শালা
শৌভিক রায়
- তোর শ্বশুরবাড়ি কোথায়?
- মুসুর গাড়ি?
- আরে শ্বশুরবাড়ি! শ্ব...শু...র...বা...ড়ি...
- অ...চিৎকার করছিস কেন? কানে খাটো বলে এত চেঁচাবি নাকি?
- আচ্ছা, আচ্ছা। বল এখন।
- ময়নাগুড়ি।
- ওহহ আচ্ছা, ময়নাগুড়ি!
- না না ময়নাগুড়ি!!
- বুঝেছি।
- সুজি? সুজি খাব না রে এখন।
- নিকুচি করেছে তোর সুজির।
- শ্বশুরবাড়ির? হ্যাঁ...একদম ঠিক।
- অ্যা! বলিস কী!!
- হ্যাঁ তো! কয়টা শা...শালা জানিস তো? তিনটা!
- তাতে কী?
- তাতেই তো সব!!
- কী সব?
- না না এখন শোব না। শোব কেন??
- আরে শালাদের কথা কী যেন বললি?
- মালা?
- শালা শালা! শ্যালক!!!
- অ...আরে প্রথমটা তো চিত্রশালা।
- চিত্রশালা???
- বুইলি না? ওই যে। আঁকে!
- আঁকে?
- নাকে? না না। নাকে না। আঁকে! বেশ ভাল আঁকে। আমার মতো না।
- কেন তুই আবার এখানে কীভাবে এলি?
- আ..আসব না?? ছবি কাকে বলে বুঝিস?
- কেন?
- শোন শোন...চেন্নাইতে ছিলাম। মনে আছে তোর?
- আছে।
- ভাষা তো বুঝি না। ওরাও আমার কথা বোঝে না।
- হুমমম
- সবজি কিনব। কাছেই দোকান। লাউ খাই না বহুদিন। ঠিক করলাম এঁকে দোকানদারকে বোঝাবো।
- তারপর?
- কার পর?
- ধ্যাত্তেরি!! তারপর বল...তারপর...
- অ...আমার আঁকা দেখে দোকানদার রেন্ডে, নালে, মুনে করে এমন ভাব করল যে বুঝে গেছে!
- বাহ, খুব ভাল তো।
- ঘন্টা ভাল। পরদিন লাউ আনতে গিয়ে দেখি কাঁঠাল দিচ্ছে।
- কাঁঠাল!! কাঁঠাল কেন?
- ওই তো! এমন ছবি এঁকেছি, লাউ হয়ে গেছে কাঁঠাল। সে কী চিত্র! যত বলি আমি এটা চাই নি তত ইল্লারে আইয়াপো মন্দ বুদ্ধি রাকসসো বলে কী বলল আর না বলল!!
- তারপর?
- আনলাম। কাঁঠাল। সে কি কাঁঠাল রে বাবা! না যায় ভাঙা, না যায় খাওয়া।
- বাপ রে!
- তাই বললাম আমার চিত্রশালা ছবি কিন্তু বেড়ে আঁকে! বুইলি?
- বুঝলাম। আর দুই জন?
- পরের টা ধর্মশালা।
- ধর্মশালা?
- হ্যাঁ। সারাদিন পুজো পাঠ, ঠাকুর, দেবতা....জ্ঞানের কথা...একদম ধর্মশালা।
- পারিসও! উফফ। ধর্মশালা!
- না না ধর্মশালা। কর্মশালা হল ওদের পিসতুতো ভাই। সারাক্ষণ বাই বাই করে কাজ করে যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠেই পটাশ করে মশারি তুলে ফেলল, চা বানিয়ে দিল, সাইকেল চেপে পাই পাই করে বাজারে চলে গেল, ফিরে এসে মাছ কুটতে বসল!! উফফ কী কাজ কী কাজ! কাজ দেখতে দেখতে টায়ার্ড হয়ে যাবি। ওটা হল কর্মশালা। আর এটা ধর্মশালা।
- বুঝেছি বুঝেছি!! উফফ আর পারি না। আর একজন? তোর আর একটা শালা আছে বললি যে।
- আছে তো। ওটাই তো আমার ফেভারিট রে।
- ফেভারিট?
- হে হে...খুউব ফেভারিট।
- কেন?
- আরে ওটা তো পানশালা!
- পানশালা?
- হ্যাঁ...পানশালা। যা চাইবি তাই পাবি! হুইস্কি, ভদকা, জিন, রাম, রহিম, সীতা, গীতা...এমন কি দেশি পর্যন্ত!
- বলিস কী!!
- সারাদিন টাল খাচ্ছে! বুইলি! ওকে দেখলেই মনে হবে ভূমিকম্প হচ্ছে। পা কাঁপছে। চোখ এক্কেবারে ত্রিনেত্র টাইপ। আই বাপ শিব শম্ভু বলে পেন্নাম সেরে ফেলতে পারিস! মনটাও খাসা। মুখ ফুটে বলতে না বলতেই চুকুচুকু হাজির! জিও মেরে পানশালা!!
*এর পরের সংলাপ আর কহতব্য নয়। তিন শালা আর এক বোনাসের ধাক্কায় আমার তখন অসাড় অবস্থা। বহু কষ্টে সামলেছিলাম নিজেকে।
(বোকামির এককাল)