যাত ডাক্তার প্রয়াত এস এন চৌধুরীর মেয়ে। ওরা থাকত হাসপাতাল কোয়ার্টার্সে। সেটি বেসিক স্কুল লাগোয়া ছিল। খোকন হল ফালাকাটা গার্লস হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত হেডমিস্ট্রেস শ্রীমতী মায়া বোসের পুত্র। আর থাকত প্রীতি দিদিমণির পুত্র আখু। মধুমিতাদি, নন্দিতা ও ভোলার কথা আগেই বলেছি।
আমাদের দলের লিডার ছিল প্রবীরদা। আমরা অবশ্য `বুড়োদা/বুলাদা` ইত্যাদি নামেই ডেকে এসেছি ওকে। একবার রং খেলার দিন মহুয়াদের বাড়িতে রং দিতে গিয়ে তারকাটা ফুটে গেল আমার পায়ে। প্রবল রক্তপাত শুরু হল। মহুয়াদের কোয়ার্টার্সে আমাকে নিয়ে গেল বাকিরা। কিন্তু ওরা রঙের ভয়ে আর দরজা খোলে না। বুড়োদা কাতর গলায় সমানে ডেকে চলেছে। কিন্তু দরজা আর খুলছে না। শেষে মহুয়ার মা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন কোয়ার্টার্সের বারান্দা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তারপর যা হয়। চিকিৎসা হল। ইনজেকশন নিলাম। রাতে ভীষণ জ্বর এলো। বড়দা, বুড়োদা, ডঃ চৌধুরী, মহুয়া দেখতে এলেন। কষ্ট পেলেও, সবাই মনোযোগ দিচ্ছেন ভেবে অর্ধেক ব্যথা সেরে গেল।
আমি যখন বেসিক স্কুলে ভর্তি হলাম, তখন বুড়োদা অবশ্য হাই স্কুলের ছাত্র। মহুয়া এক ক্লাস উঁচুতে পড়ছে। স্কুলে আমার প্রথম বন্ধু ছিল বিপ্লব। ওর মামা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বাবার সহপাঠী ছিলেন বলে ওরা আমাদের চিনত। ফলে ওর সঙ্গে সহজেই বন্ধুত্ব হয়ে যায়। রণজিৎ ও রাজাও ছিল আমার খুব ভাল বন্ধু। একসঙ্গে স্কুল থেকে ফিরে আমাদের বাড়িতে সুটকেস লুকোনো আর উদ্ধার করা ছিল আমাদের খুব প্রিয় খেলা। ওদের বাড়িতেও যেতাম মাঝেমাঝে। কাঠের দোতলার সেই বাড়ি আজও চোখে ভাসে। কয়েকদিন পর বন্ধুত্ব হয় পিনু ও প্রণবের সঙ্গে। সুদীপ্তর (বাপি) সঙ্গে তার কিছুদিন পর। অনুপ, সুমিত্র, চন্দন প্রমুখরাও আমাদের সেই সময়কার বন্ধু। তবে পরবর্তীতে বেসিক স্কুলের আমি, প্রণব ও বাপি এবং সুভাষপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেবব্রত (পুটন) হয়ে উঠেছিলাম অভিন্নহৃদয় চারমূর্তি।
যে যত্ন নিয়ে তখনকার শিক্ষক-শিক্ষিকারা পড়াতেন সেটা কোনও দিনই ভুলব না। রাগী মানুষ হলেও ভূপেনবাবুর ক্লাসগুলি ছিল অঙ্ক শেখার শ্রেষ্ঠ আঁতুরঘর। অত্যন্ত সুশিক্ষক ছিলেন রাঙাদা। ক্লাস ফোরে রাঙাদার অঙ্ক ক্লাস আজও মিস করি। বড়দা অপরেশবাবু স্কুলের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলে মাঝেমাঝে ইংরেজি পড়াতেন। সেজদা সন্তোষবাবুও ইংরেজির ক্লাস নিয়েছেন। তাঁর পড়ানোর মধ্যে একটা অদ্ভুত বিষণ্ণ সুর ছিল। হয়ত সেজন্য তাঁর ক্লাস খুব ভাল লাগত। শেফালি দিদিমণিকে যতটা গুরুগম্ভীর মনে হত আসলে ঠিক উল্টো ছিলেন তিনি। স্নেহের অফুরন্ত ভান্ডার ছিলেন মাতৃসমা এই দিদিমণি। একই কথা বলব বাসন্তী দিদিমণির ক্ষেত্রে। তাঁর সুমিষ্ট গলায় পড়ানো ইতিহাস মূর্ত হয়ে ভাসতো। বেঁটেখাটো খুকু দিদিমণিকে কোনও দিন ভয় পাইনি। এতটাই স্নেহময়ী ছিলেন তিনি। একটি ঘটনার কথা বলি এখানে। তখন আমরা ক্লাস ইলেভেনে পড়ি। গৌরী টকিজে সিনেমা দেখতে ঢুকেছি। আলো থেকে অন্ধকারে ঢুকে চোখে আর কিছুই দেখি না। যাহোক কোনও ভাবে হাতড়ে পৌঁছলাম আমার সিটে। পেছনে প্রণব ও পুটন। একদম শেষে বাপি। হঠাৎ মহিলা কণ্ঠে চিৎকার, `কোলে বসে পড়ছে কে রে বদমাশ!` আসলে অন্ধকারে বুঝতে না পেরে একজনের কোলে বসে পড়েছিল বাপি। গলা শুনেই বুঝেছি মহিলা আর কেউ নন, খুকু দিদিমণি। আমাদের অন্য দিদিমণিদের ক্লাস না পেলেও, তাঁদের ভালবাসা থেকে অবশ্য বঞ্চিত হইনি।
আসলে প্রতিটি মানুষের ভবিষ্যতের ভিত গড়ে দেয় তার ছেলেবেলা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও সংস্কার তাকে পরবর্তী জীবনে এগিয়ে নিয়ে যায় বৃহত্তর জীবনের ক্ষেত্রে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল মানুষ গড়ার কারিগর। ফালাকাটা বেসিক স্কুলও তাই। যে সময় থেকে এই স্কুল শিক্ষার আলো প্রসারিত করছে সেই আমলের কথা ভাবলেই বিস্মিত হতে হয়। সদ্য স্বাধীন একটি দেশের এক ছোট্ট জনপদের শিশু-কিশোরদের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে তার ভূমিকা অবশ্যই গবেষণার বিষয় হতে পারে। কালের যাত্রায় ৭৫ বছর হয়ত তেমন কিছুই নয়, কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের জীবনে তার মূল্য অপরিসীম। ফালাকাটা হাই স্কুলের প্ল্যাটিনাম জুবিলির রেশ কাটতে না কাটতে ফালাকাটা জুনিয়ার বেসিক স্কুলের এই উৎসব নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই স্কুল অতি অবশ্যই ইতিহাস সৃষ্টিকারী। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বেসিক স্কুলের কৃতিত্ব আরও বেশি। কেননা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক বাধ্যবাধকতা সঙ্গী করেও তার উড়ান সত্যিই স্বপ্নময়।
প্ল্যাটিনাম জুবিলির এই শুভ মুহূর্তে বিশেষ করে মনে পড়ছে ফালাকাটার সেই সব মানুষদের যাঁরা এই জনপদের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে ব্রতী ছিলেন। তাঁরা বুঝেছিলেন শিক্ষা ছাড়া কোনও ভাবেই কোনও জনপদের অগ্রগতি সম্ভব নয়। একটা অদ্ভুত সমাপতন হল বেসিক স্কুল যে বছরে ফালাকাটায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সেই বছরেই ছোটনাগপুরের কার্মাটারের পাট গুটিয়ে ফালাকাটায় চলে আসছে আর একটি স্কুল। সেভেনথ ডে অফ অ্যাভভেন্টিস্ট চার্চ প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত সেই বিদ্যালয় রেমন্ড মেমোরিয়াল স্কুল নামে পরিচিত। পাশাপাশি ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ও কিন্তু ওই সময়ে প্রতিষ্ঠিত। জানিনা এই সমাপতনের মধ্যে মহাকালের কোনও গূঢ় ইঙ্গিত আছে কিনা। এই মাঝবয়সে এসে শুধু এটুকু বুঝি ফালাকাটা জুনিয়র বেসিক স্কুল থেকে শিক্ষার যে আলো পেয়েছিলাম তার রেশ আজীবন রয়ে যাবে। এখানেই বোধহয় ছোট্ট এই স্কুলটির সার্থকতা আর আমার নিজের পূর্ণতা....
(প্রকাশিত: খোলা মন/ প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী স্মারক পত্রিকা ২০২৪/ ফালাকাটা জুনিয়ার বেসিক স্কুল)

No comments:
Post a Comment