একটি ছোট্ট স্মৃতি
শৌভিক রায়
সময়টা ১৯৮২ বা ১৯৮৩। দ্বিতীয় বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তিনি, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, জিততে পারেননি।
সেই সময় শাসক দলের একজন কর্মী হিসেবে, দলীয় কাজে, তিনি একবার ফালাকাটায় এলেন। এরকমই বর্ষাকাল তখন। আমাদের স্কুল কোয়ার্টার্সের সামনের মাঠে বৃষ্টির জল ছোটাছুটি করছে। ব্যাঙের ডাকে দিনের বেলাতেই রাতের হাতছানি।
হঠাৎ পুলিশের একটি গাড়ি এসে থামল কোয়ার্টার্সের সামনে। মাঝবয়সী মুখ চেনা মানুষটি নামলেন। সঙ্গে রণেনকাকু। পুলিশের পোশাকেও দুই একজন ছিলেন হয়ত।
সেই মানুষটির ধুতি পাঞ্জাবি ভিজে নেতিয়ে গেছে। গায়ে রাখবার মতো অবস্থা নেই। তখন ফালাকাটায় যাঁরা ধুতি পাঞ্জাবি পরতেন, তাঁদের মধ্যে একদম প্রথম সারিতে আমার বাবা। বোঝা গেল ওই মানুষটির ধুতি পাঞ্জাবি প্রয়োজন।
গতকাল থেকে চোখে ভাসছে শুধু আমাদের সেই কোয়ার্টার্সের বসবার ঘরে, লাল সোফায়, বাবার ধুতি পাঞ্জাবি পরিহিত চেনা মুখের মানুষটি বসে রয়েছেন। অবশ্যই বেশিক্ষণ নয়। খানিক পরেই চলে যাবেন। তাঁর নিজের ধুতি পাঞ্জাবি শুকিয়ে ছিল কিনা মনে নেই সেসব। তাঁকে সামনাসামনি আর কোনও দিন দেখিওনি।
রণেনকাকু অকালে চলে গেছেন। বহু আগে। বাবাও নেই বছর তিনেক হল। গতকাল উনিও চলে গেলেন।
আসলে কিছু অনুপস্থিতির প্রাবল্য, উপস্থিতির চাইতে অনেক বেশি। যত দিন যাচ্ছে, জীবন সেটাই শেখাচ্ছে।
No comments:
Post a Comment