ফ্রেডরিক নগরে একদিন
শৌভিক রায়
হুগলি জেলার মহকুমা। কলকাতা মেট্রোপলিটান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অন্তর্ভুক্ত। আজকাল গ্রেটার কলকাতাও বলছেন কেউ কেউ।
গঙ্গা তীরের এই শহরে ড্যানিশরা ঘাঁটি গেড়েছিল। ১৭৫২ থেকে ১৮৪৫ পর্যন্ত দুর্দান্ত ড্যানিশদের দখলে থাকা জনপদটির হাতবদল হয় ১৮৪৫ সালে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিনে নেয় জনপদটি ।
ড্যানিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরী করেছিলেন রাজা চতুর্থ ফ্রেডরিক। উদ্দেশ্য ছিল একটিই। ব্যবসা।
হুগলি নদীর তীরে ১৬৯৮ সালে ঘাঁটি গাড়ে তারা। তবে তাদের কলোনি কিন্তু গড়ে ওঠে আরও অনেকটা পরে। ১৭৫৫ সালে তদানীন্তন বাংলার শাসক আলিবর্দি খানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে তারা প্রথম একটি ফ্যাক্টরি করেন এই জনপদে। আনুসাঙ্গিকভাবেই গুদামঘর থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুই নির্মিত হয়। বিভিন্ন কাজের জন্য স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মানুষকে নিয়োগ করা হয়। শুরু হয় ফ্রেডরিক নগরের যাত্রা।
ফ্রেডরিক নগর? হ্যাঁ। কলকাতার উপকণ্ঠে, গঙ্গার ওপারে, শ্রীরামপুর এই নামেই পরিচিত ছিল সেদিন। রাজা ষষ্ঠ ফ্রেডরিকের নামানুসারেই জনপদটির এই নাম দিয়েছিল তারা।
বাংলার নবজাগরণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্রীরামপুর। মার্শম্যান, উইলিয়াম ওয়ার্ডের এই জনপদে বসেই উইলিয়াম কেরি বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন বাইবেল। শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে মুদ্রিত হয় সেই অনুবাদ। `ফ্রেন্ডস অফ ইন্ডিয়া` পত্রিকার প্রকাশও হত এখান থেকেই। ১৮১৮ সালে এই শহরেই নির্মিত হয়েছিল ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীন কলেজটি।
এখানে রয়েছে ড্যানিশদের সমাধি। সেই সমাধির একটিতে শুয়ে কেরি, মার্শম্যান ও তাঁদের পরিবারের লোকেরা। আজকের ড্যানিশ ট্যাভার্ন একটি রেস্টুরেন্ট হলেও, তার ঠাঁটবাট যথেষ্টই রোমাঞ্চকর। ব্যাপটিস্টদের সেন্ট ওলেভ চার্চটিও সুদৃশ্য।
কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম শ্রীরামপুরে। হুগলি তীরের ছোট্ট জনপদটিতে ইতিহাস ছড়িয়ে চারদিকে। শুধু একটু জেনে নেওয়া। একবার দেখে নেওয়া....











No comments:
Post a Comment