ডুয়ার্সে একদিন
শৌভিক রায়
শৌভিক রায়
চালসায় রাস্তার দু'ধারেই আগুন রঙা কৃষ্ণচূড়ার ঢল। খানিক আগে ডায়না পার হবার সময়েও দেখেছিলাম ওই একই চিত্র। নদীর নাম ডায়না হলে বেশ লাগে। মনে হয় অরণ্যদেব আশেপাশেই আছেন কোথাও! এদিকের নদীদের নামের মধ্যেই একটা অদ্ভুত রোমান্টিকতা - আংরাভাসা, ডায়না , লিস , ঘিস, তোর্সা, ডিমা , মুজনাই !!
ডায়না পার হলেই লুকসান মোড়। ডাইনে চা বাগান চিড়ে পথ চলে গেছে লাল ঝামেলা বস্তিতে। অদূরেই ভূটান। লাল ঝামেলা থেকে ভূটানের দৃশ্য বেশ মন কাড়া। তবে এবার ওদিকে নয়। চলছি একটু অন্য দিকে। কোচবিহার থেকে দুজনে বেরিয়েছি। ফালাকাটা টাচ করে বীরপাড়ায় এসে ন্যাশনাল হাই ওয়ে ধরে একটু এগিয়ে ডাইনে ঢুকে গেছে পথ বিন্নাগুড়ির দিকে। আর সোজা গেলে চলে যাওয়া যেত গয়েরকাটা হয়ে ধূপগুড়ি। কিন্তু সে রাস্তায় নয়। তাই ডাইনে বাঁক নিয়ে বিন্নাগুড়িকে পেছনে ফেলে বানারহাট পার হবার পর রেডব্যাংক চা বাগান, ডায়না , লুকসান হয়ে গ্রাসমোড়।
ফালাকাটা থেকেই খানিক পর পর সঙ্গী চা বাগান। পেরিয়েছি কোচবিহার টি এস্টেট, তাসাটি চা বাগান, দলগাওঁ চা বাগান, বীরপাড়া চা বাগান, গ্যানডাপাড়া চা বাগান ...আরও কত কি! গ্রাসমোড়ের পর নাগরাকাটাকে ডাইনে রেখে জলঢাকা পেরিয়ে প্রবেশ জঙ্গলে। একদিকে লাটাগুড়ি আর আর একদিকে চাপড়ামারি। খুনিয়া মোড় এলেই প্রতিবার আমার বুক কাঁপে। অথচ এখন বুক কাঁপার কোনোই কারণ নেই। সেই দিন তো আর নেই। তবু কোনো এক সময়ের সেই কুখ্যাত অঞ্চল পার হতে আজও বুক ঢিপ ঢিপ। খুন হত, ডাকাতি হত ...তার থেকেই নাম হয়ে গেলো খুনিয়া মোড়! চালসা সামনেই, জঙ্গল পেরোলেই।
চালসায় ঢুকতেই আগুন রঙা কৃষ্ণচূড়ার ঢল। এদিকে আকাশে সূর্যও আগুন ঢালছে। বেড়ানোর পক্ষে আদৌ উপযুক্ত সময় নয়। কিন্তু আমার তো সব আবোলতাবোল কান্ড। আর আমি নিজের সঙ্গিনীটির মদতপুষ্ট, আগা-গোড়াই। আসলে শীতকালে পিকনিক পার্টির লাল, নীল, হলুদ, সবুজ নানা ঝামেলার জন্য আমি ওই সময় একদমই বেড়ানো বিমুখ। তারস্বরে মাইক বাজিয়ে অরণ্য, পাহাড়ের শান্তি ভঙ্গ করতেও চাই না, দেখতেও চাই না। তাই এই ভরা গ্রীষ্মে আমার মতো, আমাদের মতো ক্ষ্যাপাটে ছাড়া এ সি বা ফ্যানের আরাম ছেড়ে ঘামতে ঘামতে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি গরমে কে আর বেড়াতে বেরোয় !
