Saturday, March 20, 2021

ছায়া বিষন্ন হলে

শৌভিক রায়

আমাদের নিজস্ব বটগাছটির ছায়া দীর্ঘ ছিল। এতটা দীর্ঘ সে ছায়া যে, বুঝিনি কখনও উষ্ণ দিন কতটা ভীষণ হতে পারে। ওই ছায়াতে শীতল হতে হতে দাদা বলতো কতই না রূপকথা, মা শোনাতো গান, প্রবল। আসলে ছায়ারা বোধহয় এরকমই হয়, নিজে পুড়ে তেতে গেলেও আশ্রয় দেয় উত্তরাধিকার, অনায়াস। বুঝিনা সেসব কিছুই, থাকি শুধু নিজবৃত্তে, ঘুরপাক এক অন্ধগলিতে...

 
ছায়া সরে গেলে দেখি, দাঁড়িয়ে আছে ধুলো মাখা সময়। পরতে পরতে তার জমেছে আস্তরণ...দেশভাগ, ব্রহ্মপুত্রের ঘোলা জল, কলকাতার সড়ক, বিহারের কালো মেয়ে, উত্তর দেশের জনপদ, হেঁটে চলা এক মায়াজাল, কেজো জীবন, অবসর আর তারপর শুধুই নিজস্বতা, সঙ্গোপনে একা একা গুমড়ে চলা, বলা শুধু একটিই কথা, জীবন মানে চলা, জীবন মানে থেমে যাওয়া, জীবন মানে কখনও বোকার গল্প, নিজের মতো চালাক ভাবা...

নিজস্ব বটগাছটির ছায়া সত্যি দীর্ঘ ছিল। ওই ছায়াতেই লেখা ছিল শীতল দিনের কথা। ছিল আটপৌরে শাড়ি, নিকোনো উঠোন, সন্ধ্যাদীপের কথা। ছিল প্রসন্ন হাসির গোপন কথা।

আসলে ছায়া বিষন্ন হলে অন্ধকার বড্ড তাড়াতাড়ি ঘনায়, কেবল জ্বলজ্বল করে একটি আকাশ তারা.....