বৈষম্য
শৌভিক রায়
সিট বেল্ট বেঁধে মাথাটাকে চিতিয়ে দিতেই অরিত্রর চোখ গেল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এয়ার হোস্টেসের দিকে। মুহূর্তেই বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল অরিত্রর।
আমস্টারডাম থেকে দিল্লী অবধি পুরো রাস্তাটা ঘুমোবে বলে ভেবেছিল অরিত্র। মনটাও চাঙা হয়ে রয়েছে। লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে তার বক্তব্য এই কনফারেন্সে বিপুল প্রশংসা পেয়েছে। নারীর অধিকার রক্ষায় যেভাবে সে সোচ্চার হয়েছে তাতে অন্য দেশের প্রতিনিধিরা সাবাস জানিয়েছে, বিশেষ করে মহিলারা। কিন্তু এয়ার হোস্টেস মেয়েটাকে দেখে তার এতক্ষণের মানসিক স্থৈর্যটা ভেঙে গেল।
****************************** ******************************************
দিল্লীতে নামবার আগে সাহস করে মেয়েটাকে তার নাম জিজ্ঞেস করতেই পরিষ্কার হয়ে গেল সব। ঠিকই ধরেছিল সে। প্রতিভা তবে প্রতিশোধটা নিয়েইছে। মেয়েকে এয়ার হোস্টেস বানিয়ে ছেড়েছে। এই এয়ার হোস্টেস হওয়া নিয়েই অরিত্রর সাথে সমস্যা শুরু। মেয়েদের আবার কিসের চাকরির দরকার! তার একার উপার্জন কি যথেষ্ট নয়? এই ছিল অরিত্রর যুক্তি। বিরোধটা তিক্ততার আকার নেবার আগেই দু'জনে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। স্বভাবমতো প্রতিভা জানায়ও নি যে অরিত্রর সন্তান তার গর্ভে।
মিমোসা খুব গর্ব নিয়ে মায়ের নাম বলেছে তাকে। বাবার নামটাও জানিয়েছে। জানিয়েছে বাবা মা আলাদা থাকেন। সরকারী আমলা এ চ্যাটার্জীকে সে ছবিতে দেখেছে বহুবার। এ চ্যাটার্জীর কাজের খবর রাখে মিমোসা। আমস্টারডামে পেপারেই পড়েছে ডঃ চ্যাটার্জীর ভাষণের কথা। ভারতীয় হিসেবে সে ডঃ চ্যাটার্জীর জন্য গর্বিত।
......না সে তার বাবা অরিত্র চ্যাটার্জীকে চেনে না। দেখে নি কোনদিন।
(প্রকাশিত- এক মুঠো রোদ )
শৌভিক রায়
সিট বেল্ট বেঁধে মাথাটাকে চিতিয়ে দিতেই অরিত্রর চোখ গেল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এয়ার হোস্টেসের দিকে। মুহূর্তেই বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল অরিত্রর।
আমস্টারডাম থেকে দিল্লী অবধি পুরো রাস্তাটা ঘুমোবে বলে ভেবেছিল অরিত্র। মনটাও চাঙা হয়ে রয়েছে। লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে তার বক্তব্য এই কনফারেন্সে বিপুল প্রশংসা পেয়েছে। নারীর অধিকার রক্ষায় যেভাবে সে সোচ্চার হয়েছে তাতে অন্য দেশের প্রতিনিধিরা সাবাস জানিয়েছে, বিশেষ করে মহিলারা। কিন্তু এয়ার হোস্টেস মেয়েটাকে দেখে তার এতক্ষণের মানসিক স্থৈর্যটা ভেঙে গেল।
******************************
দিল্লীতে নামবার আগে সাহস করে মেয়েটাকে তার নাম জিজ্ঞেস করতেই পরিষ্কার হয়ে গেল সব। ঠিকই ধরেছিল সে। প্রতিভা তবে প্রতিশোধটা নিয়েইছে। মেয়েকে এয়ার হোস্টেস বানিয়ে ছেড়েছে। এই এয়ার হোস্টেস হওয়া নিয়েই অরিত্রর সাথে সমস্যা শুরু। মেয়েদের আবার কিসের চাকরির দরকার! তার একার উপার্জন কি যথেষ্ট নয়? এই ছিল অরিত্রর যুক্তি। বিরোধটা তিক্ততার আকার নেবার আগেই দু'জনে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। স্বভাবমতো প্রতিভা জানায়ও নি যে অরিত্রর সন্তান তার গর্ভে।
মিমোসা খুব গর্ব নিয়ে মায়ের নাম বলেছে তাকে। বাবার নামটাও জানিয়েছে। জানিয়েছে বাবা মা আলাদা থাকেন। সরকারী আমলা এ চ্যাটার্জীকে সে ছবিতে দেখেছে বহুবার। এ চ্যাটার্জীর কাজের খবর রাখে মিমোসা। আমস্টারডামে পেপারেই পড়েছে ডঃ চ্যাটার্জীর ভাষণের কথা। ভারতীয় হিসেবে সে ডঃ চ্যাটার্জীর জন্য গর্বিত।
......না সে তার বাবা অরিত্র চ্যাটার্জীকে চেনে না। দেখে নি কোনদিন।
(প্রকাশিত- এক মুঠো রোদ )
No comments:
Post a Comment