Tuesday, July 12, 2022

 



কাঠের বাড়ি 

শৌভিক রায় 


ফালাকাটায় আমার দুই বন্ধু রণজিৎ মাহেশ্বরী ও রাজা মাহেশ্বরীর কাঠের বাড়িটা আমার খুব প্রিয় ছিল। ওই কাঠের বাড়িটার টানেই কতদিন যে স্কুল ফেরত ওদের বাড়ি যেতাম, তার হিসেবে নেই। আর এক বন্ধু পিনুদের ভাড়া বাড়িটাও ছিল কাঠের দোতলা। পুটনদের বাড়ির একটা অংশেও ছিল কাঠ নির্মিত ঘর। ফালাকাটা ডাকবাংলো, হাই স্কুলের পুরোনো হোস্টেল, ভূমি-দপ্তরের অফিস, থানা সহ বহু বাড়ি ছিল কাঠের। অবশ্য কাঠের বাড়ি ব্যাপারটি ফালাকাটার একচেটিয়া ছিল না। পূর্বে সঙ্কোশ থেকে পশ্চিমে তিস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত ডুয়ার্স-ভূমি, বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ, দার্জিলিং পাহাড় সর্বত্রই ছিল কাঠের বাড়ির রমরমা।





সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে অনেককিছু। খুব স্বাভাবিক সেটা। একবিংশ শতাব্দীতে পা রেখে, গাছ কেটে কাঠ দিয়ে বাড়ি বানাচ্ছি ভাবতে সত্যি কষ্ট হয়। কিন্তু কীভাবে ভুলব কালিম্পঙয়ের ডঃ গ্রাহাম হোমসের কাঠের তৈরি সেই কটেজগুলি বা বহু রাত কাটানো বেকারি ফ্ল্যাট! বীরপাড়ার মুন্নাদিদের কাঠের সেই অভিজাত বাড়ি কি ভুলে যাওয়ার? কিংবা বানারহাটে বাবুদের সেই কাঠের বাড়ি যার টিনের চালে সারা রাত জলতরঙ্গ শুনেছিলাম এক ভরা শ্রাবণ রাতে! এরকম আর কয়েক গন্ডা কাঠের বাড়ির হু হু করে স্মৃতিতে উঠে এলো মিরিকের প্রয়াত শিক্ষক শ্রদ্ধেয় গঙ্গাপ্রসাদজির কাঠের বাড়িটিকে দেখে। অতীত যেন থমকে ছিল ওখানে। 




মিরিকের কসমোপলিটান চরিত্রে  উজ্জ্বল নাম এই অবাঙালি মানুষটি। মিরিকের উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মরণ করেন ওখানকার পুরোনো মানুষ। (যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, উত্তরের ছোট ছোট জনপদগুলির উন্নয়নে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মানুষদের অবদান নিয়ে আমরা বড্ড উদাসীন) মিরিককে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবার সরকারি ঘোষণার দিনে, তাঁর একটি ছবি দেখতে পেলাম ওই বাড়িতেই। সেই ছবিতে দেখতে পাচ্ছি  তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়কেও। এছাড়াও সারা বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এমন কিছু উপাদান যার মূল্য আমার কাছে অনেক। কিন্তু সময়াভাবে সেগুলিকে সেভাবে আর খনন করা হল না। সেই অভিজ্ঞতার দুই চারটি ছবি শেয়ার করলাম সবার সঙ্গে। 







গঙ্গাপ্রসাদজি আজ নেই। বাড়িটি রয়ে গেছে। 
বাড়িই রয়ে যায় আসলে, প্রস্থান ঘটে চরিত্রদের.... 




No comments: