মালা
শৌভিক রায়
ছোট বড় রংবেরং মালা। ঘর ভর্তি। বারান্দা ভর্তি। কলকাতার হালতু কবরডাঙার পেছনে, সরু রাস্তার দু'ধারে, বেশ কিছু বাড়িতে এটা এখন সাধারণ দৃশ্য। বাসিন্দাদের হাত চলছে দ্রুত। মালা বানানো শেষ করতে হবে। সামনেই বিশ্বকর্মা পুজো। তারপর দুর্গোৎসব। একটি মালাও পড়ে রইবে না। আজমিরা, নাসিরা, মমতাজ, সাদিয়াদের তাই অবসর নেই এখন। আগে কাজ। তারপর নাওয়া খাওয়া।
একটা সময় হালতুতে ছোট ছোট প্রচুর কারখানা দেখতাম। তখন আমি কলেজের শেষ দিকে। সন্তোষপুরে সুকান্ত সেতু তৈরি হচ্ছে। ২০৬ তখন সার্ভে পার্ক দিয়ে বেরিয়ে সদ্য হওয়া বাইপাসে খানিকটা এগিয়ে রাসবিহারী কানেকটর ধরে গড়িয়াহাট পৌঁছত। বাইপাস তখন ওই সার্ভে পার্ক অবধিই। পূব দিকে ধু ধু মাঠে কখনও ধান কখনও অন্য কিছু। পঞ্চশায়র, পাটুলি, নয়াবাদ ইত্যাদি সে অর্থে ভবিষ্যতের গর্ভে।
হালতুতে ছোট কারখানা আর দেখি না আজ। যে দু'একটা আছে, সেগুলিও মোটা চেন আর জং ধরা তালা দিয়ে বন্ধ। বাইপাস থেকে গেছে সোনারপুর বারুইপুর অবধি। নরেন্দ্রপুর, রাজপুর সহ সব দিকেই গিজগিজ করছে বহুতল।
আজমিরাদের পুজোর মালা বানাতে দেখে অদ্ভুত তৃপ্তি হল। একটু মজাও পেলাম। কেন পেলাম সেটা আর বিস্তৃত বললাম না। কিন্তু খুব ভাল লাগল দেখে যে, অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ওরা কাজটি করছে।
আসলে 'কর্ম' ব্যাপারটি যে সত্যিকারের দেবতা, সেটা বোধহয় অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের চাইতে ভাল কেউ বোঝেন না!
* ছবি- বাবুল মল্লিক ও আজমিরা/ একটি বাড়িতে ঝুলিয়ে রাখা মালা


No comments:
Post a Comment