ছানার ডালনা
শৌভিক রায়
দেবনাথ স্যারদের বাড়ি তখন থানার কাছে। সেদিন দুপুরে বাবা আর আমার খাওয়ার নিমন্ত্রণ। খানিক গল্পগুজবের পর খেতে বসা হল। কল্পনা ম্যাডামের রান্নার হাত বরাবরই ভাল। বেশ কয়েকটি বাটিতে এটা ওটা পদ। একটিতে দেখলাম আলু সহযোগে ডিমের অমলেটের রগরগে ঝোল। অমলেটের টুকরোগুলো বেশ মাঝারি মাপের। হলুদ একদম। আমার খিদে আরও বেড়ে গেল মুহূর্তে।
আসলে ওই ছোটবেলায় ডিম আর মাংসের প্রতি লোভ ছিল বেশি। কর্মসূত্রে মা অন্যত্র থাকায়, আমাদের বাবা-ছেলের সংসারে ঠাকুমা ছিলেন কর্ত্রী। বৈষ্ণব মানুষ তিনি। মাছ খেলেও মাংস-ডিম থেকে বহু দূরে থাকেন। অতএব সেসব আমাদের খাওয়া হত কেবলমাত্র মা এলে বা আমরা মায়ের কাছে গেলে।
অমলেটের ঝোল সবশেষে খাব বলে, মাছ শেষ করলাম আগে। অবশেষে এবার ... আহা ... কতদিন পর!
অমলেট মুখে দিয়েই আক্কেল গুড়ুম। হায় হরি! এ তো অমলেট নয়। ছানা। ওটা অমলেটের ঝোল নয়! ছানার ডালনা। বিশুদ্ধ নিরামিষ মতে রান্না। আমার এত আশা নিমেষে শেষ। পুরো খাওয়াটাই বিস্বাদ হয়ে গেল! এদিকে ম্যাডাম ভেবেছেন যে, ছানার ডালনা আমি খুব ভালবাসি। তাই সবশেষে খাচ্ছি। আরও নেওয়ার জন্য জোরজার করলেন। আমার তখন না পারছি বলতে না পারছি সইতে দশা!
আজও কেউ পনির পাতে দিলে সেই ছানার ডালনার কথা মনে পড়ে যায়। দুর্দান্ত রাঁধিয়ে ম্যাডামের সেই রান্নার কথা মনে পড়ে যায়। নিজের অজান্তেই ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে...ভাবতে থাকি কখন খাব, মাছের পর নাকি আগে!!
(বোকামির দিনকাল)
No comments:
Post a Comment