Friday, August 28, 2020
Thursday, August 13, 2020
মাছের দাম
শৌভিক রায়
- কইমাছ আটটাকা কিলো!!! আটটাকা?? তোরা কি মানুষ মারবি? আটটাকা কিলো মানে বুঝতে পারিস? কোন্ হিসেবে এত দাম চাইলি??
মেজমামার চিল চিৎকারে বুঝলাম যে, মাছওয়ালা অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ করে ফেলেছে। কোনোভাবেই কইমাছের কিলো এত টাকা হতে পারে না।
কাটিহারের হরদয়াল টকিজের কাছে পিঠের সেই বাজারে মাছ কিনতে গিয়েছিলাম মেজমামার সঙ্গে। সেটা অবশ্য বহু বছর আগের কথা। আমি নেহাতই তখন ছয়-সাত বছরের বালক। আসলে মেজমামার সেই চিৎকারের অভিঘাত এতটাই ছিল যে, আজও কানে লেগে আছে তা।
এরপর বহুদিন কেটে গেছে। আমি তখন ইলেভেন-টুয়েলভ হব। ফালাকাটার কলেজ পাড়ায় তখনও বাড়ি বাড়ি মাছওয়ালারা মাছ বিক্রি করতে আসত। বাজার করা শিখেছি তখন। একদিন একজন কইমাছ নিয়ে এল। দাম শুনলাম ষাট টাকা। খুব বেশি মনে হল না। কিন্তু বাজার করা নতুন শিখেছি। দরদাম তো করতেই হয়! খানিক টানাটানির পর পঞ্চাশে রফা হল। আমিও ঝটপট তিন পোয়া নিয়ে নতুন কেনা ক্যালকুলেটারে হিসেব-টিসেব করে টাকা দিতেই মাছওয়ালার একগাল হাসি,
- ভাই কত দিলা?
- কেন? চল্লিশ টাকা। আড়াই টাকা ফেরত পাব। আটটানা দিতে হবে না। দু'টাকা দাও।
- ভাই কোন হিসাবে দাম ধরলা?
- কোন্ হিসাবে মানে?
- আমিও তো তাই কই। কোন্ হিসাবে ধরলা?
- কোন্ হিসাব আবার? পঞ্চাশ টাকা!!
- পঞ্চাশ টাকার হিসাবে তো দেড়শ টাকা হয় ভাই।
- দেড়শ টাকা??
- হ...তাই তো হয়। পোয়া যদি পঞ্চাশ হয় তাইলে কেজি হইল গিয়া দুইশ' আর তিন পোয়া দেড়শ!
- প...পঞ্চাশ টাকা পো...পোয়া?
- পোয়াই তো। ভাই কী ভাবছিলা!!
আর ভাবাভাবি। দিনকাল পাল্টে যে মাছের দাম কেজি দরে না ব'লে পোয়ার দরে বলা হচ্ছে সে আর জানব কীভাবে?
আজকাল বাজারে মাছের দাম শুনে কেজি না পোয়া সেটা জিজ্ঞাসা করবার সাহস পাই না! মাছওয়ালা দাম বললেই মেজমামার চিল চিৎকার কানে ভাসে। আর চাপা পড়ে যায় মাছের দাম!
(বোকামির এককাল)
Saturday, August 8, 2020
ছানার ডালনা
শৌভিক রায়
দেবনাথ স্যারদের বাড়ি তখন থানার কাছে। সেদিন দুপুরে বাবা আর আমার খাওয়ার নিমন্ত্রণ। খানিক গল্পগুজবের পর খেতে বসা হল। কল্পনা ম্যাডামের রান্নার হাত বরাবরই ভাল। বেশ কয়েকটি বাটিতে এটা ওটা পদ। একটিতে দেখলাম আলু সহযোগে ডিমের অমলেটের রগরগে ঝোল। অমলেটের টুকরোগুলো বেশ মাঝারি মাপের। হলুদ একদম। আমার খিদে আরও বেড়ে গেল মুহূর্তে।
আসলে ওই ছোটবেলায় ডিম আর মাংসের প্রতি লোভ ছিল বেশি। কর্মসূত্রে মা অন্যত্র থাকায়, আমাদের বাবা-ছেলের সংসারে ঠাকুমা ছিলেন কর্ত্রী। বৈষ্ণব মানুষ তিনি। মাছ খেলেও মাংস-ডিম থেকে বহু দূরে থাকেন। অতএব সেসব আমাদের খাওয়া হত কেবলমাত্র মা এলে বা আমরা মায়ের কাছে গেলে।
অমলেটের ঝোল সবশেষে খাব বলে, মাছ শেষ করলাম আগে। অবশেষে এবার ... আহা ... কতদিন পর!
