Sunday, August 18, 2024


 

`তুমি তো নারীকে দখল করেছ। তুমি বুঝবা কী!`

কতবার শুনেছি? মনে নেই এখন। হাসি ছাড়া উত্তর দেওয়ারও ছিল না এই কথার। 
তবে সেই নারী অর্থাৎ রীনা ছাড়ত না বিলকুল। আর তাতেই উত্তর আসতো,
`দেখছ তো, বুড়ো বলে নারী আমাকে পাত্তা দেয় না! কী যে জাদু করছ! মিঞা বিবি দুটোই সমান।`

আমার/ আমাদের ভরসার জায়গাগুলো ক্রম-বিলীয়মান। 
আর সেই ক্রমেই যোগ হলেন আর একজন। 
দেবজ্যোতি রায়। বাবুদা। 

তাঁর সঙ্গে আমার মেলামেশা হয়ত সামান্যই। যদিও পরিচয় এক যুগেরও ওপর। 
ওই সামান্যই আমার কাছে অসামান্য হয়ে যেত যখন একসঙ্গে নানা চ্যানেলে বিভিন্ন `টক শো`করতাম, আড্ডা দিতাম দুপুর থেকে বিকেল। 
মোবাইল ফোনটা ছিল যন্ত্রণার। সেটার অপারেশন শিখতে কতবার `তুমি কোথায়? বাপির দোকানে আসো তো`। 
শেষটায় নতুন ফোন। আর এক যন্ত্রণা! সেটা আরও সফিস্টিকেটেড। 
`শালা তুমি কলকাতায় যায় আর নতুন নতুন ঘ্যামা জামা কেন! এর পরে আমাকেও এনে দেবে।` 
আনিনি। জানতাম আনলেও নেবেন না। ওই বলা অবধিই।
 
আমার প্রাক্তন এক ছাত্র অসুস্থ। 
সে লেখক। মাথাব্যথা বাবুদার। 
কানের কাছে সমানে ফিসফিস `কী করা যায় বলো তো? ওর তো তেমন পয়সাকড়ি নাই`।  
উদ্যোগী হয়ে দৌড়োদৌড়ি। কিছু সুরাহা হল। কয়েকজন শোনা মাত্রই বিদায় করল। তাতে কী! 
এই ` কী করার` লোকগুলোই ঝটপট তারা হয়ে যায়। আকাশ যে কেন এদের ঠিকানা হয় কে জানে!

`তুমি কোথার থেকে শুনলা?` 
 `শুভম জানিয়েছে তুমি নার্সিং হোমে লুকিয়ে আছো।` 
`শ্বাসকষ্টটা মারাত্মক।`
`শুয়ে থাকো। এখন আসি। পরে আসবো।`
ওঁর লেখা। আমার বলা।
জানতাম আর আসবো না। কেন আসবো? এটা কোনও কথা হল!
সন্ধ্যায় তাঁর নারীকে লিখে জানালেন, `ওপরের ডাক চলে এসেছে।` 
নারী অভিমানে আর দাঁড়ায়নি। 
আমাদের বড্ড বেশি অভিমান। 
তোমারও কি কম ছিল!



  
  
    

No comments: