ছায়া দীর্ঘ হয় কেবল
শৌভিক রায়
ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সব সাধনাই নিভৃতের বিষয়।
কিন্তু সাধনা ব্যাপারটি আসলে ঠিক কী? আপাতভাবে বিষয়টি আপেক্ষিক মনে হলেও, একটু ভাবলেই বোঝা যায় কর্ম-ই আসলে সাধনা। ভারত সহ সমগ্র বিশ্বের মাগদর্শীরা বিভিন্ন সময়ে এই সত্যটি শিখিয়ে গেছেন মানব সমাজকে।
কিন্তু আজকের দিনে 'নিভৃত' ব্যাপারটি আদৌ সম্ভব কি? তথ্য প্রযুক্তির এই বিস্ফোরণের যুগে যেখানে মানুষের শয়ন কক্ষটিও আজ যে কোনও মুহূর্তে 'ওপেন' হয়ে যেতে পারে, সেখানে নিভৃতে কিছু করা সম্ভব? বিশেষ করে যিনি নিভৃত সাধনাটি করছেন, তিনি যদি কেউকেটা হন তাহলে বোধহয় আরও সম্ভব নয়।
কিন্তু সমস্যা হল, সমস্যা এখানে নয়। সমস্যা অন্যত্র। সেটি লুকিয়ে ব্যক্তিটির সদিচ্ছার ওপর। সেই সদিচ্ছটা কী? না জানানোর। না দেখনদারির। ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার পাওয়া গেলেও, লোকের নজর টানা গেলেও, বহুজনের বাহবা কুড়োনো গেলেও আর যা হোক সাধনা হয় না।
আধুনিক কবিতার অন্যতম দিকপাল এলিয়ট বলেছিলেন, The birth of a poetry is like a birth of a baby। একটি কবিতার জন্ম দিতে গিয়ে কবিকে সেই যন্ত্রণা পেতে হয়, যা একজন মা পান সন্তানকে ভূমিষ্ঠ করতে গিয়ে। কবিতা একটি সাধনা। তাই এই সত্যটি যেমন তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তেমনি একইরকম ভাবে কথাটি প্রযোজ্য কোনও সাধনার ক্ষেত্রেই।
এই যন্ত্রণায় যাঁদের উত্তরণ ঘটে, তাঁদের দীর্ঘ ছায়া দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের শীতল করে। আমরা বুঝি না। কেননা দীর্ঘ অভ্যাসে সেটি আমাদের স্বাভাবিক বলে মনে হয়। বোঝা যায় যখন সেই ছায়া আমাদের অপগণ্ডতার জন্য যখন সরে যেতে শুরু করে। যেদিন সম্পূর্ণ সরে যাবে হয়ত সেদিন বুঝব কী ভুলটাই না করেছিলাম!
আপাতত তাই জিতে যাচ্ছে কপটতা। জিতে যাচ্ছে তীব্র হাততালি। জিতে যাচ্ছে উল্লাস। জিতে যাচ্ছে মিথ্যাচার।
কিন্তু মনে রাখা দরকার, ছায়া সরে গেলেও মিলিয়ে যায় না। আকাশ মেঘে ঢাকা হলে ছায়া দেখা যায় না। কিন্তু মেঘ একটা সময় কেটে যায়। ঝলমলে রোদ ওঠে।
যত তীব্র রোদ, তত গাঢ় ছায়া.....
(নিজের ভাবনায়)
No comments:
Post a Comment