চালসায় হিল টপে Sinclairs Resort কে বাঁয়ে রেখে একটু এগোতেই আইভিল চা বাগান। নামেই এক তিরতিরে অনুভূতি বুকে। আর সেটা আরও বেড়ে যায় দূরের পাহাড় আর তার অধিত্যকা দেখে। রাস্তাও তেমনি। বিরাট বিরাট গাছে ছেয়ে আছে পথ। চারদিকে সবুজের সমুদ্র। শীতের রুক্ষতা নেই। বসন্ত পার হয়ে এসে সবুজ হয়ে আছে চারদিক। সবুজের ওপর আরও কয়েক পোচ সবুজ ঝকঝকে করে তুলবে এই চারদিক বর্ষা এলে। অপেক্ষা এখন তারই জন্য।
মেটেলি থেকে বাঁ হাতে এবার শুরু হলে চলা। আবার বাগান। তরঙ্গায়িত। দূরেই হাত বাড়ালেই পাহাড়। রাস্তাও উঁচু নিচু হতে শুরু করেছে। মাঝে মাঝেই ছোট ছোট ঝোরা। পরিষ্কার জল। এক আধটা বস্তি যা আছে তা সবই চা বাগানের কুলিদের। দারিদ্রের ছাপ তাদের বাড়িঘরে প্রকট হলেও মুখে অনাবিল হাসি। কিছু জানতে চাইলেই এক গাল হেসে বলে দেবে সব। ডুয়ার্সের কসমোপলিটান আবহাওয়াটা এখানে এলে স্পষ্ট বোঝা যায়। দেখতে দেখতেই চলে এলাম সামসিং। এখন সঙ্গী আর এক নদী মূর্তি। সামসিং দেখে চোখ ট্যারা হয়ে যায়। এলাচ, শাল, পাইন বনে মোড়া সামসিং যেন এক টুকরো স্বর্গ একদম হাতের নাগালে! কিন্তু থামলে তো হবে না। তাই অরণ্যের মাঝ দিয়ে, ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক আর না জানি কি কি পাখির ডাক শুনতে শুনতে এগোতেই রাস্তা দু'ভাগ। সোজা গেলেই সান্তালাখোলা, পাহাড়ের গায়ে ছোট্র হ্যামলেট। অপরূপা সে। পৌঁছে গেলে আর ফিরতে মন চায় না। কিন্তু আমরা থামতে চাইছি না। তাই আবার পিছিয়ে এসে এবার পাহাড় বেয়ে খানিক উঠে, খানিক নেমে রকি আইল্যান্ডে। মূর্তির স্রোতে চারদিকে অজানা সঙ্গীত তখন! এই সুর যে শুনেছে সে মরেছে।পৃথিবীর কোনো সুরকার এই সুর সৃষ্টি হয়তো কোনোদিনই করতে পারবেন না। চুপচাপ বসে থাকি পাথরের ওপর। পা ভেজাই। জল ছেটাই নিজের গায়েই। শহুরে ক্লেদাক্ত মন আর শরীর খানিকটা শুদ্ধ হয় যেন।
........ড্রাইভার গৌতমের আপত্তি শোনা হলো না। ওপারের পাহাড় অর্থাৎ জলঢাকা পাহাড়ের গায়ে নতুন রাস্তা দেখেই ঠিক করেছি ওদিক দিয়েই যাবো। রীনাও আমার দিকে। তাই গৌতম বোল্ড আউট। বেচারা। চেনা রাস্তায় গাড়ি চালাবার সুবিধে ছেড়ে অগত্যা ... আসলে পড়েছে যবনের হাতে , তাই জবাই তো হবেই। বোগেনভিলা, মাক্ষন , পাতাবাহারে ঢাকা পাহাড়। দূরে দেখা যাচ্ছে হিমালয়ের রেখা। নিচে মূর্তি। আহা....
