আমার নিজস্ব পূজা পরিক্রমা
শৌভিক রায়
শৌভিক রায়
শারদ উৎসব আনন্দের। শারদ উৎসব প্রাণের। শারদ উৎসব জীবনের।
এই লেখাটার সাথে থাকা দুর্গাপূজার ছবি দেখে কেউ যদি ভাবেন দারুন সব পূজা প্যান্ডেল দেখতে পাবেন তবে কিন্তু ভুল হবে।
বিরাট বিরাট মন্ডপ, দুর্দান্ত থিম, ঝলমলে আলো, দামী প্রতিমা....না।
আনন্দের, প্রাণের, জীবনের উৎসব দেখতে আজ নিজের মতো বেরিয়ে পড়েছিলাম। সাধ্য আমার সীমিত। তাই সাধ থাকলেও দেখা হ'ল না অনেক কিছুই, যাওয়া গেল না অনেক জায়গাতেই। কিন্তু যতটুকু দেখলাম তার তুলনায় পেলাম এত বেশী যে কোন নিক্তিতে তার ওজন মাপা সম্ভব না।
মথুরা চা বাগানের দুর্গাপূজা মহিলারাই করে থাকেন। নিজেদের মন্ডপে নিজেরা চাঁদা তুলে নিষ্ঠা সহকারে করা এই পূজার বয়স আটানব্বই বছর। আবার তোর্ষা চা বাগান ১৯৮৮ সাল থেকে করে আসছে মাতৃসাধনা। হাসিমারা সেন্ট্রাল ক্লাবের পূজার বয়স বিরাশি বছর তো দলসিংপাড়া চা বাগান পূজা করে আসছে ১৯৪৭ সাল থেকে। হাসিমারারই মলঙ্গি সার্বজনীন সাবেক জলপাইগুড়ি জেলার অন্যতম প্রাচীন পূজার একটি। সুভাষিণী চা বাগানে বাবু বাসা পূজা (বাগানের বাবু সম্প্রদায়ের) পা দিয়েছে সত্তরের কোঠায়। বাগানের শ্রমিকেরা আগে একসাথে পূজাতে সামিল হলেও পরে নিজেদের মতো আলাদা আয়োজন শুরু করেন। তাদের পূজার বয়সও কম নয়। হাসিমারার মলঙ্গি আর সুভাষিণীর শ্রমিকদের পূজা মন্ডপের সামনে বসে বিরাট মেলা পূজাকে কেন্দ্র করেই। অন্যদিকে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের নীলপাড়া ফরেস্ট রেঞ্জের রিক্রিয়েশন ক্লাবের পূজার পুরোহিত শ্রী তারাকান্ত ভট্টাচার্য্য জানালেন তাঁদের পূজার বয়স ছাপ্পান্ন। চিলাপাতার পূজাও পার করেছে পঞ্চাশের কোঠা।
এই পূজোগুলোর টান আন্তরিকতায়। কোথাও কেউ দিয়েছেন প্রতিমা তো কেউ একদিনের পূজার খরচ। আবার কোথাও চাঁদা তুলে স্থায়ী মন্ডপে হয় পূজো। পূজো ঘিরে আবালবৃদ্ধবনিতার উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। বাড়িতে অরন্ধন। সবাই মিলে একসাথে খাওয়া বেশীর ভাগ জায়গাতেই।
সরল মানুষগুলো আমাদের তথাকথিত শহুরে লোকেদের দেখে প্রথমে বিস্মিত তারপরেই আপ্লুত। কি করবেন, কি বলবেন ভেবে পান না যেন! লজ্জাই লাগে। নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারি না কিভাবে বলবো শেকড়ের টান, মাটির টান নিয়ে এসে ফেলেছে ওঁদের কাছে। চা বাগানগুলো শত প্রতিকূলতা নিয়ে, শ্রমিকেরা দৈনিক ন্যূনতম মজুরী নিয়ে, শ্রেষ্ঠ পূজার তকমার প্রলোভন ত্যাগ করে, বন্ধ চা বাগান নিয়ে এই যে প্রাণের টানে, ভক্তির টানে পূজাগুলিকে করে চলেছেন তার কোন তুলনা হয় কি?
আমার নিজস্ব পূজা পরিক্রমার আজ অন্যতম স্মরণীয় দিন। বড় ভালো লাগলো। স্পর্শ করলাম ঐতিহ্যকে, দেখলাম পরম্পরাকে, শিখলাম সাহচর্যকে।
এমন দুর্গাপূজা আবার আসুক, বারবার আসুক.....
