আজকের (২৩ জানুয়ারি, ২০২৪) আনন্দবাজার পত্রিকার উত্তরবঙ্গ সংস্করণে `আপনার অভিমত`-এ প্রকাশিত একটি লেখা। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আনন্দবাজার পত্রিকাকে।
পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনা বাস্তবোচিত নয়
শৌভিক রায়
সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়াই রেওয়াজ। এবার পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে অনেকটা। দেশের সাধারণ নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে সবাই স্বাগতও জানিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। এ বারের পরীক্ষা দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটের বদলে শুরু হচ্ছে সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে। শেষ হচ্ছে দুপুর ১টায়। সময় বদলের সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ বলেছে, বেলা ৩টায় পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরতে সন্ধে হয়ে যায় বলে এই সিদ্ধান্ত।
মুশকিল এখানেই। পর্ষদ কর্তৃপক্ষ তাঁদের এই যুক্তি দিলেও সমস্যা আছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে যে আবহাওয়া থাকে, তাতে পর্ষদের নির্দেশানুসারে পরীক্ষার্থীদের পক্ষে সকাল সাড়ে আটটায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছোনো অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে উত্তরের পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের পক্ষে এটা আরও কঠিন। বহু জায়গায় যোগাযোগের ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত নয়। অনেকেই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসে। কাউকে রিক্সা বা টোটোয় বাসস্ট্যান্ড, সেখান থেকে বাস ধরে পৌঁছতে হবে। অনেকটাই তাতে সময় লাগে। সকালের দৃশ্যমানতা বিকেলের চাইতে যথেষ্ট কম এই সব অঞ্চলে। রয়েছে বনপ্রাণীদের থেকে ভয়ও। যে যুক্তিতে পরীক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরতে সন্ধে হবে, সেই যুক্তিতেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে রওনা দিতে হবে সাত সকালে।
সময় রদবদলের এই ডামাডোলে আরও একটা সমস্যায় পড়তে পারে পরীক্ষার্থীরা । এত দিন ধরে দুপুরে পরীক্ষা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। হঠাৎ করে সপ্তাহ দুয়েক আগে সময় বদলের খবর জেনে তাদের মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, তার খবর কি রাখছি আমরা? এই টানাপোড়েনে একজন পরীক্ষার্থীরও যদি মানসিক স্থিতি নষ্ট হয়, তার দায় নেব তো আমরা?
যে পদ্ধতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা হয় তাতে একটি সেন্টারের অধীনে গোটা সাতেক স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে থাকে। প্রশ্নপত্র আনতে হয় ট্রেজারি থেকে। নতুন সময়ে সকাল ৭টার মধ্যে প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে বিতরণ করতে হবে। ফলে সেন্টার ও পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদেরও পৌঁছোতে হচ্ছে অনেকটা আগে। শিক্ষকদের এতে খানিক অসুবিধে হলেও, বৃহত্তর ছাত্র সমাজের স্বার্থে তাঁরা হাসিমুখেই দায়িত্ব পালন করবেন। সেটা জানি।
কিন্তু চাপিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত মানতে কষ্ট হয়। পর্ষদ যদি প্রত্যন্ত এলাকার পরীক্ষার্থীদের কথা একটু মনোযোগ দিয়ে ভাবত, তা হলে বোধহয় সুবিধেই হত।
( শিক্ষক, কোচবিহার )

No comments:
Post a Comment