অবশেষে বাঁক। মেলায় মূর্তি। ঢুকে পড়ি কুমাইয়ে। এ আর এক ছবির দেশ। পিঠে থলি চা বাগানের কুলি রমণী, মঙ্গোলিয়ান মুখের নেপালি বৃদ্ধ, অদূরের পাহাড়, সাজানো স্কুল, অদ্ভুত দেখতে বাড়ি, টানা রাস্তা ...কে বলবে ইংল্যান্ডের রাস্তায় নেই আমরা। ঘোর ভাঙে বাজারের হাল দেখে। শুরু হয় পাথুরে রাস্তা। তবে সামান্যই। আবার পিচ রাস্তা ধরে বস্তি পেরিয়ে একটু এগোতেই, খুনিয়া মোড় থেকে আসা জলঢাকা যাবার মূল রাস্তার দেখা মিলল। শুরু হলো গৌতমের টিকিয়া উড়ান চালানো ( যদিও নিজের বিরলকেশ মাথায় টিক্কির দেখা পাওয়া যায় না! তবে রীনার চুল উড়ছিল সেটা গাড়ির জানালার কাঁচ তুলে দেওয়া থেকেই বোঝা যাচ্ছিল)। যাইহ'ক বাঁক নিয়ে, ডান দিক বাঁ দিক করে এবার সামনে জলঢাকা। নদীর ওপারেই ভূটান। সোজা নামা নিচে নদীতে। নদীপর্ব শেষে মনাস্ট্রি আর ঝালং গ্রাম। বেশ সুন্দর। আসলে প্রকৃতি এতো ঢেলে দিয়েছে এখানে যে মাঝে মাঝে মনে হয় পক্ষপাতিত্ব করছে না তো! সবচেয়ে ভালো লাগে আদিম নির্জনতা। সাথে বিজন তান। ঝালং শেষে বিন্দুতে। বড় মায়াময় বিন্দু। একদমই অন্যরকম।
বিকেল হয়ে আসে। গৌতমের তাড়ায় ধরি এবার ফেরার পথ। চাপড়ামারি হয়ে ফিরতে হবে। দেরী করাটা ঠিক নয়। গণপতি মাঝে মাঝে রাস্তা অবরোধ করেন। তাছাড়াও রাতের জঙ্গল মানে বন্য প্রাণীদের দিন। সারাদিন তারা আমাদের বিরক্ত করে না, কোন অধিকারে আমরা মোটর গাড়ির আওয়াজে তাদের ব্যাঘাত ঘটাই।
চাপড়ামারির ভেতর দিয়ে তাই সূর্য একেবারেই অস্ত যাবার আগে ফিরে আসি খুনিয়া মোডে। বাকি পথ সেই এক। খুব ছোট্ট একটা বেড়ানো। তবু সুখের বন্যা নামে।
এক একটা দিন সত্যিই আলাদা হয়ে যায় !!
(প্রকাশিত- রসিকবিল )
ডায়না পার হলেই লুকসান মোড়। ডাইনে চা বাগান চিড়ে পথ চলে গেছে লাল ঝামেলা বস্তিতে। অদূরেই ভূটান। লাল ঝামেলা থেকে ভূটানের দৃশ্য বেশ মন কাড়া। তবে এবার ওদিকে নয়। চলছি একটু অন্য দিকে। কোচবিহার থেকে দুজনে বেরিয়েছি। ফালাকাটা টাচ করে বীরপাড়ায় এসে ন্যাশনাল হাই ওয়ে ধরে একটু এগিয়ে ডাইনে ঢুকে গেছে পথ বিন্নাগুড়ির দিকে। আর সোজা গেলে চলে যাওয়া যেত গয়েরকাটা হয়ে ধূপগুড়ি। কিন্তু সে রাস্তায় নয়। তাই ডাইনে বাঁক নিয়ে বিন্নাগুড়িকে পেছনে ফেলে বানারহাট পার হবার পর রেডব্যাংক চা বাগান, ডায়না , লুকসান হয়ে গ্রাসমোড়।
ফালাকাটা থেকেই খানিক পর পর সঙ্গী চা বাগান। পেরিয়েছি কোচবিহার টি এস্টেট, তাসাটি চা বাগান, দলগাওঁ চা বাগান, বীরপাড়া চা বাগান, গ্যানডাপাড়া চা বাগান ...আরও কত কি! গ্রাসমোড়ের পর নাগরাকাটাকে ডাইনে রেখে জলঢাকা পেরিয়ে প্রবেশ জঙ্গলে। একদিকে লাটাগুড়ি আর আর একদিকে চাপড়ামারি। খুনিয়া মোড় এলেই প্রতিবার আমার বুক কাঁপে। অথচ এখন বুক কাঁপার কোনোই কারণ নেই। সেই দিন তো আর নেই। তবু কোনো এক সময়ের সেই কুখ্যাত অঞ্চল পার হতে আজও বুক ঢিপ ঢিপ। খুন হত, ডাকাতি হত ...তার থেকেই নাম হয়ে গেলো খুনিয়া মোড়! চালসা সামনেই, জঙ্গল পেরোলেই।
চালসায় ঢুকতেই আগুন রঙা কৃষ্ণচূড়ার ঢল। এদিকে আকাশে সূর্যও আগুন ঢালছে। বেড়ানোর পক্ষে আদৌ উপযুক্ত সময় নয়। কিন্তু আমার তো সব আবোলতাবোল কান্ড। আর আমি নিজের সঙ্গিনীটির মদতপুষ্ট, আগা-গোড়াই। আসলে শীতকালে পিকনিক পার্টির লাল, নীল, হলুদ, সবুজ নানা ঝামেলার জন্য আমি ওই সময় একদমই বেড়ানো বিমুখ। তারস্বরে মাইক বাজিয়ে অরণ্য, পাহাড়ের শান্তি ভঙ্গ করতেও চাই না, দেখতেও চাই না। তাই এই ভরা গ্রীষ্মে আমার মতো, আমাদের মতো ক্ষ্যাপাটে ছাড়া এ সি বা ফ্যানের আরাম ছেড়ে ঘামতে ঘামতে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি গরমে কে আর বেড়াতে বেরোয় !
চালসায় হিল টপে Sinclairs Resort কে বাঁয়ে রেখে একটু এগোতেই আইভিল চা বাগান। নামেই এক তিরতিরে অনুভূতি বুকে। আর সেটা আরও বেড়ে যায় দূরের পাহাড় আর তার অধিত্যকা দেখে। রাস্তাও তেমনি। বিরাট বিরাট গাছে ছেয়ে আছে পথ। চারদিকে সবুজের সমুদ্র। শীতের রুক্ষতা নেই। বসন্ত পার হয়ে এসে সবুজ হয়ে আছে চারদিক। সবুজের ওপর আরও কয়েক পোচ সবুজ ঝকঝকে করে তুলবে এই চারদিক বর্ষা এলে। অপেক্ষা এখন তারই জন্য।
মেটেলি থেকে বাঁ হাতে এবার শুরু হলে চলা। আবার বাগান। তরঙ্গায়িত। দূরেই হাত বাড়ালেই পাহাড়। রাস্তাও উঁচু নিচু হতে শুরু করেছে। মাঝে মাঝেই ছোট ছোট ঝোরা। পরিষ্কার জল। এক আধটা বস্তি যা আছে তা সবই চা বাগানের কুলিদের। দারিদ্রের ছাপ তাদের বাড়িঘরে প্রকট হলেও মুখে অনাবিল হাসি। কিছু জানতে চাইলেই এক গাল হেসে বলে দেবে সব। ডুয়ার্সের কসমোপলিটান আবহাওয়াটা এখানে এলে স্পষ্ট বোঝা যায়। দেখতে দেখতেই চলে এলাম সামসিং। এখন সঙ্গী আর এক নদী মূর্তি। সামসিং দেখে চোখ ট্যারা হয়ে যায়। এলাচ, শাল, পাইন বনে মোড়া সামসিং যেন এক টুকরো স্বর্গ একদম হাতের নাগালে! কিন্তু থামলে তো হবে না। তাই অরণ্যের মাঝ দিয়ে, ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক আর না জানি কি কি পাখির ডাক শুনতে শুনতে এগোতেই রাস্তা দু'ভাগ। সোজা গেলেই সান্তালাখোলা, পাহাড়ের গায়ে ছোট্র হ্যামলেট। অপরূপা সে। পৌঁছে গেলে আর ফিরতে মন চায় না। কিন্তু আমরা থামতে চাইছি না। তাই আবার পিছিয়ে এসে এবার পাহাড় বেয়ে খানিক উঠে, খানিক নেমে রকি আইল্যান্ডে। মূর্তির স্রোতে চারদিকে অজানা সঙ্গীত তখন! এই সুর যে শুনেছে সে মরেছে।পৃথিবীর কোনো সুরকার এই সুর সৃষ্টি হয়তো কোনোদিনই করতে পারবেন না। চুপচাপ বসে থাকি পাথরের ওপর। পা ভেজাই। জল ছেটাই নিজের গায়েই। শহুরে ক্লেদাক্ত মন আর শরীর খানিকটা শুদ্ধ হয় যেন।
........ড্রাইভার গৌতমের আপত্তি শোনা হলো না। ওপারের পাহাড় অর্থাৎ জলঢাকা পাহাড়ের গায়ে নতুন রাস্তা দেখেই ঠিক করেছি ওদিক দিয়েই যাবো। রীনাও আমার দিকে। তাই গৌতম বোল্ড আউট। বেচারা। চেনা রাস্তায় গাড়ি চালাবার সুবিধে ছেড়ে অগত্যা ... আসলে পড়েছে যবনের হাতে , তাই জবাই তো হবেই। বোগেনভিলা, মাক্ষন , পাতাবাহারে ঢাকা পাহাড়। দূরে দেখা যাচ্ছে হিমালয়ের রেখা। নিচে মূর্তি। আহা....