এই লেখাটার সাথে থাকা দুর্গাপূজার ছবি দেখে কেউ যদি ভাবেন দারুন সব পূজা প্যান্ডেল দেখতে পাবেন তবে কিন্তু ভুল হবে।
বিরাট বিরাট মন্ডপ, দুর্দান্ত থিম, ঝলমলে আলো, দামী প্রতিমা....না।
আনন্দের, প্রাণের, জীবনের উৎসব দেখতে আজ নিজের মতো বেরিয়ে পড়েছিলাম। সাধ্য আমার সীমিত। তাই সাধ থাকলেও দেখা হ'ল না অনেক কিছুই, যাওয়া গেল না অনেক জায়গাতেই। কিন্তু যতটুকু দেখলাম তার তুলনায় পেলাম এত বেশী যে কোন নিক্তিতে তার ওজন মাপা সম্ভব না।
মথুরা চা বাগানের দুর্গাপূজা মহিলারাই করে থাকেন। নিজেদের মন্ডপে নিজেরা চাঁদা তুলে নিষ্ঠা সহকারে করা এই পূজার বয়স আটানব্বই বছর। আবার তোর্ষা চা বাগান ১৯৮৮ সাল থেকে করে আসছে মাতৃসাধনা। হাসিমারা সেন্ট্রাল ক্লাবের পূজার বয়স বিরাশি বছর তো দলসিংপাড়া চা বাগান পূজা করে আসছে ১৯৪৭ সাল থেকে। হাসিমারারই মলঙ্গি সার্বজনীন সাবেক জলপাইগুড়ি জেলার অন্যতম প্রাচীন পূজার একটি। সুভাষিণী চা বাগানে বাবু বাসা পূজা (বাগানের বাবু সম্প্রদায়ের) পা দিয়েছে সত্তরের কোঠায়। বাগানের শ্রমিকেরা আগে একসাথে পূজাতে সামিল হলেও পরে নিজেদের মতো আলাদা আয়োজন শুরু করেন। তাদের পূজার বয়সও কম নয়। হাসিমারার মলঙ্গি আর সুভাষিণীর শ্রমিকদের পূজা মন্ডপের সামনে বসে বিরাট মেলা পূজাকে কেন্দ্র করেই। অন্যদিকে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের নীলপাড়া ফরেস্ট রেঞ্জের রিক্রিয়েশন ক্লাবের পূজার পুরোহিত শ্রী তারাকান্ত ভট্টাচার্য্য জানালেন তাঁদের পূজার বয়স ছাপ্পান্ন। চিলাপাতার পূজাও পার করেছে পঞ্চাশের কোঠা।
এই পূজোগুলোর টান আন্তরিকতায়। কোথাও কেউ দিয়েছেন প্রতিমা তো কেউ একদিনের পূজার খরচ। আবার কোথাও চাঁদা তুলে স্থায়ী মন্ডপে হয় পূজো। পূজো ঘিরে আবালবৃদ্ধবনিতার উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। বাড়িতে অরন্ধন। সবাই মিলে একসাথে খাওয়া বেশীর ভাগ জায়গাতেই।
সরল মানুষগুলো আমাদের তথাকথিত শহুরে লোকেদের দেখে প্রথমে বিস্মিত তারপরেই আপ্লুত। কি করবেন, কি বলবেন ভেবে পান না যেন! লজ্জাই লাগে। নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারি না কিভাবে বলবো শেকড়ের টান, মাটির টান নিয়ে এসে ফেলেছে ওঁদের কাছে। চা বাগানগুলো শত প্রতিকূলতা নিয়ে, শ্রমিকেরা দৈনিক ন্যূনতম মজুরী নিয়ে, শ্রেষ্ঠ পূজার তকমার প্রলোভন ত্যাগ করে, বন্ধ চা বাগান নিয়ে এই যে প্রাণের টানে, ভক্তির টানে পূজাগুলিকে করে চলেছেন তার কোন তুলনা হয় কি?
আমার নিজস্ব পূজা পরিক্রমার আজ অন্যতম স্মরণীয় দিন। বড় ভালো লাগলো। স্পর্শ করলাম ঐতিহ্যকে, দেখলাম পরম্পরাকে, শিখলাম সাহচর্যকে।
এমন দুর্গাপূজা আবার আসুক, বারবার আসুক.....


















No comments:
Post a Comment