অমলেট মুখে দিয়েই আক্কেল গুড়ুম। হায় হরি! এ তো অমলেট নয়। ছানা। ওটা অমলেটের ঝোল নয়! ছানার ডালনা। বিশুদ্ধ নিরামিষ মতে রান্না। আমার এত আশা নিমেষে শেষ। পুরো খাওয়াটাই বিস্বাদ হয়ে গেল! এদিকে ম্যাডাম ভেবেছেন যে, ছানার ডালনা আমি খুব ভালবাসি। তাই সবশেষে খাচ্ছি। আরও নেওয়ার জন্য জোরজার করলেন। আমার তখন না পারছি বলতে না পারছি সইতে দশা!
আজও কেউ পনির পাতে দিলে সেই ছানার ডালনার কথা মনে পড়ে যায়। দুর্দান্ত রাঁধিয়ে ম্যাডামের সেই রান্নার কথা মনে পড়ে যায়। নিজের অজান্তেই ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে...ভাবতে থাকি কখন খাব, মাছের পর নাকি আগে!!
(বোকামির দিনকাল)
Friday, August 7, 2020
বাংলার প্রথম উপন্যাস 'ফুলমতি ও করুণা`কি আদৌ কোনোদিন প্রাপ্য মর্যাদা পাবে?
শৌভিক রায়
১৫৫০ সাল নাগাদ অহমরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজা নরনারায়নের চিঠি, এখনও পর্যন্ত বাংলা গদ্যের প্রথম নিদর্শন বলে মনে করা হলেও, গদ্য সাহিত্য বলতে যা বোঝায় তা কিন্তু শুরু হয়েছিল আরও খানিকটা পরে। আসলে দীর্ঘদিন বাংলা গদ্য ছিল দলিল-দস্তাবেজের ভাষা। তবে এই ব্যবসায়িক প্রয়োগের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল পরবর্তীর সম্ভাবনা। অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা গদ্য শুরুর ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন পর্তুগিজ পাদ্রীরা, যদিও তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মপ্রচার।
সুসংহত বাংলা গদ্যের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা ও ইংরেজ কর্মচারীদের মোটামুটিভাবে বাংলা লিখবার প্রয়োজন দেখা দিলে, ইংরেজি, সংস্কৃত ইত্যাদি থেকে অনুবাদের হাত ধরে বাংলা গদ্য ধীরে ধীরে একটি রূপ নিতে শুরু করে। এই ব্যাপারে রাজা রামমোহন রায়, উইলিয়াম কেরি, ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায় প্রমুখের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৮২৩ সালে ভবানীচরণের 'নববাবু বিলাস`প্রকাশিত হলেও, ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলাল`কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস বলে মনে করা হয়। আধুনিক বিচারে অবশ্য প্যারীচাঁদ মিত্রের এই সৃষ্টি কতটা উপন্যাস বলে বিবেচিত হবে তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু 'আলালের ঘরের দুলাল`বাংলা গদ্য সাহিত্যে, বিশেষ করে উপন্যাসের ক্ষেত্রে, একটি যুগান্তকারী ঘটনা সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর ঠিক এখানেই প্রশ্নটি উঠছে যে, তবে হানা ক্যাথেরিন লোক্রোয়ার 'ফুলমনি ও করুণার বিবরণ`কে আমরা কিভাবে বিচার করব? কেননা লন্ডন মিশনারি সোসাইটির কর্মী রেভারেন্ড ফ্রাঁসোয়া লোক্রোয়ার মেয়ে হানা ক্যাথেরিনের লেখা বইটি 'আলালের ঘরের দুলাল` প্রকাশের ছয় বছর আগে ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং উপন্যাসের গুণাবলীর তুল্যমূল্য বিচারে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে ছিল। বাংলা ১৩৮৭ সালে চিত্তরঞ্জন চট্টোপাধ্যায সম্পাদিত 'ফুলমনি ও করুণার বিবরণ'-এর নতুন সংস্করণে সম্পাদক বলছেন, 'লেখিকা চরিত্রসৃষ্টি, পরিবেশসৃষ্টি এবং ভাষার সাবলীল প্রয়োগে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তার জন্য 'ফুলমনি ও করুণা' এখন থেকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসাবে মর্যাদা লাভ করবে।'
১৮২১ সালে রেভারেন্ড ফ্রাঁসোয়া লোক্রোয়া চুঁচুড়ায় আসেন। ১৮২৬ সালে ১লা জুলাই নিজের সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন হানা। বাড়িতে পড়াশোনার পাশাপাশি, সমাজসেবামূলক নানা কাজে বাংলার সাধারণ মানুষদের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা ছিল। ফলে বাংলা শিখতে তাঁর বেশি সময় লাগে নি। মিশনের কাজ আরও খানিকটা শিখবার জন্য, ১৮৪১ সালে তাঁকে ইংলান্ড ও সুইজারল্যান্ডও যেতে হয়। ১৮৪৫ সালে নিশনের কর্মী জে ম্যালেন্সকে বিয়ে করবার পর, বাবা ও স্বামীর প্রভাবে মিশনের কাজে হানা মিশনের কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যেই তাঁর লেখকসত্বা প্রকাশ্যে আসে। প্রকাশিত হয় 'ফুলমনি ও করুণা'। কিন্তু রাশভারী বাবা রেভারেন্ড ফ্রাঁসোয়া কোনোদিনই মেয়ের এই বাংলা লেখাকে সমর্থন করেন নি। ফলে একটি উপন্যাসের পর হানা বাবার জীবিতকালে আর কিছু লেখেন নি। ১৮৫৫ সালে তাঁর উদ্যোগে স্থাপিত হয় জেনানা মিশন। এই মিশনের কর্মীরা সকলেই ভাল বাংলা জানতেন ও উচ্চ বর্ণের হিন্দু পরিবারের অন্দরমহলে গিয়ে মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতেন। ১৮৫৮ সালে আর একবার ইংল্যান্ড ঘুরে এসে, স্ত্রী-শিক্ষা কেন্দ্রগুলির দায়িত্ব নেন হানা। বাবার মৃত্যুর পর তিনি আর একটি উপন্যাস লিখবার কাজে হাত দিয়েছিলেন। খুব দ্রুত চলছিল লেখার কাজ। কিন্তু ১৮৬১ সালের ২০শে নভেম্বর বিদ্যালয় থেকে ফিরে লিখতে বসে পেটে তীব্র যন্ত্রনা অনুভব করেন তিনি। কোনোমতেই সেই ব্যথা আর কমে নি। পরদিন সন্ধ্যেতে হানা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে উপন্যাসটি আর সমাপ্ত হয় নি। বাংলা লিখতে লিখতে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের রচয়িতা এক বিদেশী মহিলা মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
গদ্য বিকাশের সেই আদি যুগে একজন বিদেশী মহিলার বাংলা শেখাই শুধু নয়, একটি সম্পূর্ণ উপন্যাস লিখে ফেলা নিঃসন্দেহে একটি চমকপ্রদ ব্যাপার এবং তার চাইতেও বড় কথা হল যে, 'ফুলমনি ও করুণা' আক্ষরিক অর্থেই উপন্যাসের গুণসম্পন্ন। চিত্তরঞ্জন বন্দোপাধ্যায় বলছেন, 'প্রেমের এমন একটি স্নিগ্ধ কাহিনী বাংলা উপন্যাসের আদি যুগে বেশি নেই। প্রেম উপন্যাসের অন্যতম প্রধান উপাদান। আলালের ঘরের দুলাল-এ লাম্পট্য আছে, প্রেম নেই।