রঙালি বিহুর দিনে
শৌভিক রায়
১লা বৈশাখের অসম। বেশ কয়েকদিনের বৃষ্টির পর ঝকঝকে রোদ। কালো পিচের টানা রাস্তায় দ্রুত চলতে চলতে, চাপরের বহলপুরে, অভিনব দৃশ্যটি দেখে থেমে যেতে বাধ্য হলাম। ছোট্ট ক্লাব প্রাঙ্গণে, কালী মন্দিরের সামনে, আয়োজনটি ছোট্ট, কিন্তু ভাবনায় অনেক বড়। `জ্যেষ্ঠ-কণিষ্ঠৰ মহামিলন পর্ব` অনুষ্ঠানে এলাকার সব ধর্মের, সব বর্ণের প্রবীণদের একত্রিত করে বসানো হয়েছে। হাজির আশেপাশের কমবেশি অধিকাংশ মানুষ। চাপর থানার অফিসার-ইন-চার্জ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবার পরে, বড়দের বসানো হল। গামছা পরিয়ে, পান-সুপুরি দিয়ে বরণের পর তাঁদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম সারলেন এলাকার সব ছোটরা। জ্যেষ্ঠদের মুখে তখন পরিতৃপ্তির হাসি, আর কনিষ্ঠেরা শ্রদ্ধাবনত। উপস্থিত অসম সাহিত্য একাডেমির সদস্য সহ কয়েকজনের হাতে তাঁরা তুলে দিলেন সম্মাননা। ছিল রঙালি বিহুর আয়োজন।
গামছা পরিয়ে আর দই-চিড়ে-গুড় খাইয়ে উদ্যোক্তারা আমাকে আর রীনাকে বিদায় দিয়েছিলেন। হতে পারি কোচবিহার থেকে গেছি, হতে পারি অচেনা অজানা একে অন্যের। কিন্তু তাতে কী? রঙালি বিহু সবাইকে আপন করে নেয় যে! মুছে দেয় কাল্পনিক সীমানা।







No comments:
Post a Comment