অবশেষে বাঁক। মেলায় মূর্তি। ঢুকে পড়ি কুমাইয়ে। এ আর এক ছবির দেশ। পিঠে থলি চা বাগানের কুলি রমণী, মঙ্গোলিয়ান মুখের নেপালি বৃদ্ধ, অদূরের পাহাড়, সাজানো স্কুল, অদ্ভুত দেখতে বাড়ি, টানা রাস্তা ...কে বলবে ইংল্যান্ডের রাস্তায় নেই আমরা। ঘোর ভাঙে বাজারের হাল দেখে। শুরু হয় পাথুরে রাস্তা। তবে সামান্যই। আবার পিচ রাস্তা ধরে বস্তি পেরিয়ে একটু এগোতেই, খুনিয়া মোড় থেকে আসা জলঢাকা যাবার মূল রাস্তার দেখা মিলল। শুরু হলো গৌতমের টিকিয়া উড়ান চালানো ( যদিও নিজের বিরলকেশ মাথায় টিক্কির দেখা পাওয়া যায় না! তবে রীনার চুল উড়ছিল সেটা গাড়ির জানালার কাঁচ তুলে দেওয়া থেকেই বোঝা যাচ্ছিল)। যাইহ'ক বাঁক নিয়ে, ডান দিক বাঁ দিক করে এবার সামনে জলঢাকা। নদীর ওপারেই ভূটান। সোজা নামা নিচে নদীতে। নদীপর্ব শেষে মনাস্ট্রি আর ঝালং গ্রাম। বেশ সুন্দর। আসলে প্রকৃতি এতো ঢেলে দিয়েছে এখানে যে মাঝে মাঝে মনে হয় পক্ষপাতিত্ব করছে না তো! সবচেয়ে ভালো লাগে আদিম নির্জনতা। সাথে বিজন তান। ঝালং শেষে বিন্দুতে। বড় মায়াময় বিন্দু। একদমই অন্যরকম।
বিকেল হয়ে আসে। গৌতমের তাড়ায় ধরি এবার ফেরার পথ। চাপড়ামারি হয়ে ফিরতে হবে। দেরী করাটা ঠিক নয়। গণপতি মাঝে মাঝে রাস্তা অবরোধ করেন। তাছাড়াও রাতের জঙ্গল মানে বন্য প্রাণীদের দিন। সারাদিন তারা আমাদের বিরক্ত করে না, কোন অধিকারে আমরা মোটর গাড়ির আওয়াজে তাদের ব্যাঘাত ঘটাই।
চাপড়ামারির ভেতর দিয়ে তাই সূর্য একেবারেই অস্ত যাবার আগে ফিরে আসি খুনিয়া মোডে। বাকি পথ সেই এক। খুব ছোট্ট একটা বেড়ানো। তবু সুখের বন্যা নামে।
এক একটা দিন সত্যিই আলাদা হয়ে যায় !!
(প্রকাশিত- রসিকবিল )











No comments:
Post a Comment