একটি বিকল্প সংলাপ
শৌভিক রায়
১
শরীর পচন ধরলে তা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সমাজের পচন ছড়ায় ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত। তার জন্য যেমন আলাদা করে কাউকে দায়ী করা যায় না, তেমনি সেটি উচিতও না। সেটা করা মানে ভাবের ঘরে চুরি করা।
ভাবের ঘরের চোরদের সংখ্যাটা আজকাল ক্রমবর্ধমান। তারা নিজেদের আখের গোছান নিঃশব্দে। কিন্তু ভাবটা দেখান যেন দেশোদ্ধার করছেন। আর সেটা করতে গিয়ে তাদের ভাষায় ধমকানি, চমকানি কিছুই বাদ দেন না। আর কাদেরকেই বা ধমকান বা চমকান? সবচেয়ে সফট টার্গেটদের।
২
ধবধবে সাদা ধুতি পাঞ্জাবিতে কোনোদিন দাগ দেখিনি। প্লিট দেওয়া শাড়িটিও কোনোদিন দুমড়ে মুচড়ে যায়নি। বরং উল্টো দিকে থাকা কিছু গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল মাথা নিচু করে পলায়ন করেছিল একদিন। ঋজু শরীর ঝুঁকে যায়নি কখনও। ঝুলে ঝুলে এই ডালে সেই ডালে দোল খেতেও দেখিনি।
ইচ্ছে করলেই হারামের জুতোয় পা গলাতে পারতাম। মানায় না বলে সেটা গলাইনি। গলাবোও না। এটাই শিখেছি। এটাই শেখাই। শেখাবোও আগামীতে।
একজনের জন্য সবাইকে দাগালে বিচারবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন জাগে। যেমন সমাজ, তার প্রোডাক্টও তেমন। সমাজের মাথায় বসে হ্যাটা করলে, সেটা নিচ থেকেই দ্বিগুণ হয়ে উঠে আসবে। নিম্ন চাপ যেমন ভয়ের, উচ্চ চাপও ঠিক তেমনই!
৩
দোষ নিশ্চয়ই রয়েছে। ধোয়া তুলসী পাতা কেউ নয়। কিন্তু কোথায় সেটা নেই? যদি সেটা থাকে, তবে সোনার পাথরবাটিও আছে।
কিন্তু তবুও ঠগ বাছা উচিত। পাশাপাশি এটাও মাথায় রাখা উচিত, এক ঠগের জন্য গোটা গ্রামকে দাগিয়ে দেওয়া কাজের কথা নয়। সেই নয়টি হয় হয়ে গেলে দেখা যায় নয়ের জয়। নয় একে ৯। অর্থাৎ নয় যোগ শূন্য= নয়। নয় দুগুণে ১৮। এক যোগ আট= নয়। তিন নয় ২৭। দুই যোগ সাত= নয়। করে যান এভাবে। শেষে নয় নয় ৮১। অর্থাৎ এক যোগ আট= নয়।
তাই সাবধান। সংখ্যার হিসেবে হোলি না খেলাই ভাল। নয়ের হিসেবে মাথায় রাখাই বুদ্ধিমানের। নয় হতে বেশিক্ষণ লাগে না।
৪
সবশেষে ভাল থাকবেন বন্ধুগণ।
কবির মতো বলি, ``শিখার এই রুমাল নাড়া নিভে গেলে ছাই ঘেটে দেখে নেবেন পাপ ছিল কিনা``
আমি ঘাটতে পারব। আপনি পারবেন কি??
সেই গাটস কি আছে আপনার???????
No comments:
Post a Comment