` হানা কিন্তু তাঁর উপন্যাসে প্রেমের পাশাপাশি সে যুগের বাংলার দারিদ্র-সহ যে ছবি এঁকেছেন, তার উদাহরণ আর নেই। তখন দুই আনায় পাওয়া যেত সাধারণ জামা, নারকেল তেলের মণ ছিল দশ টাকা। পুরুষদের ছিল মদ-তামাক খাওয়ার এবং জুয়াখেলার নেশা। এসবের জন্য দরকারে চুরি করতেও তারা পিছপা হত না। মেয়েরা বেসন দিয়ে মাথা পরিষ্কার করত। স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর বন্ধু বাড়িতে এলে স্ত্রী কথা না বলে অন্দরমহলে চলে যেত। উপন্যাসে সে সময়ের বাংলার নিচুতলার সমাজ 'তার সুখ দুঃখ, ভাল-মন্দ, ঈর্ষা, কুসংস্কার, কঠোর দারিদ্র্য ও অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে'। সত্যি বলতে, 'ফুলমনি ও করুণা' প্রকাশের দীর্ঘদিন পরেও, অন্য অনেক সৃষ্টি তার ধারেকাছেও যেতে পারে নি। ভাষার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও হানার মুন্সিয়ানা অনস্বীকার্য। সেই সময়ের বহু লেখকের লেখা পড়তে গেলে যেখানে অভিধানের সাহায্য নিতে হয়, সেখানে 'ফুলমতি ও করুণা` আজকের দিনেও গড়গড় করে পড়া যায়। হানা জোর দিয়েছিলেন ছোট ছোট বাক্য ও সঠিক যতিচিহ্নের দিকে। ফলে তাঁর লেখা অবোধ্য হয়ে ওঠে নি কখনোই- 'কবিরাজ বুড়ির নিকটে চারি টাকা লইয়া মধুকে এক পান ঔষধ দিয়া দাবাতে তামাক খাইতেছিল, সে আমার কথা শুনিয়া ভিতরে আসিয়া বলিতে লাগিল, মেম সাহেব, আপনি যথার্থ কহিলেন। আমি ইহাদিগকে পূর্ব্বেই বলিয়াছিলাম, তিন চারি প্রকার ঔষধ একেবারে খাওয়াইও না, কিন্তু ইহারা আমার কথা মানিল না...।` উপন্যাসটি লেখিকার নিজস্ব জবানিতে বলা। নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা ও তাঁদের জন্য কিছু করবার প্রয়াস উপন্যাসটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। ফুলমনি, করুণা, প্যারী, সুন্দরী ও রানীর প্রধান চরিত্র হওয়ায় স্পষ্টই বোঝা যায় যে, উপন্যাসটি 'স্ত্রীলোকদের শিক্ষার্থে বিবেচিত'। নারীচরিত্রের এই প্রাধ্যানের পাশে কিন্তু প্রেমচাঁদ, নবীন, বংশী প্রমুখেরা নিজেদের মতো করে উজ্জ্বল। তবে উপন্যাসের আদি যুগের নিয়মানুসারে ঘটনার বর্ণনায় হানা যতটা পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, চরিত্র চিত্রণে তত দেখতে পারেন নি। অবশ্য সেটি প্রত্যাশা করাও সঠিক নয়।
ক্যালকাটা খ্রীষ্টান ট্রাক্ট এন্ড বুক সোসাইটি প্রকাশিত 'ফুলমণি ও করুণা' হানার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মোট তেরোটি ভাষায় অনুবাদিত হলেও, দেশীয় খ্রীষ্টান নারীদের শিক্ষিত করে তোলাই বইটির মূল উদ্দেশ্য ছিল। সেজন্যই বোধহয় 'ফুলমনি ও করুণা`তখনকার দিনের তুলনায় অনেক এগিয়ে থাকলেও প্রাপ্য মর্যাদা পায় নি।তাছাড়াও বিদেশী মহিলার বাংলা লেখাকে সে আমলের সাহিত্য সমাজ কোন চোখে দেখেছিল সেটাও বোঝা যায় নি। কিন্তু উপন্যাসটি নিবিড় পাঠ করলে বোঝা যায় যে, হানার শিল্পীসত্বার কাছে শেষ পর্যন্ত তাঁর মিশনারি মনোভাব হার মেনেছিল। 'এ বুক ফর নেটিভ খ্রীষ্টান উইমেন` হয়ে উঠেছিল তখনকার বাঙালি জীবনের প্রতিচ্ছবি। আজ বাংলা ভাষা যখন বিশ্বদরবারে নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তখন বাংলা গদ্যের আদি যুগের হানা ক্যাথেরিন ম্যালেন্সের অবদান ভুলে গেলে সত্যিই অন্যায় করা হবে।
(কপিরাইট: লেখক ও 'হিরণ্যগর্ভ' পত্রিকা)
Subscribe to:
Comments (Atom)

